৩ পর্বের লিংক
পর্ব- ৪
আমতলার মাচায় বসে কথা বলতে বলতে আমি প্রায়ই ওদের ওড়না পরার স্টাইল নিয়ে ভাবি। গলায় বাঁধিয়ে পিঠের উপর দিয়ে ঝুলানো। টিভি ছাড়া এমন দৃশ্য কাদাচিৎ দেখেছি। গ্রামে শুধু আমাদের পাড়ার মেয়েরাই।
শুধু কি বাড়ি নাকি বাইরেও?
তা ত খেয়াল করি নাই।
এতে কামিজ পরা তরুণীদেহ সামনে থেকে মোহনীয় লাগে? তবে আমি এ নিয়ে রুজানাকে খানিক শায়েস্তা করতে পারি।
শায়েস্তা হবে না। বলবে, শায়লা ফুপু শিখাইছে।
তা হোক, লজ্জা ত পাবে। আমতলা গিয়ে সবার সামনেই প্রসঙ্গটা পাড়ব।
আমতলায় বড় বাঁশের মাচায় বসে সবাই আড্ডা মারছে। ‘আমি ভেবে পাচ্ছি না তোরা পিঠের উপর ওড়না পরা শিখলি কবে। কেনই-বা।’
আমি ভেবেছি ওরা চমকে উঠবে। লজ্জা পাবে। কিন্তু রুজানা হাসে। আর তরুণী-কিশোরী চাচাতরা হেসে একেবারে গড়াগড়ি। বলে কিনা, ‘এটা হালফ্যাশন।’
‘মাঝখানটা বুকের উপর ভাঁজ করে রেখে দুই কাঁধের উপর দিয়ে দুই মুড়ো পিঠের উপর ঝুলিয়ে দিলে বিশ্রী লাগে। উল্টে-পল্টে যায় প্রায়ই। বাঙাল এমন হাদা কেন?’
‘অন্য মেয়েরা কিভাবে পরে?’
‘আপনি দেখেন না?’
‘মূলকথা হল উদ্দেশ্য। এবার বল, ওড়না পরার উদ্দেশ্য কী?’
‘বলব না,’ রুজানা।
টপস-স্কার্ট পরা শিরিনার দিকে নজর পড়ে। আমি তাকে নষ্ট করতে চাই?
আমি ঝটিকা হাতে ওর ওড়না টেনে ফেলে দিলাম। ‘এর ত কোনো দরকারই নেই, তাই না?’ কিন্তু সে যেন মজা পায়। অথচ আমি ভয় পাই, এই কাণ্ড চাউর হয়ে যাবে আর আমার বদনাম হবে। তবু আমি অন্য চাচাতদের খুলে ফেলতে বললাম। তারা আমার দিকে চোখ বড় করে তাকাল কিছুক্ষণ। তারপর রুজানার দিকে।
রুজানা নির্বিকার ভঙ্গিতে চাচাত হিমেলকে বলল ডাব পাড়তে। হিমেল ‘কেন তুমি পার না’ বললে রুজানা উঠে দাঁড়ায়। তারপর আমার দিকে চেয়ে বলে কিনা, ‘যুবা জাতির কথা শুনলেন ত—?’
তা ত শুনলাম। রুজানা এবার কী করতে যাচ্ছে? সে তার ওড়নাটা কোমরে বেঁধে বাড়ির দিকে হনহন। অন্যরা হিহি করছে।
মানে কী?
কিছু একটা হতে যাচ্ছে।
রুজানা একটা লম্বা মই আর দা নিয়ে আসছে। আমি অবাক তাকিয়ে। এত বড় মইটা কেমন স্বচ্ছন্দে কাঁধে করে বইছে। তারপর গাছ থেকে ডাব পেড়ে এনে বাঁহাতের উপর রেখে ডানহাতে কিভাবে দা চালায় দেখতে দেখতে হাঁ হয়ে থাকি। আর সেই ডাব মজা করে খায় চাচাত হিমেল।
‘তুই ত দেখছি যুবাজাতির কলঙ্ক হইছিস রে।’
‘তবে আর বলছি কী,’ রুজানা ফোড়ন কাটে।
‘আসলে ব্যাপারটা হয়েছে কী, ভাইয়া, শুধু পুরুষরা হার্ডওয়ার্ক করবে আর নারীরা বসে বসে তা এনজয় করবে—এটা কি ঠিক?’
