ঢাকার অসুখ

‘এটা সুখবর যে, যক্ষ্মা আজকাল কারো হয় না। একসময় হতো খুব। আমার অনেক নিকটাত্মীয় মারা গেছে যক্ষ্মায়। চেকভ, কাফকা, কিটস, সুকান্ত, ঋত্বিক ঘটক মরে গেল যক্ষায়। যার হয় যক্ষ্মা তার নাই রক্ষা—এমনই বলত সবাই। এ সবই ছিল অতীত কাল। তবে অতীত হলেও এ সবই দগদগে স্মৃতি। যক্ষ্মা না-থাকলে আমার অনেক নিকটাত্মীয়রা আজও বেঁচে থাকত। আমি তাদের সাথে চা খেতাম, আড্ডা দিতাম, গল্প আর গুজবে যোগ দিতাম। কিন্তু যক্ষ্মা অনেককে বিয়োগের খাতায় নিয়ে গিয়েছিল।
আমার এমন আশঙ্কা হয়, বর্তমানে খোদ ঢাকা শহরেরই যক্ষ্মা হয়েছে মনে হয়। খোক খোক খোক খোক করে কেশেই চলেছে দিন রাত, ঘুনঘুনে ঘ্যানঘ্যানে জ্বর। দিব্যি দেখতে পাই, গলগল করে রক্ত পড়ছে ঢাকার বুক থেকে, মুখ থেকে। এই ঢাকার ফুসফুস নষ্ট হয়ে গেছে, একদিন হৃদপিণ্ডের গতি থেমে যাবে, কিডনি, লিভার কাজ করবে না। গলায় রক্ত তুলে মরবে ঢাকা। তবে কি আমার ঢাকা শহরের রক্ষা নাই? চিকিৎসার ঊর্ধ্বে  চলে গেছে আমার প্রিয় ঢাকা?’

দিন নেই, রাত নেই এইসব হাবিজাবি ভাবে রোকসানা। ভাবনা আর বেদনা ছাড়া এই মুহূর্তে তার জীবনে আর কিছু নেই। সে দেখে, নীরব, অসহায় চোখে, সবকিছু। এই যে কাঁঠালের উপর মাছি ভ্যানভ্যান করছে। নীল, বড় একটা মাছি, একদম ভনভন করে উড়ছে। আর্মির হেলিকপ্টরের মতো লাগছে ওটাকে। মনে হচ্ছে টহলে বেরিয়েছে। রোকসানার কোনো কাজ নেই। সে মাছিটার গতিবিধি দেখে। আর চেষ্টা  করে মাছির পা দেখার। কয়টা পা থাকে একটা মাছির? সে কাঁঠাল পছন্দ করে না। এর গন্ধটা তার উগ্র লাগে। আর কাঁঠাল ভাঙলেই মাছি আসে। আচ্ছা, আর কোনো ফলের ক্ষেত্রে কি ভাঙা শব্দটা ব্যবহার করা হয়? হুম, নারকেল ভাঙে, কাঠাল ভাঙে... আর কিছু! অর্থহীন চিন্তাভাবনা করছে রোকসানা। ইদানীং এক অর্থহীনতা তাকে গ্রাস করেছে। 

পা-কাটা যাওয়ার পর বিছানায় শুয়ে আর কীইবা করতে পারে সে? একবার ভেবেছিল আত্মহত্যা করবে। অনেক ব্যথানাশক আর ঘুমের ওষুধ দিয়েছে ডাক্তার। একসাথে সবগুলো গুলে খেয়ে ফেললে মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু তবুও মরা হয় না রোকসানার। বিছানায় শুয়ে কাঁঠালের মাছি দেখে, আর দেখে অসুস্থ-রুগ্ণ ঢাকাকে। 

