সাতাইশ মার্চ চব্বিশ
ফোটে নি অনাকাঙ্ক্ষিত গতিধারা, না-হবার লবণফুল;
হৃদয় বুঝি নি, অথচ কবিতার প্রশান্তিতে কুণ্ঠিত যেন—
আজ অমেয় জলভক্তি গলাধঃকরণ ক’রে ক’রে, ফলে
বর্ণরসে আমি সুদূর গিয়েছি একবার, পরিহিত যখন—
কিছুই থাকে না, ব্যর্থ কীটের মতন ফ্যাকাসে স্মৃতি এই;
প্রভু, যে-দিন তত্ত্বদল স’রে আসে পূর্ণতার কুডালপালা
অতিক্রম হলে; ক্লান্তি দাও—! তবে কি প্রতিমাছ সকল
বৃদ্ধ জাতকের অবতল লেন্সে সার্থক ও নির্ভয়ে যাবে—?
দু’পাশে প্রতীক আঁধার, এসেছ সর্বত্রের কোনোকালে
বরং তৃষ্ণায় নিজেকে দ্যাখো; যার আছে প্রেম, পার্থক্য
নির্মাণের সমৃদ্ধ নিষ্কৃতি—; কোথায় প্রেরকের পাত্র—?
ভাঙে নি তো কেউ নিচুতে সন্ধ্যা গোধূলি মন, এখন কি
আর রায়ের শুশ্রূষামুখী ট্রেনে বর্তমান হবে! যে-না লাথিতে
লাথিতে এবং লাথিতে নয়নতারার কিনারে উপক্রম হয়েছি
নাও অস্পষ্ট পারাবত
বিরহ ত্যাগের পর সুদর্শন পুরুষ, যাতে কেউ ভালোবেসে
অভ্যন্তরে রাখে একা চিত্রের মতন নিবেদন; ক্ষুধার্ত এই
পারাবত ছেড়ে দিয়েছি আজ, সারাদিন বাগানবিলাস—
মুষলযামিনী সোজা করে নাও একটি ইবলিশ নদীর দিকে
এখন জঙ্গলের স্বগৃহে পেতে চায় হৃদয় ফিরে আসা সংযম
মূল ও মুদ্রার নিয়ন্ত্রণ; এমন বাষ্পকুল অপেক্ষার অধিক—
জানি বিদায় সমস্যার পূর্বেই জ্যোৎস্নার সনাতনে পৌঁছাব
যদিবা সেখানে হাসি পড়ে ক্ষুণ্ন ক্ষুণ্ন, থেকে যায় তবুও তো
উদ্যান, স্নানের ঐশ্বর্য এবং ডুবুরির সমেত ভালোবাসা শুধু
গান; মানুষের বয়স আজও এত রহস্যময়—কেঁদে উঠি
অনাদি ব্যথায়; বুঝি না অবলোকন, নাগরিক কাকের মন
কি কতকাল ক্লান্তি এলে বৃক্ষবলির সমান মেলামেশা পাব
জগতে, লোনা কূজন ভেবে পূর্ণিমাতিথিতে—; দাও পিছনে
নিম্নময় ঘাসের স্বরূপ সুশৃঙ্খল উত্তেজনা—নিকটে না এসে;
গোসলে কাটালে তুমি, উত্তরণ
কোনো এক পরিত্যক্ত গতিময়তার কাছে গোসলে কাটালে তুমি, উত্তরণ। শোনো, বাক্য আজ প্রশ্নবোধক—! সমাপ্ত অংশটুকুর ক্রিয়াপদ ভেঙে হারিয়েছি বিগ্রহ। এখন আমি প্রাচীন দুর্যোগের সমান দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ; সহজেই বোঝা যায় ঘনত্বের দিকে আমার শত জমাটবাঁধা অতিশয়। সংঘটিত ব্যাপ্তি এই বর্ণনার অধিক রেখে একা মাত্র বৃদ্ধি হচ্ছি সত্যিকার লতাবনে আবছা। সেই নামের আগে প্রতিদিন—বিশেষত বৈদ্যুতিক আলো নিভে গেলে অত্যন্ত আসে নিকটে আসার পরিবৃততা। আহত তুমি, দুর্বোধ্য রাখো আমারই সত্ত্বায় যথাযথভাবে ফলবতী হাওয়ার বিরহপ্রতিম। না-পেয়ে কবেকার বিনীত হয়েছি খালি, নাকি দূর সুবাসে মুখপোড়া পহেলা তোমার বাগানের মালি? কখনো যাবার প্রশ্নে আবারও একা একা চলি—যা আঁকা থাকে তটিনী-র বন্ধ ডাকে—সেলাইয়ের মহাযুদ্ধে। অথচ উঠি যথেষ্ট সকাল থেকে—; নগ্ন মাংসের পদক্ষেপ স্থাপিত ক’রে ক’রে শুনেছি আমি—অনমনীয় শব্দ; —নগ্নতায় প্রসারিত হলে না-কি তুমি আরো ভারী হয়ে ওঠো!