‘না, মোটেও ঠিক না, রুজানা। তুরা শাড়িচুড়ি পরে ঘরে বসে থাক।’
‘কেমন লাগে?’ আমি টিটকারি মারছিলাম। কিন্তু হিমেল বলল, ‘দারুণ—!’
‘কোনো সন্দেহ নেই,’ শিরিনা আরেক কাঠি সরেস, ‘হিমেল ঘরদোর সামলাবে, বাচ্চাকাচ্চা মানুষ করবে আর ওর বউ ওকে—।’
‘শাসন করবে।’ রুজানা হাহা করে উঠল।
আমি জানতাম মেয়েরা হিহি করে, খিলখিল করে, কিন্তু রুজানা প্রায়ই হাহা করে। নারীকণ্ঠ বটে।
‘নাহ্। তুরা সব নষ্ট হয়ে গেছিস।’ আমি মূলত মজা করেই বলছিলাম। কিন্তু রুজানা সিরিয়াস। মিটিমিটি হাসে আর বলে কিনা, ‘হই নি এখনও। হব হব করছি। আপনারা শহরে বসে মজা মারবেন আর আমরা গ্রামে বসে আপনাদের চিঠি লিখে লিখে হাহুতাশ করব, তাই না?’
‘না না না।’ ব্যান্ড সংগীতের ভঙ্গিতে হাত ছুড়ে গেয়ে উঠল শিরিনা, ‘নষ্ট আমি হবই ত—!’
সবাই হররা করে কিন্তু আমি প্রায় কেঁপে উঠি। বুকের ভিতর থরথর করে আরো কিছুক্ষণ। ‘তুই এভাবে গেয়ে উঠলি, যদি মুরব্বিরা কেউ শুনে ফেলে?’ অবশ্য গানের তাল অনুযায়ী ‘নষ্ট’র উপর জোর কম পড়ায় দূরের কারো শোনার কথা না।
সবাই আমার দিকে তাকাল। আমি এমন প্রতিক্রিয়া দেখাব তা যেন কেউ ভাবে নাই। শিরিনা কিঞ্চিৎ অপ্রস্তুত। অন্যরা বিব্রত। রুজানা তাড়াতাড়ি আমাকে আশ্বস্ত করল, ‘মুরব্বিরা কেউ এখন বাড়ি নেই। দুপুরে কেউ বাড়ি থাকে না।’
গ্রামে যারা থাকে তারা সবাই এখন খেতখামার বা দোকানে ব্যস্ত। অন্যরা শহরে বন্দরে পুলিশ মিলিটারি বিডিআর আর অনেকে বিদেশে। ‘কিন্তু চাচিরা বা সিনিয়র ভাবিরা ত আছে।’
রুজানা আমার দিকে বিরক্ত চোখে তাকাল।
হিসেবে আমিও সিনিয়র বটে, আচারে-বিহারে সিনিয়র না হয়ে থাকার দিকে নজর ছিল। সিনিয়র হয়ে থাকলে কি আর আমি ওদের সাথে মিশতে পারব। ওদের সাথে মেশার লোভ আমাকে আরো একটু পেয়ে বসল।
তাহলে এখন আমাকে চেপে যেতে হবে। যদিও রুজানার বিরক্ত চোখ আমাকে বিরক্ত করছে।
রুজানা যেন না বলে আর পারল না, ‘মেয়েরা যত বেশি নিরীহ হয়ে থাকে ছেলেরা তাদের তত বেশি পেয়ে বসে। মেয়েরা পথেঘাটে বেরোতে পারে না। স্কুলে পর্যন্ত যেতে পথে উত্ত্যক্ত হয়। এর কারণ কী—?’
