প্রশ্ন করা সহজ নয় তো

রবীন্দ্র-বয়ানে পাই, ‘এমন দিনে তারে বলা যায়/ এমন ঘনঘোর বরিষায়।’ সেই বয়ানের বিনির্মাণ করেই কি হাসান রোবায়েত রচনা করেন তার নবীন কাব্যগ্রন্থ এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে? উত্তরটা জরুরি নয়। উত্তরাধুনিক কালের সাহিত্যে পুরনোকে ভেঙে ফেলা, কখনোবা সরাসরি পুরনোকে আত্তীকরণ করা এবং সবচেয়ে বেশি করে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া বড় দরকারি। সেই বিবেচনায় হাসান রোবায়েতের এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে কাব্যগ্রন্থটি আলোচনার দাবি রাখে।


পাঠক হিসাবে আমাকে আনন্দ দিয়েছে রোবায়েতের শব্দ-ব্যবহার। 


আলোচনার শুরুটা বরং প্রচ্ছদের সাথে লাগোয়া ফ্ল্যাপের কবিতা দিয়েই করা যাক—

ফ্যাসিবাদের দিনরাত্রি কোমর তোলে সাপ দিনাজপুরে লেবুর ঘ্রাণে অংশত ছয়লাব

দেখার কিছু ছিলই না তো গুজব ছিল ঘা রক্তঘুমে জিভ দেখাল মুসোলিনের মা—

আঠারো কি সাল-ই শুধু হিংসা ঝরা বন সারা হাওয়ায় উড়ছে ধু-ধু অজস্র অ্যাপ্রোন

* যখন আমার চোখের পাশে বাড়ছে ক্ষত ফুল তখনো ফুটছে মাদারচোদের মতো— [আঠারো সাল

‘আঠারো সাল’ শিরোনামের এই পুরো কবিতাটিই নানা প্রশ্ন জাগায়। উত্তর অবশ্য প্রশ্নের মতো একরৈখিক নয়। এটুকু ধারণা করা যায়, বইটি ২০১৮ সালে প্রকাশিত। কাজেই এই কবিতা ২০১৮ সালের কথা বলছে। কিন্তু কোন ফ্যাসিবাদের কথা বলছে? দিনাজপুরে লেবুর ঘ্রাণ কেন? ‘গুজবের ঘা’ অবশ্য বিগত বছরটায় ভালো ছড়াতে দেখেছি বলে মনে পড়ে। কিন্তু ‘মুসোলিনের মা’ কে? এত প্রশ্ন মনের মধ্যে নিয়ে অন্ধ পাঠক আমি যখন ব্যতিব্যস্ত তখন ঠাস করে কানে এসে বাড়ি মারে ‘মাদারচোদের মতো’ ফুল ফোটার কথা। সুভাষ মুখোপাধ্যায় এক সময় জানিয়ে দিয়েছিলেন ‘প্রিয় ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য’। আর হাসান রোবায়েত রীতিমতো ফুল ফোটাকে মাদারচোদপনা বলে মনে করছেন এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে। বিশুদ্ধ কলাকৈবল্যবাদীরা হয়তো এই ‘মাদারচোদ’ শুনে একটু দূরে সরে বসবেন, নাক সিঁটকাবেন। কিন্তু আমি বলব, বসুন, আরেকটু শুনুন, ছুঁৎমার্গ ছাড়ুন, রোবায়েতের শব্দ ব্যবহারের বৈচিত্র্য আপনাকে খুব টানবে। একটু খেয়াল করুন, এই আঠারো সাল কবিতাটিতেই ‘সয়লাব’, ‘রক্তঘুম’, ‘অজস্র অ্যাপ্রোন’ এবং ‘মাদারচোদ’-এর মতো শব্দগুলো কেমন কোলাজ তৈরি করেছে। বলে রাখি, পাঠক হিসাবে আমাকে আনন্দ দিয়েছে রোবায়েতের শব্দ-ব্যবহার। অকাতরে আরবি, ফার্সি, উর্দু, হিন্দি, ইংরেজি, সংস্কৃত শব্দগুলোকে নিয়ে স্বাধীনভাবে খেলেছেন কবি হাসান রোবায়েত। শব্দের স্বাধীনতাই আমার বিবেচনায় কবির খেলার মাঠ কিংবা আঁকার ক্যানভাস। আমার বারবার রোবায়েতের কবিতা পড়তে গিয়ে মহান চিত্রকর অঁরি মাতিসের বিখ্যাত ‘কাটআউট’ ছবিগুলোর কথা মনে পড়েছে। লাল, সবুজ, হলুদ, নীলের বর্ণাঢ্য কোলাজ চিত্রকর্মগুলো তিনি রঙিন কাগজ দিয়ে করতেন। রোবায়েত একই কাজ করেছেন শব্দ দিয়ে। খুবই ইচ্ছা করছে এই সুযোগে মাতিসের দুটো কোলাজ আপনাদের দেখিয়ে দিতে।

