রেইজ দ্য রেড ল্যান্টার্ন

কিছু কিছু সিনেমা এমন, যা দেখা সেই দারুণ অভিজ্ঞতা, যা না চাইতেও তার চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যায় এবং সময়ে-অসময়ে অনিবার্যভাবেই মনে পড়ে যায়। সম্প্রতি ’রুয়ি’স রয়্যাল লাভ ইন দ্য প্যালেস’ নামে একটি টিভি সিরিজ দেখতে গিয়ে এক দশক আগে দেখা ’রেইজ দ্য রেড ল্যান্টার্ন’ সিনেমাটির কথা মনে পড়ল এবং পূর্ব-অভিজ্ঞতা নতুনভাবে ধরা দিল, আর ৮৭ পর্বের সিরিজটির অনবদ্য নির্মাণে কেন জানি বারবার ’রেইজ দ্য রেড ল্যান্টার্ন’ সিনেমার ছায়াই ঘুরে-ফিরে এল। যদিও স্বল্প পরিসরে বানানো সেই সিনেমাটির সাথে মহাকাব্যিকভাবে বিস্তৃত টিভি সিরিয়ালটির তুলনা চলে না মোটেও, তারপরও এ কথাটিই যেন মনে হলো—তৎকালীন চৈনিক গৃহস্বামী অথবা রাজ-প্রাসাদের অন্দর-মহলে, বিশেষত হারেম-এ চোখ-কান খোলা রেখে ঢুকে পড়ার যে দারুণ সুযোগ ‘ইমুউ ঝাঙ’ আমাদের করে দিয়েছিলেন তিন দশক আগে, যেনবা সে পথ ধরেই আরও ব্যাপক ও বিস্তৃতভাবে দৃষ্টি মেলার অবকাশ আমরা পেলাম ’রুয়ি’স রয়্যাল লাভ ইস দ্য প্যালেস’-এ এসে।

বস্তুত, সেলুলয়েড নির্মাণের এত বিপুল-বিস্তৃতি, মুনশিয়ানা ও শিল্প-সংস্কৃতির দারুণ সমাবেশ—ইত্যাদি কারণেই বিগত বছরগুলোতে এশিয়াটিক জোনের সিনেমার দিকে আমার আগ্রহ বেড়েছে প্রবল, কেন না হলিউডি আগ্রাসন যখন আমাদের শত শত মিলিয়ন ডলারের অখাদ্য গেলাতে বাধ্য করছে, তখন এশিয়াটিক জোনে ‘ইমুউ ঝাঙ’সহ আরও অনেকেই খুব সফলভাবেই উঠে আসেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবং কাড়ি কাড়ি অর্থ ছাড়া নিতান্তই মেধা ও দক্ষতা দিয়েও যে অসাধারণ একেকটি সিনেমা বানানো সম্ভব—তা বুঝিয়ে দেন ভালোভাবেই এবং আমরাও তা গ্রহণ করি সানন্দে ।

১৯৯১ সালে নির্মিত চায়নিজ এই সিনেমাটি নিজস্ব প্রকরণেই ক্ল্যাসিক ঘরানায় জায়গা করে নিয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, গত শতাব্দীর সেরা ১০০টি সিনেমার তালিকাতেও অনায়াসে ঢুকে পড়েছে। সিনেমাটি দেখার পর এত বেশি মুগ্ধ হয়েছিলাম যে, এর প্রতিটি ফ্রেম, অভিনয়-শৈলী, চিত্রনাট্য, মিউজিক ও শিল্প-নির্দেশনার দারুণ মুনশিয়ানা অজান্তেই এক ঘোর তৈরি করেছে, বিশেষত লাল-রঙের মনোগ্রাহী ব্যবহার, যা হাজার হাজার বছর ধরে চৈনিক সংস্কৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে আছে, তা যেন দারণ এক শৈল্পিক-নির্দশন হিসেবে এই সিনেমায় উঠে এসেছে, আর সিনেমাটি দেখার পর ওই লাল-রঙের আচ্ছন্নতা বহুদিন মস্তিষ্কের কোথাও না কোথাও পড়ে থাকে, গোপনে।


বাস্তবিক অর্থেই সিনেমাটি দেখার পর থেকে নিজেও আটকে আছি সেই চমৎকার লালের কুহেলিকায়, যেখানে তার আড়ালেই সিনেমাটির সার্বিক বিকাশ ঘটিয়ে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে নারী চরিত্রের বহুবিধ দিক।


