ভবের বাদশা অথবা নিজে বাঁচলে বাপের নাম

বউও নেই, ফউও নেই। হওয়ার সম্ভাবনাও নেই! তাই চিন্তাও নেই!

তবে, চেনাজানা লোকে আমায় ডাকে ভবের বাদশা। আসলেই আমি ভবের বাদশা। তাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে আমার যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্বের চাপ এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে সিগারেট একটা ধরিয়ে অফিস থেকে বের হয়ে কাজ সেরে কেবল কোর্টপয়েন্টে এসেছি। হাতে যদি সময় থাকে জিন্দাবাজারের দিকে একটু ঢু মারারও ইচ্ছে আছে। বেলাটাও পড়ে গেছে। অফিস থেকে যখন বের হই তখন অফিসেরই দেয়ালঘড়িতে দেখেছিলাম তিনটার মতো বাজে। হাতঘড়ির ব্যাটারি আর বেল্ট বদলাতে বদলাতে মিনিট পনেরো তো অতিক্রান্ত হয়েছে। আরেকটি জরুরি কাজ না করলেই নয়, সেটা হচ্ছে ফার্মেসিতে গিয়ে ব্লাডপ্রেশার চেক করা আর ওষুধ কেনা।


শালা একটা গাণ্ডু। তুই নিজে নিজে প্রোগ্রাম ঠিক করলি, আবার নিজে নিজে ক্যান্সেল করলি!


আজ অফিসে বস আসেন নি। গুপ্তবাবু দায়িত্বে রয়েছেন। গুপ্তবাবু যেদিন দায়িত্বে থাকেন সেদিন আমার বলা যায় পোয়াবারো। খুব মুডে থাকি। অবশ্য, তেমন একটা কিছু করি না, কেবল অফিস শেষ হওয়ার ঘণ্টা দুয়েক অথবা ঘণ্টা তিনেক আগে সিগারেট একটা ধরিয়ে কামরানকে কাজের ভার সমজে দিয়ে চুপচাপ বেরিয়ে যাই। অফিসের কেউ রা করে না। আর করলেই বা কী? আমি ওসবের তোয়াক্কা করি না; ধার ধারি না। যা গিয়ে গুপ্তবাবুকে বল, বা বসকেই বল। ওরা যায় না। আর যদি গোপনে অভিযোগ নিয়ে গিয়েও থাকে, আশা করি বস বা গুপ্তবাবু কেউ কিছু বলবে না। এই না বলার পেছনে কারণ একটা তো অবশ্যই রয়েছে। তবে সেই কারণ উল্লেখ করে ওঁদের বিব্রত করা অথবা ঘোঁট পাকানো আমার আদতের মধ্যে পড়ে না।

তো যা বলছিলাম। ওষুধ সংগ্রহ আর ব্লাডপ্রেশার চেক করে রাস্তা পার হয়ে কালেক্টরেট মসজিদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে জাহিদ মালিকের গাড়ির অপেক্ষায় রয়েছি, দেখি ওর ম্যাসেজ মানে জাহিদ মালিকের মেসেজ। ‘দোস্ত, অনিবার্যকারণে আসা সম্ভব হইতেছে না। দুঃখিত।’

শালা একটা গাণ্ডু। তুই নিজে নিজে প্রোগ্রাম ঠিক করলি, আবার নিজে নিজে ক্যান্সেল করলি! চুতিয়াটা মাঝেমধ্যে এরকম কাণ্ড হঠাৎ করে থাকে। কথা দিয়ে কথা রাখে না। তখন মেজাজ উঠে যায় সপ্তমে। মনে হয় দুয়েক কথা শুনিয়ে দিই। কিন্তু দেখা হলে, ‘দোস্ত, এই পিঠ আমি পেতে দিলাম। যত খুশি তত মার। তবুও শরম দিস না।’ বলে মিইয়ে যায়। আমার আর বলা হয় না।

বিকাশ অ্যাকাউন্টে মাসের প্রথম দিকে কোনো একটা সোর্স থেকে হাজার দশেক টাকা পেয়েছিলাম, খরচ করি নি। দেখি কাজে লাগানো যায় কিনা ভাবতে ভাবতে রাস্তা পার হয়ে ডানদিক দিয়ে জিন্দাবাজারের দিকে এগোনোর সময় দূর থেকে লক্ষ্য করি লোকের হুরোহুরি আর দৌড়াদৌড়ি। পুলিশ নাকি জল্লারপাড়ের দিকে লাঠিচার্জ করছে। নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে, আর না হলে পুলিশ খামোখা লাঠিচার্জ করতে যাবে কেন?

