অভিধান বলতেছে নতুন কোনো রচনার মুসাবিদা বা খসড়ারে 'পাণ্ডুলিপি' বলে। অভিধানের এই অর্থের লগে একটা ভাবার্থ যোগ করে আমি নতুন কোনো চিন্তা, প্রস্তাব বা ইশারাও এই 'পাণ্ডুলিপি' শব্দটারে সম্পর্কায়িত করতে পারি। ফলে কোনো বইয়ের নাম যখন হয়, নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে তখন এইভাবে ভাবার রোখ সামলাইতে পারা মুশকিল। বরাবরই কবিতারে আমি একটা 'কনটেক্সট', আবহ বা লক্ষ্যের সাথে মিলিয়ে পড়তে পছন্দ করি। একটা নিরীহ বা নির্লক্ষ্য কবিতা বইও কোনো না কোনো দিকেই যাইতে চায়, এমনকি না যাওয়ারও থাকে যাওয়ার বাসনা, আমি মনে করি।
নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহর বই। দশম কবিতা বই। নব্বই দশকের স্বতন্ত্র স্বরের কবি আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ। শীতমৃত্যু ও জলতরঙ্গ (১৯৯৫) থেকে নিজ স্বরে নতুন কিছু বলার যে যাত্রা, নানা ঘাট বেয়ে সেই চলা এই নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে (২০২০) এসে আরও ঘন ও বৈচিত্র্যময় হয়েছে।
কবি গভীর এক হাহাকারকে ছুঁতে চান, যা শতাব্দীর চেয়েও দীর্ঘ এক বেদনার রূপে জনগোষ্ঠীর ভিতরে বয়ে চলেছে।
সাঈদকে আমি যতটুকু পড়েছি ইমেজ দিয়েই পড়েছি। মূর্ত আর বিমূর্তের ফাঁকে বসে রওয়া কুহকের মাইঝে তাকে প্রায়ই পাই। আছে বাক্য নির্মাণের নিজের তরিকাও। তো যাই হোক, এই বইতে তারে কিভাবে পাব, তার একটা সুলুক সন্ধান করলাম নামের তরজমা করে। সাহিত্যে 'নাম বিচার'ও ঘটনা। বিদ্যালয়ে যারে আমরা 'নামকরণের সার্থকতা' টাইপ ব্যাপার জেনে আসছি, সেটার একটা তত্ত্বতালাশ নেওয়ার চেষ্টা করব এইখানে।
নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে কবিতাবইয়ে আমি মোটাদাগে চারটা উপভাব পাই।
এক. ঔপনিবেশিকতার যাতনায় কাতর কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরাজয়ের স্মৃতি উসকে দিয়ে, যেন ছাইচাপা আগুনের তাপে নিজেকে তাঁতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। এই 'নিজ' ব্যক্তি কবির আদলে গোষ্ঠীসত্তার স্বরূপ। এই ভাগে কবির মন ইতিহাসের নানা বাঁকে ঘূর্ণায়মান। কবি যেন রসদ সংগ্রহ করছেন, ভবিষ্যতের কোনো অর্জনের জন্য। কী সে অর্জন, তা বেশ রহস্যঘেরা। তবে একটা রূপরেখা তিনি তৈরি করছেন ভাষা ও শব্দ নির্বাচনের মাধ্যমে। তাতে বোঝা যায়, কবি জনগোষ্ঠীর যে সাধারণ চেহারা, ধর্ম পরিচয়ের মধ্যে দিয়ে সমাজে যেভাবে পরিচয় তৈরি হয়, সেভাবে তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। এখানে তিনি ছুঁতমার্গ মুক্ত। নিঃসংশয়। কবি গভীর এক হাহাকারকে ছুঁতে চান, যা শতাব্দীর চেয়েও দীর্ঘ এক বেদনার রূপে জনগোষ্ঠীর ভিতরে বয়ে চলেছে।
দেখো একটি ভাঙা নৌকা ও
সিরাজের পরিত্যক্ত জুতাখানি।
আর শোনো মর্মাহত মুর্শিদাবাদ,
তার দেয়ালের হায় সিরাজ হায় সিরাজ প্রতিধ্বনি!
