তার চেয়ে বলো

তার চেয়ে বলো— এই যে পুকুর ছায়ার মধ্য দিন পাতা বুঁটে নিয়ে চলে গেছে কারা শীতভরা মাঠে আগুন-ফোয়ারা নাড়ার মাদলে বাজছে শিশির বিকালের ছায়া, পাখির শরীর আধভেজা দেহে কণ্ঠির ফুল গরুদের ঘরে জ্বলতেছে ধুনা মশার লার্ভা দিঘিটির কূলে— একদিন সব শূন্য পরিখা বিস্কুট ফ্যাক্টিরি থেকে ঘ্রাণ আসবে আগের মতই একাকী বৃষ্টিতে ভেজা সুদূর গন্ধে থাকবে না মায়া কোনো যোগাযোগ মানুষেরা হেঁটে যাবে পল্লিতে লোল জীবনের কৃতার্থ ঘাম কিন্তু কেউই ফিরবে না আর— তার চেয়ে বলো— অনেক দূরের কোনো এক ঘরে নিভু হারিকেন মুখস্থ সুরে ছোট বয়সের হাফেজ মেয়েটা পড়তেছে সুরা আল আনআম পেশ ইমামের সেই মেয়েটাও বৃষ্টিতে একা ভিজিয়ে ওড়না কারো পাশে হেঁটে যাবে একদিন একই কাদা একই ভাঙা রাস্তায় পোড়া মবিলের সিট ভাঙা বাসে মলের মধ্যে ডুবো লেগুনায়— রাঙতার ঘুঘু নিধুয়া পলাশ গলকম্বলে ধূসর ঘন্টা সব নিভে যাবে লোল পশ্চিমে— এত এত ধান পচে যাবে সুরে কড়ুয়ের ফুল সারা দিগন্তে লোল জীবনের কৃতার্থ ঘাম কিন্তু কেউই ফিরবে না আর— তার চেয়ে বলো— কবে ডুবে গেছে আমাদের কৃষি মায়ের চুলের ঝিম সৌরভ অ্যাসিডে আমার দ্রবীভূত রোদ এখানে প্রচুর জলপাই ফুল শুকনা পাতাতে জুতার আওয়াজ বিস্কুট ফ্যাক্টিরি প্রতিদিন দূরে সরে যায় ঘ্রাণ নিয়ে তার কিছু থাকবে না, কেবল ফুলের অন্ধ নিমেষে ডুবে যাবে দিন লোহার ভেতরে ঝরছে বৃষ্টি জুতার নিচের খসখস শুধু থেকে যাবে চোখে, খাঁ খাঁ বিস্বাদ জুতার হাকাও খসখস শুধু থেকে যাবে চোখে, খাঁ খাঁ বিস্বাদ
হাসান রোবায়েত

হাসান রোবায়েত

জন্ম ১৯ আগস্ট, ১৯৮৯; বগুড়া। শিক্ষা : পুলিশ লাইন্স হাইস্কুল, বগুড়া। সরকারী...বিস্তারিত