শাক্ত পদাবলি

রাত্রিদেবী  বলো ❑

কৃষ্ণপটভূমি ফুঁড়ে একখানা লাল জিভ এ তো ভোর নয়, কিম্বা এ কি চিতার আগুন? আমি তো ভৈরব নই, এ রহস্য বুঝি নি কখনও সামান্য শস্যের ভাগ চেয়ে প্রতারিত চাষি নগ্নতর ক্ষুধার সামনে লণ্ডভণ্ড শাস্ত্র-মন্ত্র সব, দেখি তোমার অন্ধকার চুলে মহাজাগতিক জোনাকির বিস্ময় রাত্রিদেবী বলো, কী সাধনায় আজ আমিও মাতাল কী দুঃখে ঘুমন্ত মহাকাল পায়ের নিচে পড়ে আছে?

এসো বিপরীতরতাতুরা ❑

মাথার উপর শাশ্বত অরণ্য খদ্যোতের রহস্যে গভীর দাঁড়িয়ে রয়েছি দুহাতে উপুড় অন্নে, এসো রাত্রি, এসো শিবা এ ভীষণ শ্মশান-আসন একাকী রেখো না সাধনে। বীজময় চাষির লাঙলে প্রসারিত করে দাও ভূমি শাস্ত্র ভেঙে স্তনাগ্রচূড়ায় ছন্দ, লেলিহান অগ্নি সাজাও এসো নগ্নিকা ভোগ নাও, এসো বিপরীতরতাতুরা।

হৃদয়রঞ্জিত জবা ❑

বার বার বেড়া দিই, রাজার পুরুত এসে ভেঙে দিয়ে যায় সামান্য ত্রিপাদভূমি কেড়ে নিলে আমি তো ভিখারি আমার মন্ত্র নেই, রাজগুণ গাইনি কখনো তোমার সাধন থেকে আমি কি বিচ্যুত হতে পারি? চাও তো প্রমাণ দেবো হৃদয়রঞ্জিত জবা ছিঁড়ে। রাজার সেপাই চায় শ্মশানে শিবার কোলাহল আলুথালু এ আঁধার ধাঁধার জবাব দাও শ্যামা আমার ছন্দে প্রশ্নে ক্ষীণায়ু আলোক দাও ফিরে।

আমার সাধনভূমি ❑

জানি না রামের মন্ত্র, প্রসাদী পয়ার এই পুঁজি চাঁদের বন্দনা লিখে নষ্ট নয় ছন্দমনপদ মাটির গেরস্থালী, পাখিবুক নিকটে শ্মশান আকাশে কৃত্তিকা রাত—কালো জল, নীল কোকোনদ এমনই প্রহর আছে আমার সাধনভূমি ঘিরে। তোমার জঠরে নেমে আবার জঠরে যাই ফিরে পয়ারে পয়ারে লিখি মৃত তারা, নষ্ট পাণ্ডুলিপি।

তোমার খড়গ নেই ❑

আগমবাগীশী নারী তুমি নও কপালকুণ্ডলা, তুমি সাঁওতাল মেয়ে যুদ্ধজয়ী, ঘোর অগ্নিকলা দেবতার মুণ্ডমালা কণ্ঠে ঝোলে রক্ত অলংকারে তলায় শাস্ত্রের শব, উলটো রমণে দিশাহারা কৃষ্ণবিবর তুমি, আদিম পৃথিবী, মহাকাল। তবুও মাঠের শস্য কেড়ে খায় মৃত দেবতারা প্রতিটি কার্তিক আনে আরো অন্ধ দেশের সকাল। তোমার খড়গ নেই, রক্তবীজ পঙ্গপালে বাড়ে কেন যে পয়ার লিখি অন্ধ মেয়ে তোমার দুয়ারে!
মৃন্ময় চক্রবর্তী

মৃন্ময় চক্রবর্তী

জন্ম ১৯৭৬। কবি, গদ্যকার, অনুবাদক এবং চিত্রশিল্পী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :...বিস্তারিত