[পুরস্কার
এই মর্মরিত ব্যথায় সাঈদ নুয়ে পড়েন না। আর তার কবিত্বও এখানে নিঃশেষিত হয়ে যায় নাই। কারণ একটু পরই দেখব তিনি এক আবিলতামুক্ত কবিত্বে ও আশায় উদ্ভাসিত হন, যখন বলেন—
দেখব একটি কপিফুলের তন্দ্রা ছিঁড়ে
নেমে আসছে হাজার হাজার মৌ-দরবেশ
[পুরস্কার
অন্যত্র,
যেন বা তোমাকে দিয়েছি হাজারে পানিপথ!
তোমার শুধুই জয় হোক—ওগো অক্ষয় হিমালয়!
..............
হাঁটছি রায়টে, বোমারু বিমান, ঘুমন্ত ঘোড়াশালে!
[সালাম বাংলা
এইসব উচ্চারণ তীব্র নয়। ব্যাপক ব্যাপ্তও নয়। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ কবি এখানে কোথাও কোথাও একটা জার্নির কথা বলছেন। যার ভিতরে শ্রম আছে, লড়াই আছে, পরাজয় আছে, গ্লানি আছে, আবার জেগে ওঠার আকাঙ্ক্ষা আছে। এগুলো কোথাও সরলরৈখিক বর্ণনার ভিতর দিয়ে আসে নি। আসছে কয়েকটা মাত্র কবিতায় ছিন্ন ছিন্ন ভাবের আবডালে। কিন্তু সচেতন পাঠকমাত্রের সে অভিক্ষেপে নজর এড়াবে না।
আমি সব পথ ঘোড়া করে নিয়েছি।
তুমি স্বাধীনতা করো, ঠোঁটে নিয়ে আসো
ক্ষুদিরামের ফাঁসি। ওহো ওহো
যেন আহমার করে আসছে বল্লম, তির।
[হাওয়া উৎসর্গ করো
এই বোধ কবির রাষ্ট্রীয় ভূগোলকে ছাপিয়ে চেতনার ভূগোলের দিকে ধাবিত। ফলে তা অনেকখানি বৈশ্বিক। অনেকখানি বিস্তৃত। এইটাই নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে বইয়ের দ্বিতীয় উপভাব।
সাঈদের কবিতার একটা লক্ষণীয় দিকগুলো হলো ভাষা। প্রচল প্রমিতের মধ্যেই সাঈদ তার কাজ সারেন।
দুই. এইখানে এসে কবি বৃত্ত ভাঙেন। দেশবোধ থেকে বিশ্ববোধে উত্তীর্ণ হন। সেইখানেও যথারীতি কিছু ইশারা, কিছু ইঙ্গিত। সুনির্দিষ্ট নির্বাচন। বস্তুত মানুষ মাত্রেরই বাছাইয়ের নিজস্ব ধরন আছে। কবি বা কোনো চিন্তাশীল সত্তা যখন বাছাই করেন, তখন তার চিন্তাপদ্ধতি বা বাসানাবিশ্বকে বুঝতে সুবিধা হয়। কবি সাঈদ এই ভাবভাগে বিশ্বের নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর দিকে আলো ফেলতে চেয়েছেন।
চিনার গাছ, তোমার পাতায় আমার বোনের রক্ত।
বরফ মাখানো পাহাড়ে আমার ভাইয়ের হাড়।
তির তির করে বয়ে চলা জেহলাম
আমার মায়ের কান্নাগুলো ছলাৎ ছলাৎ নদী।
.....
ও কাশ্মীর ও আমার ফিলিস্তিনের বোন!
[কাশ্মীর
কবি এখানেই ক্ষান্তি দেন নি। দূর বিশ্বের দিকেও রয়েছে তার সংবেদী নজর। ফলে 'তৃতীয় বিশ্ব' নামক একটা ব্যাপার যে আছে, তার বেদনা ও লড়াইয়ের ভাষার সাথে নিজেকে জোড়াতে চান যেন তিনি। ফলে এই লড়াইয়ের বৈশ্বিক চরিত্র ও প্রান্তকে প্রতিকায়িত করে তুলতে চান নিজের ভাষাভঙ্গির নিয়মে।
পাতা ও ফুল ঝরে
আরহেনতিনার বনে।
.......
