গোলাপসঙ্গম
ফোটার আগে গোলাপ কাঁটাময়—এই রূপকথায় ফুটন্ত ফুলের জীবনী ভালো লাগে। অতিক্রান্ত পথে ক্ষত ক্ষত পুঞ্জীভূত দাগ, খাঁজে খাঁজে কাঁটা, অথচ লুপ্ত হয় না সবুজ । রক্তের রঙে জীবন মহৎ হয়ে উঠলে নাকে লাগে সুদীর্ঘ ঘ্রাণ । ফুটে ওঠা তখন ফলাফল, সাফল্যের সমরূপ।
একদিন খাদের ফলায় অসর্তক হৃৎপিণ্ড কেটে গেলে তলার অন্ধকারে সঙ্গমে সমবিন্দু হই। হৃদয় নির্মম সাক্ষী, "আঁধার দেখেছি, দেখেছি আরও বড় অন্ধকার ।"আত্মহত্যার সারাংশ
নিজের ওজন বাড়িয়ে তুলছি । কালো পাথরের সঙ্গে এর তুলনা চলে । সেদিন দুই ভাগ জল ও একভাগ সবুজ বিচ্ছেদে আত্মহত্যার সারাংশ লিখেছি । আর নিজের নখকে বানিয়েছি দীর্ঘতর করাত।
বেদনা কি রবার! খণ্ড খণ্ড করতে গেলেই দ্রুততর বাড়ে। আঙুল জানে কি, জলও করাতে কাটে না । পতন স্বভাব । এখন দিন ও রাতের নিচে হিমাঙ্কের নিচে অজস্র জল জমা হচ্ছে, জল এখন শরীর । নিজস্ব প্রয়োজনে ফোটাতে চায় ভাষা । আমি দেখছি, দুই ভাগ জলের শোষণে কিভাবে এক ভাগ সবুজ রক্তের আত্মহত্যা ঘটছে নিয়ত।বিরুদ্ধচোখ
নীল চোখের বিরুদ্ধে আমাদের সহজাত খেলা হয়তো বন্ধ হবে এক্ষুনি । দুই চোখ এখন দুইদিকে— আমি জমাতে চেয়েছি তিন কালের লুকানো মহিমা আর বাড়াতে চেয়েছি লাল আকরে মোড়ানো প্রত্নগহ্বরে প্রেম। তুমি শাদা পাহাড়ের পিঠে বায়ুমণ্ডলীয় চোখে দেখছ, চোখ থেকে পৃথিবী কতটা দূরবিন্দু! বস্তু, পৃথিবী এবং একইভাবে নিয়তি। একটি সুতোর অপেক্ষায়, দুই চোখ বেঁধে ফেলছ আততায়ী সুতোয়। আমি তিন কালের লুকানো মহিমা দেখছি কিভাবে চোখ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জ্যোতি, নীল চোখের বিপরীতে কিভাবে বাড়ছে আমাদের অন্ধ অন্ধ খেলা।
নিমফলা
আমার ব্যবহৃত ক্যালেন্ডার নিম রঙের দাগে ভরে যাচ্ছে, নিমফুল চোখে প্রতিদিন দেখি। রঙিন কচুপাতায় বিন্দু বিন্দু আস্বাদ নির্বাক বায়োস্কোপে ছবি হয়ে ফোটে। আমার আছে দুই যুগ ভ্রমণের বিশদবৃত্তান্ত, এক-একটি অক্ষর মানুষ ভেবে কিভাবে ফিরে এসেছি নিমফুল চোখে। কলা অনুষদে পড়ি নি, ভ্রমণের বৃত্তান্ত বুঝি না, তবু ক্যালেন্ডার আমাকে শেখালো দুই অক্ষরের মাঝে বিচ্যুতির ব্যবধান।
অমিলিত বিচ্ছেদে তুমি শেষমেষ দুরত্বপ্রবাল।
তবু আমি এক পালতোলা নৌকাবাহার, গোটা গোটা অক্ষরের পাশে বিষণ্ন হলুদ। নিমসময় নিমপাতা ক্যালেন্ডারে তরঙ্গ তোলে। আমি দুলে যাই, পায়ে ভীষণ রিদম।
শীতলসুন্দর
আধঘুম ঘুমের প্রহরে পুঞ্জীভূত তন্দ্রার কাতুরে নিবেদন— এবার কিছু পরিধি ছুঁয়ে আসা যাক। অবশ্যই প্রেমের হৃদয়ে। আমাদের ডানার অনুনয় পাথরগুলি অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ হয়ে গেছে, আমরা প্রত্যহ ডানাময় শীতলসুন্দর।
কেউ জিজ্ঞাসা করেছিল—হৃদয় কত বড় হলে অন্তর্লীন পরিধি অতিক্রম করে যায়? আমার নীরবতায় প্রেমের সৌধ আছে, তবু দ্যাখো উদ্বেলিত কোনো টুকরো পাবে না তার।অথচ জেগে উঠার বিস্তৃত ভঙ্গিমায় আমরা প্রত্যেকে ভুলভাল কিছু আগুন ঠুকেছি।