পর্ব-১
সাধারণত রাত ১১টা ৪১ মিনিটে ঘুমাসন শুরু করি। ঘুমিয়ে পড়ি ১২টা ১ মিনিটে। বহুদিনের অভ্যাস। কিন্তু আজ সবকিছু ওলটপালট লাগছে। ১টা ৪৬ মিনিটেও আমি নির্ঘুম। কোনোভাবেই ঘুমাতে পারছি না। এটা অসহনীয়, ক্লান্তিকর এবং অস্বাভাবিক। নিজের উদ্ভাবিত ঘুমাসনে ব্যর্থ হয়ে উল্টো গণনায় ভর করেছিলাম। তাতেও কাজ হয় নি। বরঞ্চ উল্টো গণনা করতে গিয়ে কিছু খুঁত পেয়েছি। তা থেকে মনে হচ্ছে, উল্টো গণনার ব্যাপারটা অল্প বুদ্ধিমানদের হালকা একটি খেলা। ১০০, ৯৯, ৯৮, ৯৭, ৯৬, ৯৫, ৯৪, ৯৩, ৯২, ৯১, ৯০, ৭৯... এই তো, ফস করে ভুলটা হয়ে গেল। আমার ধারণা করতে ভালোলাগছে, যিনি এই ঘুম সূত্রের আবিষ্কর্তা তিনি ছিলেন নির্ঘাত বোকা। ফুলিশ দ্য গ্রেট। তার সাথে কখনো দেখা হলে আমি হয়তো বিনীতভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম, ‘মিস্টার অমুক, (যেহেতু তার নাম জানি না তাই এই সম্বোধন) আপনি উল্টো গুনে প্র্যাক্টিক্যালি ঘুমিয়ে দেখাতে পারবেন কি?’
মিস্টার অমুক হয়তো বলতেন, ‘ভাই সাহেব, ঘুমের জন্য এই সূত্রটা সর্বজনবিদিত। আমাকে নতুন করে প্রমাণ না দেখালেও চলবে।’
আমি হয়তো বলতাম, ‘সবাই উপকার পাচ্ছে মানলাম কিন্তু আমি উপকার পাচ্ছি না কেন?’
মিস্টার অমুক হয়তো বলতেন, ‘আপনি কেন উপকার পাচ্ছেন না সেটা আমি কেমন করে বলব?’
আমি হয়তো বলতাম, ‘বা রে! কেমন করে বলবেন মানে! আপনি তাহলে এমন সূত্র কেন আবিষ্কার করলেন, যা দিয়ে সবাই উপকার পাবে না?’
মিস্টার অমুক বলতেন, ‘দেখুন, সব ওষুধে সবার কাজ হয় না। আর সে-কারণে পৃথিবীতে এত এত ওষুধ কোম্পানির জন্ম হয়েছে। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন।’
তখন আমি হয়তো তাকে আর কিছু বলতে পারতাম না। কারণ কেউ যখন যৌক্তিক কথা বলে, সঙ্গে সঙ্গে আমি তার ভক্ত হয়ে যাই। আমি হয়তো বলতাম, ‘আজ থেকে আমি আপনার ভক্ত হয়ে গেলাম।’
তিনি হয়তো ভাব নিয়ে বলতেন, ‘আপনার মতো ভক্তের কোনো প্রয়োজন নাই আমার।’
‘কেন?’
‘কারণ আপনি একজন গর্দভ। গর্দভ দ্য গ্রেট!’
‘কী কারণে আমি গর্দভ?’
‘উল্টো গণনা করে যারা ঘুমাতে চায় তারা গর্দভ ছাড়া আর কী হতে পারে?’
প্রশান্তি না থাকা মানুষের সংখ্যা প্রচুর। দিন দিন এই সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে। যাদের স্বাভাবিক ঘুম হয় না আমি তাদের জন্যই এই সূত্রটা আবিষ্কার করেছি।
হয়তো আমার আর কিছু বলার থাকত না। কারণ পুরোপুরি বোকা প্রমাণিত হয়ে যাওয়ার পর একজন বোকার আর কিছু বলার থাকতে পারে না। তখন তার জন্য নীরবতাই ভালো। আমি হয়তো তাকে শেষবারের মতো এক নজর দেখে নিয়ে বলতাম, ‘আমি কি তবে আসতে পারি?’
