পাঁচটি সনেট

'মুখ' শিরোনামে এই দশমাত্রিক, ষোড়শপদী কবিতাগুলোর 'সনেট' অভিধা কবিকৃত নয়, পরস্পরের সম্বোধন...


মুখ


১ এখনো শোনো নি কিছু, তবু তোমাকেই বলি কানে কানে আমার সারস ছিল ফাঁকা উড়ে গেছে হাওয়ার সন্ধানে— দেখা হলে বলো তাকে বাঁশি এই পথ কতদূর শেষ! নিজের সামনে সে নিজেই অচেনা শরীর-অভিবেশ। অশোক গাছের নিচে বাঁধা আমার ঘোড়ার কল্পনা আজো তারা বহুদূরগামী ক্ষমাহীন বশীভূত ফণা। আমি কি আমিই নাকি পর! ভায়োলিনে লুকানো ডাহুক— অনর্থের প্রিয় কোনো সুরে বেজে যায় আমাদের মুখ—  

তোমার দিকেই শুধু গান বেজে যাই বিষটুকু চিরে আমার অশ্বেরা বহুদূর কোনো এক ঝরা নদীতীরে। ছাতিম গাছের চিরছায়া, এই মুখ শুধু পরিধান— ঊর্ধ্বের সে জন ভাবি আজ মরণ-দেহের অধিস্নান! এই ঘুম রথতলা শেষে অদূরে দাঁড়ানো দশমাস কে আর পেরোতে পারে নিজ বায়ুভার, ধূলির বিনাশ। তবু আমি ঝাপটানো ডানা উড়ি, মাতৃগর্ভপরিখায়— সারাদিন স্নায়ু ভরা রোদে শিমুলের তুলা ভেসে যায়—  

তোমার মুখের থেকে বেশি মহাকাল নাই পৃথিবীতে— কত পথ যাওয়া যাবে আর আপেল ফুলের বিপরীতে! কী যেন বলার ছিল ভাবি ফিরে এসে আমি পুনরায় ভাষার গভীরে দেখি ছায়া সারাদিন ধুলা ঝেড়ে যায়— আমার চারণভূমিদেহ একা কোন নিরালোকে ধীর মাঝখানে ঘুঘুডাকা নদী ডানাহীন বোবা গ্র্যাভিটির। ক্রমশ-বন্ধন পরাজয় তবু এই নিভৃতির নিচে বহমান আমি ক্ষণকাল জননীর ভাঙা দহলিজে—  

তুমি কি তোমার মতো কেউ গমের বাগান ঘেঁষা গানে! এই দেহ ভাঙা কেয়াগাছ চাঁদ কাঁপে হরিণীর স্নানে। ব্যাধির গোপন সুরে তাই বীজরূপে আমি উভচর— উড়ে গেছি লঘু শিস দিয়ে ডোরাকাটা বাতাসের পর। ধুলা, তুমি সারাদিন দূত বসন্তে নির্জন কোনো ক্ষার— এই জানু ভিখারির পথে পড়ে আছে এঁটো হাহাকার। সারস কাঠের পাখি আজ চলে যায় দেহগ্রাম ভুলে; আমার সন্তাপ সহিসের পিতাহীন দূর নদীকূলে—  

কিভাবে তোমার কথা বলি সারাদিন ধু ধু এই ব্রিজে উড়ে যায় একা বাঁশপাতা ক্রমাগত ফাগুনের নিচে। সেলাই কলের মতো বাঁকা এই রাত শুয়ে আছে দূরে আমি তার ধ্বনিমহাকাল ভেসে যাই হাওয়াভ্রূণসুরে। কোনোদিন যদি এই পথে শেষতম কথাগুলি তার ফিরে আসে নীরবতা হয়ে— সেই মুখ শুধু কি পিতার! চিরকাল উড়ি ভুল ডানা কে যেন বিপুল ঐ পারে! যেতে চাই তার দিকে আজ দূর তবু আরো দূর বাড়ে!
হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী...বিস্তারিত