পলিয়ার ওয়াহিদ; জন্ম : ২৬ ফাল্গুন ১৩৯১, মনোহরনগর কেশবপুর, যশোর
স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে কোনটি আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ? এ দুয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি?
স্বকীয়তা আর স্বতঃস্ফূর্ততার মধ্যে একটা পার্থক্য তো আছেই। কারণ আমি মনে করি পৃথিবীতে সব শব্দই আলাদা আলাদা অর্থ প্রকাশ করে। স্বকীয়তা হচ্ছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। আর স্বতঃস্ফূর্ততা হচ্ছে স্বয়ং প্রকাশিত। নিজে নিজেই প্রকাশিত হয় যেটা। তাহলে মোটাদাগে দাঁড়ায় নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে নিজে নিজেই প্রকাশিত একটা টোটাল কনসেপ্ট। আমার কাছে দুটো ব্যাপারই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
। যে ব্যক্তি খোঁড়া তিনিও একটা ছন্দে হাঁটেন। আবার যে বোবা সেও একটা বোবা-ছন্দে কথা বলে ।
কবিতার কথা উঠলেই দুটো প্রসঙ্গ চলে আসে—ছন্দ এবং দশক। দুটো বিষয় নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ?
আগে কবিতা, তারপর ছন্দ। আর অছন্দময় এই সময়ে একটা ছন্দ তো থাকেই। যে ব্যক্তি খোঁড়া তিনিও একটা ছন্দে হাঁটেন। আবার যে বোবা সেও একটা বোবা-ছন্দে কথা বলে। হাত নাড়ায়। সবখানেই ছন্দ। তবে ছন্দ কবিতার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ—তা মনে করি না কিন্তু ছন্দহীনতাও কবির মুর্খতা। ছন্দ মূলত তার নিজস্ব ভঙ্গিমা আর উচ্চারণ। সবকিছুতে একটা না একটা ছন্দ লেগেই আছে। আর দশক বিষয়টা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।
নিজের পাঠকের জন্য আপনার পছন্দের কিছু বইয়ের নাম বলুন। পছন্দের তালিকায় তো অনেক বই। তবু যেগুলোর গন্ধ লেগে আছে ঠোঁটে সেগুলো হচ্ছে : আল মাহমুদের কবিতাসমগ্র, চিনুয়া আচেবের উপন্যাসসমগ্র, অসকার ওয়াইল্ড-এর সমালোচনা, পাওলো কোয়েলহোর আলকেমিস্ট, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুইখণ্ড ভ্রমণ, অশোক সৈয়দের (আবদুল মান্নান সৈয়দ) জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ, মজনু শাহ'র জেব্রামাস্টার, আপন মাহমুদের সকালের দাঁড়ি কমা-সহ আরো অনেক অনেক অনেক গ্রন্থ।