মৃতদের ভায়োলিন বাজে
কালো এক চার্চের মাথায়।
আর এক টুকরো চাঁদ
জেগে থাকে
হাভানার রাতে।
[চে, ফিডেল ও এক টুকরো চাঁদ
তিন. একজন অভিবাসীর আর্তস্বর, স্বদেশের সাথে-স্বভাষার সাথে যুক্ত থাকার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা ফুটে উঠেছে এই ভাবপর্বের কবিতাগুলোতে। এ কবিতাগুলো একান্ত ব্যক্তিগত। কিন্তু তা বেশ সংবেদী ও বহু লোকের চিত্তকে স্পর্শ করতে সক্ষম।
অভিবাসীদের কাছে স্মৃতি বেশ বড় সম্পদ। তাকে তাড়িয়ে বেড়ায় ছেড়ে আসা দূর দেশের স্মৃতি। আবার বাস্তবতা তাকে গড়ে নেয় বৈশ্বিক চরিত্রের রূপে। যেন তিনি তখন হয়ে ওঠেন এক মুক্ত জগতের লোক। ফেলে আসা ভূগোল, পরিবার, সংস্কৃতি আর বর্তমানের টানাপোড়েন তাদের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হয়ে ওঠে অনেকক্ষেত্রে। আবু সাঈদ ওবায়দুল্লাহ-র কবিতা এই মানসিক পরিস্থিতির প্রকাশক হয়ে উঠেছে বেশ সহজাতভাবেই।
আমি যেখানেই যাই
মা কেবল ঘুরতেই থাকে!
...
আমি কথা বলতেই উড়ে যায় পাখি
সারা রাস্তা আর মাঠ মাঠ বাড়ি
কাকে আমি ডাকি!
[আম্মা
অর্থনৈতিক অভিবাসী নয় কেবল, রাজনৈতিক অভিবাসীর বেদনাও কবির সংবেদের অংশ হয়ে ওঠে। তখন 'এত দূর ঘরের ধারণা'-সকল অভিবাসীদেরই মর্মস্বর হয়ে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর দেশে দেশে। এক অনন্তের রিফিউজিরা যেন জানালাবিহীন বাতাসে কয়েদ হয়ে আছে। সেখানে উড়ন্ত জাহাজের পরাগ মিশে থাকে শিশুদের পাজামায়। এরা কারা? প্রশ্ন জাগে। যারা 'পাসপোর্টবিহীন'! কবি খুবই চমৎকার করে লুকিয়ে ফেলেন কনটেক্সট। ফলে তা যেন 'নির্দিষ্টতার সীমা' ছাড়িয়ে যেকোনো সাধারণ শরণার্থীর অভিজ্ঞতা ও যন্ত্রণাকে ধারণ করতে পারে।
চার. উপরের সমস্ত কিছুর ভিতরে এই কাব্যে ছড়িয়ে আছে এক মুমূর্ষু পৃথিবীর ক্লেদ। নানা প্রসঙ্গে ঘুরে ঘুরে কবি যেন আলো ফেলতে চেয়েছেন সেই জায়গাগুলোতে, যেখানে মানবসত্তা পর্যুদস্ত। সেই মজলুমের গুমরানো হাহাকার ভাষা পেয়েছে যেন এখানে। ফলে কবিতাগুলি প্রায়শই ব্যথাভরা, রক্তমাখা হয়ে ওঠে। এমনকি আশাও সেখানে নাই। কবি ভবিষ্যৎ দেখতে পান এমনভাবে যেখানে ‘কবিতায় রক্ত শব্দটি অনেকবার বলা হবে’। তখন হয়তো মনে হবে, ‘একটি সংগীত কতদূর বেজে আবার রক্তপাতের চিঠি!’