আমার ভাবভঙ্গি দেখে মিস্টার অমুক হয়তো চমকে যেতেন। বলতেন ‘আসতে পারি মানে?’
আমি হয়তো তাকে সাফ সাফ বলে দিতাম, ‘আসতে পারি মানে—আপনার মতো একজন বিখ্যাত অভদ্রলোকের সাথে কথা বলতে আমার আর ভালোলাগছে না—আন্ডারস্ট্যান্ড?’
আমি হনহন করে হেঁটে চলে যেতে থাকতাম। মিস্টার অমুক হয়তো দৌড়ে এসে আমার পথরোধ করে দাঁড়াতেন। আমাকে নানাভাবে বোঝাতে চাইতেন। অনুনয়ের সুরে বলতেন, ‘স্যরি। আই অ্যাম এক্সট্রিমলি স্যরি। আপনাকে গর্দভ বলাটা ঠিক হয় নি। আর গর্দভ দ্য গ্রেট বলা তো একেবারেই ঠিক হয় নি... আসলে কথাটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। প্লিজ পারডন মি।’ আমি হয়তো হাঁটতেই থাকতাম আর মিস্টার অমুক বলতে থাকতেন, ‘দেখুন, মানুষের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক—সর্বোপরি শরীর ও মনের প্রশান্তির সাথে ঘুমের ব্যাপারটা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। মনে যদি প্রশান্তি থাকে তাহলে আপনা-আপনি ঘুম চলে আসে। কিন্তু মনে প্রশান্তি না থাকা মানুষের সংখ্যা প্রচুর। দিন দিন এই সংখ্যা চক্রবৃদ্ধি হারে বেড়ে চলেছে। যাদের স্বাভাবিক ঘুম হয় না আমি তাদের জন্যই এই সূত্রটা আবিষ্কার করেছি।’ মিস্টার অমুকের কথায় আমি হয়তো থামতাম। তিনি আমার দিকে গোল গোল চোখে তাকিয়ে থাকতেন। বোঝার চেষ্টা করতেন আমি তাকে ক্ষমা করলাম কিনা।
আমি হয়তো তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতে দিতে বলতাম, ‘আমিও স্যরি আপনাকে বিখ্যাত অভদ্রলোক বলার জন্য।’ হয়তোবা এভাবেই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়ে যেত। আরে আমি এসব কী ভাবছি! কেন ভেড়া গণনায় যাচ্ছি না? ভেড়া গণনা হচ্ছে উত্তম সূত্র। এই সূত্র প্র্রয়োগ করার সাথে সাথে ঘুম এসে যাবে।
ভেড়া গণনা শুরু। চারিদিক ঘন সবুজ। দূরে গাব গাছের মতো নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়ের খাড়া ঢালু। তার পাশে বিশাল মাঠে একপাল ভেড়া মনের আনন্দে ঘাস খাচ্ছে। একটি রাখাল বালক নড়ি হাতে দাঁড়িয়ে আছে ভেড়া-পালের পেছনে। সে নড়ি দেখিয়ে ভেড়াদের শাসন করছে এবং পরামর্শ দিচ্ছে। যেমন: এটা করো না/ ওটা করো না/ এটা খেয়ো না/ ওটা খেয়ো না/ ইত্যাদি। মানুষের শুকনো বিষ্ঠা ভেড়ারা খুব পছন্দ করে। রাখাল শুকনো বিষ্ঠা দেখামাত্র চিৎকার করে বলছে, ‘ওইগুলা মাইনষের গু। খাইয়ো না।’
ভেড়াগুলো রাখালের সব কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে। মানুষের বিষ্ঠা দেখে জিহবায় পানি এসে গেলেও তারা লোভ সংবরণ করে নিচ্ছে। চমৎকার লাগছে এসব দেখতে। মনে হচ্ছে, আশ্বিনের শাদা শাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে নীলাকাশে। ভেড়াদের হাঁটা-চলা, ঘাস খাওয়া ইত্যাদি দেখছি। গণনা শুরু করার সাথে সাথেই চোখে ঘুম ঘুম ভাব এসে গেছে। খুব ভালো। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে এগিয়ে যাচ্ছে ভেড়াগুলো। সামনে একটা আপেল বাগান। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ভেড়াগুলো কাঁটাতার ঘেরা আপেল বাগানের দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু রাখাল কিছু বলছে না! ভেড়াগুলো হুড়মুড় করে আপেল বাগানে ঢুকে পড়ল। রাখাল ভেড়াদেরকে কোনো নিষেধ তো করলই না বরং নিজেও বাগানে ঢুকে পড়ল। আরে! বড়ই চালাক আর লোভী প্রকৃতির রাখাল তো!