আমার ওসব মাথায় আসে না। আমার বরং টপস-স্কার্ট পরা শিরিনার দিকে নজর পড়ে। আমি তাকে নষ্ট করতে চাই? ওই তন্বী তনু আমাকে লোভ ধরিয়ে দিচ্ছে। লোভে পাপ... এই লোভ স্বর্গীয়? টপসের নিচে আমি তার—। ওই ঠোঁটে চুমু খেতে দারুণ লাগবে। ওই কোমর, ওই উরু। আমি ওর দিকে তাকালাম। ওও আমার দিকে তাকালে নিঃশব্দ হাসি যার মানে সব ঠিক আছে।
ওরও মুখে লাজুক হাসি।
রুজানা আরো বলল, ‘বাড়ির বাইরে ওরা ঠিকই সংযত থাকে। কিন্তু সংযত থাকা মানে ত কেঁচো হয়ে থাকা না।’
‘আমরা তাহলে কেন্নো হব, বিচ্ছু হব, গোখরা হব—হা হা হা।’
সবাই হররা করে উঠল। আমাকে নিয়ে ওদের সংশয়, জড়তা কেটে যাচ্ছে। এখন থেকে আমিও যেন ওদের দলের একজন। সবাই খুব খুশি। আমি এখন শিরিকে ভোগের দিকে মন দিতে পারি।
কি ন তু।
হিমেল ওর দিকে বারবার যেভাবে চায়! ওও হিমেলের দিকে। আমি নিশ্চিত এই দুইয়ের মধ্যে কিছু একটা চলছে। নিদেনপক্ষে মন দেওয়া-নেওয়া। তাই যদি হয় তবু ওকে আমি নষ্ট করতে চাই?
নষ্ট বলতে ওরা ঠিক ‘কী’ ভাবে। আদৌ কি বিশেষ কিছু ভাবে।
না ভাবলে এই বিশেষ শব্দটি কেন ওদের মনে ধরবে।
একটা মক্কেল আসতে দেখে রুজানা উঠে পড়ল। ‘আমি যাই। তুরাও যা এখন। নায়েধুয়ে খায়েদায়ে নে গে।’
সবাই উঠে পড়ল।
এতদিন আমি ওদের সামনে থেকে দেখেছি। এবার পিছন থেকে দেখার জন্য তাকালাম। এখন আর ওরা আমার চাচাত না? তরুণী, যুবতী...! সবাই নারী?
রুজানা ঘুরে দাঁড়াল, ‘যদ্দূর মনে হচ্ছে, বড় আপা তার বাপ ও হাজবেন্ড দুইয়ের উপরই খুব ক্ষুব্ধ। বাপের উপর খানিক অভিমানীও বটে।’
‘কিন্তু আমার উপর কেন ক্ষুব্ধ হবে?’
‘বড় আপা নিজে যেহেতু কিছু বলছে না—। না বলারও ত কোনো কারণ থাকতে পারে, তাই না?’
‘ঠিক আছে। ভাবা যাক।’
রুজানা চলে যাচ্ছে। পিছন থেকে তাকে কেমন লাগছে?
শিরিনা একটু দূরের চাচাত। আমার চার দাদার তৃতীয়জনের উত্তরসূরি। আমাদের বাড়ির পর পাঁচ-ছয়টা বাড়ি পার হলে ওদেরটা।
এখন সন্ধে।
আমি দেখতে পাচ্ছি কামজ্বর অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন অরেকটু ঝুঁকে বসতে পারি।
শিরিনা তার ঘরে টেবিলে ঢাউস একটা বই খুলে পড়ছে। আমাকে দেখেই হাসি দিল। সে কি আমার অভিসন্ধি বুঝতে পারছে? কিন্তু মুশকিল হয়ে দাঁড়ায় তার দুই ভাতিজি। তারা পাশের ঘরেই থাকে বটে, সময়-অসময় এঘরে এসে পড়ে। তাদের মা-দাদি এই মুহূর্তে রান্নাঘরে আর বাপ সম্ভবত বাজারে আড্ডা দিচ্ছে। খাওয়া আর রাত বারটায় এসে ঘুম দেওয়া ছাড়া বাড়ি থাকে না বললে চলে। হয় কাজ নয় আড্ডা। কিন্তু এই দুই পিচ্চিকে নিয়ে আমি এখন কী করি। পিচ্চি দুইটা দুই ক্লাস আর চার ক্লাসে পড়ে।
‘তুমরা এত ছুটোছুটি কর কেন, হুম? পড়াশোনা নাই?’ বাচ্চাদের শাসন করার জন্য এটা একটা ভালো অজুহাত?