60879862_815297952190169_9145337145420939264_n71840208_413901869280844_2135078996470136832_n

শব্দ ব্যবহারে রোবায়েত এতটাই মুক্তবাদী যে সে বলে বসে—

‘ভাষাবিজ্ঞানের ছাত্র, এসো ধইঞ্চা কুড়াতে যাই অবশ্য, সেখানেও পেয়ে যাবে তুমি পাণিনি, পতঞ্জলি আমাকে বলিয়ো, ওই সব আমূল বিশৃঙ্খলাবাদী কীভাবে ছিঁড়ছে বাংলা ব্যাকরণ! পাছে লোকে কিছু বলে, সেসব তোয়াক্কা না করে পাপড়ি-পরম্পরায় সাজিয়েছিলে অ্যাবসার্ডরাশি—ওইখানে নাই কি কোনো ভাষাতাত্ত্বিক অথবা ভাষার ময়ূর।’ [ভাষাবিজ্ঞান


কবিতায় রোবায়েত ফ্যাসিবাদ-বিরোধী, প্রেমিক। লোরকার মতোই সে বিদ্রোহী ও প্রেমিক।


আমি ইচ্ছা করে, আপনাদের নজরে আনার জন্যে কিছু শব্দকে বোল্ড করে দিলাম। শব্দ ব্যবহারের বিস্ময়কর দক্ষতা রয়েছে হাসান রোবায়েতের। কখনো সে অতি মসৃণ শব্দের সঙ্গে অতি কর্কশ শব্দের পরিণয় ঘটিয়ে ফেলে, কখনো সে একেবারে পরিশীলিত শব্দের সঙ্গে ভীষণ আপত্তিকর শব্দও বসিয়ে দেয়। বসিয়ে দেয় বলার চেয়ে বলা যায় শব্দ নিয়ে খেলে সে। একজন দক্ষ জাগলার যেমন চার-হাতপায়ে যা খুশি নিয়ে খেলতে পারে শব্দের ক্ষেত্রে রোবায়েতের সেই শৈল্পিক দক্ষতা আছে। এই সুযোগে একজন জাগলারের ছবিও দেখাই।

72487060_2570508409674202_1269086222341373952_nএই জাগলিং করার ক্ষমতা শুধু শব্দ-ব্যবহারে নয়, রয়েছে তার চিত্রকল্প, উপমা, প্রতীক ইত্যকার ব্যবহারেও। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত কবিতাগ্রন্থের শিরোনাম মনে পড়ে ‘কোথাকার তরবারি কোথায় রেখেছো’। হাসান রোবায়েতও কোথাকার কোন শব্দ, কোন চিত্রকল্প, কোন ছবি যে কোথায় বসিয়ে দেয়, মাতিসের মতো কাটআউট কোলাজ ক'রে তা সত্যিই বিস্ময়কর। এলোপাথারি কিছু উদাহরণ দেই—‘ফ্যাসিস্ট সন্ধ্যায়’, ‘ফ্যাসিস্টের ছিনালিতে’, ‘গমের বাতাস’ ‘প্যানোরামা-খুনে’, ‘সমুদ্রদণ্ডিত পায়ে’, ‘বহুকৌণিক সুইসাইডের ভেতর’, ‘এরা দৃশ্যভিলেন’, ‘আত্মজীবনী ভরা সন্ধ্যায়’, ‘চোখের বুলবুলি ওড়ে’, ‘হাওয়ালেখা’, ‘সময়ের যোনিমুখ’, ‘আলো যোনিমুখ’, ‘সময়ের মেলানিন’, ‘গোধূলির নাইলেন’, ‘ময়লা রবিবার’, ‘বেগানা চাঁদ’ ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।

ইচ্ছে করেই উদ্ধৃতির সঙ্গে কবিতার নাম উল্লেখ করলাম না, তাতে করে বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে যাবে। বলা দরকার, রোবায়েতের এই বইটি কঞ্চির মতোই। মাত্র ৪০ পৃষ্ঠার এই বইতে ১৮টি কবিতা আছে। অবশ্য ফ্ল্যাপে একটি কবিতা, উৎসর্গ পত্রে ‘রু, তোমাকে’ একটি কবিতা এবং এক লাইনের ‘বিভাব কবিতা’—আঙুলে গুনলে একুনে একুশটি কবিতা আছে ছোট এই বইয়ে। কিন্তু পৃষ্ঠাসংখ্যা দিয়ে তো আর বইয়ের মাপ মাপা যায় না, যেমন মাপা যায় না বইয়ের দাম দিয়েও। অতি অল্পও কখনও বৃহৎ হয়। এই একুশটি কবিতার এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে কাব্যক্ষুধা বাড়ে। কিছুটা অভিমানও হয়ও কেন আরেকটু বড় হলো না বইখানি। আকার নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে বলতে চাই এই বইতে এক লাইনের দুটো কবিতা আছে। সে দুটো কবিতাই অতি উত্তম। আসুন একসাথে পড়ি—