জগতের সব চেয়ে বড় সত্য হলো—খাওয়ার বাসনা। কল্পনায় আমি যখন ভেড়া ও রাখালকে আপেল খেতে দেখেছি, তখনই আমার খাওয়ার বাসনা সুতীব্র হয়ে ওঠেছে।
বিশাল আপেল বাগান। বিদেশি সিনেমায় আপেল বাগান দেখলেও সরাসরি এই প্রথম দেখছি। একেবারে নতুন অভিজ্ঞতা। ভীষণ রোমাঞ্চকর। ভেড়ারা পটাপট আপেল খাচ্ছে। রাখালটিও খেয়ে নিচ্ছে পেট ভরে। একটা ব্যাপার লক্ষ করে অবাক হচ্ছি, ভেড়ারা যে এত সাবলীলভাবে আপেল খেতে পারে তা আমার জানা ছিল না। খাওয়ার মধ্যেও একটা সৌন্দর্য থাকে। যারা এটা জানে, তারা খাওয়ার সময় সৌন্দর্য বজায় রাখে। যারা জানে না তারা যেনতেন ভাবে খায়। তেমনি যারা ঘুমের সৌন্দর্য বোঝে, তারা সোজা টানটান শুয়ে ঘুমায়। যারা জানে না তারা আমার মতো বদখদভাবে ঘুমায়। সৌন্দর্যের ব্যাপারে অধম প্রাণী ভেড়াকুলের যথেষ্ট সচেতনতা দেখে অবাক হলাম।
ভেড়ারা হলো পশু। আর রাখাল একজন মানুষ। অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাখলুকাত। অথচ, রাখালের চেয়ে ভেড়াদের খাওয়ার সৌন্দর্যবোধ বেশি। কী বিস্ময়কর! তার মানে রাখাল মোটেও সৌন্দর্য নিয়ে মাথা ঘামায় না। বেটা ফাজিল! অনেক প্রাণীই মানুষের চেয়ে বেশি সৌন্দর্য সচেতন। যেমন বাবুই পাখি। সে যত সুন্দর বাসা বানাতে পারে মানুষ তা পারে না। যেমন বিড়াল। সে যত সুন্দর করে মাছের কাঁটা খায়, কোনো মানুষকে আমি সেভাবে কাঁটা খেতে দেখি নি। যেমন বাঘ। তার ঘুমের মধ্যে অপার সৌন্দর্য (তবে বাঘের ঘুমের দৃশ্য আমি দেখেছি টেলিভিশনে)। এ-রকম হাজারটা উদাহরণ দিয়ে পরীক্ষার খাতার পৃষ্ঠা ভরা আমার কাজ নয়। আমার কাজ ভেড়া গণনার মাধ্যমে ঘুমিয়ে পড়া।
আসলে, জগতের সব চেয়ে বড় সত্য হলো—খাওয়ার বাসনা। কল্পনায় আমি যখন ভেড়া ও রাখালকে আপেল খেতে দেখেছি, তখনই আমার খাওয়ার বাসনা সুতীব্র হয়ে ওঠেছে। তাই চট করে ওঠে ফ্রিজ খুলে আপেল আনলাম। চাকু দিয়ে কেটে মুখে দিতেই মনে হলো, এই আপেল সেই আপেল, যেই আপেল একটু আগে ভেড়ারা খেয়েছে। এত সুস্বাদু আপেল খেলে কার না সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত হয়? আমারও সৌন্দর্যবোধ জেগে ওঠল। আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপেল খেতে লাগলাম। খেতে খেতে গুনগুন করে গাইতে লাগলাম:
আহা কী মজার আপেল কসমস কসমস শব্দ হচ্ছে যত খাচ্ছি মজা পাচ্ছি আহা কী মজার আপেল॥