মূলত এর একেকটি ফ্রেমে ব্যবহৃত রং নিয়েই বিস্তর আলোচনা করা যেতে পারে আর আর তার সাথে চৈনিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির যে মিশেল, তা পুরো বাতাবরণকেই এমন মাত্রা দিয়েছে যে—এর নামকরণের সার্থকতা শতভাগ ছাড়িয়ে গেছে এবং যত পুরনোই হয়ে যাক না কেন দেখার স্মৃতি, লাল-রঙের সুদূরপ্রসারী অগ্রাসন থেকে বেরুনো যায় না কিছুতেই। বিশেষত শীতল-প্রকৃতিতে লালের অমন ব্যবহারই যেন সিনেমাটিকে জাদুময়ভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে, আর ঘুরে-ফিরে লাল-রং সমগ্র পটভূমি জুড়ে এমনভাবে ধরা দিতে থাকে, যেন বা রঙের কুহেলিকায় দর্শক হারিয়ে যায় একেক সময়, একেক বোধে, আর সে-জন্য একজন নয়, দু-দুজন সিনেমাটোগ্রাফারকে ধন্যবাদ জানাতে হয় একসাথে—লুন ইয়াঙ ও ঝাও ফেই।

বাস্তবিক অর্থেই সিনেমাটি দেখার পর থেকে নিজেও আটকে আছি সেই চমৎকার লালের কুহেলিকায়, যেখানে তার আড়ালেই সিনেমাটির সার্বিক বিকাশ ঘটিয়ে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে নারী চরিত্রের বহুবিধ দিক, তাদের সামাজিক, পারিবারিক অবস্থা, মর্যাদা, পরিণতি আর তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় গৃহস্বামীর অন্দর-মহলের নির্মম চিত্র—যা কাহিনিকে উৎকর্ষ প্রদান করেছে সর্বতোভাবেই। কী নেই এতে? নাটকীয়তা, পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, মানসিক টানাপোড়েন, প্রতিশোধ, ঈর্ষা, সামাজিক তথা পারিবারিক বাস্তবতা, করুণ পরিণতি—সব এত নিখুঁত ও দক্ষতার সাথে চিত্রায়ণ করা হয়েছে যে, সিনেমাটি একবার হলেও দেখা জরুরি হয়ে পড়ে।

এছাড়াও কস্টিউম, মিউজিক, অভিনয়, লোকেশন, সেট নির্মাণ, পারিপার্শ্বিক বাতাবরণ সব মিলেমিশে একাকার হয়ে একে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষত পরকীয়ার দায়ে যখন তৃতীয় মিস্ট্রেসকে ছাদের উপরের কুঠুরিতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং লং-শটে সাঙলিয়নের অবস্থান থেকে তুষারপাতের মধ্যে যে দৃশ্য’র চিত্রায়ণ করা হয়, তা এককথায় অনবদ্য এবং দর্শকের পক্ষে দীর্ঘদিন ভোলা অসম্ভব। এমন আরও অনেক দৃশ্যই রয়েছে যার চিত্রায়ণ অসাধারণ, আর দর্শক হিসেবে ঘোরগ্রস্ত হতে বাধ্য হয়েছি চরিত্রগুলোর অভিনয়, তাদের অঙ্গভঙ্গি, অভিব্যক্তি, ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল, চিত্রায়ণের কৌশল ও আলোর অসাধারণ ব্যবহারে। তেমনই আরেকটি দৃশ্যায়ন, যখন সাঙলিয়ন তার পরিচারিকাকে বাঁশি চুরির অপবাদে দোষী করে ও ঘর তল্লাশির জন্য জোরপূর্বক ঘরে ঢোকে। এরপর ওই ঘরের মধ্যে পুরো ঘটনাকে যেভাবে চিত্রায়িত করা হয় এবং সাঙলিয়ন ওরিচারিকার মানসিক দ্বন্দ্ব যে নাটকীয়তায় উপনীত হয়—স্তব্ধ হয়ে পড়া ছাড়া উপায় থাকে না।