‘এতক্ষণ পড়লাম।’ বড়টা বলল। ছোটটা আমার দিকে চেয়ে চোখ পিটপিট করছে। ভাবছে এই আপদটা কোত্থেকে এল—?
‘কতটুকু পড়লে? কেবল ত সাড়ে সাতটা বাজে। কমপক্ষে নয়টা পর্যন্ত পড়বে, কেমন? এখন যাও। নয়টার আগে আর উঠবা না, ঠিক আছে?’
শিরিনা আমার দিকে চেয়ে হাসছে ত হাসছেই। ‘কী ব্যাপার, তোর কি হাসিরোগ হয়েছে নাকি?’
‘ওদের তাড়ায় দিলেন কেন?’
‘ওদের এখনও নষ্ট হবার সময় হয় নি।’
শিরিনা চোখ বড় করে তাকাল। আমি ওকে নষ্ট করতে এসেছি কিনা তাই বুঝতে চায়?
‘কী পড়িস দেখি?’
দি হানড্রেড আইডিয়াস অব গেরিলা মার্কেটিং। আমার অস্বস্তি শুরু হয়ে গেল। রয়েল অ্যাড ফার্মের প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আসলামের তীব্র ব্যস্ততা এখনও আমার চোখের সামনে ঘূর্ণিঝড়ের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে আর আমি তার মধ্যে পড়ে টালমাটাল। জীববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ৫৬ বছরের এই নির্বাহী সারাদিন মিটিং আর ব্রেন স্টর্ম নিয়ে সময় কাটায়। মাঝে মাঝেই বলে, দেশের ফিশ হ্যাচারি ইন্ডাস্ট্রি নাকি তার কল্যাণেই বেঁচে গেছে আর মানুষ এখন মাছ খেতে পারছে। সে যদি ডোবানালা আর পুকুরগুলো মৎস্যখামারে রূপান্তরের আইডিয়া না দিত তাহলে নাকি আজ আর বাঙালিকে মাছে-ভাতে বাঙালি বলা যেত না। তারপর সে আরো বলে, শুধু আইডিয়া দিলে কি আর কাজ হয়, সেটা বাস্তবায়নের জন্য সে-ই নাকি কৃত্রিম পোনা ও ফিশফুড উৎপাদকদের লাভের মুখ দেখিয়ে দেয়। তার কাছ থেকে আইডিয়া পেয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মার্কেটিং অফিসারদের পাঠিয়ে দেয় সদ্যপ্রতিষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের দপ্তরে দপ্তরে, যেখানে আড্ডা মারতে মারতে নানা রকম ফন্দি আঁটে উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। আর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা গ্রামের মানুষকে... এই যে রূপান্তর, এর পেছনে যে সৃজনশীলতা—!
এ কারণেই গাঁওগেরামের ডোবানালাগুলো সব বিষ্ঠা খাওয়া মাছের খামার হয়ে গেল?
