বসন্ত বিলাপ
১
আকাশ আমাদের গৃহ
দাদা-দাদি সেখানে থাকে
আর থাকে অবন্তিকা
আমি থাকি এই দ্যাবাপৃথিবীতে
আকাশের জানালা 'তারা' খুলে
ওরা কি আমাকে দেখে?
আমি প্রতিদিন চেয়ে থাকি
সুনীল নক্ষত্রে, ছায়াপথে
আকাশের সদর দরোজা
চাঁদ খুলে
যদি উঁকি মারে অবন্তিকা।
২
এখন ফাল্গুন, তাও আমি শীত রয়ে যাই। বৃক্ষ ধরলে তার পাতা খুলে পড়ে, মানুষ ধরলে হাত। রাত ধরলে ঘুম চলে যায়। তাই ধরি না কিছুই, নিজের দুঃখ ছাড়া। দুঃখ ধরলে আমি ঝরে যাই। যেন আমি দুঃখের পাতা। দুঃখই আমার বৃক্ষ আর আমি তার ডালে ডালে কচি শীত।
৩
ঘুমের মধ্যে আমার বউ মরে গেছে, অথচ লোকেরা দাফন করতেছে আমারে। এত বুঝাইলাম, কেউ কি কিছু বোঝে নাই? আব্বা যখন কপালে চুমু খাইলো, তারে কানে কানে কইলাম, আব্বা, আমি তো মরি নাই, এদের থামাও। আব্বা কইলো, তুই চুপ কর, মরা মানষের এত কথা কী! বেঁচে যে আছি এইটা কেমনে বুঝামু! আম্মারে ডাকি, মা এত শব্দ করে কানতেছিল, শোনে নাই। ভাইবোনরা বিলাপে ব্যস্ত। বউ মরে গেছে আমার। বন্ধুদের বললাম, দেখ, আজরাইলের হাতে আমার বউয়ের জান, অথচ তারা তাকায়া আছে আমার দিকে, যেন আমি মিথ্যাবাদী। মাবুদ, আমি যে মরি নাই, প্রমাণ দিব কেমনে, আমি তো উপপাদ্য না।
ক্ষুধা
১
রুটির দাম বেড়ে গেছে
এখন
পাথর চাবাই
পাথরের শহরে আমিও কঠিন শিলা
চাবাতে গেলে আগুন জ্বলে ক্ষুধার।
২
খোদার ক্ষুধা নাই
নিদ্রা নাই
নাই প্রেমিকা।
পিতা-মাতাও নাই
অথচ মানুষ তার কাছে সবকিছু চায়।
যা নাই তা তিনি কিভাবে দিতে পারেন।
কান্না হচ্ছে চোখের মল
১
পৃথিবীর সকল ঘটনা
মেঘ করে চোখে বৃষ্টি নামে
আজ মাছ খেতে খেতে মনে হলো
চোখ দিয়ে বের হবে
একটা জ্যান্ত বোয়াল
অথবা
আবুলের মাছের নৌকা
আর সে নৌকায় বসে
তোমার চোখ থেকে বের হওয়া
জাহাজের ভ্যাঁপু শুনব।
২
ঢাকায় কাঁদি না
বুড়িগঙ্গার জল ঘোলা
এত ময়লা আর পলিথিনে
কানা হয়ে যাব।
৩
চোখ থেকে আশি মাইল দূরে মেঘ। তার পাশে বন। তার পাশে খাল।
তার পাশে তিনটা কড়ই গাছ। তার পাশে মাটির রাস্তা । তার পাশ ফিরে শুয়ে আছে নদীর মতো একটা গ্রাম। সেখানে সবাই মাছ। নয়টা বোয়াল। দুশো ছাপান্নাটা তপসে, আশিটা বাইলা ও কয়েক হাজার পুঁটি মাছ ও একটি বাঘা আইড়।
ঘুম
বিকাল পুড়ে ছাই
দুপুর ছিল তপ্ত আগুন
রাত্রে কিছুই নাই
যেন সবকিছুই হিম
কালো বরফ তাজা রাখছে ঘুম
গলে গিয়ে রাত মেরেছে ঝিম
ঝিমের ভেতর জন্ম নিল ভোর
সকাল সকাল নিদ্রা ডানা নাড়ে
উড়ে যাবে খুলে দিলেই দোর।
তাই দুয়ার রাখি এঁটে
শীতের পাখি ঘুম এসেছে
সহস্র মাইল হেঁটে।
তাকে বসতে দিয়া আঁখি
মায়ায় কায়ায় ভুলিয়ে রাখি
শিকারে ভয়, অতিথি সে পাখি
আমি
আমি জানি আমি কে
আমিই সে যে গতকাল
আমার অস্তিত্ব নাই।
পরশুর ভিতর আমি চঞ্চল
আমার ঘুম ছাই ছাই
খেলনাগুলো বুধবারের
শনিবার মনে নাই
তোমাকে মনে আছে
মরা খাল।
আর ছোট ছোট ঢেউ
দেখো আমার চোখে নুন পড়েছে
হাতগুলো ফেনা হয়ে গেছে
কাদায় বালিতে বুক
টেনে তোলো সোম।
সুর্যের বার থেকে
ছিনিয়ে আনা গোল। মহাপৃথিবী।