খুবই শীঘ্রই রোকসানার আলগা পা লাগানো হবে। একটু চেষ্টা করলেই পাজামা দিয়ে ঢাকা আলগা পা নিয়েই সে হাঁটতে পারবে। হয়তো প্লাস্টিকের সেই পায়ে আর চুমু খাবে না কেউ, নূপুর পরাবে না কেউ। কিন্তু রোকসানা একদিন আলগা পা নিয়ে মৃদু খুঁড়িয়ে হাঁটবে, যদি মরে না যায়। মৃদু শব্দটা কী সুন্দর! আর মরে যাওয়া শব্দটা কী বিশ্রি! 
একসময় এই ঢাকা শহরটা খুব মৃদুমধুর ছিল। টুংটাং করে হঠাৎ রিকশা চলত, আইসক্রিমের বাক্স মাথায় নিয়ে ঘণ্টা বাজাত আইসক্রিমঅলা, বাহারি পোশাকের চানাচুরঅলা চোঙা ফুঁকত। বিশাল আর বিশ্রী কিছু ছিল না এ শহরে। চোখের সামনে বিরাট হট্টগোল আর দালানের শহর হয়ে গেল ছোট্ট ঢাকা। আর চোখের সামনেই দূষিত হয়ে গেল ঢাকার ফুসফুস। এখন যক্ষ্মা রোগীর মতো দিনে রাতে হাঁপাচ্ছে, ফোঁপাচ্ছে, কাশছে পুরো ঢাকা শহর। এই ঢাকার কি কোনো মুক্তি নাই? কোনোদিন সুস্থ হবে না ঢাকা?

-  ওষুধ খাইছো?

রোকসানা কোনো উত্তর দেয় না। ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে। কথা বলতে তার ভালো লাগে না। 
আগে হলে, কাজল চেঁচিয়ে উঠত, কথা কও না ক্যা! ভং ধরছো! ঝিম মারা লোক আমার পছন্দ না। 

কিন্তু কাজল এখন চেঁচায় না। সবসময় মিষ্টি সুরে কথা বলে। রোকসানা আগে জানলে নিজেই নিজের পা কেটে ফেলত, তাতে অন্তত কাজলের এই মিষ্টি ব্যবহারটা উপভোগ করতে পারত আরও অনেকদিন। কিন্তু ব্যবহার যত মিষ্টিই হোক, কাজলের কষ্ট হয়ে যায়। অনেক কষ্ট হয়। ছেলেরা কি এই সব পারে? টয়লেট করানো, মুখে তুলে খাবার খাইয়ে দেয়া? কাজল অবশ্য ভালোই পারে, না পেরে উপায় কী! নিরুপায় হলে মানুষকে অনেক কিছুই করতে হয়। 
কাজল একটা ভেজা টাওয়েল নিয়ে আসে। রোকসানার চোখ মুখ মুছিয়ে দেয়। ঘাড়ের কাছে আর বুকের মাঝেও তোয়ালে বুলিয়ে দেয়। রোকসানার বলতে ইচ্ছা করে, তোয়ালে রাখো, তোমার হাত দিয়ে মুছিয়ে দাও। কিন্তু বলে না। কাজল একটা চিরুনি দিয়ে রোকসানার চুলগুলো আঁচড়াতে থাকে। একটা পনিটেল করে দেয়। কপালে চুমু দিয়ে একটা টিপ পরিয়ে দেয়। রোকসানার চোখে পানি আসে।

-  কী হলো?
-  ঢাকা খুব অসুস্থ।
-  কে?
-  এই শহর, এই ঢাকা শহরের যক্ষ্মা হয়েছে। 
-  ভালো হইছে।
-  ভালো হইছে! শহরটা মরছে। কেউ কিছু করবে না। 
-  ওঠো, হেলান দাও, নাস্তা দেই।
-  উঠব না। হেলান দিব না। নাস্তা খাব না।
-  প্লিজ কুসুম।

কাজল বিয়ের আগে রোকসানাকে কুসুম ডাকত। বিশেষ করে আদরের মুহূর্তেগুলোতে। ইদানীং আবার কুসুম ডাকে। কুসুম ডাকটার মধ্যে কেমন একটা ওম আর উষ্ণতা আছে। যেন হাল্কা শীতের মধ্যে একটা পশমি চাদর।
  