আমি আবার এসব একটু থোড়াই কেয়ার করি। কতবার যে এরকম গণ্ডগোলের সময় সকলে যখন জান বাঁচানোর জন্য দিগ্বিদিগ দৌড়াচ্ছে, আমি বুঝেশুনে আমার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে অবিরাম হেঁটে গেছি। কই, কেউ তো আমাকে কিছু বলে নি। আসলে একটু খেয়াল করতে হয়। দুদলের দূরত্ব দেখতে হয়। আর অ্যাকশনের সময় সম্মুখে পড়তে হয় না। সম্মুখে পড়লে খবর হয়ে যায়। আমার ঘনিষ্ঠ এক ভাবির ছোট ভাই দুদলের অ্যাকশনের সময় সম্মুখে পড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছিল।

এখন এই মুহূর্তে কী জানি কী জন্যে আমার মন আমাকে সম্মুখে অগ্রসর হতে বেশ ভালোভাবেই বাধা দিচ্ছে। না, জিন্দাবাজারের দিকে অগ্রসর হওয়া ওয়াইজ হবে না। ‘মন না মানলে কোথাও যাওয়া ঠিক না।’ এই কথাটি আমি বেশ মানি। একবার তো এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে তিনমাস অবসরের ওই সময়ে পাহাড়িকা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের টিকিট কেটে চট্টগ্রামের যাওয়ার প্রাক্কালে মন মানেনি, তাই যাত্রা শুরুর মিনিট পঁচিশেক আগে যাত্রা বাতিল করে শ তিনেক টাকা খুইয়েছিলাম। আমার এরকম যাত্রা বাতিল করার বেশ রেকর্ড আছে। তবে যাত্রা বাতিল করে কাউকে বিব্রতকর অবস্থায় কখনও ফেলি নি, যেটি জাহিদ মালিক মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে হোক আর অনিচ্ছা করে হোক করে থাকে।

কী করব? ডানে যাব না বামে যাব? ডানে গেলে এক ধরনের চিন্তা আছে, আর বামে গেলে আরেক ধরনের চিন্তা।

তো এই সময় পেছনের পুরানলেন গলি থেকে সালাম একটা জানিয়ে সম্মুখে এসে ডানহাতটা এগিয়ে দিল সাবের।

হ্যাঁ, আমি ওকে সাবের-ই বলি। আমার থেকে বছর চারেক ছোট আমার মামাত বোন মুন্নীর হাসব্যান্ড হলেও ও আমার এক সময়ের ভেরি ক্লোজ ফ্রেন্ড ডা. জাবেরের ছোটভাই হওয়ায় ওকে আমি আপনি বলে সম্বোধন করি না। সাবের বলি। সাবের বললে দেখেছি ও বড়ো বেশি খুশি হয়। মনে করে ওর বড়ো ভাই। আর বড়ো ভাই-ই তো।

ওদের বাড়ি কি কম গেছি। সিক্স থেকে সেভেন, এইট, নাইন, টেন, ইলেভেন, টুয়েলভ, উরে বাবা পাক্কা আটবছর ওদের বাড়িতে গেছি, থেকেছি। ওদের বাড়িকে বাড়ি না বলে বাসা বলাই অ্যাপ্রোপিয়েট হবে। কারণ, ওরা নিজেরা কখনও ওদের বাড়িকে বাড়ি বলে না, বলে বাসা, বলে নিজস্ব বাসা। বাড়ি জিজ্ঞেস করলে বলে ওরা, আমরা করিমগঞ্জের লোক। পার্টিশনের সময় অপশন দিয়ে এখানে এসেছি।

তো এই জাবেরদের সবকিছুই ভালো লাগত। ভালো লাগত বলে ওদের ওখানে ঘন ঘন ছুটতাম। তবে, একটা জিনিস না বললেই নয়, সেটি হচ্ছে ওদের বাপ-চাচা তিনজনের বিবি বলি আর স্ত্রী-ই বলি, যাই বলি না কেন,দুজন দুজন করে ছয়জন স্ত্রী! জাবেররা ওদের বাবার দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান-সন্ততি। প্রথম পক্ষের কোনো সন্তান-সন্ততি নেই। দুজন দুজন করে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও ওদের বড় চাচা আর ছোটচাচার কোনো উত্তরাধিকারী নেই!

