হোম
কবিতা
ডাকসিদ্ধ ডাকাতের জীবন
ডাকসিদ্ধ ডাকাতের জীবন
ডাকসিদ্ধ ডাকাতের জীবন আমি পাব না!
এ কোন মন্ত্র আমায় ছুঁলো?
যে কপাল ক্ষিপ্র কাপালিকের, যে তন্ত্র তামসিক—
কে দিল গোপনে তাকে
বোবা ডাকপিয়নের তিয়াসাদুপুর
গেরুয়া হৃদয়খানি—ব্যাগভরা অঘোর ঠিকানা!
নিশ্চিত গন্তব্যে পৌঁছে
কেবল দুয়ারে কড়া নেড়ে ফিরে আসা।
গরাদের পাশ থেকে আজ চোখে পড়ে কি তোমার
চম্পকবনের মাঝে অনিঃশেষ কড়িখেলা
নাগশিশুদের সাথে?
ফুরফুরে হাওয়ায় উড়ে যাওয়া পালকেও রেখে যায়
মৃদু ঘাত, স্মৃতি তার পিছনে, তাতেই ভেঙে পড়ে সৌধ,
কায়া ও খড়প্রাসাদ।
রক্তপারদের স্রোত, হে আমার কামনাকুসুম,
সূর্যাস্তনদীতে ডুব দিয়ে তবে
হবে কি মুখচুম্বন?
মানুষের এ প্রার্থনা কী করুণ, দ্যাখো—
যতটাই সংগোপন তুমি
প্রত্যাখ্যান ও প্রবঞ্চনার পাশে—
যতখানি স্নেহ পণ তোমার, ফুলের পাপড়ি গণনার চেয়ে
খরগোশের লোমহর্ষ রোমের নীরবতায়—
তার থেকে কতদূর!
আত্মজিজ্ঞাসার নিচে গুম হয়ে পৃথিবীকে দেখা হলো
কার্পাস-বিলের ধারে ডাহুকের মুখোমুখি।
এতদিন ধরে এতসব গালগল্পের পাঁজর খুলে
গালাঘরের গাঁথুনি পেরেছ কি শিখতে—
হাওয়াকে ফাল্গুন ভেবে ঠোকা দেয়
ঢলমলে খোকশার পাতা,
পাতাকেও হাওয়া।
ব্রোঞ্জের মতো গম্ভীর, ছোট্ট এক বাবুই পাখির
হৃদয় নিয়ে কে বলো ছড়ালো মাথায়
এ ভাঙা বাকল, ধূলি, ধূম্রকূট?
নামল শিলাবৃষ্টি রাত্রিবেলা। যখন ভুলেছি সব
অন্ধকারে, ভুলেছি রে
আগুনসিন্ধুর তলে
মোমের পা নিয়ে হেঁটে যেতে যেতে।
* * *
ধরো, ঠিক এখান থেকেই শুরু হলো ভগ্নযাত্রা,
লগ্নভ্রষ্ট এই আনাবাজ।
ধরো, ঘুরে ফিরে সেই নগরীতে
ঢুকে পড়লাম আবার।
বৃক্ষের কংকালসারি ঠেলে
মৃত নল-খাগড়ার বুকের কাছে যেতে না যেতেই
যদি বলে ওঠে কোনো শেকড়-লালিত সাপ
আমাদের ভাষাকে ফিরিয়ে দাও
তারই জন্যে ছিল জলে ও ডাঙায় টর্নেডো, টেম্পেস্ট।
সব পার হয়ে আজ এই শবাসন।
এরই নাম কি প্রতীক্ষা?
‘তাহলে শব্দের কাজটুকু তুমি
সেরে নাও অতল নিঃশব্দে’—
কে যেন বলে। সে আছে ধর্না দিয়ে ধ্বনির দুয়ারে।
সেই ধ্বনি—লিপিতে যে নেই। নেই
কাগজে-বাকলে। আছে কি তালপাতায়!
মেঘ থেকে নেমে এল নাকি? এল নাকি নেমে
স্তব্ধতার বজ্রলেখা নিয়ে?
