যদিও ছুটির দিন রবিবার আজ
যদিও ছুটির দিন রবিবার আজ
থাকবার কথা নয় জীবিকার কাজ
সকলের অবকাশ, আলস্যের বেলা
কেউ করে ঘরবাড়ি পরিপাটি
আমার তো দিনটাই হবে মাটি
ঘণ্টায় বারো ডলারের মুলো!
কম নয়, মেলা—
আরো কটা দিন চলে
টাকাকটা যায় যদি দেশে
ছুটি তাই ভোরবেলা
কর্মের ব্যাপদেশে।
আমি ছুটি,
পাশাপাশি ঘেমে নেয়ে
সুরভিত করে
ছোটে এক মেয়ে
পাশ দিয়ে,
এটুকুই পাই শুধু আজ
বাকি পুরোটাই কাজ, শুধু কাজ!
প্রেমিক ও কামুক
কামুক দৃশ্যত প্রেমিকের মতো হতে পারে।
সে যখন স্পর্শ করে, জাগিয়ে তোলে পিপাসা,
তৃষ্ণার্ত অনুরাগিণী তাতে হয়ে যেতে পারে
নিঃসংশয় সমর্পিতা!
কিন্তু প্রেম নয় যার মনস্কাম, যার চাওয়া আর কিছু,
তার কাছে তা হয়ে আসে নীলদংশন!
অথচ প্রেমিকেরই কামুক হওয়া সাজে
সে যখন প্রেমিকার নির্দ্বিধ চূড়ায়
অঙ্গুলি স্পর্শ করে
তখন তাতে থাকে অনুরাগের ত্রসরেণু
প্রেমিকার অতল আকাঙ্ক্ষার তলদেশে
সুবর্ণ বার্তা থাকে তাতে—
কলুষিত কুহেলী হলেও নিনাদিত ও তরঙ্গিত হয় প্রীতি—
প্রেমিকের কাম হয় সঞ্চালিত আনন্দ!
সার্থক ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ
মিলন ও চোদন শব্দ দুটির আভিধানিক অর্থ মূলত এক।
প্রেমের কবিতা লিখতে গিয়ে একজন
সুস্মিতিপরায়ণ ভদ্রলোক কবি মিলন শব্দটাকেই বেছে নেবেন।
কোনো অপরিণামদর্শী তরুণ কবি নিজেকে র্যাডিক্যাল প্রমাণ করতে গিয়ে
অপরিশীলিত চোদন শব্দটি ব্যবহার করলেও
অনিবার্যতাহেতু এই ক্রিয়াটিকে বাদ দিতে না পেরে
সম্পাদক মিলন কথাটি বসিয়েই কবিতার সামাজিক মান রক্ষায় সচেষ্ট হবেন!
কিন্তু কোনো কোনো অবিমৃষ্যকারী তরুণ কবি
এই সম্পাদনা মানতে চাইবেন না;
তিনি মিলন কিংবা চোদন শব্দকে সমার্থক
প্রমাণে উৎসাহী থাকবেন।
সম্পাদককে যেহেতু এখন কবিতার নান্দনিকতা, প্রাতিস্বিকতা কিংবা অর্থবহতার চেয়ে
ক্ষমতা ও জনসংযোগকেই প্রাধান্য দিতে হয়
তাই সম্পাদক তাঁর এই সময়ের প্রেক্ষিতেই তাঁর বিচারক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
তরুণ কবিটি যদি যথেষ্ঠ ক্ষমতাভাগী না হন,
যদি তাঁর হাতে না থাকে বিজ্ঞাপনী পৃষ্ঠপোষণার ক্ষমতা
তাহলে সম্পাদক কবিতাটি প্রকাশ না করার পক্ষেই নিজের বিচারিক সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রাপ্যবঞ্চিত তরুণ কবিটি তখন স্বগতোক্তি করে উঠবেন,
এতটা পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির সম্পাদক কী করে শুনতে পাবেন কবিতার নতুন কালের আবাহন!
তরুণ কবি তখন এই বলে চিৎকার করে উঠবেন,
'আপনারা দেখতে পাচ্ছেন না,
গোটা মিলনায়তনে শিষ্টতার ভাবাত্মক ''মিলন''কে
সবাই মিলে কেমন 'ধর্ষণে' উত্তীর্ণ করে তুলছেন!
চিৎকার করে তরুণ কবিটি বলে উঠবেন,
'প্রিয় পাঠক,
আমি মনে করি
যেখানে মিলনই
প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের নামান্তর
সেখানে মিলন নয়,
ধর্ষণের সমার্থক ও সার্থক
ব্যঞ্জনাময় প্রকাশ হিসেবে
চোদনই
যথার্থ!'