তো ঘন ঘন এই জাবেরদের বাসায় যাওয়ার আমার আরেকটি কারণ ছিল। সেটি না বললে আমার মনে হয় সত্যের অপলাপ হবে।

সেই সময়ে আমি কেবল এইটের সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে নাইনে উঠেছি। ওদের বাসায় একটু বেশি-ই যাচ্ছি। তো এই যাওয়া-আসার মধ্যে একদিন আমার উপলব্ধি হলো, আমি যত না জাবেরের জন্যে ওদের বাসায় যাই, তারচেয়ে বেশি যাই সাবিহার জন্যে।


হোমওয়ার্কের বদলে খাতায় এরপর করল কী, একটার পর একটা গান লিখতে শুরু করল।


সাবিহা ওদের বোন। জাবেরের ছোট আর সাবেরের বড়ো সাবিহাও তখন ক্লাস এইটে উঠেছে।

আর সত্যি কথা বলতে কী, সেই সেভেন থেকেই এই সাবিহার সঙ্গে আমার একটা ভাব হয়ে গেছে। ভাব বলতে এই দুজনের মধ্যে একটা খুনসুটি, একটা রেষারেষি, এটাই আমি মিন করছি।

তখন কে জানত, এই খুনসুটি আর রেষারেষি একটা সময় ভাব-ভালোবাসায় রূপ নেবে! সাবিহাকে দেখার জন্যে মন উতলা হয়ে যাবে!

নাইনেই ব্যাপারটি ঘটে গেল। তখন চোখ যে মনের কথা বলতে শুরু করল। কিন্তু, জমে থাকা মনের অসংখ্য কথার গল্প কি চোখ দিয়ে পাঠ করা যায়? যায় না। কী আর করা যাবে। তখন-ই বিকল্প পন্থা অবলম্বন করা অ্যাসেনশিয়াল হয়ে গেল। অর্থাৎ, অতি সংগোপনে চিঠি দেয়া- পত্র দেয়া শুরু করা গেল। বিষয়টি যদ্দুর মনে পড়ে, আমার দিক থেকেই প্রথম শুরু করা হয়েছিল। এবং পর পর দুটি চিঠি লেখার পর ওর উত্তর ধেয়ে এসেছিল।

এভাবেই অতি সংগোপনে আমি আর সাবিহা এগিয়ে যাচ্ছিলাম। বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান হওয়ায় ও একটু অভিমানী, একটু কী, একটু বেশি-ই অভিমানী হিসেবে নিজেদের সংসারে বেড়ে উঠেছিল। আর এই অভিমান-ই ওর জীবনে শেষপর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াল। বাবার সঙ্গে কী একটা কারণে অভিমান করে বার্ষিক পরীক্ষার আগের দিন ও গলায় দড়ি দিয়ে ইহজগৎ ত্যাগ করে চলে গেল। তখন পর্যন্ত ও নাইনে অধ্যয়ন করছিল।

তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘কেমন আছেন, আনিস ভাই?’

বললাম, ‘ভালো।’

‘তা, তুমি কেমন আছ?’

‘এই আপনাদের দোয়ায় একরকম আছি, আরকি।’

আমি ওর কথার ধরন দেখে, ওর মুখের এক্সপ্রেশন দেখে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কেন, একরকম কেন? তোমার তো ভালো থাকার কথা, সাবের, তাই না?’

ও একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ওর নিজের কথা বলতে শুরু করল। তারপর বলল, ‘এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলব, আনিস ভাই? তার চেয়ে চলুন না আমার বাসায়। এই তো সামনে একটু দূরে আমার বাসা।’

‘এখানে বাসা মানে, তুমি কি তোমাদের বাসায় বসবাস কর না?’

‘সে অনেক কথা, আনিস ভাই।’

এবার আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ওকে ভালোভাবে দেখে নিয়ে একেবারে থমকে গেলাম! সাবেরের এ কী হাল হয়েছে! এই কী সেই সাবের? প্রায় ছয়ফুট উচ্চতার উচ্ছল-উজ্জ্বল সাবের! মাথার চুল পড়ে তো গড়ের মাঠ হয়ে গেছে! আজকাল বারো কি চৌদ্দ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদেরও চুল পড়ে, কাজেই, চুল পড়া না হয় মানা গেল। কিন্তু শরীরের এ কী হাল হয়েছে! তালপাতার সেপাইর থেকেও তো ওর শরীর খারাপ অবস্থায় আছে!

