টোটন ভেবেছিল প্রেমেরই জয় হবে। কিন্তু হলো না। অদ্রিকার বাবা তা হতে দিলেন না। টোটনকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে, সুইডেন প্রবাসী এক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার পাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক করলেন।
আজ অদ্রিকার বিয়ে!
টোটন শক্ড। দিশেহরা। ক্লান্ত। তার মনে হচ্ছে, চারদিক থেকে সমুদ্রের গর্জনের মতো সানাইয়ের সুর ধেয়ে আসছে। এসে হৃদয়ের তীরে আছড়ে পড়ছে। মুহুর্মুহু কানের পর্দায় আঘাত হানছে। মনে হচ্ছে সানাইয়ের ভয়ঙ্কর সুর এক্ষণই তাকে গ্রাস করবে। চিরতরে শেষ করে ফেলবে। আর কোনোদিন দেখা হবে না অদ্রিকার সঙ্গে।
হায় প্রেম! টোটনের জন্য এত বড় বেদনা ঠিক করে রেখেছিলে! কিন্তু এই বেদনার ভার কেমন করে সইবে কচি বয়সের ছেলেটা!
মেয়েরা আসলে এমনই হয়। যখন কাউকে ভালোবাসে সবকিছু উজার করে দিয়ে ভালোবাসে।
আচ্ছা, ঠিক এই মুহূর্তে, কী করছে অদ্রিকা? কেমন লাগছে ওর? খুব জানতে ইচ্ছা হলো টোটনের। অদ্রিকা কি এরই মধ্যে টোটনকে অতীতে পতিত করে দিয়ে নববরের চিন্তায় মশগুল হয়ে পড়েছে? ওর কি একবারও টোটনের কথা মনে পড়ছে না? —মনে পড়লে অন্তত ফোন দিত। দিত না? টোটনেরই দ্বিতীয় সত্তা বলে উঠল কথাটা।
হ্যাঁ, তাই তো। ফোন দিলে তো দিতে পারতই। অদ্রিকার বাবা নিশ্চয়ই ওর মোবাইল কেড়ে নিতেন না। ভাবতে ভাবতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল টোটন।
মেয়েরা আসলে এমনই হয়। যখন কাউকে ভালোবাসে সবকিছু উজার করে দিয়ে ভালোবাসে। কিন্তু যখন ভুলে যায় একেবারেই ভুলে যায়!
কী দোষ ছিল টোটনের? সে টো টো কোম্পানির ম্যানেজার—্এই তো? তা এর জন্য তো টোটন দায়ী নয়। দায়ী তার কোটিপতি বাবা চৌধুরী আলমগীর হোসেন। ভদ্রলোক তার ছেলেকে লাউয়ের ডগার মতো লাই লাই করে বাড়তে দিয়েছেন। মুক্ত হাওয়ার স্বাদ নিতে দিয়েছেন। কখনো চার দেয়ালে আটকে রাখেন নি। তো এইরকম উদার হাওয়ায় বড় হওয়া একটি ছেলে টো টো কোম্পানির ম্যানেজার হবে না তো সচিবালয়ের আমলা হবে? আর তাছাড়া তুমি তো টোটনের টোটনাগিরি দেখেই তার প্রেমে পড়েছিলে। নিজে ফোন করে প্রেম প্রস্তাব দিয়েছিলে। নাকি এসব মিথ্যা? তাহলে এখন কেন বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছ? কেন প্রতিবাদ করছ না? বিয়ের আসর থেকে কেন পালিয়ে আসছ না? জানি, কোনো জবাব দেবে না। কারণ চুপ থাকলে শত ঝড়-ঝঞ্ঝা থেকে দূরে থাকা যায়। আসলে তোমরা মেয়েরা, খুব নিষ্ঠুর!
২. ‘তুই একটু ঘুমা’—টোটনের মা মিসেস চৌধুরী বললেন।
‘না মা, আমার ঘুম আসবে না।’
‘আ, ফালতু কথা বলিস না তো! যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। মেনে নে।’
‘মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে, মা।’
‘ও কিছু না। ক’দিন পরে ঠিক হয়ে যাবে।’
‘না মা, ঠিক হবে না। আমি শেষ হয়ে যাব।’
‘আরে পাগল এই আমাকে দেখ, আমি দিব্যি বেঁচে আছি। যদিও আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না।’
‘কেন, তুমিও আমার মতো ছ্যাঁকা খাইছিলা নাকি?’