নিরুত্তর দোলে তাড়িপত্র—
দোলে সংঘারামে, হতোদ্যম স্কন্ধাবারে।
তাই, লিখতে বসেছি পাপীদের মানপত্র
বৈশাখের তুমুল তোটক ছন্দে।
গুমখুন বলতেই, এই যে তোমার চোখে
ভেসে উঠছে গুহাচিত্র, তার জন্য না হয় আমিই
এনে দেব কিছু রঙ ও সুরভি
ঝিঁঝি-অরণ্যের মাঝখানে ফুটে থাকা
বাসমতী ফুল থেকে
নর-হাবাদের খুলিপাত্রে।
আজ রাত্রে, রক্তপূর্ণিমায়,
সরোবর থেকে শাদা পাথরের দেবদূত
জেগে ওঠার আগেই, তোমাদের
এখনই বুঝিয়ে দিতে চাই
খুলিহাস্যে খুলে যাওয়া এ দুর্গকেতন
কিরিচে আঙুলকাটা হাতে...
যদি হতে হয়, তারপর হব অন্ধ।
* * *
অন্ধত্ব কি তবে চোখ-উল্টানো দিনের শেষ মুভি
ফ্লপ কোনো ফেস্টিভ্যালে?
যেখানে ক্রিটিকপাতাগুলো বাতাসেই ওড়ে, আর
প্রজাপতি পড়ে যায় খুব মনোযোগ দিয়ে
ঐসব হাবিজাবি নয়
মৃত স্বর্ণচাঁপার হরফে লেখা মৌরি-মনস্তাপ।
কিছুই বুঝতে কি পারে?
কেবল রাত্রিই পারে মুছে দিতে আমাদের গ্লানি,
সকল অন্ধতা,
জাগিয়ে তুলতে সেলুলয়েডের গান—
এই রাত্রি পেলিকান, সচকিত, এই রাত্রি কালো এক
মার্জার-রচিত।
অন্ধ, তাই বলে যেন হঠাৎ বেরিয়ে প’ড়ো না আবার
শাদা ছড়ি হাতে ঐ ঘুমন্ত রাস্তায়।
সীমান্তের ফাঁড়ি যারা পার হয়ে আসে
বরং তাদের কাছ থেকে শেখো দৃষ্টিপাত।
কাঁটাতারে বাঁধা থাক পিলু বা খাম্বাজ।
গন্ধের নিঃশব্দ গানে যখন উঠেছে শ্বাসটান—
মৃদু মৃদু—ভূতশাদা রজনীগন্ধার—
‘ওখানে কে চালায় পেষণযন্ত্র?’—পাহাড়ধসের পর
বনঘুঘুদের কাছে গিয়ে জানতে চেয়ো না ভুলেও।
চোখবন্ধ শুয়ে থাকো চিৎখাট।
শোনো, ঘুম হলো মূকাভিনয়, নীরব এক
লিরিক্যাল ব্যালে। দ্যাখো, স্বপ্নকে তোমার
কেমন দর্পণচূর্ণ করে ফ্যালে
অজস্র ইমেজ এসে।
ইমেজ-সংকট বলে কিছু নেই আমাদের।
পারদস্তম্ভের পাশে যদি খুলে রাখো আজ
তোমার পালকগুলি
আয়নার ভেতর থেকে কারো হাত এসে নিয়ে যাবে সব
কেন ভাবো?
কেন ভাবো, খোয়াই নদীর ধারে একদিন খোয়া যাবে
গরিবের অমরতা, স্বপ্নভারে নত আঙুর ও আতাবন!
এখনও কি মনে হয়, বন্ধ হয়ে গেছে আমাদের যোগাযোগ
মৃতদের সাথে, টালমাটাল ট্র্যানজিস্টারে!
কেঁপে কেঁপে নিভে-যাওয়া তারাগুলো
কেবলই কি ফুলস্টপ
চিন্তাহারা সমুদ্রের পর!
ড্রাকুলার হাসির ঠমকে জেগে উঠেছি কখন
তোমাদের জানালার দিকে।
তোমরা যারা পুরনো সে লগবই খুলে
চুরি করে পাঠ করো
বন্ধুদের যৌন ইশতেহার
তাদের গোমর ফাঁশ হলো।
ঐ চাঁপাগাছের তলায় নগ্ন হয়ে
কে আছে নিশ্চুপ বসে?
তার চারপাশে ধীরে ঘিরে-আসা ফেরেস্তাকুলের
অমোচন আব্রুও হঠাৎ খশে পড়ে।
হাতের শক্ত মুঠিটি
পাপড়ির মতোই
আধখোলা রেখে
যে ঘুমিয়ে ছিল ঘুড়িকাটা বাতাসেরও
অনেক ওপরে, সে জানে না
কাল রাতে পথে-পাওয়া জ্যোৎস্নাপুথি
ছিঁড়ে ছিঁড়ে
পৃষ্ঠাগুলি কে ওড়ালো?
স্খলিত বটের পাতা, ছিন্ন পৃষ্ঠা, মূর্ছিত এ প্রাণ
এখন গোপনে করে রচনা, তোমাকে না আমার বাসনাকে?
