এই পথে ঝরা পাতা আছে
অমলিন ধূলির বাকল
গায়ে তার সবুজাভ লিপি
মরমবেদনাশতদল।
কবে কোন প্রেমমুখী চারা
রোপিত হয়েছে দাহ-দিনে
আকাশের পানে জল চেয়ে
থরথর কাঁপে আধোলীনে।
অচেনা আগুন আজ মেঘে
বায়ুতে কেবল বাড়ে শিখা
দহনে স্বননে পোড়া ভাদ
বোশেখের পরাজয়টিকা।
তবু তো চোখের জলে নুনে
চারাগুলো বাড়ে অকারণ
একদা দুয়ের চিতা-'পরে
যদি জাগে ফুলের কানন।
ফুল নাই, শাখাভরা ভুল
উড়ে নেচে বলে বারবার
সময় এসেছে, দূর নয়
হয়েছে যে দিন ছাড়বার
পথে তবে খসানো আঙুলে
কার পরশন থাকে লেগে
মাধুকরী-মুখর পাড়ায়
গেল গানে কে সে ভিখ মেগে
আর নয় জমিদারগিরি
হৃদয়তালুকে জমা ধন
আর নয় বেহুদা চাবুকে
কালপিঠে ঝনন ঝনন।
সকলি নিলামে ওঠে, ধান
তোমারই নাভির থেকে জাগা
ক্ষুৎকাহিনির লিপিমালা
বাসনাপীড়িত শ্লেষ, শ্লাঘা।
এই পথে ঝরা পাতা জানে
কোন তালে চলে পা তোমার
কোন ঘোড়ার খুরের ক্ষত
এঁকে ছোটে রাজার কুমার
তোমারই ভনিতাবেণী ধরে
ওঠে উঁচা দালানের ঘর
শ'বছর ঘুমে জালে বাঁধে
কোন মায়া-খেয়ালি-ভ্রমর
তবু কই কে মারে পিশাচ
আমাদের লহু আজো খায়
প্রেমের ফাগুন, পোড়া চোইত
সবি ধরা তার মাজেজায়
আমাদের কী-বা থাকে বাকি
খেতে খেতে পড়ে থাকা খড়
কুহেলি ঠোঁটের কোণ ছেঁড়া
শানদেয়া ধারালো নখর।
তবু এই পথে আজো তৃণ
বাঁচে তুমি পা রাখবে বলে
চরণদলিত তার দুখ
ধোবে তুমি নয়নের জলে
পারা দিয়ে গেছে খালি, কেউ
পা রাখে নি ভুলে আলগোছে
ইতিহাস বাঁকে বাঁকে ফেরে
তোমার পায়ের ছাপ মোছে
ঝরাপাতাদের হাহাকারে
পতনের শোকের কবিতা
এই পথে লেখা হতে থাকে
এ ধূলিতে রচিত সবই তা।
সে-রচনা এই জীবনের
পদে পদে পলায়নগাথা
ভুল কথা ভুল সুরে, তবু
কেন এত ওড়ো ঝরাপাতা?