মুখ

ফুটেছে দিঘির পাশে ছায়া দাহকাল জুড়ে কোনো স্নান ঐ পাড়ে সহজিয়া ঋতু মাটির আড়ালে বহমান। তোমাকে সাঁকোর অগোচরে ভেবেছি খেয়ার অভিনয় পিপুল পাতার নিচে আজ আমাদের হলো পরিচয়। প্রতিধ্বনি দিয়ে গেছে কারা যুগপৎ পাথরে ও ঘুমে ফুটে আছে পেছনে আকাশ ডালিম ফুলের মউসুমে। আমি যে নিজের থেকে দূরে হারানো হ্রেষার পাশে তারা সৌর-আভায় বাজে গান পরিখায় সুর তোলে কারা!  

আমার সুরের রেণু ভেঙে চূর্ণমান ধূ ধূ নীলিমায়— এ পথের পাশে চিরদিন জুতার ঘটনা ছিঁড়ে যায়। ফুলের উপরে বায়ুভার জননীর আঁজলায় ঝুঁকে দেখে নেয় কথোপকথন শিশুদের হাইতোলা মুখে। এই মাঠে শুয়ে আছে থির— হরিণের দৌড় কতকাল মাগরিব ভরা শুধু খাঁ খাঁ ভেঙে দিই স্নানের খেয়াল। বীজতলা, স্নেহধান ঘুরে প্রতিবেশী আমি পুনরায় হয়তো সুবিল খুব ভোরে মেহেদি ফুলের দেখা পায়  

দিঘির পানিতে ভাসে দিন পাতাদের নিঃসঙ্গতায় ফাঁকা এক পুরনো দেরাজ ভরে আছে পাখির ছায়ায় উড্ডীন অশ্বের থেকে হাওয়া সারাদিন দৌড়ে যায় মাঠে মায়াহরিণীর বাঁকা জিভ ঘাসের ভাবনাটুকু চাটে। এই বন ছায়া-প্রতারণা শেকড়ে জমছে গাঢ় কষ পড়ে আছে পূরবী-স্নানেই বহুদিন তোমার বয়স— মুখভরা ধূ ধূ বধিরতা ক্রূর ব্যাধি, শঠতা ও শ্লেষ কোথায় তোমার খেয়াঘাট কোন পাড়ে তোমার স্বদেশ!  

মাটিতে এলিয়ে পড়ে রাত বীতভাব জানালার শিকে গানের অর্থ ভুলে কেউ মনে রাখে প্রিয় মুখটিকে। ঝরে গেছে ঋষভের সুরে জারুল ফুলের মঞ্জরী পাতার উপরে যে সরল তোমাকেও সন্দেহ করি। পানিতে চাঁদের প্রতারণা হাঁসেরা দেখছে ঠোঁটভরে— ঢেউ তাকে নিয়ে আসে কাছে অরূপ তীরের  ঘুমঘোরে। মৃত্যুর কিছুটা দূরে, দেখি একটি প্রশান্ত নৌকো বাঁধা তুমি এক ফাঁকা দেহরূপ চিরকাল ওপারের ধাঁধা।  

দোয়েলের গানভারে নত এই ফুল—তারাটির কাছে ভাসমান পদ্মের চূড়া আলোর বাইরে ফুটে আছে। অনুধাবনের চেয়ে ভাষা নীল কোনো কণ্ঠের পাখি ফেলে রাখে ভোরের ডগায় কোমল শিসের ডাকাডাকি। মুখের সরণি ধরে কেউ একদিন একা হেঁটে যাবে ধনুক নিঃশব্দ হলে, আজো পারাবত কার কথা ভাবে! মাটি থেকে আবার মাটির ঘূর্ণমান এই জলদেশে ফাঁকা এক ডানা নিয়ে উড়ি শূন্যপথের অভিশেষে।
হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী...বিস্তারিত