মুহাম্মদ আল-মাগউত-এর দুটি কবিতা
মুহাম্মদ আল-মাগউত সিরিয়ার বিখ্যাত কবি, নাট্যকার ও কলামিস্ট। ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালের ৩ এপ্রিল ৭২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫০-এর দশকে কারাগারে থাকাকালে সিগারেটের কাগজে তিনি তার প্রথম কবিতাটি লিখেন। আল-মাগউত তাঁর আমি আমার স্বদেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করব বইটির জন্য অধিক পরিচিত। এটি তার স্বাধীনতার স্বপ্নে আচ্ছন্ন কলামগুলির সংগ্রহ।
ছায়া ও দুপুরের রোদ
পৃথিবীর সব মাঠ ছোট দুই ঠোঁটে
দ্বন্দ্বে লিপ্ত
পৃথিবীর সব পথ দুটি জুতাহীন পায়ে
দ্বন্দ্বে লিপ্ত
প্রিয়তমা,
তারা ভ্রমণ করে আর আমরা অপেক্ষা করি
তাদের আছে ফাঁসির কাষ্ঠ
আর আমাদের আছে গলা
তাদের আছে মুক্তা
আমাদের আছে তিলক ও মেচতা
তারা রাত্রি ও ভোরের মালিক
তারা বিকালের সূর্য ও দিবসের মালিক
আমরা মালিক শুধু চামড়া ও হাড়ের।
আমরা রোদে পুড়ে ফসল ফলাই
আর তারা সেই ফসল ছায়াতে বসে খায়
তাদের দাঁত ভাতের মতো সাদা
আমাদের দাঁত নির্জন বনের মতো অন্ধকার, কালো
তাদের স্তন রেশমের মতো কোমল
আমাদের বুক ফাঁসির কাষ্ঠের মতো ধূলিমলিন
কিন্তু, তবুও আমরা পৃথিবীর রাজা :
তাদের বাড়ি বিল-ভাউচার আর হিসাব-নিকাশের
কবরে সমাহিত
আমাদের বাড়ি ঘুমিয়ে আছে শরতের পাতার নিচে
তারা তাদের পকেটে বহন করে
চোর আর বিশ্বাসঘাতকের ঠিকানা
আমরা আমাদের পকেটে নিয়ে ঘুরি
নদী আর বজ্রপাতের ঠিকানা
তাদের আছে জানলা
আমাদের আছে বাতাস
জাহাজগুলি তাদের
ঢেউগুলি আমাদের
তারা পদকের মালিক
আর আমরা মালিক এই মাটির
তারা দেয়াল আর ব্যালকনির মালিক
আমাদের আছে দড়ি ও ছোরা
আমরা এবার ঘুমাই ফুটপাতে
এসো, প্রিয়তমা।
নিন্দা
আমি যোদ্ধা।
তারা ছিনতাই করেছে আমার তলোয়ার।
আমি কবি।
তারা ছিনতাই করেছে আমার কলম।
আমি চিত্রী।
তারা ছিনতাই করেছে আমার তুলি।
আমি জিপসি।
তারা ছিনতাই করেছে আমার গিটার।
কবরে যাওয়ার পথে
তারা ফিরিয়ে দিয়েছে আমার সব।
ঝড়কে ভায়োলিন যা বলে
তার চেয়ে বেশি
কী আর বলতে পারি আমি
ওদের
ফাদওয়া তুকান-এর দুটি কবিতা
ফাদওয়া তুকান ১ মার্চ ১৯১৭ সালে ফিলিস্তিনের নাবলুসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে আল-আকসা ইন্তিফাদা তুঙ্গে থাকাকালে অবরুদ্ধ নাবলুসেই মৃত্যুবরণ করেন। ফাদওয়া তুকানের বড় ভাই আহমাদ তুকান জর্দানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তুকান ফিলিস্তিনিদের প্রতীক এবং ‘আরবি সাহিত্যের অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে পরিগণিত হন।
আমার অভিলাষ
আমার দেশের মাটিতেই মরব
তার মাটির কবরে ঘুমিয়ে থাকব
তার মাটিতেই গলে গিয়ে
লীন হয়ে যাব
তারপর সেই ফুলের মতো ফুটে উঠব
আমার দেশের সেই ফুল
যে-ফুলটি একদিন শিশুর পাশে খেলেছিল
আমার দেশের আলিঙ্গনে
আমার দেশের শরীরে শরীর লাগিয়ে
একমুঠো ধুলোর মতো
ঘাসের একটি পাতার মতো
একটি ফুলের মতো
বসে থাকাই আমার শেষ অভিলাষ
প্রসববেদনা
রাতে
ধ্বংসপ্রাপ্ত মাঠ আর বাড়ির মধ্য দিয়ে
বাতাস উড়িয়ে ফুলের পরাগ
আর প্রসববেদনার সাথে
পৃথিবী কেঁপে ওঠে ভালোবাসায়,
কিন্তু বিজয়ী চায় আমরা যেন
আত্মসমর্পণের গল্পে বিশ্বাস করি
হে আরব অরোরা!
আমাদের ভূমি দখলকারীকে বলো,
শিশুর জন্মদান এমন এক শক্তি
যা তার অজানা।
একজন মায়ের শরীরের বেদনা
যেন ক্ষত-বিক্ষত এক জমি
জীবনেরই উদ্বোধন করে, ভোরে
যখন রক্তের গোলাপ ফোটে
ক্ষতস্থান জুড়ে।