১
ও মেয়ে তোর চোখের তারায়
বর্ষা নামের পাখি নাচে
পাখি বড়ই উড়ুউড়ু
কেবল অভিমানে বাঁচে।
২
নীল বৃষ্টির অনাবিল পাখি হলে
রাতের উজানে হলে অফুরান চাঁদ
হও যেন নদী কোনো শ্রাবণের ঢলে
তোমাকে যে ছুঁয়ে দেখবার বড়ো সাধ!
৩
কাশের হাঁসগুলো আকাশে ঘোরে ফেরে
দুপুর বুঝেছিল—বিকেল আসবেই
নদীর উচ্ছ্বাসে পাখিরা ফিরে আসে
বিকেল এসে দেখে—এখানে তুমি নেই।
৪
এখনো বুঝি তোমার মনে জাগে নি সেই পাখি!
পাখিকে বলো, 'ডুমুরডালে জলদি গিয়ে বসো।'
নামতা গুনে ঝরাপাতার হিসেব তুমি কষো
বললে আরও, 'আঁখির বাঁকে নীলাকাশটা রাখি।'
৫
বাগান কি ফুলের প্রতিটি পাতা চেনো
চেনো কি মেঘটাকে গীতল যার আঁখি
যে-মেয়ে ভোরে আসে কুড়াতে ঝরাফুল
আজও কি ওর মনে ওড়ে নি কোনো পাখি?
৬
ফুলতোলা চাদরের ঢেউ-ঢেউ দেহ
মেখে নেয় জোছনার সহিংস স্নেহ।
স্নেহজুড়ে জেগে থাকে সর্ষে ক্ষেতের তারাবাতি
হলুদবরন পাখি, তোমাকেই খুঁজি আতিপাতি!
৭
গহিন বনের গৌরবে জাগে তীব্র শিশির
বাগানের পাখি বনের অতলে বিকেল হারিয়ে এল
শুকতারাটুকু পিছলে পড়েছে কাঁপিয়ে নদীর তীর
আকাশ তো আজ এ-আকাশে নেই। আকাশটা যে কী পেল!
৮
বুকের মধ্যে একখানা ঢেউ পুষি
ঢেউয়ের পাশে একটি বাগান নিরানন্দেই খুশি।
বাগানের স্নেহে হলদে পাখিটা খাসা তার বাসা গড়ে
মনটা আমার কেমন করে যে! মনটা কেমন করে!
৯
ছিলে খুব কাছে। চলে গেলে দূরে
বর্ষা এসেছে। বিলোয় ব্যথার উপঢৌকন
নীড় পড়ে আছে। পাখি গেছে উড়ে
হৃদয়-সেতারে বিষণ্ন স্মৃতি আঁকে আলাপন!
১০
হাওয়া ভাবে—তার মতো নেই কারো অবিরল ডানা অত।
মেঘ বলে, ‘আমি ওড়াই ফানুস বৃষ্টিতে কতশত।’
সব শুনে মাঠ চিন্তিত খুব। ভেবে যায় মুঠোমুঠো—
জানায়, ‘আমারো আছে রাঙা পাখি। নাম তার খড়কুটো।’
১১
পাতার পাখিরা নৈঃশব্দ্যেই থাকে
মর্মরধ্বনি কখনো বাতাসে আঁকে।
রাঙা ধুলিদের বুকের পাথারে টানে
পরিচিত কিছু প্রণয়ের গানেগানে!
১২
পাখিরা গেছিল দত্যির কাছে। দত্যি তো ছিল পুবে
ছায়ার ফসিলে ধ্যানি সুজ্যিটা বারবার যায় ডুবে।
যতবার ডোবে দত্যিটা তাকে টেনেহেঁচড়েই তোলে
মায়ার প্রবালে জোছনা ফুটল। নদীরা দুঃখ ভোলে!
১৩
কিছুটা হেমন্ত পাখিরা লেবুতলা
বিষণ্নতা দিঘি চিঠির খেরো ভাঁজ
তোমার লালটিপ বৃষ্টি অপেক্ষা—
হঠাৎই মনে পড়ে। জোছনাতিথি আজ!
১৪
সেদিনও নদী পাখির কোনো ছদ্মবেশে
পাড়াটা ঘোরে। থমকে থামে। চমকে দেখে উঠোনে এসে—
ও-বাড়ি আজও দুপুরে-ঠাসা জীর্ণ কায়া
তবুও মেঘ ওখানে থাকে। কী ক’রে ছাড়ে বাড়ির মায়া!