অসুখের অনেক সুবিধাও আছে। বাড়তি আদরযত্ন পাওয়া যায়। ওষুধ-পথ্য-সেবার মধ্যে কত প্রেমই না লুকিয়ে থাকে। কাজল এখন আদরে-যত্নে ঢেকে রাখে রোকসানাকে পশমি চাদরের মতো। 

কিন্তু ঢাকার সেবাযত্ন কে করবে? ঢাকার চিকিৎসা কে করবে? ঢাকা তো একটা বিরাট পতিতালয়ের মতো। এখানে সবাই আসে, ফূর্তি করে, টাকা ওড়ায়। তারপর লাভ কিংবা লস নিয়ে চলে যায় যে যার পথে। এই পতিতালয়ের শরীর আছে, মাংস আছে, ভোগ আছে। কিন্তু লেবুর শরবত নাই, শিউলি ফুল নাই, গুড়ের ক্ষীর নাই। রোকসানা ভাবে, এই শবে-বরাতের রাতে ঢাকার জন্যে বিশ রাকাত নফল নামাজ পড়বে সে। কেমন করে সে নামাজ পড়বে? জায়নামাজে তো বসতে পারবে না। নানার জায়নামাজটা তার কী প্রিয় ছিল!
 
সেটা ছিল ঊনিশশ পঞ্চাশ-টঞ্চাশের কথা। তখন নানা হজে গিয়েছিল। তখনকার হজ এত সোজা ছিল না। জাহাজে করে যেতে হয়, পায়ে হাঁটতে হয়, উটের পিঠে চড়তে হয়। নানাজান ৭৮ বছর বয়সে হজে গেলেন। তখনকার দিনে হজে যাওয়া এক অর্থে মৃত্যুর প্রস্তুতি নেয়া। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হজে যেতে হতো। নানাজান ঠিকই হজ থেকে ফিরলেন, সুস্থ-স্বাভাবিক। তার চেহারায় কেমন একটা মিষ্টি-তারুণ্য চলে এল। গায়ের রঙ আরও টকটকে। চোখে সুরমা দিয়ে, মুখে মিষ্টি পান দিয়ে পাঠ করতেন, ‘ইয়ুবাশিরুহ রব্বুহুম বিরহামতিম মিনহু অরিদাওয়ানিও অজান্নাতিল লাহুম ফীহা নাঈমুম মুকীম।’ কে জানে, প্রতিপালকের এই রহমত আর সন্তুষ্টির সংবাদ নানাজানের কাছে এসেছিল কি না। হয়তো জান্নাতের স্থায়ী নিয়ামত পেতেই হজ থেকে ফেরার সপ্তাহ খানেকের মাথায় তার মৃত্যু হলো। 

মৃত্যুশয্যায় নানাজান রোকসানাকে বলল, তোরে আমি মেয়ের মতো পালছি, তোর বাপের অভাব বোধ করতে দেই নাই, তুই ক, আমার কাছে কী চাস? 
রোকসানা বলল, তুমি ঠিক হয়ে যাও, সুস্থ হয়ে ওঠো নানাজান।
-  আমি ঠিক আছি রে পাগলি, এর চেয়ে বেশি সুস্থ ছিলাম না কখনো। যাই রে, আমার ডাক আসছে। তোরা কান্নাকাটি করিস না। আমি সুখের দেশে যাইতেছি। 
-  তাইলে তোমার জায়নামাজটা আমারে দিয়া যাও।
-  আইচ্ছা।
এই ‘আইচ্ছা’টা ছিল নানাজানের মুখের শেষ কথা। রোকসানা আজও জানে না, কেন সে জায়নামাজটা চেয়েছিল। সে নামাজি না। কালেভদ্রে দুয়েক ওয়াক্ত নামাজ পড়েছে হয়তো। কিন্তু নানাজানের কাছে জায়নামাজটা কেন চাইল সেটা আজও রহস্যময়। তবে মক্কা থেকে আনা মখমলের সবুজ জায়নামাজটা বড়ই সুন্দর, কোমল। বসলে মনে হয়, এক অলৌকিক মাঠে বসে আছে সে। 

