অলঙ্করণ : সারাজাত সৌম
কালো আপেলের গায়ে টকটকে লাল নাম মৃত্যু ! তাকে বড় কাছের মনে হয়, স্কন্ধে রাখি হাত কৃত্রিমতাশূন্য মায়ায়।
আমিও পা খুইয়ে আসা এক পাখি। মৃত্যুর কাঁধে ভারসাম্য রেখে চলে যেতে অপেক্ষামাণ যাত্রী, নিথর বসে আছি যাত্রী-ছাউনিতে, একা।
প্রলাপ : ১এ ঘোর অনিদ্রা। আমি ক্রমশ পাগল হতে হতে বদ্ধ উন্মাদনার দিকে যাচ্ছি—
আকাশ ভেঙে পড়ছে, পুরনো পাপ ঝেড়ে ফেলছে মেঘ আমি ক্রমশ সবকিছু উপড়ে নিয়ে ঝড়ের দিকে যাচ্ছি—
ওপারে একা, ঢেউয়ের দোলায় দুলছে ডিঙি সারস বাঁশবন ছেড়ে যাবার আগে মানচিত্র এঁকে নেয় ডানায়, চোখে এ কোন ঘোর। অলসতা জেঁকে বসে মনে—
আমি ক্রমশ দীর্ঘজীবী অসুখের দিকে যাচ্ছি।
দ্বি-চারণ-সংবাদ : চারবটফল খেতে গিয়ে ডানা খুইয়ে আসা পাখির চিৎকার গান হয়ে বাজে—মসজিদের আযান আর মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি ভয়-তাড়িত চিৎকার মনে হয় রোজ। আমি কি কখনও মানুষের প্রকোষ্ঠ থেকে জন্ম নেয়া কোনো মানুষ ছিলাম! এত পাপ এত পঙ্কিলতা ঝুলে আছে আঙুলে আঙুলে!
বিহ্বলতা ছড়িয়ে আছে জীবনের চারপাশে। শুধু সাইক্লোন সেন্টার দাঁড়িয়ে থাকে দূরে বিন্দুর মতো—আবছা আর নিঃসঙ্গ। হাঁটতে হাঁটতে ডানা খুইয়ে আসা পাখির মতো খুইয়ে আসি সাধের মল। হাঁটতে হাঁটতে অচেনা জলার দিকে নেমে যাচ্ছি—তরঙ্গায়িত কালো জল সরসরিয়ে এগিয়ে যায় অবিরল।
কোনো তান্ত্রিক বা হস্তরেখাবিদ বলে নি কোনোদিন, এভাবে হেঁটে হেঁটে—মানচিত্র ভুলে একদিন পায়ের মালিকানা হারাব—আযানকে হুংকার ভেবে ফসল তোলা সুখে উসকে দেব আগুন।
ক্ষরণ সিরিজ : ৭আমি কখন আমার হয়ে গেছি! ঘোলাটে রোদে ঝাপসা দেখি বয়সের পরম্পরা হেঁটে যাচ্ছে পিঁপড়া-ভঙ্গিমায়—
অনুকারাচ্ছন্ন জীবনের পায়ে রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যেতে যেতে জন্ম পেছনে ফিরে দেখে, কাচের মতো আলো ভেঙে ভেঙে পড়ে আছে পথে। একুরিয়ামকে সমুদ্র ভেবে একদল গোল্ডফিশ আজন্ম সাঁতরে যাচ্ছে।
একদা স্নানঘরের আয়নার প্রেমে পড়েছিলাম। জবাবমতো পিম্পল ফুটে থাকার ইতিহাস প্রেমকে জাগিয়ে রাখে চিরন্তন। জলের গায়ে ঢেউ তুলে মাটির ঢেলাটিও বেদনার রেখা এঁকেছিল—
ক্ষরণ সিরিজ : ১২পাটিপাতা বনে লুকিয়ে আছে নদী। জ্বলছে সন্ধ্যার গ্রাম। জলপাই-সৈনিকের কাঁধে অপেক্ষায় রাইফেল—আগামী হত্যাদিনের। পানাপুকুরের ভেতর ঠুকরে চলে জলপিপি—কী অসীম মগ্নতা !
নদীর বুকে ভেসে যাওয়া অসংখ্য প্রদীপ তারার মতো জ্বলে। কোটি কোটি তারা যেন ভেসে আসে সুন্দরতম অন্ধকারে—এইমাত্র বিমানটি ধুলো উড়িয়ে চলে গেল সবুজের বুকে হাওয়ার বৃত্ত এঁকে।
বৃত্তের আবর্তে বিন্দু হয়, ছায়াকাটা উজ্জ্বল দিন।
আমার ছাঁটকাপড়ের পুতুল, বাকসো-ভর্তি রঙিন শাড়ি, ডুমুরের পেত্নী আর তক্ষকের বিচ্ছিন্ন ডাক পড়ে থাকে ফেলে আসা বিজন গ্রামে।
কিশোরীর মেদমুক্ত শরীরের পুষ্টিহীনতা কেড়ে নেয় বয়ঃসন্ধির জৌলুশ। অনাথ দুপুরে স্বাগতিক সুন্দরগুলো মেঘ হয়ে উড়ে যায় অনন্ত বর্ষার দিকে।