পাণ্ডুলিপির কবিতা : মীনগন্ধের তারা

মীনগন্ধের তারা হাসান রোবায়েতের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। '১৮-এর বইমেলায় বইটি প্রকাশ করছে জেব্রাক্রসিং। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রাজীব দত্ত। পরস্পরের পাঠকদের জন্য পাণ্ডুলিপি থেকে তুলে আনা হলো কয়েকটি কবিতা...


মিডলক্লাস

ছাতা তুমি হারিয়ে ফেলো, শুধু বৃষ্টি নামে বাইরে অকস্মাৎ— হিপোক্রিসি ভরা এ মৌসুমে পশুর লোমে গড়িয়ে পড়ে রাত—

যাচ্ছে ভেসে রুবাইয়্যাতের শের মিডল ক্লাসের অহেতু সব ছবি এইখানে মেঘ নামছে মুহুর্মুহু তোমার প্রিয় হারানো মসনভি—

এখন তুমি সহজ পাতা, ভেজো এখন তুমি প্রসঙ্গত লীন লোকাল বাসের জানলা ভাঙা সিটে ঝাপটা আসে প্রতিধ্বনিহীন—


গিল্টি করা ঢেউ

১. অর্ধেক আত্মহত্যার পাশে বেড়ে উঠি প্রতিদিন—সমস্ত শেকড় তার চলে গেছে মাঠহীন : নিস্তব্ধ ছায়ার দিকে

ভাঙা দেয়ালের সাথে জাম গাছটার বেড়ে ওঠা দেখে মনে হয়, যে ফুলের ঐশ্বর্য নেই সে কি শুধুই হাওয়া দেয় অহেতুক! অথবা তাদের ঝরে পড়ার ধরন সামান্য এলোমেলো!

চারদিকে গিল্টি করা ঢেউ—যেন সহস্রগভীর এক শরৎ বয়ে যায় ছাঁচের ভেতর—তারাদের আলোগুলো বন্দি কোনো মথের চিৎকার

পরাপাঠকের কথা ভাবি—যখন বাবলা ফুলের নিচে জড়ো হয় দুপুরের রোদ

একটি জ্বরের পাশে কত আর গোনা যায় হুইসিল!

২. এই যে থাকা অথবা না থাকা স্তব্ধতার মাঝে কোনো ঠাট্টাই নেই যেন অনেক উড্ডীন ঘিরে কত রণঝিলমিল পাতা বরং দুদিক থেকে একান্ত নদীপাড় গর্ভ-কঠিন এই ধানখেত এসব ঠেলেঠুলে যাওয়া যাবে জ্যোতিষীর কাছে তখনো হাত ভীষণ তামাশায় প্রিয়

প্রবণতা এইটুকু, আমাকেও দাঁড়াতে হয় ফল টিপে টিপে মানুষ যেদিকে গেছে বন্ধনের চেয়ে ফাঁকা


মূকাভিনয়ের পাতা

১. একদিন যুগপৎ ঈর্ষা ও হীনম্মন্যতা নিয়ে আমিও গোপন করি কূট সব প্রতারণা-বীজ—কোথায় খুঁজে পাওয়া যাবে পুরনো সন্ধ্যার ট্রেন—লেখার অহংটুকু দেখা যাবে অন্যের ট্রাপিজে হেঁটে অনেক ভরছে হাততালি—

এসব খুঁজে খুঁজে যখন নিজের ঋতুতে ফিরি, দেখি সুদূর পোলের কাছে কোনো এক নীল তিমির গ্লোব থেকে চুরি করা পাতা এখনো প্রকাণ্ড শাদা যেন আমারই গানের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে সাবলীল পেরেক—

২. যে বইগুলো কোনো দিন খুলে দেখি নি চলে গেলে খুব ছায়া দেয় সেসব—তবু অন্য কোথাও, কোনো এক কাঠ থেকে ভেসে আসে অনুপস্থিতির ধ্বনি

তোমার ফিরে আসা মেহেদি ফুলের পাশে শাদা—পাপড়িতে লেগে আছে সৌম্যতার সৌরভ

৩. দরজার প্রতি কোনো বিশ্বাস ছিল না কাঠের—স্নান থেকে ফেরার পর ছায়াগুলো ভাগ করে সাজিয়ে রাখত ফল—যতখানি ছড়িয়ে যাচ্ছ তুমি পেঁপে ফুল ঝরার ঘ্রাণে—দুটো ঘর, মাঝখানে আমাদের পারাপার গ্রীবায় জমিয়ে রাখে শীত—দুপুর : একদা সাইকেল—বেল থেকে ধ্বনি খসে গেলে যাবতীয় অক্ষর ফেলে যায় চাকা—শিশুদের মুখ থেকে একেকটি টেরাকোটা দৌড়ে যাচ্ছে উলে আর যেকোনো আবর্তন থেকে পালিয়ে যাচ্ছে মুখ, মূকাভিনয়ের পাতা—

৪. প্রতিটি নিষ্ফল পাখি উপযুক্ত অন্ধকারেই ডিম দেয় আর চিরকাল মিমিক করে চাঁদ


চাকা

আমার শরীর বেয়ে সন্ধ্যা নামছে প্রতিদিন—

দূরের আড়তে কয়েকটি মাছ ভেবে যাচ্ছে জলজীবনের কথা


সংকেত

চিরকাল বসন্তের বাইরেও কিছু ফুল ফোটে

হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী...বিস্তারিত