চারটি কবিতা

আত্মপ্রতিকৃতি

❑❑ একটি-বা জিজ্ঞাসাচিহ্ন একটি-বা বিস্ময় দাঁড়ি, কমা, ডট, সেমিকোলন, কোলন ইত্যাদি পরিপূর্ণ রঙে ও রেখায় নয়, ভাঙা ভাঙা টান গোলাকার অর্ধগোলকের, ধার বেয়ে একটি-বা মুচকি ঠোঁটের রেখা অবজ্ঞার, মূর্ত নয়, বিমূর্তও নয়, কিছু ছোপ-ছোপ আলো-আঁধারির খেলা অর্ধেক দেয়াল জুড়ে, ভাঙা ইট মাথা তুলে ফেটে পড়ে হাহা অট্টহাসে তুমুল বিবাগী; দর্শনার্থী উপচে-পড়া ভিড় ঠেলে ঠেলে বাইরে আসতে আসতে ভারি, কী চমৎকার, তাইলে বিকল্প আমি ঠায় বসে আছি আদিগন্তব্যাপী অস্তিহীনতায় নাস্তির বা বিমূঢ় সন্দেশ জনে-জনে এই বিলায় বিলাপ বাহ্ বাহ্ কী সুন্দর কিছুই না বলে ধরা রইল সারাৎসার ক্ষণ... অসীম শূন্যতা যদি হঠাৎ চিৎকারে ফেটে পড়ে আমি ভালোবাসি, ওই ওই আমি পালাই সুদূরে কণ্ঠস্বর, হয়তোবা আমার। তবে কী আমার! কে বলবে! শুধুমাত্র চুনবালি খসে পড়ে চতুর্দিকে ধোঁয়াকীর্ণ!  
১৭ অক্টোবর ২০১৭ উত্তরা
 
 

সহজ সুন্দর

❑❑ সুন্দর সহজ করো সহজ সুন্দর প্রতিদিন জীবনযাপন প্রতি নিমেষের মান-অভিমান অসহ্য বুকের ভার দুঃস্বপ্নের পরিতাপ পরিশ্রুত জীবনের দেনা-পাওনা, নিদ্রা কিংবা জাগরণ সহজ সুন্দর করো সুন্দর সহজ, রোদ বৃষ্টি ধারাপাত, ধরাধাম বিমূর্ত বিদায়-সম্ভাষণ ধরণীর পথে ও বিপথে যাত্রাগান পালাগান তোমাতে-আমাতে মুক্ত হোক এক জনমের অপবাদ যে মুহূর্ত অস্তাচলে ছায়া দীর্ঘতর হতে হতে ছুঁয়ে গেছে তেপান্তর মরুভূমি পাহাড় বনানী যে মুগ্ধতা আলো হয়ে মারা পড়ছে প্রতিদিন জলের কল্লোল যেন মহাসমুদ্রের গান উপচে পড়ে সারাবেলা প্রতিটি ঊষর গৃহকোণে; ফুঁ দিয়েছে শঙ্খে ওই অভ্রভেদী প্রলয়-আওয়াজে মহা আশঙ্কায় দেহমাংস খাঁচা ছেড়ে মিশে যায় ওই দেখো মহামানুষের মহাকাল নিরুদ্ধ সংগীতে!  
১৭ অক্টোবর ২০১৭ উত্তরা
 

গান

❑❑ সারা অঙ্গ উথলিয়ে গান কণ্ঠ থেকে শরীর ভাসিয়ে গান খাঁজে-খাঁজে তালে-তালে স্তনের বোঁটায় জীবনে জন্মের গুঞ্জরন, গান; হে, মানবী তুমি তবে দেবীর মুরতি বইয়ে দিলে রক্তমাংসে মন্দাকিনীধারা তোমাকে মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তের শ্বাস অনুতাপ আত্মবিমোচন নিবেদন, মানব-মিছিলে চিরন্তন অন্তিম যাত্রার ক্ষণে দিগন্তে-দিগন্তে বেজে চলে গান, পারলৌকিক বা অমর অক্ষয় মানবিক!  
১৭ অক্টোবর ২০১৭ উত্তরা
 
 

রুদ্রকে মনে পড়ে

❑❑ এ সব সময়ে, জেনো; তোমারে ভীষণ প্রয়োজন ছিল; পশুরের স্রোত মাথা কুটছে, সিবশার জল ছলছল তট ছুঁয়ে, বেদনায়, হাহাকারে, ফেটে পড়ছে এ- মুহূর্তে কই রে, কই রে, আমাদের  সে বান্ধব কই গেল; মধ্যরাত, মঙ্গলার ইট-ওঠা খোয়া-ভাঙা পায়ে-পায়ে গৃহহীন, মানুষ ও পথহারা কুকুরদঙ্গল শোঁকে জলজ বাতাস, যদি গন্ধ পাওয়া যায়, সেই পথিকের; হারিয়ে যে গেছে, সে কি ওই নিঃসীম আকাশ; মিঠাখালি, এতটা মিঠাও নয়, পানীয় বিস্বাদ লবণাক্ত অন্তহীন জীবনযাপন একঘেয়ে, কষ্টকর উপলে পলিতে, পায়ে-পায়ে, অনন্তর সংগ্রামে, বা মুক্তি কই, মুক্তি তবে বাণীশান্তা কুটিরে-কুটিরে, ছনে ঢাকা জলের প্রদীপে, বাতাসের দীর্ণ হাহাকারে, প্রকৃতি ও মানুষের অপূর্ব মিলন যজ্ঞমহোৎসবে; বুকে ও পেশিতে ওই জলের আক্রোশ নিরন্তর ধাবমান সাগরসঙ্গমে সাগরের মহাভার হাড়ে বেঁধে নিয়ে তুমি চলে এলে, জল— মানুষের ভিড়ে, হায় রে মানুষ তবু টেরটাও পেল না, ছেড়ে দিল পথ, পথে-পথে তবু তার ঠিকানাও আছে, চেনা যায় ঠাঁই, বসত-নিবাস সে তো জল-কুয়াশার ধোঁয়া হয়ে থমকে আছে তৃণখেতে গাঁয়ের সীমানা ছুঁয়ে অধীর প্রতীক্ষা, ঘরে ঘরে ঘুম ভাঙবে ডেকে আনো, পিঁড়ি পেতে দাও, ভাই বসো, দুডা পান্তা খাও!  
১৭ অক্টোবর ২০১৭ উত্তরা
মোহাম্মদ রফিক

মোহাম্মদ রফিক

কবি ও গদ্যকার জন্ম ২৩ অক্টোবর; ১৯৪৩, বাগেরহাট। পড়াশোনা করেছেন পিরোজপুর,...বিস্তারিত