পূর্বমেঘ ও শরীরসমূহ

১. প্রতিপন্ন করো হে পূর্বমেঘ। বজ্র প্রাপ্য আমার, বিরক্ত করো না শুধু শুধু বৃষ্টি পাঠিয়ে। নিমিষ ও জ্যোতিবিম্বের মাঝে দোলাও গুল্ম পুঁইদানাতে জমাট হোক রক্ত-লকেট। মাচায় ফুল। টোকা দাও টলে পড়ি টকটকে সতেজ। চরপে পোড়া দেহ, চরপে পোড়া পুংকেশর—ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। টোকা দাও। শুধু আতাফল অক্ষত থাক অনাদিকাল, হে শতচক্ষু আমার...   ২. আমার রিপুভর্তি পাজামা একা একা ভিজছে 'ভারান্দা'য় করবী হইতে উনবিষুদবার—নিরীহ বৃষ্টির আগুনে-কামড় আমি জানি। আমারও আছে কামধেনু ও সোনাব্যাঙ আছে ভেজা শরীর, বারুদস্তূপ, পূর্বাহ্ণের গ্যাসচেম্বার খোলা রেখেছি সমস্ত ফাটল; মানিপ্ল্যান্ট এন্ড ব্লাডি-হোলস্ আমাকে রিপু করছে বৃষ্টি, আমাকে ফুটো করছে বৃষ্টি হে আমার রিপুভর্তি পাজামা—আলিঙ্গললাট আমি বৃষ্টিবর্জিত ইত প্রত্যয়সহ আমি হই কামার্ত এবং গরিব...   ৩. এখন একনাগাড়ে অনেকক্ষণ চিৎসাঁতার কাটতে পারি আমি বুঝেছি কচ্ছপের কষ্ট। একই সাথে নিজেকে আর নিজের বাড়িকে বয়ে বেড়ানোর কথা ওই জানিয়েছিল প্রথম এখন আমি বৃষ্টিকালকেও বাড়ি বলে গণ্য করতে পারি আশলে আমার বাড়ি দুটো, আমার এক চোখ কাঁদলে টেরও পায় না অন্য চোখ, আশলে আমার বাড়ি দুটো আমার বাড়ি পার্পল রঙা এবং ক্ষরাগ্রস্ত সমগ্র বর্ষাকাল   ৪. এমনকি সূচ্যগ্র মিনারও পারে না বিদ্ধ করতে চাঁদ—অক্লেশে শুধু খনিশ্রমিক ফিরে ফিরে আসে; জল ও আনুভূমিক প্রেমে পাথর সচল হয়; লাটিম ঘোরে প্রতিবেশী দুই বালিশের মাঝে কত যে দিয়েছি শান! জিহ্বা ও ছুরি চালাই জ্যোছনাপুষ্পে ক্যাথিড্রাল হে—ধসে পড়ার সুউচ্চ দুঃস্বপ্নটুকু শুধু আমাদের...   ৫. জামা থেকে খুলে আনি শরীর, পাথর থেকে সান্দ্রতা কে আছে আমায় বানাতে শেখায় তীব্র নীল? চাই নি এই জলবেষ্টন—লালসা-নিকোশ কয়লার খনি পাতালের পেট চিড়ে দেখি আহত সূর্যমুখী; প্রীতিখণ্ড বটের ঝুরিতে ঝুলে থাকা মেরুন অক্ষর, প্রণাম জেনো দাও আরও তীব্রমেরুন নক্ষত্র আর মরচেপড়া কম্পাস গভীর করি সমুদ্রমন্থন
মাজুল হাসান

মাজুল হাসান

কবি ও গল্পকার জন্ম : ২৯ জুলাই ১৯৮০, দিনাজপুর। পড়াশুনা করেছেন দিনাজপুর জিলা...বিস্তারিত

এই লেখকের সব লেখা