‘আরে খাইছিলাম মানে! কঠিন ছ্যাঁকা!’
‘কী রকম? বলো তো শুনি!’
‘আমি তখন ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। ক্লাস নাইন থেকে একটা ছেলের সাথে আমার রিলেশন।’
‘তুমি এত অল্প বয়সেই রিলেশনে জড়াইছিলা? ছি!’
‘কেন, তুই যে সেভেনে থাকতে পাক্কা এক বছর নাবিলার সাথে প্রেম করলি? তখন তোর বয়স কত ছিল?’
‘আহা আমাদের সময় আর তোমাদের সময় কি এক হলো? নট অনলি দ্যাট বাট অলসো—তোমাকে এটাও বিবেচনায় রাখতে হবে যে, মেহেন্দিগঞ্জ আর গুলশান এক নয়। বাইদা ওয়ে। তোমার বয়ফ্রেন্ডটার নাম কী ছিল?’
‘জামশেদ আলী।’
‘কী! তুমি জামশেদ আলী নামের কোনো ছেলের সাথে প্রেম করতা? ছি!’ ভীষণ অবাক হলো টোটন।
‘আরে বলতে দে না! ছোটকালের প্রেম তো, ওগুলা প্রেম না। খেলা, বুচ্ছিস খেলা?’
‘বুঝলাম। তারপর কী হলো?’
‘তো মেট্রিকে ফেল করল ছেলেটা। আমি পাশ করলাম। ফেল করে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল। আমি বললাম, কাঁদলে কী হবে? আবার পরীক্ষা দাও। তা ওই হাম্বলটা বলে কী—তুমি তো আমার সিনিয়ার হয়ে গেলা। সিনিয়ার হয়ে কি জুনিয়ারের সাথে প্রেম চালায়া যাবা নাকি বন্ধ কইরা দিবা? গাড়লটার কথা শুনে আমি হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারি না। মনের রাগ মনে চেপে রেখে বলি, প্রেমে সিনিয়ার জুনিয়ার বইলা কিছু নাই। আমার কথা শুনে বোকাটা খুশি হলো।’
‘তারপর?’
‘কিন্তু ওর বাবা ব্যাগড়া দিয়ে বসল, অনেক পড়া হইছে, আর দরকার নাই। এত পড়ালেখা করে জজ-ব্যারিস্টার হওয়া লাগবে না। তাদের দরকার মাঠে হাল-চাষ করা। কিন্তু ছেলেটা বাবার কথার তীব্র প্রতিবাদ করল। বলল, সে কৃষক হবে না। বড় অফিসার হবে। বাবা বলল, তোমার যা ইচ্ছা হও। নিজে নিজে হও। বাবার কথা শুনে ছেলেটা বাড়ি থেকে পালালো। সেই যে পালালো তো পালালো—এক বছর পর ফিরে এল লাশ হয়ে!’
‘মানে!’ টোটন চমকে উঠল।
সুন্দরী মেয়েরা হলো শো-পিস। কর্তার ইচ্ছায় যেকোনো শো-কেসেই শোভা পেতে পারে।
‘জামশেদ বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা এসেছিল। কোনো একটা কাজের সন্ধান করতেছিল। যাতে টিকে থাকা যায়। কিন্তু জানিস তো, ঢাকা শহরে টিকে থাকা এখন যেমন কঠিন আগেও তেমনি কঠিনই ছিল। ছেলেটা জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে এক সময় পরাজিত হয়ে শেষে সুইসাইড করেছিল।’
‘শিট! ইটস আ ট্র্যাজেডি!’
‘তাহলেই বুঝ আমি কতটা কষ্ট পেয়েছিলাম!’
‘হুম বুঝতে পারতেছি মা। কিন্তু একটা প্রশ্ন, এই যখন বাস্তবতা, তুমি মেহেন্দিগঞ্জের অজপাড়ার মেয়ে হয়ে ধানমন্ডি এলে কিভাবে?’