‘ফুলেরা ফুটবে ভেবে রেওয়াজ করছে বাগান’ [বিভাব কবিতা ‘মেয়েদের বিয়ে হলে পাড়ায় ওই নামে আর কেউ থাকে না’—[যোগাযোগ

অণু এই দুই কবিতায় রোবায়েত ফ্যাসিবাদ-বিরোধী, প্রেমিক। লোরকার মতোই সে বিদ্রোহী ও প্রেমিক। যে সময় ‘মাদারচোদের মতো’ ফুল তখনও ফুটছে, সেই সময়েই আবার ফুলেদের ফুটে ওঠার জন্যে বাগান সাধনা করছে আর সেই সময়েই বিয়ে আর নামহীনতায় পাড়া শূন্য হয়ে উঠছে। ‘মেয়ে’ এবং ‘পাড়া’ শব্দ দুটোও যেন কেমন বিদ্রোহ আর প্রেমের মাঝখানে গোপন কোলাহল করে। ‘রুম্মানা জান্নাত’ কবিতাতেও প্রেম ছাপিয়ে অন্য কোনো আলোড়ন জেগে ওঠে। এই কবিতা যুগল আর যাই হোক ফ্যাসিবাদের ঘোরতর কালে নিখাদ প্রেমময় আর থাকে না শেষতক—

‘বাড়ির পাশেই অন্ধ লেবুর গাছ পালিয়ে গেল বৃষ্টিছাটের পর—’ [রুম্মানা

‘রাংতা ছাওয়া অন্য কোনো মাঠে এখন তুমি অনেক প্রিয়তর’ [রুম্মানা

‘ফলের দিকেই তাকিয়ে পাকে পথ’[জান্নাত

‘মৌমাছি কি জানত আগে থেকেই ফুলের বোঁটায় ফুটছে চন্দ্রবোড়া’ [জান্নাত

অন্যমাঠে প্রেমিক অন্য কারো প্রিয়তর, ফলের আশায় পথই পেকে যায়, ফুলের বোঁটায় চন্দ্রবোড়া ফোঁটে... এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে এইসবই সম্ভব।

এক লাইনের কবিতা যেমন লিখেছেন তেমনি দীর্ঘকবিতাও লিখেছেন হাসান রোবায়েত। ৪০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের শেষ কবিতা ‘মোহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ ১০ পৃষ্ঠা দৈর্ঘ্যের। দীর্ঘ এই কবিতা আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ভীষণ প্রাসঙ্গিক—

‘এশিয়া বুদ্বুদ অনায়াসে মজ্জা পচে গেছে বাতাসের কণ্ঠে নীল হয় ইয়োরোপ দুনিয়া এইখানে কী মলিন—

ভাঙছে শূন্যতা হৃদয়ের রাহমাতাল্লিল আলামিন।’

এই একটি কবিতা পাঠেও অনুধাবন করা যায় হাসান রোবায়েত ভীষণ সমকালীন, বৈশ্বিক এবং প্রাসঙ্গিক। বিশ্বরাজনীতি থেকে শুরু করে গ্রাম-বাংলার নদী, শজনে গাছ, চেলা মাছ, ডাহুক তার খুব চেনা। আরেকটি লক্ষণীয় বিষয়, রোবায়েতের ছন্দের দক্ষতা। শব্দ-ব্যবহারের অমোঘ দক্ষতার মতোই ছন্দেও সে দারুণ কুশলী কারিগর। উত্তরাধুনিক কবিতায় ছন্দের ব্যবহার আমরা কম পাই, কিংবা আরেকটু প্রসারিত করেই বলা যায়, ছন্দকে বর্জনও করেছেন কেউ কেউ এইকালে। কিন্তু রোবায়েত ছন্দকে আত্তীকরণ করেছেন এবং নিজের মতো করে দুমড়ে মুচড়ে ব্যবহার করেছেন। এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে ছন্দের একটা ডিসপ্লেও দেখা যায়। এমনকি অন্ত্যমিল ব্যবহারেও রোবায়েত তার নিজস্ব জাগলিং ব্যবহার করেছেন—