সাঈদ কিছু কিছু পরিচিত ঘটনাপ্রবাহের টুকরাটাকরা এনেছেন। সেটা সম্ভবত নিজের বলার জায়গাগুলিরে পরিষ্কার করার জন্য। এই কাব্যের প্রচ্ছন্ন যে রাজনৈতিকতা তা মূলত পষ্ট হয় ওই ঘটনা উল্লেখের ভিতর দিয়ে। আবার তা কেবল ওই উল্লেখেই ফুরায় না, কারণ বর্ণনার বৈভবে সেটা বিষয় উত্তীর্ণ হয়ে বোধে নাড়া দিতে যেমন সক্ষম হয়েছে, নির্দিষ্টতাকেও অতিক্রম করতে পেরেছে।
মৃত্যুকাতর বেথেলহেমে
যেখানে মরহুম থেকে গড়িয়ে পড়বে
রক্তগাছের দুপুর!
[অপর কবিতার ভুবনে: পেঁপেগাছ
সাম্প্রতিক বাংলা কবিতায় মানুষের বিপন্নতার এসব প্রান্তকে ছুঁতে চাওয়ার প্রবণতা খুব সুলভ নয়। কাব্যভাষার সমকালীনতার সাথে বিষয় বিবেচনার এই মেলবন্ধন নিশ্চিতভাবেই নতুন চিন্তাকে হাজির করে। ফলে বইয়ের নামের সাথে ভাবের মিতালি এখানে বেশ জুতসই হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত টানাই যায়।
সাঈদের কবিতার একটা লক্ষণীয় দিকগুলো হলো ভাষা। প্রচল প্রমিতের মধ্যেই সাঈদ তার কাজ সারেন। তবে সেখানে আছে তার নিজস্ব ভ্যারিয়েশন। তার বাক্য প্রথানুগত সরল রৈখিক নয়। বিক্ষিপ্ত বাক্যাংশ ইমেজের ক্রাফটে গেঁথে মনোহর করে তোলেন। অর্থ সবসময় একমাত্রিক নয়। ভাবনার ফুসরত তৈরি হয়। কল্পনা খাটানোর সুযোগ ঘটে। এই ধরনের ভাষা বিমূর্ততার খুব নিকটে। সাধারণ প্রাত্যহিক, রাজনৈতিক বিষয়াবলি ডিল করার জন্য প্রস্তুত থাকে না বলে যে সংশয় তৈরি হওয়ার কথা, সাঈদ খুব দক্ষভাবে সে-সংকটকে সামাল দিয়েছেন। এ কারণে কবিতা পড়তে পড়তে ঘটনা বা অনুষঙ্গকে বুঝতে পারা যায়। ফলে সেখানে চাপা থাকে বিষয় (বেশ বল নিয়ে) বা আধেয়, আর আধারই মুখ্য হয়ে থাকে। কবিতা হয়ে ওঠার জন্য এই জায়গাটা আমার কাছে জরুরি মনে হয়, যেটা সাঈদ বেশ ভালোভাবে সামাল দিতে পারছেন। আমি সাধারণত অন্যের কবিতার ওপর নিজের আশা চাপিয়ে দিই না বলে, তার ভিতরটাকে তার মতো করে দেখতে পারার সুযোগ ঘটে। তারপরও বলব, এই ধরনের লেখার ক্ষেত্রে কোনো কোনো পাঠক তীব্রতা প্রত্যাশা করে উঠতে পারেন। তাদের তরফ থেকে হয়তো কিছু কমতি কোথাও কোথাও রয়ে যেতেই পারে। তবে পীড়নের গভীর বোধকে যে সাঈদ তুমুলভাবে হৃদয় দিয়ে বুঝতে চেয়েছেন, তা কোনোভাবেই স্পর্শ না করে পারে না। এটাই হয়তো এই কাব্যের বা সাঈদের মূল সাফল্যের জায়গা।
সাঈদ কেবল বাক্যকলার দিকেই মন দেন নাই, সময়ের অন্তর্ঘাতকে স্পষ্ট করতে চাইছেন। ফলে তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে বেশ৷
সবকিছুকে ছাপিয়ে কবিতাই মূলত পড়তে চেয়েছি। আর কে না জানে, দারুণ কোনো উচ্চারণের লোভেই হয়তো আমরা ঢুকে বসে থাকি কবিতার গভীরে। সাঈদের কবিতা সেখানেও ফেরায় নি খালি হাতে।
ভাষাপ্রিয়দের সাথে বসে থাকি।
শিস দেই, লেজ নাড়ি। দেখি সীমানা বিস্তৃত।
[ভাষাপ্রিয়দের সাথে
তোমার নাম শুনে
ফুটে তারাবাতি, ফুটে কাফ্রি কালোদের পাখি।
উড়ে যায় কলহঘুঘু, পায়রা ও নিষাদ।
[বাজি
ছন্দপুলিশের বাজু থেকে পালিয়ে এসেছি।
হে স্বর্ণআভা কাজু বাদাম, তুমি আমার সিনা
ভেদ করে—খরগোশ হয়ে জ্বলো!