আয়নায় প্রতিফলিত একটি দেয়াল চোখে পড়ে—
বাঁকিয়ে লম্বা ঘাড়, এক পা উঁচিয়ে
তাকে ঠেলছে রাজহাঁস।
তখনই হাসির শব্দ। জ্ঞানপাপিয়ার
ইঙ্গিতেই বুঝতে পারি
এই হাসি ড্রাকুলার—
দেখি সব সুড়ঙ্গ, দম্ভদুয়ার ফাঁক করে
ফেটে পড়ে গমগমে এক প্রতিধ্বনি।
দুহাতে কাঁপিয়ে দেয়
বাদুড়ের ঝুলন্ত আকাঙ্ক্ষা যেন।
সিন্দুকের তালাও টকাশ করে খুলে যায়
চমকে উঠে।
‘তাহলে গুপ্তধনের সেই ম্যাপ কোথায় রেখেছ,
সিলিঙের ওপর না কাঠের ড্রয়ারে?’—
আয়নার ভেতর থেকে জানতে চায় রাজহাঁস
ঈষৎ রাগত স্বরে।
‘বাবা-মার কবরের মাঝখানে’—মুখ ফশকে যেনবা বেরিয়ে যায়।
ভয়ে থতমত—পেছনে তাকিয়ে দেখি
উধাও সে রাজহাঁস।
রাত্রিবেলা কত ফিশফাশ শব্দ হয়!
শীৎকার। গোঙানি। এমনকি
সাবমেরিনের পেটে বন্দি কোনো ভালুকের
ভয়াল চিৎকারও শুনতে পায়
কুমির ও কচ্ছপেরা—
সবুজ প্রবাল দ্বীপে যারা উঠে এসেছিল
রক্তিম চাঁদের দেশে যাবে বলে।
* * *
জ্যোৎস্নায় শেয়ালের ডাক শুনে
এতদূর ছুটে এসে
একটি কুকুর যেন থমকে দাঁড়িয়ে
দেখছে
এখন দুপুর।
কাশবনে কবর হয়েছে কারো?
গলা-কাটা লাশ শুধু পাওয়া গেল
ছিন্ন শাড়ি, কতবার।
পিরের মাজার থেকে, মাদার গাছের নিচ দিয়ে
এই কাশফুল দেখা যায়
ট্রেনের জানালা থেকে
ঘুমন্ত শৈশব।
ঘুমন্ত না মৃত?
নাম ধরে ডাক দাও। দ্যাখো আজ কেউ
হাত তোলে কি না।
* * *
শৈশব বলতেই চলে আসে
এক অন্ধ গায়ক, গলায় বেঁধে হারমোনিয়াম,
কখনো দোতারা;
সুর দিয়ে গেরো দেয়া একটি জীবন জেগে ওঠে—
সেও কারও কারসাজি,
চরকায় সুতো বোনা প্ল্যান মনে হয়;
প্ল্যান মানেই কি প্লানচেট?
হোক যত ঘানিটানা, দিনমান
এই দেহ-পারাপার,
শেষ দৃশ্যে ভেঙে পড়বেই ব্রিজ—কেউ এসে বলে—
কেননা যুদ্ধের ছবি এটা,
গত শতকের এক মৃতের ডায়েরি থেকে নেয়া।
নেই তার কোনো উত্তরাধিকার
এসে যে বলবে, ডায়েরি খুলো না।
তাই আজ একাসনে বসে
সব পড়ে ফেলা যায়।
‘যদি কোনো ফড়িঙের চোখ দিয়ে
দেখে থাকি সূর্যাস্তকে
আমি হব নাকি মধ্যস্থতা
হাওয়া আর আগুনের?’
সে লিখেছে তার ডায়েরিতে,
‘যতদিন এই উল্কাপাত হবে, ভিজবে শিশিরে
বাতাবিলেবুর পাতা,
কিছু ভুল থেকে যাবে
পাখিদের ক্যালেন্ডারে।
সম্ভবত বসন্তের শেষরাতে
পৃথিবীর রুগ্ণ দম্পতিরা
ঘুম ভেঙে ভাবে
জোছনায় কিছুদূর হেঁটে আসা যাক।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মুখে
পতঙ্গের বেশ ধ’রে
ডানা ঝাপটায় স্বপ্ন।...
