বিনাশ
সমুদ্রের অধিজগতের
মতো দূরবর্তী ঢেউ তুমি,
তোমাকে গোপন করি আরো
কালানুক্রমিক সেই
ঢেউয়ের পিছনে আমি
স্বতঃসিদ্ধ মতিভ্রমে ডুবি।
আমার শরীরে উষ্ণ শীত,
শীতল আগুনে পুড়ে
হা করে তাকিয়ে থাকি হাপরের দিকে
দৈবমন্ত্র দিয়ে যদি বশে আনা
যেত সমুদ্রকে,
তবুও কি শীতলতা নিয়ে তুমি
নির্বিকার হতে ঢেউয়ে ঢেউয়ে!
পর সামাচার এই যে
পলায়ে যাবা তো ট্যাক্সি ক্যাবে
আমি জানতাম, যাবা দূর মধুপুর।
যাবা তুমি এক খলনায়িকার সাথে।
নায়িকার ঠোঁটে রোজ ময়ূর ঘুমায়
আর কোল তার ভরে যায়
রঙ্গিলা কাবিনে
শান দেয়া চোখ,
তোমার মায়ারে আমি
কোরবানি করিয়াছি ঋণে।
বিকারে বিকারে খাঁ খাঁ, তবু
বিরহে দিয়েছি বিষঝাঁপ।
হেমলকে তুমি সখা কোকিলেরো ডাক,
তোমারে শুনিয়া ভালো কেন
বাসি, ওই যমুনার জল
আয়নাতে দেখি হুর, ভাবি
খলনায়িকার বুকে কেন
তবে বাঁকা বাঁকা চাঁদ ওঠে!
পাখিটি পালায়ে কেন যায়
হলুদ রঙের ট্যাক্সি ক্যাবে
ওগো কালো যমুনার জল,
রাত এলে তুমি বোবা হয়ে যাও যেন।
দিবসরজনী খিলখিল বাঁশি
ভালো লাগে না যে,
মহামিলনের হাসি ফালিফালি
করে দেয় দ্যাখো!
দ্যাখো তো জল্লাদ কেন আয় আয় ডাকে
কোন দূরে গিয়েছ তুমি যে,
আমি এক গেঁয়োভূত খুঁজে পাই
না তোমারে আজ।
ফিরে এসো, ঐ তরী যায় ভেসে
ফিরে এসো আমবনে।
ফিরে ফিরে জুঁইশাখে, এসো
ফেরিঘাট
ডাবল কেবিনে কেন পুড়ে যায়, বলো প্রিয় কামনার রঙ?
বজ্রাহত হতে হতে তুমি স্কন্ধকাটা
নদীকে ডিঙিয়ে চলো শিখে নেই সরল গণিত।
প্রণয়ের কিছু কথা জানতে থাকুক বাউফল ফেরিঘাট।
ছোট্ট গ্রাম, ধীরে ধীরে আলোহীন হোক
অবাধ কামনা ভেসে উঠুক ও-চরে
বিচ্ছেদের মতো করে লঞ্চ পার হলো অন্ধকার,
স্রোতস্বিনী ফুল খুলে ফেলল মত্ততা।
আরো আলোহীনতায়
যে নামবে প্যারাসুট-হাতে
সে যেন নদীতে ডুবে মরে
দুলে দুলে তুমি তবে ডুবে যাও, নদী
শরীরের ভাঁজ থেকে খুলে আনো চাকা
তাপমাত্রা কমে গেলে সেবিকার পায়ে
রেখে দাও চরণ তোমার
দাপুটে নদীরা চিরকাল মহিষের পিঠে চড়ে চক্রাকারে ঘোরে। আর
যেভাবে চক্রীয়ভাবে ঘোরে বাস, দূর হাতিঝিলে
সেভাবে তুমিও কেন ঘুরে ঘুরে আসো ডাবল কেবিনে
গরিবের মন নিয়ে আমি
তোমাদের ডাবল কেবিন
স্বপ্নে দেখি। ছন্দে ছন্দে দুলি
এ পিঠে ও পিঠে, কেবিনের বারান্দায়।
প্রাসঙ্গিক নয়,
তবুও স্বপ্নই দেখি প্রতি রাতে। দেখি,
ডাবল কেবিন বুড়িগঙ্গা
নদীতে মরছে একা একা
তবুও তুমি গন্ধরাজ
গন্ধরাজ অনেক কিছু সম্ভবত জানে।
কখন ছাদে হাঁটতে আসো তুমি,
কখন তুমি অস্পষ্ট হচ্ছো আরো
এসব কলা ছাদের কোণে ছড়িয়ে আছে যেন
তবুও তুমি গন্ধরাজ, চৈত্র ভরা মাসে
যেটুকু দিলে সুবাস, তাকে স্মরণ করি চলো।
তুমি তো তাকে এরূপ ভোরে
দেখেছ তার প্রেমিকাসহ।
যে শুশ্রূষা দিয়েছে তারা তোমাকে, তার
সবকিছুই প্রগাঢ়তর হলো
ফুলের ওই বিন্যাসের ভেতরে ডুবে
কেশগন্ধ পাচ্ছি অনর্থক।
তোমার ওই সুবাসটুকু লাস্যময়ীর মতো
গন্ধরাজে ছড়িয়ে আছে,
চতুর্দিকে তোমার মুখ ভাসছে ঘুরেফিরে
জখম
কোমল চুমুর ধাঁধা আর
নখের আঁচড় দিয়ে নারী শুধু
শল্যবিশারদ হয়ে আসে।
এ কথা আমাকে তুমি বলেছিলে,
বলেছিলে সোনাঝুরি গাছে
আচমকা, যে পাখি ডাকতে থাকে
তার পাশে নিয়তি হয়েছে ডুবুডুবু
নারীরা টোটকা ভালো জানে।
ভরা বুক, তিলের ভেতরে পোষে
ছোটবড় শিশু।
আয়নার বিপরীতে
হাওয়ার ফাল্গুন তার বেহিসেবি খুব।
আদমের নিঃসঙ্গতা নিয়ে
তোমার জখম পিঠে ধীর হয়ে
আছে বাঁকা চাঁদ।
রুপার চুড়ির মতো
সে যে শুধু কালো হয়ে আছে
একটু হ্যাঁচকা টানে মেলে দিতে
পারো তুমি চাহনি ছোবল।
যে নদী পূর্ব দিকে বেঁকে গেছে, তার
শিল্পকলা পূর্ণ করে দিতে পারো
কানায় কানায়
নারীর বিকল্প রূপে
স্থির হয়ে রয়েছে আপেল,
যেন আলোচনাহীন চলে যাচ্ছে
বসন্ত চৌচির!
যে মফস্বলের মতো আধো অন্ধকার আজ
মানুষের মন!