সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে একটা পোর্টালে দুই জ্ঞানীর লেখা পড়লাম। পুরাটা অবশ্য পড়ি নাই। বদরুদ্দীন উমরের নামোল্লেখপূর্বক অংশটুকু পড়ছি। ওই লেখায় আমি ঢুঁ দিছি, ফেসবুক শেয়ারে দেখলাম বলা আছে বদরুদ্দীন উমরের সমালোচনা তারা করছেন, সে জন্য।
তো তাদের সমালোচনাকে আমার কাছে আননেসেসারি বলে মনে হলো। তারা সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা এলাবোরেট করতে চাইছেন। অ্যাকাডেমি-নির্ভর বুদ্ধিজীবিতা-চর্চাকে এ জন্য আমার পছন্দ হয় না যে তারা শুধু পাতা ভরান। আমরা যখন পরীক্ষা দিতাম, এমনকি ইউনিভার্সিটিতেও, তখনো ভাবতাম বেশি লেখলে বেশি নাম্বার।
তো এই দুই প্রখর বুদ্ধিজীবী(দে)র সেই দোষ দেখলাম। তারা অযথা সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা নিয়ে নিজেদের ভাবনাকে পুনর্নির্মাণ হিসাবে দেখাতে চাইলেন। তারা বললেন, "এক্ষেত্রে ধর্ম প্রশ্নে বদরুদ্দীন উমরের অবস্থানকে সারবাদী (এসেনশিয়ালিস্ট} না বলে কোনো উপায় নেই। গণ্ডগোলটা এখানেই। এই সংজ্ঞা মানলে, বাংলাদেশের বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিগত জনগোষ্ঠী (সাঁওতাল/চাকমা), উর্দুভাষী জনগোষ্ঠী এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সংখ্যাগুরু বাঙালি সম্প্রদায়ের মনোভাব ও আচরণকে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ বলা যাবে না!’’
তারা কথাটা বলেছেন বদরুদ্দীন উমরের সংজ্ঞাটাকে উদ্ধৃত করে। তাদের দেওয়া উমর সাহেবের উদ্ধৃতিটা হলো, ‘‘উমরের সংজ্ঞাটি দেখা যাক : কোনো ব্যক্তির মনোভাবকে তখনই সাম্প্রদায়িকতা আখ্যা দেয়া হয় যখন সে এক বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ভুক্তির ভিত্তিতে অন্য এক ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং তার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধাচরণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত থাকে।’’
কথা হলো, আমরা সাম্প্রদায়িকতাকে ধর্মীয় বলেই জানি। বর্ণবাদ, জাতিবিদ্বেষ, আঞ্চলিকতা(বাদ) ইত্যাদি শব্দ যেহেতু আছে আমাদের ব্যবহারের জন্য, সেহেতু সাম্প্রদায়িকতাকে শুধু ধর্মীয় ভাবতে আমাদের এতটুকু কোনো ঝামেলা ঘটে না। আর উমর যে সময়ে যে বিষয়ে তার সাম্প্রদায়িকতা বইটা লেখছিলেন, তা ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেই ছিল। যেটা উমরের সংজ্ঞা, সেটা তো তারই সংজ্ঞা। আলটপকা কোনো বুদ্ধিজীবী এর অন্য কোনো সংজ্ঞা বানাইতে পারলে সেটা তাদেরই সংজ্ঞা থাকবে। সংজ্ঞার ধরনই এমন যে, সে কয়েকটা করে থাকবে। এখানে বদরুদ্দীন উমরের সমালোচনা বা বিরোধিতার কিছু নাই। তারপরও এ দুই টগবগে বুদ্ধিজীবী দাবি করছেন তারা, "তাহলে আমরা বদরুদ্দীন উমরের ‘সাম্প্রদায়িকতা’র মূলগত বিরোধিতা করছি।"
আপনি জানলেন কারো মনে সাম্প্রদায়িকতা আছে, তখন তাকে কী করবেন? পুলিশে ধরিয়ে দেবেন? নাকি মিশনারিদের মতো কাউন্সিলিং করবেন, রিহ্যাবে দেবেন?