নিসর্গের রোজনামচায়
অট্টহাসি বলে কিছু নেই।
শীত মানে তাই আজও
ক্রাচে ভর দেয়া চন্দ্রমল্লিকার
স্মৃতিকথা।’
কত কাল বোবা হয়ে রইল ঝুলে—
রাস্না ফোটা এক প্রেমসন্ধ্যা—যথা হ্যাঙোভার।
তবু লৌহযুগ আর মেহগনি-গন্ধে
কী সম্বন্ধ—এমন জিজ্ঞাসাটুকু
মুলতুবি রেখেই
যেমন বিদ্যুৎ-খুঁটি জেগেছে বনের মধ্যে,
যেমন ঘিরেছে শ্যাওলা
উঁচু ঐ জলাধার
আজও দেখি তাকে, তেমনি বসে আছে
কড়ই গাছের নিচে;
গান ফেলে রেখে পাশে,
কোলেও দোতারা।
এখন কে জানতে চায়, যন্ত্রে
কিভাবে লুকিয়ে থাকে গান!
অঙ্গুলিসংকেতে কার
খুলে যায় সুরগ্রন্থ,
উড়ে যায় পৃষ্ঠাগুলি!
সংঘাতে শরীরও জেগে ওঠে।
ছোটে শরীর-আস্বাদে।
ঘুম-কুমারীর কানে গোঁজা ফুল
শেষ কোন কথা বলে
ঘুম থেকে জেগে উঠবার আগে?
পরাগকেশর জানে। জানে না কি হরিকেল,
ঠাটাপড়া তালচূড়া—
মনুমেন্ট কেন মেঘ ছুঁতে চায়!
মৃত ঐ চিতল মাছের পেট ছুঁয়ে
ভেসে যায় মেঘ, এই মেঘ
কারা গেঁথে নিয়ে যায় বড়শিতে!
আকাশে তাকিয়ে স্থির জলের উদ্যানে,
ফুটে আছে মন-সরসীতে
একটি যে মৃণালিনী
তাকে চিনি?
ফুঁয়ে আর জাগবে না ফুয়েন্তে, ফোয়ারা...
পাকা এক পেঁপের হৃদয়ে
এখন দেখতে কি পাও
কালো সে মার্বেলঘূর্ণি?
কতদিন ধরে এল যে গড়িয়ে
চুম্বকপাহাড় থেকে
কমলাবনের ধার দিয়ে
সারি সারি চোখ
সরিয়ে সরিয়ে।
* * *
বয়রাতলা, মেয়েদের স্নানঘাটে
সেই ঘুঘুমধ্যাহ্ন কি ফিরে এল
এতদিন পর,
লুকানো ক্যামেরা তাক ক'রে?
এবার হেমন্ত জুড়ে আর কিছু নয়,
কেবল ‘নীলাভ্র’ শব্দটিই
লেখা হলো অবিরাম।
আমিও লিখলাম তাই।
না হয় জলের নাম দিলাম ‘রটনা’—
তাতেই কি ফুটবে হাসি,
রাতের বাগানে অতর্কিতে
সৌদামিনী ফুল?
একাকিত্ব নয় মৌমাছিদের অনুষঙ্গ।
হেতু অনুসন্ধানের দায় নিয়ে
ফিরুক বাতাস।
শামুকের ছানাগুলি জানবে না কখনো
নিহিতার্থ খুঁজে ফেরা
মোরগের ভিড়ে
একটিই ছিল রাজহাঁস।
শালপাতা কুড়াতে কুড়াতে
ঝোপজঙ্গলের মধ্যে নেমে
কে খুঁজবে এখন
শিস-দেয়া পাখিদের নামসহ
টানা টানা চোখ-আঁকা
সেই গীতল মলাটে
তিল-অতসীর
হলদেটে রাফখাতা!
* * *
প্লেনের ধোঁয়ার দাগ হিম-নীলিমায়
মুছে যেতে না যেতেই
প্লেন চলে যায়...
বাতাসে আঁচড় কাটে
বারুদ ও নিকোটিন
গন্ধনখে।
আমাদের লেখা হলো
কতশত ঋণপত্র
রক্তের স্মারকে।
তবু আজও আতর ছিটিয়ে
ঝরে যায় ফুল...
এই ফুল কুড়াতে এসেছে
ওরা কারা, চুপিচুপি
পিপুল ও পিয়াল গাছের
পাশ দিয়ে
বাগানের শেষ রোদে—
যখন এ পৃথিবী কফিন ব’নে গেছে হায়!
সে কফিন থেকে উঠে এসে তারপর
ফুলমতি
সন্ধ্যা-পাটনির ঘাটে বিকায় নগদে।
তখন কোথায় তারা, যারা এসেছিল
এই ফুল কুড়াবার
বিপুল আমোদে?