‘আরে বোকা, সুন্দরী মেয়েরা হলো শো-পিস। কর্তার ইচ্ছায় যেকোনো শো-কেসেই শোভা পেতে পারে। এই যেমন অদ্রিকার কথাই ধর, মনে হচ্ছিল—তোর সাথে ওর বিয়ে হবে। কিন্তু না। বিয়ে হচ্ছে সুইডেন না ফুইডেনের কোনো এক ছেলের সাথে। বাদ দে। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়া। মাথা থেকে এসব ঝেড়ে ফেলে দে।’
‘কী সব আজগুবি কথা বলতেছ? তিন বাচ্চার মা হয়ে তুমি যেখানে জামশেদ আঙ্কেলকে এখনো ভুলতে পারো নি সেখানে আমি কিভাবে আমার তরতাজা রিলেশনশিপ ভুলে যাব?’
‘কে বলল আমি ভুলতে পারি নি? ওটা তো আমার পাস্ট। আমি বর্তমান নিয়ে আছি। তোদেরকে নিয়ে আছি। মেয়েরা অতীত মনে রাখে না, বাবা। অদ্রিকাও তোকে মনে রাখবে না।’
‘তাহলে এখন আমার কী করা উচিত?’ টোটনকে খুবই চিন্তিত দেখাল।
‘অদ্রিকাকে ভুলে যাওয়া ছাড়া তোর আর কোনো কিছু করণীয় আছে বলে মনে হয় না।’
‘কে বলল নাই? অবশ্যই আছে।’
‘যেমন?’
‘আমি জামশেদ আঙ্কেল হব!’
‘মানে! এসব কী বলছিস তুই! পাগলামি করিস না! তোর কিছু হলে আমি বাঁচব না।’ বলতে বলতে টোটনকে জড়িয়ে ধরলেন মিসেস চৌধুরী। ছেলের গালে নিজের গাল মিশিয়ে কাঁদতে লাগলেন।
‘জামশেদ আঙ্কেল ইজ আ রিয়েল হিরো!’
‘আবার জামশেদের কথা বলছিস! ওইটা তো ভুয়া।’
‘ভুয়া মানে?’
‘ভুয়া মানে ভুয়া গল্প! আমি তোকে ডাইভার্ট করার জন্য বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলেছি।’
‘বানিয়ে বললেও কিছু যায় আসে না। জামশেদ ইজ দ্য ফ্যাক্ট!’ বলে টোটন উঠে পড়ল। মিসেস চৌধুরী তাকে আটকানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু পারলেন না। টোটন সোজা বাড়ির বাইরে চলে গেল।
৩. মিসেস চৌধুরী অগ্নিলাকে ফোন দিলেন। ‘হ্যালো অগ্নিলা!’
অগ্নিলা বিস্মিত কণ্ঠে সালাম দিলো ‘স্লামালেকুম আন্টি!’
‘অলেকুম সালাম। কেমন আছ, মা?’
‘এই তো ভালো! কিন্তু কী ব্যাপার আন্টি? কোনো সমস্যা?’
‘হ্যাঁ আমার খুব বিপদ!’
‘বিপদ! কী হয়েছে আন্টি?’
‘তুমি তো সবই জানো। তোমাকে নতুন করে বলার কিছু নেই। একটু আগে টোটন রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছে।’
‘বলেন কী! কোথায় গেছে?’
