তিরতির
হাওয়াবনের ভেতরে সব গাছ পাতা
অরণ্যের দিনরাত্রি মিশে যাচ্ছে পাতায়,
নুয়ে আছে লাবণ্য ও লতায়, ছায়ায়
একটি পাখি ঝুপঝাপ, হাওয়া ও টুংটাং
ঝিলমিল—কম্পনে কাঁপায়।
ঘাসের মহল পেরিয়ে
আজ একটি দিকের সঙ্গে কথা হতে পারে
হয়তো এ পথেই আছে,
মাটির গোপনে থাকে সুরের নির্যাস।
নিবিড় খুঁড়েছে যে স্বরবিতান
তাঁর আনন্দ হয়েছে কান্নায়।
কদম কদম প্রান্তরের দূরে
যদি আরেকবার খুঁজে পাই নাচের গালিচা
তিরতির মুদ্রা ছুঁয়ে যাবে সুরম্য দেহের পর্বত।
পোড়াদহ
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি
এরকম সরল জপে পোড়াদহ পৌঁছাই।
ভয়ানক একতারা, প্রায়শ্চিত্ত,
যুগান্তরের অহমের ধারণা—
চলাচল, সমাগম—
জানলাম, সব পথ মিলনের অনুগামী নয়।
তবু এই অপহৃত সাধনা
কোনোরকম সরল নিবেদনে
যদি পোড়াদহ পৌঁছায়,
এলোমেলো করে দিও না
এই ভক্তি ও আকুল।
আমার আছে মিলনের ধারণা
তোমার আছে একশত সুরের লণ্ঠন
চরখিদিরপুর
এবারও যাওয়া হলো না চরখিদিরপুর।
হেমন্তের রোমান্সজালে আটকে গেছি।
আমারও আছে একা নদী, যুগল চাঁদ, একা
চঞ্চু-আরতি। এবার তবে নিয়ে চলো
অঘ্রানের রোদ ও সুখের সমান মহৎ চরাচরে—
যেখানে সুখাসন।
যেভাবে লোকে যায় বসন্তপুর। যাব খিদিরপুর।
প্রেমতলী
তখনও ঘাসে শিশির ছিল। শিশিরে মজেছি।
তারপর এক লহমায় পৌঁছে গেছি প্রেমতলী।
যাওয়াটা খুব দ্রুত ছিল। আকাশে দুটি পাখি
নিরাকারে ছুটেছিল। নিমঘটুর নিস্তব্ধতায়—
আমাদের যেকোনো উচ্চ শব্দ বারণ ছিল।
ওম
বনের মধ্যে বৃক্ষের বাহার। মায়া ও মাধুর্যের ওম।
কণ্ঠে তুলে নিই। টের পাচ্ছি গভীর এ সংঘটন।
তোমাকে বসন্তে পেলে তোমাকে দেখি।
মন্দ নয়, অধিক। আমার আছে ততোধিক।
মন না শরীর?
হাওয়া, জানলা খোলা
হাওয়া আজ আত্মভোলা।