জানালার সামনে দিয়ে যে মাঠটা দেখা যেত সেটা কারা যেন চট দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। সম্ভবত মসজিদ কমিটি। চটের ফাঁকফোকর দিয়ে যতটুকু দেখা যায় তাতে ধারণা করা যায়, মাঠের ভেতর খোঁড়াখুড়ি হচ্ছে। মনে হয়, মাঠটার সার্জারি চলছে। এই মাঠ কি ডেভলাপারদের দিয়ে দেয়া হবে? দীর্ঘদিন মাঠটায় সবুজ ঘাস হয় না। দীর্ঘদিন এই মাঠে সবুজ শিশুরা আসে না। মাঠের বোধহয় আর প্রয়োজন নেই। হাতে হাতে মোবাইল আছে গেম খেলার জন্যে। 

-  ওঠো, কুসুম। আমাকে অফিস যেতে হবে না?
-  তুমি চাকরিটা ছেড়ে দাও।
-  বলো কী! খাবো কী?
-  অন্য কিছু করো। 
-  কী করব?
-  আর যাই করো, এই শহরটাকে হত্যা করো না।
-  আমি! আমি এই শহরটাকে হত্যা করছি?
-  হুম। তুমিও একজন ষড়যন্ত্রকারী। হত্যাকারী। তোমাদের ফ্যাক্টরি বুড়িগঙ্গাকে খাচ্ছে। তোমাদের কষ্ট হয় না, বুড়িগঙ্গাটাকে শ্বাস রোধ করে মারতে!
 
কাজলের খুব রাগ ওঠে। কত আর সহ্য করা যায়। সারাদিন ফ্যাক্টরির হিসাব-নিকাশ, লেবারদের সাথে হাউকাউ, তারপর ঘরে ফিরে আসা। একটা কাজের লোক নেই। ডাল-ভাত রান্না, রোকসানার ওষুধপথ্য, সব কিছু তাকে একা দেখতে হয়। একটা ছুটা বুয়া ছিল, ঘরদোর ঝাড়মোছ আর কাপড় ধুতো। তিন কাজে পনেরশ টাকা। সেও এখন নেই। এইসব ঝামেলার মাঝে রোকসানার কথা-বার্তা, পাগলামি তার অসহ্য মনে হয়। 
ডাক্তার নজরুল অবশ্য বলেছিল, আপনার খুব কষ্ট হবে। মানুষ পঙ্গুত্বকে সহজে মেনে নিতে পারে না। আপনার স্ত্রী আবেগী মানুষ। তার আরও কষ্ট হবে। আপনাকে মানিয়ে চলতে হবে। আমরা শুধু রোগীর শারীরিক বেদনা দেখি, মানসিক কষ্টটা দেখি না। 

কাজলের ইদানীং খুব বলতে ইচ্ছা করে, রোগীর সেবাকারীরও কষ্ট হয়, শারীরিক, মানসিক। সেটা কি কেউ দেখে? খুব বড় একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে ছোট্ট একটা হাসি দেয় কাজল। 

-  দেখো কুসুম, শহরের আলাদা কোনো প্রাণ নেই। মানুষই হলো শহর। শহরের শরীর বলো, মন বলো, মানুষই সব। মানুষ বাঁচলেই শহর বাঁচবে। ওই যে পুরো শহরটা ধ্বংস হয়ে গেল, রাতারাতি, সেই পম্পেই শহরের মানুষগুলো বেঁচে থাকলে শহরটা ঠিকই বেঁচে উঠত।
-  জানো, নিমগাছটা কেটে ফেলেছে?
-  কোন নিমগাছ?
-  পাশের বাড়ির বড় নিমগাছটা। ওখানে ফ্ল্যাট হবে। 
-  বনফুলের নিমগাছটার কথা মনে আছে?
-  আমরা যখন প্রেম করতাম, তখন তুমি আমাকে এ গল্প পড়ে শুনিয়েছিলে, টিএসসির বারান্দায়।
-  এখন বুঝি আমরা প্রেম করি না।
-  না। অসুস্থ শহরে প্রেম হয় না। 
-  কী বলছ এসব! আমি তো তোমাকে ভালোবাসি কুসুম। আমাদের প্রেম...
-  ওই দেখো!
-  কী! 
-  দেখো জানালা দিয়ে। 
-  কী দেখব?
-  আমার পাশে বসো।