তারা নিজেরাই নিজেদের শরীর চুলকে আনন্দ নিলেন মূলত। কারণ হলো, সাম্প্রদায়িকতার ক্ষেত্রে উমর দাবি করছেন অ্যাক্টিভিটিজ। অর্থাৎ শুধু ভাবনার মধ্যে ডিম হয়ে থাকা সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে উমরের কথা নাই। আমাদেরও নাই। আমি আলাপ করে নিই এখানেই যে, হামলা বা হামলার প্রস্তুতি, প্রচার, ঘৃণা ছড়ানো ছাড়া সাম্প্রদায়িকতা হয় না। কারণ কে কার মনের ভেতর কী রেখেছেন, এবং তা শেয়ার করছেন একান্তে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় বা প্রয়োজন কারো নাই। যতক্ষণ না তা হামলায়, হিউমিলিয়েট করায় অথবা যাকে বলে ফৌজদারি অপরাধের দিকে ধাবিত না হয়, ততক্ষণ তাকে চিহ্নিত করার উপায়টা কী? আপনি জানলেন কারো মনে সাম্প্রদায়িকতা আছে, তখন তাকে কী করবেন? পুলিশে ধরিয়ে দেবেন? নাকি মিশনারিদের মতো কাউন্সিলিং করবেন, রিহ্যাবে দেবেন? মনের ভেতর যা থাকে তা একদিন না একদিন প্রকাশ পাবেই—এমন বামপন্থী নীতি-নৈতিকতা দিয়ে বিচারের পদ্ধতির খাসলত হলো কার মনে বা চিন্তায় কী আছে তা খুঁজে বের করা। অথচ বাংলাদেশে সাংগঠনিকভাবে, আনুষ্ঠানিককভাবে, সমষ্টিগতভাবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো অথবা স্বনামে, স্বপরিচয়ে ধর্মীয় হানাহানির ঘটনা কি আছে?
তো তারা উমরের সংজ্ঞার ‘বিরোধিতায়’ লিখেছেন, ‘‘এই সংজ্ঞার সংকট অন্তত দুটি স্তরে। প্রথমত, উমর কেবলমাত্র ধর্মকেই সাম্প্রদায়িকতার উৎস মনে করেন। অর্থাৎ, উমরের ‘সাম্প্রদায়িকতা’ মাত্রই ‘ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা’ এবং তা এতটাই যে, এমনকি তিনি যখন ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’র আলোচনা করেন, তখনও তা মূলত ‘ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা’রই রূপ বিশেষ—তত্ত্বগতভাবে সংস্কৃতিকে ধর্মের অন্তর্ভুক্ত মনে করাকেই সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতার মূলসূত্র বলে ধরা যেতে পারে।’’
তো আমি মনে করি সাম্প্রদায়িকতা ব্যাপারটা ধর্মীয়ই, যদি কোথাও তা থেকে থাকে। এর অন্যার্থ নিষ্প্রয়োজন। অ্যাকাডেমির সমস্যা হলো, সে মনে করে সংজ্ঞায়নে সমাধান। তবে আমরা সাধারণ বুদ্ধিজীবীরা জানি, এতে সমস্যা বাড়ে। কীভাবে বাড়ে?
