প্রযত্ন
ভাঙা মৃৎপাত্রের কিনারে রয়েছি দাঁড়িয়ে
পাত্র হতে গড়ে যাচ্ছে জীবন, যাচ্ছে স্নান
একা একা শরীর কি জোড়া দেওয়া যায়?
ওপাশে মৃদু সহায়, প্রেম ধরো
যদি বাঁধ গড়ে ওঠে—
এ-ভরা যৌবনে
জীবন গার্হস্থ্যের জল কোথায় ভেসে যায়?
অনিশ্চয়তার টোপ হয়ে ঝুলে আছি
গিলে নাও
ইউনুস নবীর মতো আমাকে বাঁচাও।
মনোরথ
কোন অদেখায় একা ঘুরপাক খাও?
প্রতিরূপের আলেখ্য এঁকে যায় কারা!
মর্তের অপাঠ্যে তুমি আমাকে নাচাও
দেহের ভেতর রাত, আমি রাতচোরা—
দু'ধারে রেখেছি মন মাঝে কি মিনার?
তোমার দেহের মিথ গোকুলের মেদ
করতোয়া চোখে সরু জেগেছে তিমির
অকথ্য ভাষায় কেউ করছে প্রমোদ—
তবু দূর ইতিহাসে বাজে রে সরোদ
সরোদের মাঝে দু'টি পাখিকে উড়াই
নীরব কথারা যেন প্রেমের প্রবাদ
নৃত্যের বিপাকে মন রুমি হয়ে যায়
দেহের অধিক যদি দেহাতীত হয়
ছলনা গভীর করো দেহ বিনিময়—
ইশারা
যতটা আলো জ্বেলে রাখি
সাকুল্যে কতটুকু পৌঁছায় তোমার কাছে—
শামুকের হাসির মতো যতটা আলো পাও তুমি
তার থেকেও দীর্ঘ এ স্বাধীন বিম্বছায়া, রাষ্ট্র হতাশা—
রাষ্ট্রছায়া থেকে, মর্মে যতটা তুমি থাকো
আমার উপস্থিতি সেই গোপন শান্তিযুক্তিতে, নিশ্বাসে—
যেমন পত্রভাঁজে ধোঁয়াদৃশ্যের মতো
মিথ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বাজ-খাঁই চোখের ঈর্ষা থেকে বেড়িয়ে
ছিন্ন করে চলেছে বিদেহী মস্তক
লুট হয় হৃদয়ের হাওয়াঘর—
রিপুশাসিত পলাতক আমি
কার আঁধার জুড়ে খুঁজি একখণ্ড মুক্তভূমি
এ জ্বরের নিরাময়?
দুরাত্মা
যে কবি কবিতা নিয়ে ঘোরতর হতাশায় আজ
নৈশ মদের আসরে একা একা খিস্তি করলেন
সমাজের প্রতি, মানুষের কারু-চেতনার দিকে
চুপচাপ তার পাশে বসি, আসর ভাঙার শেষে
তার আর্থিক টানাপড়েন, রাজনৈতিক অভেদ্য
আর প্রেমিকার ধারণায় জমা বেদনাকে যেন
অনুভব করতে পারি। রাতে ঝরা জামের মতন
থেতলে গিয়েছে তার হৃদয়, এ ঘোর সংকটে
চাঁদ অন্তে প্রেমিকারা তার ঋতুমতী হয়ে ওঠে
জননীর রূপ নাকি ফুটিয়ে রাখতে চায় দেহ
আর দোজখের দ্বারে বসে এই কবিতাহারামি
পৃথিবীর সব সবুজঘাস দেখো পোড়ায় আগুনে
কৃশ
নৈশবৃষ্টির পর—যে থকথকে পথ
তা আমার হৃদয়
গান বিভোর মাতাল, হেঁটে চলেছি
তোমার গমনে
স্মৃতিরা ভেজা পাতায় ঝরে
মুখে ছাঁট দেয়
ছায়াগাছ পেরিয়ে
আগুন-মন, এবার তো শান্ত হও
প্রশাসনিক ভবনের অন্ধ-আলোয়
ঘুমন্ত কুকুরগুলো দেখে—