‘জানি না। যাওয়ার সময় বলে গেছে ও নাকি সুইসাইড করবে। তুমি ওকে আটকাও, মা।’
‘ওকে আন্টি! আপনি একদম চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি।’
‘থ্যাঙ্ক ইউ অগ্নিলা। যেভাবেই হোক তুমি ওকে আটকাও! ওর কিছু হয়ে গেলে আমি বাঁচব না।’ মিসেস চৌধুরী কাঁদতে লাগলেন।
অগ্নিলা মিসেস চৌধুরীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, ‘আন্টি আপনি কাঁদবেন না। আমি এক্ষুণি ওকে ধরার চেষ্টা করছি। আপনি শান্ত হোন।’
‘ওকে মা।’ মিসেস চৌধুরী ফোন রাখলেন।
টোটন ভাবল, রেল লাইনে ঝাপ দেওয়াটা বেটার হবে অ্যান্ড ইটস ফাইনাল। ডিসিশনটা লকড করল। কিন্তু তার আগে একবার ইচ্ছে হলো অদ্রিকাদের বাড়ির সামনে যাওয়ার। সঙ্গে সঙ্গে রওয়ানা দিলো।
ততক্ষণে ট্রেন বেশ কাছে চলে এসেছে। মাটি কাঁপছে। টোটন শুধু একবার ট্রেনটা দেখে নিয়ে ঝাপ দেবে
অদ্রিকাদের দশ তলা বাড়ি। পুরোটাতেই লাইটিং করা হয়েছে। নানান রঙের আলো জ্বলছে, নিভছে। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে, যেন আলোর ফোয়ারা। টোটন বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারল না। তার চোখ ভিজে এল। ঝাপসা চোখে একটা দৃশ্য দেখল। অচেনা একটি ছেলে অদ্রিকাকে কোলে করে বেডরুমে নিয়ে যাচ্ছে। নিয়ে ফুলেল বিছানায় বসাল। তারপর অদ্রিকাকে কিস করল। একবার দুইবার তিন বার। টোটন 'না' বলে চিৎকার করে উঠল। রাস্তার পাশে একটা কুকুর ঘুমিয়ে ছিল। টোটনের চিৎকারে কুকুরটির ঘুম ভেঙে গেল।
—না এখানে আর এক মুহূর্তও না। টোটনের দ্বিতীয় সত্তা বলে উঠল। এরচে ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো।
টোটন সোজা চলে গেল রেললাইনে।
দ্রুত আসন্ত ট্রেনের হুইসেল শুনে চোখ বন্ধ করল টোটন। এক দুই তিন গণনা করতে লাগল। ঘড়ির মতো টিকটিক শব্দ হতে লাগল তার হৃৎপিণ্ডে। ততক্ষণে ট্রেন বেশ কাছে চলে এসেছে। মাটি কাঁপছে। টোটন শুধু একবার ট্রেনটা দেখে নিয়ে ঝাপ দেবে ঠিক এমন সময় তীব্র ভাইব্রেশনে সে হতবিহবল হয়ে পড়ল। মিস হয়ে গেল ঝাপ দেওয়া। ঝনাৎ ঝনাৎ ঝনাৎ শব্দে ট্রেনটা চলে যেতে লাগল। টোটন পকেট থেকে মোবাইল বের করে স্ক্রিনে লেখা দেখল—অগ্নিলা ইজ কলিং!
সে ফোন রিসিভ করল।
অগ্নিলা বলল, ‘কোথায় তুই?
টোটন বলল, ‘শব্দ পাচ্ছিস না ট্রেনের?’
‘পাচ্ছি। অ্যান্ড আই আম কামিং!’
‘বাট হুয়াই?’
‘হ্যাভ টু টক উইথ ইউ!’
‘স্যরি অগ্নিলা। আমি এখন কথা বলার ঊর্ধ্বে আছি।’
‘ঠিক আছে। কথা না বললি। এক মিনিটের জন্য দেখা করতে চাই।’
‘ঠিক আছে আয়।’
টোটন ভাবল পরের ট্রেন ধরতে হবে। সে চিন্তিত ভঙ্গিতে রেললাইন ধরে হাঁটতে লাগল। হাঁটতে হাঁটতে মাথায় একটা বুদ্ধি এল। ঘুমিয়ে থেকে মরে যাওয়া ইজ বেটার দেন ঝাপ দিয়ে মরা। অর্থাৎ সে ঘুমিয়ে থাকবে। ধাবমান ট্রেনটা শাঁ করে দেহের উপর দিয়ে চলে যাবে। সে কিচ্ছুটি টের পাবে না। ইটস আ গ্রেট আইডিয়া।
এ জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার অগ্নিলা। কারণ অগ্নিলা ফোন না করলে তার ঝাপ দেওয়া বন্ধ হতো না। আর চমৎকার এই আইডিয়াটাও মাথায় আসত না। ফলে অসময়ে ফোন করার কারণে টোটন অগ্নিলার প্রতি বিরক্ত হলেও এখন কিছুটা প্রসন্ন হলো।
৪. অগ্নিলা টোটনের হাত ধরে টেনে বেডরুমে নিয়ে গেল। অগ্নিলার বেড রুমে আগে কখনো ঢোকে নি টোটন। ঢুকেই বুঝল বেডরুমটা জোশ!
