নিশ্চয় তুমি একজন কেউ না

নিশ্চয় তুমি একজন কেউ না

নিশ্চয় তুমি একজন বিখ্যাত তারা যে কিছুই করতে পারে না অথচ সব কিছু করে। নিশ্চয় তুমি একজন উন্মাদ ভালো লোক, যে নিজ প্রতিভা নিয়ে করে উপহাস; নিজ কবরে লাগায় বকফুল। নিশ্চয় তুমি একজন বিখ্যাত পাখি যে সবকিছু করতে পারে অথচ কিছুই করে না। নিশ্চয় তুমি একজন কিছুই না দৃশ্যের ভেতর কেবল দাঁড়িয়ে রও অদৃশ্য হয়ে।  

আমাদের শিশু

আমাদের একমাত্র শিশুটি যাই-ই আঁকে তাই-ই জীবন্ত হয়ে যায়। শিশুটি লাল-হলুদ পাখি আঁকে আমাদের নিঃসঙ্গ বারান্দায় শোনা যায় পাখির কিচির-মিচির। শিশুটি বেগুনি রঙের অদ্ভুত বিড়াল আঁকে আমরা শুনতে পাই তোমার কম্বলের ওমে বেগুনি বিড়ালের মিঁউ মিঁউ। শিশুটি লাল সূর্য আঁকে আমরা দেখতে পাই তোমাদের ছাদে বিশাল সূর্য হাসি-হাসি মুখে গিটার বাজাচ্ছে। শিশুটি গোল-চৌকো বা ত্রিকোনা ফুল আঁকে নতুন ধরণের ফুল সারা পাড়া ভরে ওঠে ফুলের গন্ধে। শিশুটি এখন নদী আঁকছে কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা হয়ত বেড়াতে যাবো নদীর পাড়ে!  

টমাস মানের একটি গল্প পড়ে

বাতাসে সবকিছু নিশ্চয় থেকে যায়, তা-না হলে আমাদের অনুপস্থিতিতে আমাদের নিয়ে কথা হয় কীভাবে? মৃত্যুর পর নিশ্চয় জেনে ফেলে মানুষ জীবিতদের সমস্ত গোপনীয়তা। গতজন্মে  আমি কোকিলের ডিম হয়ে কাকের ঘরে জন্মেছিলাম, আজ মানুষ হয়ে কাক শিকারের বিরুদ্ধে বলছি কথা, আমাকে সবাই জানে কোকিলের মতো কবি বলেই।  

মানুষের জন্য মহাকাব্য

আমার পাশের বাড়িতে এক বানর থাকে বানরটা রোজ দেয়ালে পেরেক গাঁথে দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম আমার পাশের বাড়িতে এক হনুমান থাকে হনুমানটা রোজ দেয়ালে পেরেক গাঁথে দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম আমার পাশের বাড়িতে এক উল্লুক থাকে উল্লুকটা রোজ দেয়ালে পেরেক গাঁথে দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম আমার পাশের বাড়িতে এক ইঁদুর থাকে ইঁদুরটা রোজ দেয়ালে পেরেক গাঁথে দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম আমার পাশের বাড়িতে এক পাগল থাকে পাগলটা রোজ দেয়ালে পেরেক গাঁথে দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম দ্রুম দ্রিম আমার পাশের বাড়িতে এখন রঙিন জামা গায়ে আমি থাকি!  

সময় বিষয়ক সেমিনার

সময় তো মেকি ভাবনা, নিহত বাউলের কণ্ঠের সুরের মতো পথ হারানো ধারণার নাম!

যদি সূর্য না ঘোরাত ম্যাজিক্যাল আলো, চাঁদ না ওড়াত জ্যোৎস্না তাহলে হয়তো এই বিষয় জানতই না কেউ। বলা যায়, সময় বাতাসের অনুভূতিতে ঠান্ডা-গরম ধাক্কা দিয়ে চলা অনির্দিষ্ট জার্নি; আমরা সকলে এই যাত্রার যাত্রী ও জাহাজ। আমাদের যে বাৎসরিক কিংবা ব্যক্তিগত উদযাপনের দিন, তারা এক-একটা উল্লাস আর বিষাদ জাগানো স্টপেজ। যেমন— ১ বৈশাখ, ১ জানুয়ারি, ২১ ফেব্রুয়ারি কিংবা ১৬ ডিসেম্বর...

এসো, এই স্টপেজগুলো থেকে সুদূর যাত্রার  জাহাজের তেল-খাদ্য-পানীয় নেয়ার মতো নেই নতুন প্রেরণা। জানতে চাই, আমাদের জন্মের কয়েক লক্ষ বছর আগে মরে গিয়েছিল যে সকল তারা, তাদের কাউকে না কাউকে কেন পাচ্ছি দেখতে প্রায়ই সন্ধ্যায়! এই সব সন্ধ্যাতারা কি প্রমাণ করে না মৃত্যুর সাথে হ্যান্ডশেকের পরও আমাদের কাউকে না কাউকে দেখা যাবে অনেক অনেক দিন।

ফেরদৌস মাহমুদ

ফেরদৌস মাহমুদ

জন্ম ৮ কার্তিক, ১৩৮৪; চরডিক্রি, মুলাদী, বরিশাল। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর।...বিস্তারিত