কাজলের হাতে সময় নেই। তাকে যেতে হবে নদীর ওই পারে। কেরানিগঞ্জের ফ্যাক্টরিতে বসে সে। তবু রোকসানার পাশে বসে। রোকসানা ধারা-বর্ণনার মতো বলতে থাকে। যেন তার জানালাটা একটা সিনেমার পর্দা।
-  ওই দেখো ছোট্ট মেয়েটি। ওর পিঠের উপর কত বড় বোঝা!
-  ওটা তো স্কুল ব্যাগ।
-  হু, বিদ্যার বোঝা। বোঝার ভারে ওর বেণী দুটোও দোলে না। কী ক্লান্ত মেয়েটি? ওকে কি কেউ তালশাঁস কিনে দেয়? ওকে কি সবাই খরগোশ আর কচ্ছপের গল্প শেখায়? দৌড়াও মা, বিশ্রাম নিও না, আরাম করো না, তাহলে কচ্ছপ তোমার আগে চলে যাবে। প্রতিযোগিতা চলছে। জীবন এক দৌড়। আর ওই দেখো, ওই টিংটিঙা লোকটিকে। কোনোদিকে না তাকিয়ে রাস্তা পেরুচ্ছে। কী ব্যস্ত! পাশের লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। যেন ফুটবল-ময়দান। একটা অদৃশ্য বলের দিকে ছুটছে। আর ওই দেখো, মোবাইল টিপতে টিপতে রাস্তা পেরুচ্ছে। এই বুঝি কলার খোসায়...
-  এবার যে আমাকেও ছুটতে হবে কুসুম। 
-  সবাই ছুটছে। এই শহরে সবাই ছুটছে। শহরটা যে ধুঁকে ধুঁকে মরছে সেটা কেউ দেখছে না। হয়তো আমি পঙ্গু বলেই...
-  ওই কথাটা আর কখনো বলো না। তোমার পায়ে পড়ি...
-  আমার পা নেই।

কাজল আর কিছু বলতে পারে না। ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে থাকে। স্লো-মোশনে ওঠে। রোকসানার কপালে আরেকটা চুমু খেয়ে বেরিয়ে যায়। 

রোকসানা হাতে মোবাইলটা তুলে নেয়। ফেসবুক ঘাঁটতে থাকে। কেউ খাচ্ছে, কেউ বেড়াচ্ছে, কেউ সাজগোজ করছে, কেউ কবিতা লিখছে... সবাই যার যার মতো ব্যস্ত। কেউ খেয়াল করছে না, ঢাকা শহরটা মরে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে মরে যাচ্ছে। 

এখন যক্ষ্মায় কেউ মরে না, কিন্তু ঢাকা শহরটা মরবে। অবহেলায় মরবে, যক্ষ্মায় মরবে, ধোঁয়ায় মরবে, ধুলায় মরবে। এই শহরের পানি, বাতাস ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। এই শহরের গা বেয়ে উঠে যাওয়া পিঁপড়ার মতো মানুষগুলো ক্রমশ আত্মহত্যা করছে।

রোকসানা চিৎকার করে, গায়ের সমস্ত জোর দিয়ে চিৎকার করে, বাঁচাও, বাঁচাও, এই ঢাকা শহরটাকে বাঁচাও।
ফ্ল্যাটবাড়ির বন্ধ দরজার চিৎকার ঘরের মধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে। রোকসানার চিৎকার রোকসানার মতোই পঙ্গু, কোথাও পৌঁছায় না। রোকসানা যদি চিৎকার করতে করতে এ ঘরে মরেও পড়ে থাকে কেউ টের পাবে না, কেউ খোঁজ নেবে না। 

এই মৃতপ্রায় শহরে কেউ কারো খোঁজ নেয় না কোনোদিন।  

মুম রহমান

মুম রহমান

জন্ম ২৭ মার্চ, ময়মনসিংহ। এমফিল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। পেশা লেখালেখি।...বিস্তারিত