হোম
কবিতা
ঘূর্ণ্যমান দেরাজের গান : হাসান রোবায়েত
ঘূর্ণ্যমান দেরাজের গান : হাসান রোবায়েত
(ফারাহ সাঈদকে)
.
গভীর অহেতু বলে যে সূর্য শুনেছে চক্ষুপাত
ঐ দিকে বাষ্পকুট রণগ্রীষ্মের ভূমিকায়
তোমাদের শিশুগাছ আড়াল হয়েছে বহুবার।
অথচ হৃদয়, যৌথ মহড়া বৈ তো কিছু নয় !
অ্যাসিডের ভয় থেকে, পিলু-বারোয়ার সুর থেকে
বহুকাল নড়ে ওঠা বিপুল আদল! সেইখানে
এখনো বাতাসে বয়ে যায় সেবিকার ব্যথা। ভাবি,
ঘ্রাণ কি জবার আয়ু ! প্রিয়তর পরিহাস কোনো !
যামিনী লতিয়ে ওঠা মলিন বিভাব নেমে গেছে
অধোগমনের দিকে—
...............................আহা জ্বর চিরকাল সেই
অসম্পূর্ণ প্রেমিকার ব্যবহৃত মুদ্রাদোষ! যেন
মাংসলোভী পরার্থের ফল, ক্যালেন্ডার উল্টালেই
চলে যাবে শীত ছেড়ে রঙ করা জাহাজের দিকে !
জানালা খোলার পরও শিশুরা মুখস্থ করে ভোর—
শেষবার ঢেউ এলো বলে ঈষৎ সে জামরুল
ঝুলে থাকে অবিকল— সর্বস্বই অপচয় তার।
ভূমিকা অসম হলে বক্রতাও একরূপ ভাষা—
অথচ প্রার্থনা কুন-ফায়াকুন হয়ে ডোবে নীল,
ডোবে সমুদ্রের স্নায়ুমেঘ সিন্ধুবোরাকের তিলে।
কতনা কার্পাসধুলো ভুট্টা-পাহাড়ের দিকে খাঁ খাঁ—
একদা খিলান রেখে যাই লুব্ধ আশুরার ফাঁকে।
কেননা ইমামবাড়া ঘূর্ণ্যমান দেরাজের গান—
আয়ুর বদলে আজ নেমে আসে মাহুতের স্মৃতি।
সোনালি তামাশা-ঘেরা ক্রিটিকস্বভাব।
.................................................যে পাথর
শূন্যতার চেয়ে ভারি আমি তার রূপকথা জেনে
কঠিন করিনি মানে; কিছুটা আরোগ্য ছিল সুর।
সেই পরা-অপরার ভেক্টর—নিজস্ব ঘাসে যার
লিভারের বন এসে টুকে নেয় পাতার মর্মর—
যেভাবে হিংসার পাশে ফুল এক নীরব দেয়াল!
বায়ুভুক তারাদের সাথে তুমি কথা বলো রোজ
কফিনের কাঠ থেকে খসে পড়ে ছোট ছোট শীত।
এই যে তাসের মুদ্রা, সে কেমন হেলে যায় ধীরে!
যেকোন স্বপ্নেই ছোট হয় দোতলার কিছু ঘর,
হয়তো কাঠের সবটুকু শুধু দরজার নয় !
এসব প্রশ্নের কাছে কেটে গেল নাবিকের গান।
মাছ কাটা হলে গর্ভে শিস দেয় একঝাঁক খুনি—
কখনো, হ্যাঙার সরানোর পাশে মুখের আদল।
যে বাতাস দেয়ালের অন্যভাগে আকস্মিক, আমি
ছুড়েছি ব্যাপক ঢিল, তার মৃদু করবীর নিচে—
ফোটা শেষ হলে বোঝা যায়, নিদ্রাভঙ্গের প্রস্তুতি।
কত দূর উপচাঁদ ভাসে সনাতন তারপিনে।
অখণ্ড শস্যের দিনে যদি ফিরে যাও মনীষায়।
রক্তদ্রোণ, কতখানি ফাঁক থাকে আত্মা ও আরশে !
আদতে সমস্ত রুহ অতিকায় নীরবতা এক—
পথিকভূমির কাছে দুপুরের চিরায়ত খল!
বাতাস যেদিকে গেছে পেয়ারা ফুলের চেয়ে একা।
কে জানে প্রকৃত অবসর নেই তরঙ্গে কোথাও—
তখন আকাশ এক শ্যালোমেশিনের স্মৃতি। যদি
বিদূষক আসে, দিয়ো বারবার ঘনিষ্ঠ সংকেত।
পলাতক ঘোড়ারাও কিছু শ্বাস গোপন করেছে
সন্ধ্যায়। সমাপ্তি এইভাবে বসন্তের অধিকার—
দু একটা অশ্লীলতা বেয়ে যেন পলাশ ফুটছে
যেকোনো ইঙ্গিত দেখো তবু বেজে যায় অবিকল।
নিজের বলতে কোনো বেসমেন্ট নেই হাতিদের
যতটা সমুদ্র হয় নুন অন্ধ রিফুজির কাছে।
বোঁটার অসুখ ভুলে এই কীটজীবনের কথা
পড়ে থাক পরাগের পাশে। যে ভবিতব্যের দেশে
অজস্র বাবলা ফুল পাতার নৈঃশব্দ্য ঘিরে একা।
বলো অব্যাহত, কত দূর চির-ওপারের ছাদ!