যে রেখাপাত তোমাকে করেছে বিদায়ের সমস্ত ঘরে ধুলোবালির অধিকার
সাধন যমুনার পাড়ে প্রকৃত ব্যবহার্য আমি, তোমাকে কি আছে আর দেবার?
তারার জন্য একা চাঁদ
পরে অবশ্যই বলেছিলে কথারও নাকি তোমার মতো
বেগ আছে; শুষ্ক হরিতকী গাছের সাথে আমার যত
যোগাযোগ, তার প্রবেশপথ ক্ষুণ্ন করে দেখেছি পর্দার
আড়ালে লেখা ছিল—
‘‘গতর খেটে খাই, শ্রমের অধিকার চাই’’
তা’ও কয়েক শীতলতার ঊর্ধ্বে;
মাটির পুবে আজ বারোই মাঘ। তারাকে বলি চিৎ হয়ে
শো’ও অথবা বাম দিক কাত হয়ে। প্রায়শ শু’য়ে থাকা
এ-বিশ্বে আমি বরাবর বেবিস্ট্যান্ড পৌঁছাই। সু-ত-রা-ং
সুষম ওষ্ঠের ছোঁয়া লেগে খুলে ওঠে গোলাপের পাপড়ি;
প্রথমতই সুড়সুড় অল্প কিছুদিন। দ্যাখো, ইতিহাস অবধি
পিতা-পুত্রগণ দু’পা ফাঁকের বৃষ্টি রেখে, আগে আগে যায়
লিথুনিয়াম বোঁটার প্রান্তর—; তবুও একটি পঙ্ক্তির জন্য
বিশ্বগ্রাম ভ্রমণ করে পিচ্ছিল যজ্ঞের প্লাটফর্মে সমস্ত যাই;
দেখি সমূহ, শিমুল তুলার বালিশে রাখা আদিম রাতের
উপমা; এখন এই দৃশ্য আপাতত করে অনেক ভেবেছি
সঙ্গম লগ্নের কলমিলতা সমেত তারার জন্য একা চাঁদ;
এটা ভালো
সময় পাকছে খুব, নিজেকে স্থির করে চলছি।
যদি পারতাম ছেড়ে দিতে বয়সের প্রশ্ন—,
অন্যান্য ডাঙার উগ্র, অনেক বুঝেছি নত শব্দে;
পালিত গুনে এ লাগে অস্থিরতার চেয়ে পানের
বরজ সমান শ্বাস; কাছে যাই শ্বেত পাথরের।
বলি পাখির সূচনা হতে নিজ নর্দমার ধ্যান।
নিদ্রিত হৃদয় কাঁপে পূর্ণতার নড়াচড়া চোখে
তবুও যাব বালিকা, নুনসত্য এক স্বপ্নদোষে;
স্তরে স্তরে অভিজ্ঞতা। নগর মেঘনা দৃশ্য হয়।
বরঞ্চ জানা কথার চাপাকলে শুয়োর কে আমি?
গোপনে তৃপ্তি ঝরাই, ধর্ম আমার আর্ত পানীয়।
মনীষা ওষ্ঠের জেদে পর্বত চূড়া অত্যন্ত মাঠে
কত মূঢ় হয়ে যায়? নামো ঘনিষ্ঠ, মননে নষ্ট—;