এভাবে বলতে গেলে অমন অনেক দৃশ্য’র কথাই উঠে আসবে এক এক করে, যার প্রতিটিই এমন দক্ষতার সাথে চিত্রায়িত হয়েছে যে, কোথাও তিলমাত্র অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে না, যেন বা জীবন্ত চরিত্ররাই ক্যামেরায় ধরা দিয়েছে, আর কলা-কুশলীরা অভিনয় ভুলে সব-সমেত ঢুকে পড়েছে বাস্তব জীবন-যাপনে। বস্তুত, চমৎকার অভিনয়শৈলী তথা শিল্প-নির্দেশনার উজ্জ্বলতম উদাহরণ এই সিনেমা, যা কেবল একে সমৃদ্ধই করে নি বরং ঐতিহ্যগত চায়নিজ সংগীতকেও তুলে এনেছে সফলভাবে। মূলত সিনেমাটি কেবল কাহিনি, অভিনয়, চিত্রায়ণ—এসব দিক থেকেই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে নি, বরঞ্চ চীনের ঐতিহ্যগত বিষয়গুলোরও সমাবেশ ঘটিয়েছে সফলভাবে—যা কোনো সিনেমায় শিল্প-নির্দেশনার সর্বোত্তম উদাহরণ হিসেবে উঠে আসতে পারে।

সিনেমার কাহিনি ১৯২০ সালের চীনের সামাজিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে বাবার মৃত্যুর পর নানাবিধ আর্থিক সংকটের কারণে সাঙলিয়ন নামে উনিশ বছরের এক ভার্সিটি-পড়ুয়া যুবতীকে বাধ্য হতে হয় ধনাঢ্য এক ব্যক্তির চতুর্থ মিস্ট্রেস হতে এবং তার উক্ত ব্যক্তির গৃহে প্রবেশের মধ্যে দিয়েই যেন আমরা প্রবেশ করি তৎকালীন ধনাঢ্য পরিবারের অন্দর-মহলের রুদ্ধতার বাতাবরণে, যা বাইরের পৃথিবী থেকে দেখা যায় না এবং সেখানে হিংসা-বিদ্বেষের মাঝে প্রতিনিয়ত বসবাস করতে করতে এক শিক্ষিত নারীও অপরাপর মিস্ট্রেসদের সাথে জড়িয়ে পড়ে রমণীয় ঈর্ষা, কপটতা, এমনকি প্রতিশোধ-প্রবণতায়, যেখানে সে নিজেও অন্য মিস্ট্রেসের মতো নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ ও অধিকার আদায়ের জন্য রপ্ত করে নেয় রমণীয় কূট-কৌশল ও লিপ্ত হয় প্রতিযোগিতায়, অথচ সে সত্যিকার অর্থেই ছিল অন্যদের চেয়ে ভিন্ন ও শিক্ষিত, কিন্তু বাস্তবিক প্রেক্ষাপট এমনই যে—মানুষ তার বিপরীতে যুদ্ধ করে নিজেকে টিকিয়ে রাখতেই সচেষ্ট হয়, শেষ পর্যন্ত।

মূলত সিনেমাটি তার প্রকৃত বাস্তবতা নিয়ে আমাদের সামনে তখনই উপস্থিত হয়, যখন নয় রাত কোনো নিয়ম-রীতি ছাড়াই গৃহকর্তা সাঙলিয়নের ঘরে রাত কাটায় এবং দশম রাতে তাকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় পারিবারিক সেই ঘৃণ্য প্রথার সামনে, যেখানে প্রতিটি মিস্ট্রেস সন্ধ্যায় নিজ নিজ ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকবে গৃহকর্তার যৌন-অনুকম্পার আশায় এবং একজন লন্ঠনবাহক গৃহকর্তার ইচ্ছে-মাফিক যে মিস্ট্রেসের ঘরের সামনে লন্ঠন রাখবে, সে-ঘরেই রাত কাটাবেন বলে ঘোষিত হবে। তারপর অনেক লাল লন্ঠনে সেই মিস্ট্রেসের গৃহ সজ্জিত হবে, যা নির্মমভাবেই তুলে ধরে তৎকালীন চীনা সমাজে নারীদের অসম্মান ও অবমাননার করুণতম চিত্র। সম্ভবত, বিষয়টি ওভাবে তুলে ধরার কারণেই সিনেমাটি তিন বছর চীনে নিষিদ্ধ ছিল।

সিনেমার অপর তিন মিস্ট্রেসের মধ্যে বড় জন বৃদ্ধা এবং গৃহকর্তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ। দ্বিতীয় জন প্রায় প্রৌঢ়া, যে গৃহকর্তাকে একটি কন্যা-সন্তান উপহার দিয়েছে এবং একটি পুত্র-সন্তান দেবার আশায় তার মনোযোগ আকর্ষণ ও খুশি করার জন্য নানাবিধ রমণীয় কৌশল অবলম্বন করে, যাতে গৃহকর্তা নিয়মিত তার ঘরে আসে ও রাত কাটায়। তৃতীয় মিস্ট্রেস যুবতী, সুন্দরী ও এক সময়ের নামি অপেরা-গায়িকা, যার প্রতি গৃহকর্তার অনুরাগ অধিক এবং সাঙলিয়ন আসার আগ পর্যন্ত প্রতি সন্ধ্যায় তার ঘরের সামনেই লন্ঠন রাখা হতো।