চলে গেলে শুধু পাল্টে যায় একই জুতোর ঠিকানা—
পুরনো টেবিল ক্লথে বহুদিন আজন্ম সন্তাপ
ছেঁড়া সুতা কতবার নকল করেছে মনোযোগ—
শহরের ওপাশে যে রঙ তার প্রতিক্রিয়া হলো
কিছুতে মিমিক করবে না হাওয়া। ছাতিম, কেবল
একটি ফুলের গাছ; আপামর মাধবী খুনের।
কেন যে মৎস্যের দিকে নিয়ে যায় আসমুদ্র শিস !
ঘোড়ার কেশর থেকে দুয়েকটি মুকুল ছিঁড়লে
উড়ে যায় পারাবত—দ্বিধাহীন খলপ্রকৃতির।
যেসব ময়ূর খুব অবহেলা করে পেখমের
সর্বত্র মৈথুন ঘিরে তারও বাকি ছিলো চক্রবাল।
একটি পাখির মধ্যে তৈরি হয় আরেক পাখির
ভাষা—যেন বুদবুদ করে ব্রিজ। যেকোনো সাদায়
মেয়েরা অব্যর্থ নার্স—
..............................শেষাংশের ভূমিকা যেমন
মৌল আকাশের নিচে শিশুদের অবতল ধাঁধা।
গাছ ও পথের মাঝে কোথাও শূন্যের খেলা নেই
যতটুকু ফাঁকা তার সবকিছু রপ্ত করে হাওয়া।
একান্ত আয়ুর পাশে উড়ে যায় একজোড়া ঘুঘু।
বিনীত অশ্বের মাঠ, আজ এই বাগানের কাছে
অন্ধের ডিলেমা ছিল সারাদিন পৃথ্বীরাজ ফুল।
উড়ন্ত দৃশ্যের দিকে যে হ্রেষা, তারাও সুলতান—
কীভাবে সে বনতল ভ্রান্ত এক তারার উন্মাদ—
মরিচাবিহীন রোদে কত ফুল ফুটে গেছে পাড়া।
হা-ঘরে পশম হয়ে বাঘিনীর জুল জুল চোখ
কথা বলে স্নায়ুতর মেঘে; না বাগান কৌতুহলে
থেমে যায় শোরগোল। কোনো এক সাদামাটা রেখা,
এ দুপুর মনে হয় দুধ বেয়ে ভেসে ওঠা সর।
পাতার বিভূতি ছেড়ে একদিন মুকুলের স্বাদ
পড়ে থাকে রসাতল; যেন ধ্যানবিমানের ছায়া
শ্বাসের ওজন ঘিরে হে নিরর্থ নয়নাভিরাম
নিখিল পিস্টনে ভাসে অকস্মাৎ কেন্দ্রাতিগ রুহ—
আজানুলম্বিত সেই ঘোড়াদের ডানা কথা বলে
পত্রালাপে। সেই সব আফিমের ছায়া, যার বেধ
উড়ন্ত হ্রেষার দিকে লীন— দুটো হাঁস হেঁটে গেলে
আমরা ভেবেছি শুধু কোথাও সমুদ্র নেই আর।
মানুষ যতটা দূরে যায় সে তার ছায়ার চেয়ে
বেশি নয়। ভাগ্যহীন জলাশয়ে অতিরিক্ত ঢেউ
যেভাবে হারায় ছাঁচ—
...............................তবু এই বসন্তমর্মর—
যে হাওয়াচিত্রের দেশ পেয়েছি শ্রাবণী সন্ধ্যাতীরে।
অজস্র ময়ূর ছিল সামান্য ফুলের দ্বিরালাপ—
কখনো জিজ্ঞেস করো তাকে নৈশপ্রহরীর গানে
‘তুমিও কি সাইকেল-চেপে এলে এইবেলা ?’ দেখি
গ্যারেজের পাশে দিব্যি হেঁটে যায় ঘন রাজহাঁস
ট্রমার ভেতরে তার ক্ষুব্ধ ত্বক। ইঙ্গিত এমনই
কেবল সুপুষ্ট হোক দুধ। চিরছদ্মবেশ খুলে
কে আর অধিক চাল দেয় ঘোড়া, যাতে বোঝা যায়
মানুষ মুখের চেয়ে তার ঢঙ বেশি ভালোবাসে।
হাসান রোবায়েত
জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী...
বিস্তারিত
জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী আজিজুল হক কলেজ; বগুড়া। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রকাশিত বই — ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [কবিতা; চৈতন্য, ২০১৬ ঘুমন্ত মার্কারি ফুলে [ভারতীয় সংস্করণ, বৈভাষিক, ২০১৮ মীনগন্ধের তারা [কবিতা; জেব্রাক্রসিং, ২০১৮ আনোখা নদী [কবিতা; তবুও প্রয়াস, কলকাতা, ২০১৮ এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে [কবিতা; ঢাকাপ্রকাশ, ২০১৮ মাধুডাঙাতীরে [কবিতা; ঐতিহ্য, ২০২০ ই-মেইল : hrobayet2676@gmail.com (স্বল্প)