রাত্রি অহৈতুকী

রাত্রি তামসিক

করতলে তোমারই আঁধার, দেবী আলো ফুল ফোটে নি কোথাও মশানে সপ্তজিহ্বা শুধু জ্বলে আছ ভয় ত্রস্ত অন্ধপুষ্পে কৃতাঞ্জলি নাও নিজগুণে। মৃতের অভয়ারণ্যে বুনো দাঁতে উচ্চকিত ঋক্‌ তোমারই কৃষ্ণব্যূহে চিতায় পেয়েছে অক্ষয়, এ রাত্রি পোড়ে না আগুনে। সমস্ত প্রদীপ আজ প্রার্থনায় নিভু, জড়োসড়ো খসে পড়ে তারকাসমূহ তোমারই সৃষ্টিগুণে সিদ্ধ হয়েছে তামসিক।

আঁধারমঙ্গল 

তৃতীয়া চাঁদের আলো নত চক্ষুর মতো দোলে বেহুলা তারাটি যেন গড়ানো চোখের জল, একা মুগ্ধ ফণার নিচে কপাল ঘুমিয়ে আছে শিয়রচাঁদার এই দেশে রাত্রি, নদীর মতো অনন্তপ্রবাহে দেয় দেখা বিষে নীলকণ্ঠ দিন, ঢাক বাজে আঁধারমঙ্গলে।

রাত্রি অহৈতুকী

জন্মান্ধ, আমি শুধু শুনতে পেয়েছি আছে আলো রাত্রিচূর্ণ চোখে, কৃষ্ণবিবর মারীকাল বিপুল আঁধার স্তনে নৃমুণ্ডগঙ্গা, মহাকাশ বিপরীতময়ী তুমি কালের রমণে চিতা জ্বালো তবুও কোথাও নেই সহজসাধন, ঋতবাস। তোমাকে দিয়েছি মেধ আজন্মলালিত অশ্বমোহ, অশ্বজন্ম বৃষ হলে তাও উৎসর্গ করেছি মেষ—বৃষের জাতক, বৃষ থেকে ছাগ, শস্যস্রোত, সমগ্র ভাষাও তবুও রাহুগ্রাসে বারবার আমাদের ফসলসমূহ চলে গেছে। শবরী হে, পর্ণময়ী মাটি, তুমি বলো আমার করোটি নিয়ে কেন এই অহেতুক অঘোর কারণ দেবী পান করো তুমি চিরকাল আমারই জন্য কেন অন্ধ এই কালোর কৌতুক!

হে রাত্রিকা, আসমানতারা

হে রাত্রিকা, আসমানতারা, পথ করে দাও আঁধার পেরিয়ে যাবে মৃত খোয়াবিরা। ফসল পোয়াতি নদী প্রতিটি উঠোন ছুঁয়ে... তারা চেয়েছিল অমৃতের পুত্র নয়, স্বপ্নে ছিল পঞ্চখামার। যদিও সাম্য নেই তবুও তোমারই আলো অন্ধরাতে রেখেছি পাহারা। পুরুষের ধর্মভ্রম ভাগ চায় গাঢ় অন্ধকার মতি দাও প্রাকৃতচতুর্দশী আসমানতারা।

তিমিরসাধক

কী পেলে সাধনে? মারণ উচাটনে বারবার ফিরে এলে, তবু ভাঁড়ার তো সহজ হলো না স্বপ্নও রয়ে গেল সোনার সিন্দুকে পাহারায়। কী পেলে সাধনে? এ ভরাট তিমির সামান্য ফুটো হলে আরও গুরুতর প্রেত জেগে ওঠে। অন্ধই তো ভালো ভালো এই শ্মশান জাগানো।

রাত্রি চমৎকারা

অনন্ত এই অন্ধ চরাচরে হে ভ্রামরী, রাত্রি চমৎকারা, ফুলের ভেতর রেখেছ বিস্ময় শূন্য হঠাৎ মধুগন্ধভরা। মাঠে মাঠে জাগো শাকম্ভরী বৃন্তে বৃন্তে অন্নময়ী প্রাণ, তোমায় ছুঁয়ে কৃষ্ণজাদুকরী সপ্তঋষি গেয়েছে সামগান। হে রাত্রিকা সাম্য এনো কালো অন্ধনিশি দুঃখ মোছা হাওয়া। দিন তো পুরুষ ঈশ্বরেরই মতো বর্ণভেদী, চূর্ণ করে পাওয়া।
মৃন্ময় চক্রবর্তী

মৃন্ময় চক্রবর্তী

জন্ম ১৯৭৬। কবি, গদ্যকার, অনুবাদক এবং চিত্রশিল্পী। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ :...বিস্তারিত