[কাজু বাদামের শিশু
আহা আমার গোলাপ প্রতিভা
আজ আলোস্তন হয়ে বিছানায় ফুটল
আর সমস্ত আগুন সাজিয়ে তুলল
নিম্নমুখী মেঘ!
[সুন্দর
একটি শিশুর গন্ধ কখনো শরীর জুড়ে কি বাজে?
যেন বা জননী স্বপ্ন মর্ম পাথরে ফুটেছে আহা।
[সন্ধ্যা
খুশবু জানিয়েছ দূরে, হাওয়াপীরে
নামে ধীরে বসন্ত-মুরশিদ।
[জালিম
রোদের চুমুক এখন মাটির দুধ হয়ে আসছে।
হলুদ জবার মতো নতুন হাত তোমার!
[পানিপথ রিটার্নস
জবা একটা গানের নাম
কাগজ খুলে পৌঁছে দিয়েছি সমস্ত সুর।
বন্ধ ঘরে তুমি শোনো। দিকে দিকে জরায়ুর গন্ধ
ধাত্রীগ্রাম।
[কাগজ সম্পর্কিত সবকিছু
লম্বা দুপুরগান। গড়িয়ে পড়ে রোদের বাগান।
[লম্বা দুপুরগান
সত্য এই যে—জানালা দিয়ে একটি
পিপাসা আর লাল লেজের ড্রাগন
একটা ট্রেন তখনও অলস বিড়াল।
[পিপাসা আর লাল লেজের ড্রাগন
তোমার কথারা মাছ হয়ে ঝরে!
আহা নীল লেজের গুতুম
আঁশটে দাগের বেহালা
নীল কানকো-পেটের গোপন হারাকিরি!
[কিছু সুন্দর
এই বিচিত্র সুন্দর পঙ্ক্তিগুলো পড়তে পড়তে সাঈদের কবিতার ভেতরকার সুন্দরের সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আগেই বলেছি, তার ভাষা বেশ আড়ালমুখী। সাধারণ পদক্রমকে তিনি প্রায়শই এলোমেলো করে দেন। এতে ভিন্ন এক সুর ও ব্যঞ্জনা তৈরি হয়। বহুদিনকার ভাষা থেকে পাঠকের পরিত্রাণের সুযোগ ঘটে। যেকোনো কবির কাছে এটা এক মৌল প্রত্যাশা। সাঈদ সেটা পূরণ করেন তার নিজস্ব বাক্যশৈলী দিয়ে। যদিও এই কাব্যে সাঈদ কেবল বাক্যকলার দিকেই মন দেন নাই, সময়ের অন্তর্ঘাতকে স্পষ্ট করতে চাইছেন। ফলে তাকে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে বেশ ৷ কেননা এক অন্তর্মুখী ভাষায় তাকে যুঝতে হয়েছে বহির্জাগতিক বহু সংঘাতের সঙ্গে। এভাবেই কল্পনার অবগুণ্ঠন ভেঙে কবি মুখ তোলেন বাস্তবের ময়দানে। এতে তার ভাষা ভিজে গেছে গভীরতর বেদনার বানে। সেখানে কোথাও কোথাও কলার সঙ্গে আপোস আছে। কিন্তু প্রায় সর্বত্রই ঠিকরে ঠিকরে পড়ে প্রেম। এই প্রেম বহু মানুষের মর্ম ছুঁয়ে ছুঁয়ে আসে কবির অন্তর পটে। ফলে সংবেদী পাঠক মাত্র তাতে নিজেকে সমর্পণ করতেই চাইবেন।
নতুন পাণ্ডুলিপির দিনে
প্রথম প্রকাশ : বইমেলা ২০২০
প্রকাশক : বৈভব
প্রাপ্তি স্থান : রকমারি ডট কম