কেমন একটা ঝাঁঝাল-মিষ্টি স্মেল। সাথে চেরি ফেবার। টোটন বলল, ‘এটা কিসের গন্ধ?’
‘জাজেল এয়ার ফ্রেশনার!’
‘তোর বেডরুমের ডিজাইনার কে?’
‘স্মিথ রুকনার।’
‘কোন দেশের? আই মিন উনার বাড়ি কই?’
‘এসব পরে হবে। এখন শুয়ে পড়।’
‘শুয়ে পড়ব মানে?’
‘তুই টায়ার্ড। একটু রেস্ট নে। তোর রেস্ট নেওয়া হলে জরুরি কথা বলব।’
‘জরুরি কথা!’ টোটন অবাক হয়ে জানতে চাইল।
‘এখন আর কিছুই বলছি না।’
‘ওকে। দ্যাটস গুড।’
অগ্নিলার তুলোর মতো নরম বিছানায় প্রায় ৪৫ মিনিট ঘুমানোর পর টোটনের দ্বিতীয় সত্তা তাকে ডেকে তুলল, ‘এই ওঠ! ওঠ মিঞা!’
টোটন শোয়া থেকে উঠে বসল।
দ্বিতীয় সত্তা বলল, ‘এটা কার বেড?’
‘অগ্নিলার।’
‘তো অগ্নিলার বেডে তুমি শুয়ে আছ কেন?’
‘অগ্নিলা শুতে দিল তাই।’
‘কেউ তার বেডে শুতে দিলেই কি তুমি শুয়ে পড়বা? তোমার কোনো রুচি-জ্ঞান নাই?’
দ্বিতীয় সত্তার কথায় চিন্তিত হয়ে পড়ল টোটন। সত্তা তো ঠিকই বলছে। এখানে আর থাকা ঠিক হবে না। চলে যেতে হবে। টোটন বিছানা থেকে নামতে যাবে এমন সময় এ্ইইই করছিস কী করছিস কী, বলতে বলতে ছুটে এল অগ্নিলা। তুই সিক। কোথাও যাবি না। তোর বিশ্রাম দরকার।’
‘ডিয়ারেস্ট অদ্রিকা! বিশেষ ব্যস্ততার কারণে তোমার বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারার জন্য দুঃখিত।
টোটন অগ্নিলার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। অগ্নিলা কোনো কথা খুঁজে না পেয়ে বলা কথাটাই আবার বলল, ‘তোর রেস্ট দরকার।’
‘কিন্তু তুই কী যেন একটা জরুরি কথা বলতে চাইছিলি?’
‘হুম।’
‘বল।’
‘এই নে স্ক্রিপ্ট। লাইভে গিয়ে এটা পড়!’
‘এটা কিসের স্ক্রিপ্ট?’
‘পড়লেই বুঝবি।’
‘কিন্তু তোর জরুরি কথাটা কী?’
‘এটাই জরুরি কথা।’
টোটন এফবি লাইভে যেতে গিয়ে নিজের পাসওয়ার্ড মনে করতে পারল না। ফলে অগ্নিলার অ্যাকাউন্ট থেকেই লাইভে ঢুকতে হলো তাকে।
‘ডিয়ারেস্ট অদ্রিকা! বিশেষ ব্যস্ততার কারণে তোমার বিয়েতে উপস্থিত হতে না পারার জন্য দুঃখিত। আমি দূর থেকে তোমার জন্য শুভকামনা জানাচ্ছি। আশা করি তুমি তোমার নতুন জীবনকে দারুণভাবে এনজয় করবে। শুভ হোক তোমার নতুন জীবনের পথচলা!’
বাধ্য ছেলের মতো টোটন অগ্নিলার লেখা স্ক্রিপ্ট পড়া শেষ করল। অগ্নিলা তার দিকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে রইল।
টোটন বলল, ‘এখন কী হবে?’
অগ্নিলা আচমকা টোটনকে জড়িয়ে ধরে চটাশ করে একটি চুমো খেয়ে বলল, ‘যা হবার তাই হবে!’