বর্তমান বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতার সামাজিক ভিত্তি’ নেই, বরঞ্চ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আছে; এবং সাম্প্রদায়িকতার অস্তিত্ব বিষয়ক আলাপকে তিনি ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সাথে ওতপ্রতভাবে মিলিয়ে দেখেন
আগে তাদের বক্তব্য পড়ি, ‘‘দ্বিতীয়ত, উমর মানছেন যে, ‘সাম্প্রদায়িকতার যোগ হচ্ছে সম্প্রদায়ের সাথে।’ কিন্তু ‘সম্প্রদায়’ বলতে তিনি বুঝছেন কেবল ধর্মকে। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ শুরু হচ্ছে ‘বিরুদ্ধাচরণ এবং ক্ষতিসাধন করতে প্রস্তুত’ থাকার মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষের মনোভাব অন্তত এই সংজ্ঞানুসারে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নয়। এমনকি কোনো ব্যক্তির মনোভাবকে কেবল তখনই ‘সাম্প্রদায়িকতা’ বলা যাবে, যখন তিনি অন্য [ধর্মীয়] সম্প্রদায়ের ‘বিরুদ্ধাচরণ ও ক্ষতিসাধন’ করতে প্রস্তুত থাকেন, এর আগে নয়। অর্থাৎ, অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি স্রেফ বিদ্বেষ ও ঘৃণার মনোভাব [উমরীয় অর্থে] সাম্প্রদায়িকতা নয়। এটাও উল্লেখ করা দরকার, উমরের ‘সংখ্যালঘু’র যে বর্গ সেখানে তিনি হিন্দুদের বাইরে অন্যান্য জাতিগত জনগোষ্ঠীকে প্রধান হিসাবে দেখে থাকেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, বর্তমান বাংলাদেশে ‘সাম্প্রদায়িকতার সামাজিক ভিত্তি’ নেই, বরঞ্চ ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার আছে; এবং সাম্প্রদায়িকতার অস্তিত্ব বিষয়ক আলাপকে তিনি ভারতের হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সাথে ওতপ্রতভাবে মিলিয়ে দেখেন।’’
এই দুই চিন্তাভারাক্রান্ত বুদ্ধিজীবীর ভারত বাঁচানোর উদ্দেশ্য আছে কিনা জানি না। আমি তাদের সেই দোষ দিচ্ছিও না। অবশ্য বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার ভূত যে ভারত থেকে আসা—এ বিষয়ে তাদের বইয়ে বিস্তারিত আলাপ আছে কি না আমি জানি না। তারা ওই পোর্টালে যে লেখাটি দিয়েছেন তাতে এ-সংক্রান্ত আলাপ বিশেষ নাই। পরে শুনেছি তারা একটি বই করেছেন এ নিয়ে। যাই হোক, আমাদের রাজনীতিতে এই থিওরি বেশ জোরেসোরে আছে যে, ভারতের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়ে। আর উমরও ‘উপমহাদেশ’-এর ঘটনা নিয়েই সাম্প্রদায়িকতা বইটা লেখছিলেন। আর পরেও, কয়েক বছর আগে তিনি সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে তার বক্তব্য আরও সুনির্দিষ্টভাবে ভারতের ওপর চাপিয়েছেন। তো এ দুই প্রতিভার কাছ থেকে এ বিষয়ে আলাপ না থাকলে জাতি বঞ্চিত হবে কার্যকর সমাধান পেতে।
এখন, তাদের কথাবার্তা আরেকটু পড়ি, ‘‘কিন্তু আমরা ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ও ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’কে একাকার করে ফেলতে চাই না। ‘সাম্প্রদায়িকতা’ কেবলমাত্র অ্যাকশন নয়, একটা সেন্টিমেন্টও বটে। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে তাদের সম্প্রদায়গত আচার-বিশ্বাসের দরুন স্টেরিওটাইপ তথা অতি-সরলীকরণ করার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতার শুরু হয়।’’