সাঙলিয়ন প্রচণ্ড শোকাহত ও পাগল হয়ে যায় এবং গৃহকর্তার পঞ্চম মিস্ট্রেসকে গৃহে আনার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি শেষ হয়।


সাঙলিয়ন আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং গৃহকর্তা অন্যান্য মিস্ট্রেসদের বাদ দিয়ে কেবল তার ঘরেই রাত কাটাতে শুরু করে, যেখানে প্রথম রাতেই তৃতীয় মিস্ট্রেস মিথ্যা অসুখের ভান করে গৃহকর্তাকে ওর ঘর থেকে নিয়ে যায়। মূলত এই ঘটনা সাঙলিয়নকে আহত করে এবং অন্যান্য মিস্ট্রেসদের সাথে রমণীয় প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, যখন সে বুঝতে পারে না চার জনের মধ্যে কে কার বন্ধু বা শত্রু। ক্রমশ সে ভেতরে ভেতরে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে আর তা প্রকাশ্যরূপ নেয় যখন গৃহকর্তাকে আবিষ্কার করে পরিচারিকার সাথে বিছানায় এবং তা চরম ক্রোধের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার বাবার দেয়া বাঁশিটি হারিয়ে গেলে, যার জন্য সে পরিচারিকাকে সন্দেহ করে এবং নাটকীয় ঘটনায় পরিচারিকাটি মারা যায়। অন্যদিকে তৃতীয় মিস্ট্রেস গৃহকর্তার অবজ্ঞা ও অবহেলায় গৃহ-চিকিৎসকের সাথে প্রণয়ে জড়ায় ও পারিবারিক বিধি-নিষেধ অমান্য করে গোপনে তার সাথে মিলিত হয়। সাঙলিয়নের ভুলে তৃতীয় মিস্ট্রেসকে ধরে আনা হয় ও ছাদের কুঠুরিতে রেখে হত্যা করা হয়।

পরিচারিকার মৃত্যু, তৃতীয় মিস্ট্রেসের নির্মম পরিণতি, গৃহকর্তার অবহেলা, অপমান, নানাবিধ ঘটনায় সাঙলিয়ন প্রচণ্ড শোকাহত ও পাগল হয়ে যায় এবং গৃহকর্তার পঞ্চম মিস্ট্রেসকে গৃহে আনার মধ্য দিয়ে সিনেমাটি শেষ হয়। এই হলো কাহিনি সংক্ষেপ, যেখানে প্রতিটি চরিত্রেরই অভিনয় এক কথায় অসাধারণ, তবে সাঙলিয়ন চরিত্রে ‘লি গঙ’ ও তৃতীয় মিস্ট্রেসের চরিত্রে ‘হে সাইফেই’-র অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পর্দায় তারা এতটাই সাবলীল ও নিখুঁত যে, ক্ষণিকের জন্যও মনে হয় নি তারা বাস্তব চরিত্র নয়, অভিনয় করছে। তবে সিনেমাটির সমাপ্তি ছিল প্রকৃত অর্থেই করুণ, যেখানে সাঙলিয়ন প্রেতাত্মার মতো ঘুরে বেড়ায়, আর তা যেন আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে থাকে অতীতে ঘটে যাওয়া নির্মম কোনো ঘটনা—যা সেই গৃহে ঘটেছিল এবং পুনরায় ঘটবে।

পরিশেষে এই বলতে চাই, ‘সু টঙ’-এর লেখা ওয়াইভস অ্যান্ড কনকিউবিনস উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ১২৫ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চায়নিজ সিনেমাটি অবশ্যই দেখুন, কেন না, চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রকৃত মুনশিয়ানা এখানে ষোল-আনাই বিদ্যমান এবং প্রতিটি সিনেমা-প্রেমিদের জন্য নিঃসন্দেহে দুর্লভ এক অভিজ্ঞতা।

অরণ্য

অরণ্য

জন্ম ১৯৮১, রাজশাহী। এইচ. আর.-এ এমবিএ। পেশা : ম্যানেজার, এইচ. আর.। প্রকাশিত বই...বিস্তারিত

এই লেখকের সব লেখা