ছায়াহীন কবিতা
১
ভালো আমি কাকে বাসি?
প্রেম না রক্তমাংসের তুমিকে!
উত্তরের অপেক্ষা না করেই
সিদ্ধান্ত দিলে প্রমাণিত সত্য।
সহস্র মিথ্যাকে ভর করে তোমার
সত্য দাঁড়িয়ে থাকল অনড়।
লৌকিক বিশ্বাসে সঙ্গতি হলো না।
মনে না রাখার কৌশলে ছেড়ে দিলে।
একাংশে রেখাপাত করল অধস্তন মায়া,
বিভ্রম, চতুরতা দিয়ে ছায়া দিলাম রক্তক্ষরণের।
ভাবী কবিতার দেশে সম্ভাব্য বিচ্ছেদ ঘিরে
শিল্পের জয়জয়কার।
তোমাকে মনে রাখার লক্ষাধিক কৌশল আত্মস্থ করে
চলে যাব, তোমার ছায়াও মাড়াব না।
২
আচমকা ঘুম ভেঙে গিয়ে জুতাকে পর পর লাগার মতো, (যেন কেউ একজন এক্সচেঞ্জ করে নিয়ে গেছে অন্যত্র)
আজকাল তোমাকেও মনে হয় অন্য কেউ, দৃশ্যের আড়ালে হরণ করেছে দস্যুর দল।
৩
গাছের পরিধি বেড়েছে অনেক দূর, অথচ সময়োপযোগী সদিচ্ছার কাছে আমরা হেরে গেছি। সূর্যের আলো নিয়ে আমার অনেক ভাবনা, আলো সম্বন্ধীয় সেমিনার করার সক্ষমতা নিয়ে অন্ধকারে ঘুরে বেড়াই। ইমেজভর্তি লোক গিজগিজ করছে, প্রত্যেকটা ক্যারেক্টার একটা কলম শেষ করার দাবি রাখে। এমনই অনেক আত্তীগত দৃশ্যের কথা বলার আছে। বলার আছে অনেক রাত অব্দি ছাদে বসে আমি কী সব ভাবি। আশ্চর্য, কথা বলার এত এত কিছু থাকতেও আমাদের কথা হচ্ছে না!
মা’কে বসিয়েছে বাঁকে
উর্ধ্বমুখিতার ভয়ে, নেমে
যাওয়া পদচ্ছাপের দিকে চেয়ে
ভেতরের আত্মগৌরব ফুলেফেঁপে
ঈশ্বর-সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ মেপে যায়!
পতনের সমূহ সম্ভাবনা নিয়ে
উর্ধ্বমুখী আমি, আমারই
পতনের দিকে চেয়ে, নির্ঘুম কুকুর
হতাশার জালে আটকে থাকা
মাকড়সা দেখে...
অশেষ উচ্চতা
যেন ছুড়ে ফেলে দাও
অনন্য উচ্চতা থেকে
এমন কর্মবিমুখ বিষণ্নতার দিনে
আসন্ন সম্ভাবনার কথা ভেবে অস্থির!
অপ্রাপ্তির ছায়া এড়িয়ে সমুহ অন্ধকার।
সূর্যের অপেক্ষায় দীর্ঘ রাত
যতটা অস্বস্তি অথবা বিরক্তির ছাপ
লেগে থাকে, কিঞ্চিৎ তারই সদৃশ
—এ অশেষ উচ্চতা...