‘এখানে জীবনের বিবমিষা খিন্ন আহ্লাদ কত দিন শুনেছে নিখিলের বহু তৃষা যুদ্ধ ভালোবেসে সীমাহীন এশিয়া ইয়োরোপ আফ্রিকা ব্যথায় ঘুমিয়েছে শূককীট ফসলে মায়াবীর বিভীষিকা সারাটা হাওয়াজুড়ে মর্বিড মাথার খুলি ঘোরে সবিনয়ে অন্ধকার এসে কত কাল অক্ষিকোটরের ফুটা হয়ে দেখছে চাঁদ সুইসাইডাল—’ [মোহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’


এই কবি তার অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই কবিতাক্ষেত্রে এসেছেন। তিনি কুশলী এবং ধূর্ত।


ক, খ, ক, খ, ক, খ-এর চলনটি অভিনব কিছু নয়, অভিনব নয় এই ছন্দের গীতলতা, কিন্তু আফ্রিকা-বিভীষিকা, শূককীট-মর্বিড, কত কাল-সুইসাইডাল ইত্যাদি অন্ত্যমিল আমার কাছে অভিনবই মনে হয়েছে।

এমন ঘনঘোর ফ্যাসিবাদে কাব্যগ্রন্থ কবিতাগুলো নিয়ে আরো বিস্তৃত আলোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তা না করে, একটু সিদ্ধান্তের দিকে আগাই। আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হাসান রোবায়েত একজন ‘বিপদজনক’ কবি। ডেঞ্জারাস বা রিস্কি সকল অর্থেই তিনি বিপদজনক। এই কবি তার অস্ত্রশস্ত্র নিয়েই কবিতাক্ষেত্রে এসেছেন। তিনি কুশলী এবং ধূর্ত। তার সবচেয়ে বড় শক্তি মনে হয়েছে বাংলা কবিতার আবহমান ধারাকে সে আয়ত্ত করেছে, অন্যদিকে বিশ্ব কবিতা ও রাজনীতির মানচিত্রও তার অচেনা নয়। ফলে তার কবিতা হুট করে বাঁক নেয়। কিছু বুঝে উঠবার সুযোগ না দিয়েই রোবায়েত পাঠককে খাদের প্রান্তে এনে ফেলতে পারেন। হুমায়ুন আজাদকে উৎসর্গ করা ‘তালতলা কবিতায় তিনি হুমায়ুন আজাদকেই আয়ত্ত করেছেন—

‘আমাকে মনে রেখো, তালতলা আমাকে মনে রেখো, তাসবিল আমাকে মনে রেখো, মাধুডাঙা মায়ের বাম গালে যে আঁচিল—’

আবার ‘মোহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কবিতায় তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে আয়ত্ত করেছেন—

‘মোহাম্মদ প্রিয়, দরদিয়া সাল্লু আলাইহি ওয়া আলিহি আমাকে তুলে নাও মারী থেকে প্রতিধ্বনি থেকে উড্ডীন—’

এইখানে বলবার কথাটি এই, আয়ত্ত করেছেন বলেই তিনি আবার নিজস্ব স্বরটিও চেনেন। রোবায়েতের কবিতায় তাই প্রভাব আর প্রভাব থাকে না, প্রভাবও হয়ে ওঠে ঐতিহ্যের অংশ। ‘মোহাম্মদ, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ কবিতার একাধিক চরণেই আল মাহমুদকে মনে পড়ে যাবে, বিশেষত সোনালী কাবিন-কে মনে পড়বে। আবার কোনো কোনো চরণে সৈয়দ শামসুল হককে মনে পড়ে যাবে, বিশেষত পরাণের গহীন ভিতরে মনে পড়বে। কিন্তু এই সব মনে পড়ে যাওয়াটা বোনাস মনে হবে। কেননা, সবাইকে মনে করিয়ে দিয়ে হাসান রোবায়েত দৃঢ় স্বরে মনে ধরিয়ে দিতে চান যে আমি আলাদা। আর কবিতায় আলাদা স্বর আমাদের খুব দরকার—

‘সাক্ষ্য গাঙপাড়ে কুঁজা গাছ সাক্ষ্য ডাহুকের চোখা ঠোঁট সাক্ষ্য শিশুদের গোলা জিবে মায়ের দুধ ভরা কালো বোঁট সাক্ষ্য মাধুডাঙা নদীতীর সাক্ষ্য শজনার ঋতু ফুল সাক্ষ্য মায়াঢেউ শঙ্খের মহরম মাসে দুলদুল সাক্ষ্য দারুচিনি গাছটির সাক্ষ্য চেলা মাছ দওজোড়া সাক্ষ্য হরিণের চরটিতে একলা বেঁধে রাখা কাবু ঘোড়া—’

মুম রহমান

মুম রহমান

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।...বিস্তারিত