গান গাইতে গাইতে কণ্ঠ জড়িয়ে এল। দ্যাট মিনস্ স্লিপ হ্যাজ কাম। আল্লাহ রসুলের নাম স্মরণ করে, বুকে লম্বা ফুঁ দিয়ে, চিন্তার দরজা-জানালার কপাটে খিল মেরে শুয়ে পড়লাম। কিন্তু মিনিট পাঁচেক পর টের পেলাম জেগেই আছি। বাধ্য হয়ে চিন্তার দরজা-জানালার কপাট খুলে দিলাম। দেখি মাঠে কোনো ভেড়া নেই। মানে? ভেড়ারা কোথায় গেল? তবে রাখালকে দেখা যাচ্ছে। ঠিক আছে, পরিচালককে যখন দেখা যাচ্ছে তখন চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু তাকে যে অবস্থায় দেখা গেলো সেটা বলা আমার জন্য কিঞ্চিৎ অস্বস্তিকর। তারপরও বলি। ঝোপের আড়ালে কুঁজো হয়ে বসে আছে সে। মাগনা পেয়ে বেশি পরিমাণে আপেল খেয়েছিল। যাকে বলে ওভারলোড। এখন বাধ্য হয়ে ডাউনলোড করছে।
একটু পরে রাখালও হারিয়ে গেল। তারপর অনেকক্ষণ অপেক্ষা করলাম কিন্তু কারো দেখাই পেলাম না। শেষে শোয়া থেকে ওঠে বসলাম। ঘুম ভাঙার পর কৃত্রিম আড়মোড়া ভাঙলাম। আড়মোড়া ভাঙতে না ভাঙতে লম্বা হাই এল। যথাসম্ভব সুন্দর করে হাই তুললাম। তারপর অপেক্ষা করতে লাগলাম দ্বিতীয় হাই তোলার জন্য। কিন্তু হাই আর এল না। ব্যায়াম করার ভঙ্গি করে দুই হাত পাখির ডানার মতো মেলে ধরলাম। মনে হলো আমি একটি পাখি। পাখি মানে কাক। আমি উড়ছি। আমার সাথে আরো ৮/৯টা কাক আছে। বিশাল আকাশে আমরা উড়ে বেড়াচ্ছি দল বেঁধে। উড়তে খুব মজা লাগছে। হঠাৎ আমাদের দলের কেউ একজন নিচের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা দেখতে পেল এবং আমাদেরকে নিচে যাওয়ার জন্য ইঙ্গিত করল। আমরা সবাই চোখের পলকে ফুড়ুত করে নিচে নেমে গেলাম। কসাইখানার পেছন সাইডে একটা গরুর লেজ পড়ে আছে। ওটা নিতে হবে। সুবিধা মতো একটা জায়গায় নিয়ে গিয়ে মজা করে খেতে হবে।
উত্তর শুনে বেচারা কুকুরের মন বিগড়ে গেল। ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে এল আমাদের দিকে। বলতে লাগল, ‘যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! আজ তোদের একদিন কী আমার একদিন।’
তবে কসাই সাহেব টের পাওয়ার আগেই কাজটা করতে হবে। না হলেই বিপদ। পশুর কল্লা কাটতে কসাইদের হৃদয় কাঁপে না। টের পেলে আমাদের দিকেও রামদা ছুঁড়ে দেবে। তাই কাজটা করতে হবে খুব সাবধানে! আমরা গরুর লেজটা নিয়ে চোখের পলকে ফুড়ুত করে উড়ে গেলাম ধানমণ্ডি লেকে। মানে আমাদের আস্তানায়।
সবাই আরাম করে গরুর লেজ খাচ্ছি এমন সময় একটা কুকুর এল। সে লোভী চোখে-মুখে ন্যালন্যালা জিহবা বের করে আমাদের দিকে তাকাল। কুকুরের ওরকম ছোঁচামি দেখে আমরা খুবই বিরক্ত হলাম। যদিও কিছু বললাম না। কুকুরটা খুব নরম কণ্ঠে বলল, ‘তোমরা এত মজা করে গরুর লেজ খাচ্ছ, আমাকে একটু দাও না?’