তারা নিজের মনে করাকে উমরের ওপর চাপায়া তার বিরোধিতায় নামার যে কোশেশ করছেন তা বালখিল্যতা। উমর যা বলছেন সেটা তার নিজের কথা। এ বিষয়ে আস্ত, ইতিহাসখ্যাত বই লিখেছেন। এরপর নওল বুদ্ধিজীবীরাও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে আলাপ করতে পারবেন চাইলে এ ‘গণতান্ত্রিক’ দেশে। কিন্তু সেখানে উমরেরর সমালোচনার দরকারটা কী? তারা তাদের বলাকে উমরের বলার চেয়ে ‘পারফেক্ট’ না রেখে, তাদের বলাকে ওনার বলার ওপর চাপায়ে না দিয়ে আলাপ করতে পারতেন। উমর যে থিওরিটিক্যাল ফ্রেমওয়ার্কে বসে ওই কাজ করেছেন, সেটা সাম্প্রদায়িকতা বিষয়ে এখানকার মনোজগৎকে নাড়া দেওয়ার ঘটনা। সেখানে হিন্দু ও মুসলমানদের সমান বিচারের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হতে পারত। কিন্তু তারা হাঁটলেন বিশুদ্ধ সংজ্ঞা নির্মাণের পথে।
সাম্প্রদায়িকতাকে তারা সেন্টিমেন্ট বলছেন। কেন বলছেন তার আরও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেটুকু পড়ি—‘‘সেই ‘অপর’ সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘ডিজিজ’ বা ‘অসুখ-বিসুখ’, ‘স্বাভাবিকের বিকৃতি’ও ভাবা হয়। অর্থাৎ, ‘সাম্প্রদায়িকতা’ এক ধরনের বর্ণবাদও বটে। এটা কেবলই অ্যাকশন নয় আরও এক অর্থে। যে সমস্ত দেশে মোটাদাগে প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার কায়েম হয়েছে, সেইসব দেশেও সাম্প্রদায়িকতা বহাল তবিয়তেই আছে। যদিও সেখানে হামলা বা শারীরিক জুলুমের মতো ঘটনা কমই ঘটে। কিন্তু প্রান্তিক বা সংখ্যালঘুকৃত সম্প্রদায়কে ‘চিড়িয়া’ ভাবার খাসলত প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উন্নত দেশেও আছে। এই ‘দেখার ধরন’ তথা gaze-এর উৎস সাম্প্রদায়িকতা। এটা এক ধরনের ‘বিশুদ্ধতাবাদী’ মনোভাব। ‘নিজ’ সম্প্রদায়কে ‘শ্রেষ্ঠ’ অথেনটিক এবং অন্য সম্প্রদায়কে ‘ইনঅথেনটিক’ ‘অসুখে আক্রান্ত’ হিসেবে ভাবার-দেখার প্ররোচনা তৈরি হয় এই শ্রেষ্ঠত্ববাদী দম্ভ থেকে। অনেকে একে ‘শ্রেষ্ঠত্ববাদী অহংকার’ বলতে চান। কিন্তু এটা আসলে ‘অহংকার’ নয়, ‘দম্ভ’। ‘অহংকার’ অদাম্ভিকও হতে পারে। অহংকার মানে দম্ভ নয়—আমাকেই আমি করে তোলার ক্রিয়া। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতার ‘নিজ’ ভীষণভাবে ‘অপর’-নির্ভর। আমরা যেহেতু ভাষার মধ্য দিয়েই জগৎকল্পনা ও ব্যাখ্যা করি, ফলে এই ফারাকগুলো নেহাতই তাচ্ছিল্য করার মতন নয়। পরিস্থিতি মোতাবেক সাম্প্রদায়িকতা কেবল মনোভাবে সীমাবদ্ধ থাকে না, হামলা-সহিংসতা এমনকি জেনোসাইডেও গড়াতে পারে। সুতরাং, ‘বিরুদ্ধাচরণ’ এবং 'ক্ষতিসাধন’-এর প্রস্তুতি সাম্প্রদায়িকতার অন্তত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপ।’’
এখানকার প্রগতিশীলরা সেন্টিমেন্টিালি মোস্ট অব দ্য মার্জিনাল, মুসলমানদের কমিউনাল ভাবে