* * *
অভিধান থেকে ঝরে যাওয়া শব্দগুলি
নিশ্চিত কুড়িয়ে পাওয়া যেতে পারে
এইখানে
এই পিটুনিয়া ফুটে থাকা
বেগুনি ঝোপের
এক মুহূর্ত আড়ালে।
যদি নও কুহকীবিতান, দেহ কি বল্লরি?
ভ্রমরগুঞ্জন হয়ে এল যে পতঙ্গদল
—দেখল ডালে বসে
ঠোঁটভেজা পাখিদের প্রাণ।
নৈঃশব্দ্যের মানে এতদিনে জানা গেল—
গর্জন গাছের নিচে এক চিলতে ছায়া;
জলের ওপর কারো ম্লান
মুখের আকল্প।
মুখ নয়, কেবল মুখশ্রী
জলতলে ডুবে যায়।
সিন্ধু সেঁচে এসেছে ডুবুরি
সংকল্পের সানুদেশে উঠে
শুধু এই কথা বলতে—
পরমায়ু হলো সেই নিস্তরঙ্গ পাতালের
অলখপাথার,
যেইখানে গিয়ে আমি ভুলেছি সাঁতার।
* * *
রুদ্রবীণা থেকে পামবিথি—অমলিন ঝরাপাতা—
সব প্রশ্নহীন রেখে
সমুদ্রের তলা দিয়ে আসে গান
সুড়ঙ্গবাহিত।
মর্চে-মসল্লার গন্ধে জীর্ণ হাওয়ার বিকেল
ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।
চায় মুছে দিতে?
স্নায়ুমেঘে তাই জাগে নাগকেশরের
রোমশ ইশারা
গলন্ত সূর্যের।
যত ক্ষয় হোক আয়ু
পিপাসাই বাঁচিয়ে রেখেছে পাখিদের;
বেল আর বিল্বস্তনী নারীদের পাশে
পুরুষের দীর্ঘশ্বাস।
দিনযাপনের স্বেদবিন্দু থেকে
মন-মুহূর্তের গান-মেশিন চলেছে।
কাকে লক্ষ্য ক’রে গুলি?
যত পাখি ওড়ে, তত নড়ে পাতা—
গাছেরাও শেখে নাচ।
এইখানে নীতিশাস্ত্র ফেলে
পাটিগণিতের বই খুলে বসা যায়।
তেলমাখা বাঁশ বেয়ে
কিছুদূর উঠে
বানরেরা লাফ দিয়ে পড়বে না গায়।
শিশুরাও জানে, বই থেকে
বেরুতেই পারবে না তারা।
শব্দঋণ :
আনাবাজ : স্যাঁ জন পের্স-এর কবিতাবই
টেম্পেস্ট : উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের নাটক
গরিবি অমরতা : সুমন রহমানের গল্পগ্রন্থ
সোহেল হাসান গালিব
জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮, টাঙ্গাইল। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর...
বিস্তারিত
জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮, টাঙ্গাইল। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা।
প্রকাশিত বই :
কবিতা—
চৌষট্টি ডানার উড্ডয়ন [সমুত্থান, ২০০৭]
দ্বৈপায়ন বেদনার থেকে [শুদ্ধস্বর, ২০০৯]
রক্তমেমোরেন্ডাম [ভাষাচিত্র, ২০১১]
অনঙ্গ রূপের দেশে [আড়িয়াল, ২০১৪]
তিমিরে তারানা [অগ্রদূত, ২০১৭]
ফুঁ [বাতিঘর, ২০২০]
চৌষট্টি পাখুড়ি (আদর্শ, ২০২২)
দরজায় আইভিলতা [ঐতিহ্য, ২০২৩]
প্রেমের কবিতা [ক্রিয়েটিভ ঢাকা, ২০২৩]
পায়ে বিঁধেছে হসন্ত [বুনন, ২০২৫]
প্রবন্ধ—
বাদ-মাগরিব (ভাষা-রাজনীতির গোপন পাঠ) [অগ্রদূত, ২০১৮]
আমার খুতবাগুলি [উজান, ২০২৪]
সম্পাদিত গ্রন্থ—
শূন্যের কবিতা (প্রথম দশকের নির্বাচিত কবিতা) [বাঙলায়ন, ২০০৮]
কহনকথা (সেলিম আল দীনের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার) [শুদ্ধস্বর, ২০০৮]
সম্পাদনা [সাহিত্যপত্রিকা] : ক্রান্তিক, বনপাংশুল।
ই-মেইল : galib.uttara@gmail.com
(স্বল্প)