আমি এলাম ওকে নষ্ট করতে আর এখন আমার অস্বস্তি হচ্ছে। আমি ওর দিকে বিরক্ত চোখে তাকালাম। ‘এত পড়লে নষ্ট হবি কবে?’ আমার কণ্ঠেও বিরক্তি। শিরিনা খেয়াল করছে না। বরং হাসি ঠেকানোর জন্য ঠোঁটের সাথে ঠোঁট চেপে ধরল। আশপাশে তাকাল একবার।
কেউ নাই।
আমি আবার বললাম, ‘এখনই?’ আমার মুখে সামান্য বিরক্ত হাসি। মেজাজ ফুরফুরে করার চেষ্টায় আছি।
শিরি চুপ। হাসির দমক কমে যাচ্ছে কিন্তু রেশ যাচ্ছে না। আমার দিকে চোখ এক পলক। তারপর ঢাউস বইটার মার্জিনে বলপয়েন্ট দিয়ে আঁকিবুঁকি শুরু। আমি একটু ঝুঁকে বসলাম। তারপর, ‘নষ্ট হওয়া ত কঠিন কিছু না। হচ্ছিস না কেন?’
এবার সে আমার দিকে বাঁকাচোখে তাকাল। মুখে সেই হাসি হাসি ভাবটা এখনও আছে। আমি ওখানে দুরন্ত হরমোনগুলো উসকে দিলাম আঙুলের মাথা দিয়ে আঁচড় কেটে। সাথে সাথে কাজ হয়। আমি দেখতে পাচ্ছি কামজ্বর অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এখন অরেকটু ঝুঁকে বসতে পারি। মুখের কাছে মুখ এগিয়ে নিতে হলে সেটাই বেটার। তারপর নষ্ট শব্দটার প্রশংসা, যা আগেই মহড়া দিয়ে রেখেছি, ‘মহিমান্বিত পাপ—শব্দদুটি দারুণ না?’
শিরিনা সরাসরি চোখ তুলল।
আমার কোনো সংকোচ নাই। সে কি আমাকে অভিজ্ঞ বহুগামী ভাবছে?
তার কি এতটা ভাবার আক্কেল হয়েছে?
আমি নির্বিকারের মতো আমার ডান হাতের একটা আঙুল আলাদা করে তার গালে ও ঠোঁটে বুলিয়ে দিতেই সারাদেহ কেঁপে উঠল। তারপর বাঁহাতটা এগিয়ে নিলাম তার কাঁধের উপর দিয়ে। আঙুলগুলো আরো গড়িয়ে গড়িয়ে এগিয়ে নিচ্ছি নিচের দিকে। তার বুক মোচড়াচ্ছে আর থেকে থেকে কেঁপে উঠছে।
হঠাৎ একটু পিছিয়ে শক্ত হয়ে বসল। ‘যদি কেউ এসে পড়ে?’ তার ব্যথিত কণ্ঠ ফিসফিস।
‘তাহলে আমরা এখন কী করতে পারি? শুধুই ফিসফিস?’
শিরিনা চোখ তুলল। মাঝে মাঝে চোখ তোলে আর মাঝে মাঝে বইয়ের মার্জিনে আঁকিবুঁকি। ‘এটা নিষিদ্ধ কেন?’ তার গলা কাঁপছে। বলতে চায় তবু আমি এটা চাই এবং এখনই—?
‘আটটা বেজে গেছে।’ বড় পিচ্চিটা দরজায় উঁকি দিচ্ছে, ‘ফুপুআম্মা, এখন একটু টিভি দেখি?’
‘ঠিক আছে।’
‘মনু কন্নে আইলি, বাপ?’
আমি দরজার দিকে তাকালাম। শিরিনার মা। আমি কন্নে আইলাম বলার আগেই বলল, ‘তুমি যে কয়দিন বাড়ি থায়ো, ওরে যদি এটটু দ্যাহায়-শুনোয় দ্যাও—একা একা কীদেকী পড়ে কি না পড়ে।’
‘জি, চাচি।’
এই মহিলাদের আমি একটুও পছন্দ করি না। যেখানে যাই সেখানে এই তরুণী মেয়ের মায়েরা—। আমার সামনে এরা কেন আসে। আমি তাকে দ্রুত তাড়াতে চাই। ‘আপনার রান্না হয়ে গেছে?’