সাম্প্রদায়িকতা এক ধরনের বর্ণবাদ কথাটার মানে কী? দুইটা তো দুই জিনিস। এ দুই পড়ুয়ার সমস্যাটা আমি যেটা ধরতে পেরেছি, সেটা হলো, তারা চোখে সংজ্ঞার চশমা পরে মানুষের ভেতরটা স্ক্যান করে ফেলতে পারেন বলে ভাবেন। কিন্তু কার সেন্টিমেন্ট কেমন এটা তারা কিভাবে বুঝবেন? এদের কথা মানতে গেলে একটা হাইপার সোসাইটি তৈরি হবে। যেখানে কোনো বিষয়ে কিছু বলা যাবে না। তারা তখন কথার ভেতর সাম্প্রদায়িকতা খুঁজতে যাবে। এটা খুব বিপজ্জনক। তারা বলছে, ফর এক্সাম্পল যদি বলি, একজন মুসলিম মনে করে একজন হিন্দু অবিশুদ্ধ, নিজে বিশুদ্ধ—একে তারা বিশুদ্ধতাবাদ বলছেন। এখন কারো মনে করাকরিকে পিউরিফাই করতে যাওয়াটাও যে বিশুদ্ধতাবাদ তা তাদের হুঁশে নাই। তাদের লেখা পড়লে মনে হবে পৃথিবীতে বাংলাদেশিরা মাত্র দিনকয় আগে নাজেল হইছে, জন্মের পর যেমন গোসলের প্রয়োজন হয় বাচ্চাকে, সেখানে কিছু ত্রুটির কারণে এখানকার মানুষের মনে সেন্টিমেন্ট হিসাবে সাম্প্রদায়িকতা রয়ে গেছে। ব্যাপ্টাইজ করা হয় নাই। এই বাঙালি সাতচল্লিশ বা ইত্যাদি সাল পার হয়ে আসে নাই। এখানে ব্রিটিশ শাসন, জামিদারের খবরদারি ছিল না। এই অবলা, অসভ্য জাতিটাকে দুই বুদ্ধিজীবী জাতে তোলার কসরত করতে নেমেছেন।
এখন কথার কথা হিসাবে আরও কথা বলা যায়। আমরা এখানে রোহিঙ্গাদের গালি দিই, পাহাড়িদের ভ্যাঙচাই। এগুলোকে বর্ণবাদ, অসভ্যতা বললে সমস্যা কী? কেন আমাদের চিহ্নিত করতে হবে এগুলোও সাম্প্রদায়িকতা? এসবকে সাম্প্রদায়িকতা হিসেবে চিহ্নিত করার জরুরত কোথায়? আমরা কি সাতচল্লিশ সালে বাস করছি? আমরা বাস করছি নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর, ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পর আওয়ামী লীগের ক্ষমতামলে। সেখানে সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা ধুয়ে আমরা কী করব? আমাদের প্রধান রাজনৈতিক কাজ হলো, সাম্প্রদায়িক হামলা, সরাসরি ক্ষতি হয়েছে এমন ঘটনাগুলোর বিচারসাধন। সেগুলোতে সাম্প্রদায়িক মনোভাব আছে কি না তা খুঁজে বের করা। তাদের যে দাবি ‘সেন্টিমেন্ট’; আল্টিমেটলি এর তো কোনো চিকিৎসা নাই ভারত ছাড়া! তাহলে নেসেসারিলি বা তাদের ব্যবহৃত শব্দে যদি বলি এসেনশিয়ালি বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা আছেই—এ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠায় তাদের উদ্দেশ্য কি ভারতকে সার্ভ করা?
তা করুন। তবে এ দুই ‘সেন্টিমেন্টাল’-এর যে থট-প্রসেস, তা এখানকার প্রগতিশীলদেরই। এ দুই অর্বাচীনের পেছনে আমি এত সময় দিলাম এ কারণেই। কারণ এখানকার প্রগতিশীলরা সেন্টিমেন্টিালি মোস্ট অব দ্য মার্জিনাল, মুসলমানদের কমিউনাল ভাবে। এই সাইকি আরও প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দিন দিন। অর্থাৎ তারা সাম্প্রদায়িক ভেদ-বিচারের ভেতর ফেলে দিচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানদের। কে সাম্প্রদায়িক আর কে না—সে অনুসন্ধান/তদারকি/সার্ভিল্যান্সের আওতায় নিতে চায় আমাদের।
দুই তুখোড় বুদ্ধিজীবীর নাম বা লেখার লিংক দিলাম না, কারণ তার প্রয়োজনীয়তা নাই এখানে।