আমির ওর একজন কবি, ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক। জন্ম ১৯৫৬ সালে, ইসরাইলের তেল আবিব শহরে। তার পড়াশোনা জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে, দর্শনশাস্ত্র এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে। সেখানে ওর প্রাচীন গ্রিক ধর্মতত্ত্ব পড়ান। তিনি হেলিকন পোয়েট্রি সোসাইটি, হিব্রু-আরবি পোয়েট্রি স্কুল, শা'আর আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব এবং হেলিকন পোয়েট্রির রিভিয়ুর প্রতিষ্ঠাতা। আমির ওর ২০২০ সালে গোল্ডেন রিথ বিজয়ী, বিশ্বসাহিত্যে অনন্য কণ্ঠস্বর হিসাবে স্বীকৃত। কবিতা তাকে অসংখ্য জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার এনে দিয়েছে। তিনি ২০১৬ সালে ইউরোপীয় অ্যাটলাস অফ লিরিকস্ পুরস্কার এবং ২০১৯ সালে হোমার ইউরোপিয়ান মেডেল অফ আর্ট অ্যান্ড পোয়েট্রি সম্মানে ভূষিত হন। ১৪টি কবিতার বই, ২টি উপন্যাসসহ তার গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। হিব্রু ভাষায় ১২ খণ্ডে অনুবাদ করেছেন প্রাচীন গ্রিক ও ইংরেজি সাহিত্য। তার লেখা ৫০-এর অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। সম্প্রতি ‘পোয়েটস্ অফ দ্য প্ল্যানেট’ কাব্য-আন্দোলনের সুবাদে আমির ওরের সঙ্গে অনুবাদকের যোগাযোগ হয়। ‘সূর্যোদয়ের সাত লাইন’ কবিতার বঙ্গানুবাদ পাঠানোর পর আমির ওর অনুবাদককে লিখেছেন, ‘আমরা সবাই যেন সেই সুর্যোদয় দেখতে পাই’ [May we all see a bit of that sunrise]। সূর্যোদয়ের সাত লাইন ও প্রেমের জাদুকর—কবিতা দুটোর ইংরেজি অনুবাদক যথাক্রমে সেথ মিকেলসন ও ফিয়োনা স্যাম্পসন।
- সাখাওয়াত টিপু
সূর্যোদয়ের সাত লাইন
আর সব সত্ত্বেও—জীবন; সব সত্ত্বেও—ভালোবাসা।
আশার জগতে আমরা সত্যিই দেখতে পাব
হৃদয়ের খোলা দরজা।
তারপর আমরা আবার হাঁটব এই পথে, এর মোহিত সৌন্দর্যে,
আত্মা আমাদের পরিষ্কার এবং শান্তিপূর্ণ:
সত্যিই আমরা দেখতে পাব প্রসন্ন সকাল,
মানুষের আসন্ন সূর্যোদয়।
প্রেমের যাদুকর
কিভাবে
এটা কিভাবে বলি? তুমি তো ধারণ করার খুব কাছে,
তুমি তো হৃৎপিণ্ডে বিস্ফারিত ফল
তুমি তো বোবা মুখে বয়ে নেয়া নাম
যেন পৃথিবীর তালুতে সমুদ্রের মতো
আমি ছুঁই, আর ঈর্ষান্বিত আমার ছোঁয়া হাত
ছুঁয়েছি, আমি অবিরাম ছুঁতে চাই।
এমন গতিহীন মুহূর্তের আতঙ্ক:
তুমি এখানের ভেতরে এখানের ভেতরে এখানে
এখানে আত্মার-আগুনে পুড়ছে, পুড়ছে
অক্ষয় হৃদয়।
চাঁদ
প্রাণীটি আমার পায়ের মাঝখানে কাতরাচ্ছে
প্রাণীটি তোমার পায়ের মাঝেও।
চাঁদটি আমার দাঁতের ফাঁকে কাতরাচ্ছে
চাঁদটি তোমার হৃদয়ের ভেতরেও।
প্রাণীটি আমার হৃদয়ে সর্বদা তোমার গন্ধ পায়।