‘না। অহনও এটটু বাকি আছে।’
‘শীগগীর রান্না হলি আইজ আপনার বাড়ি খায়ে যাব।’
মহিলা খুব খুশি হয়। তাকে দ্রুত তাড়াতে পেরে আমিও খুশি। শিরিনা হেসে ফেলল। আমিও হাসলাম।
‘রুজানা আপু আপনাকে ভালোবাসে।’
‘ঠাস করে আবার রুজানা এল কেন? যেখানে যাই সেখানেই রুজানা। রুজানা এ করেছে, রুজানা ও করেছে, রুজানা হেন করেছে, রুজানা তেন করেছে। রুজানা রুজানা রুজানা—মেজাজ খারাপ লাগে।’
শিরিনা আমার চোখের দিকে চেয়ে। আমি সত্যিই বিরক্ত কিনা দেখছে? কিন্তু সে হঠাৎ আঁতকে উঠল কেন।
‘এটা রুজানা আপুর বই।’ মার্জিনে আঁকিবুঁকি। ‘আমাকে মার দেবে।’
‘ফেরত দেওয়ার আগে আমার রুমে থুয়ে আসিস।’
‘গুড আইডিয়া।’ শিরিনা মজা পেয়ে ফুরফুর করে ওঠে।
‘চল।’
‘কুহানে?’
পিঠে হাত ঘষে দিচ্ছি। এবার আমি রুজানাকে চাই। তাকে সহজে পাওয়া যাবে।
উত্তর না দিয়ে আমি বরং তার কোমর ধরে খাড়া করে দিলাম। সেই সাথে দুই হাত পরশ দিতে দিতে উপরের দিকে। পিঠের সাথে বুক মিশিয়ে ছড়ানো চুলের উপর দিয়ে কাঁধে একটা চুমু। কানের পাশ দিয়ে মুখ এগিয়ে গালেও একটা। তারপর হাত ধরে দরজার দিকে। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কানের সাথে মুখ মিশিয়ে ফিসফিস, ‘আমতলায়। আমি আগে। তুই পরে।’
কিন্তু এখানে যে আলো ভরা।
আলো আমাদের শত্রু?
আমি ঢিল ছুড়ে ভেঙে ফেললাম ইলেকট্রিক বাল্বটা। শিরি হেসে উঠতে গিয়ে মুখ চেপে ধরল।
এখানে হাসি নিষিদ্ধ?
আমি তার কানের সাথে মুখ মেশালাম, ‘হিমেল তোকে পছন্দ করে।’
‘সে আমাকে বিয়ে করতে চায়।’
‘নষ্ট করতে চায় না?’
‘আগে বিয়ে করতে চায়।’
‘তুই চাস না?’
‘রুজানা আপু ধমকে দেছে। বলেছে আগে বিএ। তারপরে বিয়ে।’
‘কথায় কথায় রুজানা রুজানা করবি না ত। রাগ লাগে।’
‘উনি আপনাকে ভালোবাসে।’
‘বাসুক গে।’ আমি এখন এই টপসের নিচে হাত বাড়াব।
‘রুজানা আপুকে করেন নি?’
আমি ওকে কথা বলতে দেনো না বলে দুই ঠোঁট একসাথে মুখে পুরে নিলাম। এটা বেটার না। তাহলে শুধু নিচেরটা। তার প্রশ্বাসে নারীত্বের ঘ্রাণ এত তীব্র! আমার স্নায়ুজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। সে আমাকে তার বুকের সাথে শক্ত করে চেপে ধরল। আমি তার পিঠে হাত ঘষে দিচ্ছি। এবার আমি রুজানাকে চাই। তাকে সহজে পাওয়া যাবে।
শিরিনা ইদানীং একা দেখা হলেই মিটিমিটি হাসে। দুই-তিন দিন না হলেই ফুরফুর করে বলে, ‘কী ব্যাপার, খবর নেই যে—?’
কিন্তু এবার আমি রুজানাকে চাই। সকালে শুধু তাকেই সম্ভব।