‘চলুন, এগোই, আনিস ভাই।’ বলে ও একটু জোর খাটাল।

‘আমি যাব কি যাব না’ এই দ্বিধায় পড়ে গেলাম।

আর আমার এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের পেছনে আমার কিছু কথা, কিছু কথা কী, বেশ কথা আছে। আমার মনে হয়, সেই সব বেশ কথার কিছু কথা সংক্ষেপে না বললে বিষয়টি একদম স্পষ্ট হবে না কারো কাছে।

তো যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময়ে আমি কিন্তু কলেজের পাঠ চুকিয়ে কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি।

আর শৈশব থেকে দেখে আসছি, মুন্নীর বাবা মানে আমাদের ছোটমামা আমাদের বাড়িতে কী একটা অজ্ঞাত কারণে, বা হতে পারে এমনিতেই, বা হয়তো তার ব্যস্ততার কারণে খুবই কম আসেন, কম আসেন কী, বলা যায় বছরে হঠাৎ কালেভদ্রে একবার-দুবার আমাদের বাড়িতে ঢু মারেন। তবে কালেভদ্রে ঢু মারলেও নিজ বাড়িঘরে তিনি যেমন রাজার হালে বসবাস করেন, আমাদের এখানেও ঠিক সেই রাজার হালেই তিনি আসেন। এবং সকলের জন্যে নিদেনপক্ষে একটা গিফট হ্যাম্পার আনেন। তারপর হাতে হাতে তুলে দেন। আমরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে ছোটমামা জিন্দাবাদ ধ্বনি লাফিয়ে উঠি।

তো সেই ছোটমামা-ই যখন তার মেয়ে মুন্নীকে সপ্তাহে অন্তত দুদিন ম্যাথমেটিক্স দেখিয়ে দিতে বললেন, ইলেভেনের স্টুডেন্ট হলে কী হলো, ম্যাথমেটিক্সেও ছাত্র হওয়ার সুবাদে আর না করতে পারলাম না।

মুন্নীর টিউটর হয়ে গেলাম। এবং ওই দুইদিন-ই যেতে লাগলাম।

কিন্তু পড়াশোনায় ওর কনসেন্ট্রেশন ছিল মাস দুয়েক বা মাস তিনেক। সে সময় বেশ মনোযোগ দিয়েই ও ওর প্রবলেমগুলো উত্থাপন করার চেষ্টা করত, এবং সলভ হয়ে গেলে পরবর্তী চ্যাপ্টারে চলে যেত। হোমওয়ার্কও ঠিকমতো করে রাখত।

তারপর, এই বয়সে যা হয়, তাই হলো। ও ইনডাইরেক্টলি লাভ অ্যাফেয়ারে জড়িয়ে পড়ল। ছোটমামার মেয়ে হিসেবে সবদিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার-বিবেচনা করে যদ্দুর পারা যায় ওকে বিরত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করলাম। কিন্তু ও কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করল না। হোমওয়ার্কের বদলে খাতায় এরপর করল কী, একটার পর একটা গান লিখতে শুরু করল। ক্রমেই এই গান লেখার প্রবণতা ওর আরও বাড়ল।

তখন চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আমার আর কিছুই করার ছিল না।

এর পরপরই তো হামলার শিকার হয়ে গেলাম। রাতের আধারে আমাকে ছুরিকাঘাত করা হলো।


বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড করে সাবের হয়েছে মুন্নীর বর।


নেপথ্যে থাকলেও কালপ্রিটকে ঠিকই শনাক্ত করতে পেরেছিলাম। কিন্তু, ছোটমামার মান-মর্যাদার কথা ভেবে সবকিছু চেপে গিয়েছিলাম। মা আর মা মিলিয়ে মামা। সেই মামার মর্যাদা তো ভূলুণ্ঠিত করতে পারি না। কাজেই, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যক্তিকেন্দ্রিক ঈর্ষার বহিঃপ্রকাশ বলে চারদিকে ছড়িয়ে দিয়েছিলাম।

তারপর আর মুন্নীকে পড়াতে হয় নি। মামা-মামিমা উপযাচক হয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে না উচ্চারণ করে আমাকে টিউটরশিপ থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।

সেও বছর দশেক আগের ঘটনা।

তারপর, সুরমা নদী দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। এক ব্রিজ আর দুই ব্রিজ থেকে সুরমার ওপরে পাঁচ-পাঁচটি ব্রিজ হয়েছে। শহর হয়েছে মহানগর।

আর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড করে সাবের হয়েছে মুন্নীর বর।

সেই জেরবারে ছোটমামার সঙ্গে থেকে পারিবারিকভাবে সাবের-মুন্নীকে স্বীকৃতি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রোড অ্যাক্সিডেন্টে হারিয়েছি আমি আমার নিজের মহামূল্যবান সম্পদ! না, সাবেরের সঙ্গে যাব না। সাবেরের কথাও শুনব না।

নিজে বাঁচলে বাপের নাম।

ইকবাল তাজওলী

ইকবাল তাজওলী

জন্ম ১৯৬৭, সিলেট। শিক্ষা : স্নাতকোত্তর। পেশা : শিক্ষকতা। প্রকাশিত বই— শরীরের...বিস্তারিত