আমাদের মধ্য থেকে কেউ একজন বলে উঠল, ‘তোমরা যখন মজা করে ভালো ভালো খাবার খাও, তখন কি আমাদেরকে দাও কোনোদিন?’
কুকুরটা বলল, ‘ঠিক আছে, এখন থেকে দেবো।’
‘তোমরা যখন থেকে দেবে তারপর থেকে আমরাও দেবো। এখন ভাগো।’
দলের সব চাইতে চালাক কাকটার এই উত্তর শুনে বেচারা কুকুরের মন বিগড়ে গেল। ঘেউ ঘেউ করে তেড়ে এল আমাদের দিকে। বলতে লাগল, ‘যত বড় মুখ নয় তত বড় কথা! আজ তোদের একদিন কী আমার একদিন।’
—বলেই ক্ষ্যাপা কুকুরটা চালাক কাকটার লেজে কামড় বসিয়ে দিল। কাকটা দ্রুত উড়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও তার লেজের কয়েকটা পালক কুকুরের দাঁতে কাটা পড়ল। আমরা সবাই হতবাক। কুকুর এটা কী করল! ‘বদমাশটাকে এক্ষুণি শায়েস্তা না করলে ওর শিক্ষা হবে না।’ আমি আমার সম্ভাব্য প্রেমিকার কানে কানে কথাটা বললাম। সম্ভাব্য প্রেমিকা গরুর শক্ত লেজে ঠোকর বসিয়ে বলল, ‘তা মুরোদ থাকে তো শায়েস্তা করছ না কেন?’ আমি বললাম, ‘দেখি—বজ্জাত কুকুরটা যদি আর একবার সীমা লঙ্ঘন করে তাহলে আজ ওকে উচিত শিক্ষা দিয়েই তবে ছাড়ব।’ সম্ভাব্য প্রেমিকা আমার ওপর ভীষণ বিরক্ত হলো। ততক্ষণে কুকুরটা চলে গেছে। স্বভাবসুলভ দৌড়াচ্ছে।গায়ে চিমটি কাটলাম। ‘উফ’ শব্দ বেরিয়ে এল মুখ থেকে। তার মানে ঠিক আছি। তাহলে এসব ভাবছি কেন? ছি ছি! আমি কিনা ধানমণ্ডি লেকের কাক হয়ে উড়াউড়ি করলাম! বিছানা থেকে উঠে বারান্দা অভিমুখে যেতে যেতে মনে হলো, যারা ঘুমাতে পারে না, তারা বোধহয় এক সময় পাগল হয়ে যায়। আমিও এতক্ষণ যা চিন্তা করলাম, তা নিতান্তই পাগলের আলামত। কিন্তু এটা হতে দেওয়া যাবে না। এখনই পাগল হওয়া যাবে না। চিন্তা করে বের করতেই হবে কেন ঘুম আসছে না।
বারান্দায় গিয়ে আরাম কেদারায় বসলাম। একটা সিগারেট ধরালাম। জ্ঞানী-গুণীরা বলেছেন, রাতে জেগে থাকার জন্য সিগারেট খুব ভালো সঙ্গী। সুখটান দিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। জোছনা রাত। ধোঁয়া ছাড়লাম আকাশ অভিমুখে। সিগারেটের ধোঁয়ায় ঢেকে গেল আকাশের অগণিত তারকারাজি। ধোঁয়ার কুণ্ডলির মধ্যে ভেসে উঠল বিল্লাল হুসেন ওরফে বিল্যাই মিয়ার মুখ! বিল্যাই মিঞা মিটিমিটি হাসছে! আমি চমকে ওঠলাম। এতক্ষণে বুঝতে পারলাম, আমার ঘুম না আসার কারণ!