সাম্প্রতিককালের ভাষাবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করেন ভাষার বাইরে কিছু নাই, যেমন গৌতম ভাবতেন দেহের বাইরে কিছু নাই। ফলে ভাষা বা দেহে মনঃসংযোগ করলেই জগৎ বোঝা যাবে। প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘটনাটা দেখি তাই। ভাষা-বিতর্কে সবার কুল-ঠিকুজি বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তর্কটা লেগেছে মানভাষা ও আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে। এখানে আমাদের বক্তব্য সামান্য। আমরা এটাকে বাহুল্য তর্ক মনে করি। এটা প্রায় মীমাংসিত বিষয়। মান ভাষা যে দাপট নিয়ে আজ হাজির তার মূল ঠিকানা প্রমথ চৌধুরী—বলা হয়ে থাকে। এবং তার চাচাশ্বশুর রবীন্দ্রনাথ এর প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয়, ভাস্তি-জামাইর লেখা পেকে উঠবার আগেই এই ভাষা রবীন্দ্রনাথ ছিন্নপত্রে প্রতিষ্ঠিত করে এসেছেন ছাব্বিশ বছর বয়সেই। তাহলে এরও পূর্বসূত্র খুঁজে পাওয়া নিশ্চয়ই সম্ভব। ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে মোদ্দা কথাটি হলো এই, ভারতচন্দ্রই এ ভাষার সাহিত্যক ভিত্তি। প্রমথবাবু অবশ্য আরেকটু পেছনে গিয়ে চণ্ডীদাসকে টেনেছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কোলকাতার কথ্যভাষা ও বাগভঙ্গি। এর পাঁয়তারা দেখা যাবে 'আলালের ঘরে দুলাল-এ। যদিও পরবর্তী সময়ে নিগৃহীত ঠাকুর, মানে টেকচাঁদ ঠাকুর নিজেই এ ভাষা পরিত্যাগ করে কিছুটা বিদ্যাসাগরীয় হয়ে উঠবার চেষ্টা করেছেন। এইখানেই শুরু হলো ভাষার লড়াই। এই দ্বন্দ্ব আধুনিকতাবাদের দ্বন্দ্ব, ঔপনিবেশিকতার ব্যারাম। কারণ আমরা দেখেছি, এনলাইটেনমেন্টের শিক্ষাই হলো, সে মানব-জাতিকে দুইভাগে ভাগ করে—উচ্চসংস্কৃতি ও নিম্নসংস্কৃতি।
ইংরেজসৃষ্ট কেরানিকুলের প্রথম পণ্ডিত মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার বাংলায় (লৌকিক ভাষায়) লেখাকে হীনদৃষ্টিতে দেখতেন, মানে ঘৃণা করতেন। এতে কিছুটা পাপবোধও লেগে থাকতে পারে, যেমনটা সত্য মুসলমান শরাফতের ক্ষেত্রে। তাই নিতান্ত বাধ্যতায় একটা বিকৃত বাংলা গদ্যের সূচনা হয়েছিল তার হাতে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে। কেরানিকুলের দ্বিতীয় ধাপের পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা ওরফে বিদ্যাসাগর অগ্রজের ব্যর্থতা মোচনে একটা বুদ্ধি ঠাউরালেন। তিনি সংস্কৃত শব্দকে আশ্রয় করলেন ঠিকই, কিন্তু তাতে মিশিয়ে দিলেন কোলকাতার কথ্যভঙ্গি বা ভাষাস্রোত। রবীন্দ্রনাথ এটাকে বিরাট ঘটনা মনে করেছেন এবং দাবি করেছেন তিনি তার উত্তরাধিকার। কিন্তু তা অর্ধসত্য। বরং রবীন্দ্রনাথের গদ্যের উপর যদি কারও আছর থেকেই থাকে, সে-জন তারা বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপরন্তু, রবীন্দ্রনাথ ভাষার ক্ষেত্রে যা করতে চেয়েছিলেন, তা বিদ্যাসাগর নয়, প্যারীচাঁদ মিত্র মহাশয়ই অনেক আগেই গুছিয়ে এনেছিলেন।
তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি খোদ কোলকাতাতে যে ভাষাটা শেষ পর্যন্ত শিক্ষিত জনের চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ালো, তা আধেক পুস্তকী, আধেক মৌখিক। প্রমথ চৌধুরী বারবার ভারতচন্দ্রের নাম জপ করেছেন। এখন কথা হলো, নদীয়া-বর্ধমান-বীরভূম-কলকাতা—মোটাদাগে ভাগরথী মানে হুগলি-তীরবর্তী অঞ্চলের মিশ্রিত ভাষাই চলিত তথা মানভাষা বলে ধার্য হলো সকল বঙ্গভাষীর জন্য। কিন্তু পূর্ববঙ্গ তখনো উচ্চকিত জাগে নি স্বপনে। সেদিন যদি মাস্তানি করবার জন্য আমি থাকতাম, যার বাড়ি টাঙ্গাইল, তাহলে অবধারিতভাবে মৈমনসিংহ গীতিকা-র মানে ব্রহ্মপুত্র-পাংশুগণের ভাষাকেই মান ভাষা হিশেবে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতাম।
বর্তমানে যে ভাষার বড়াই আমরা করছি, এবং যে বাঙালি-সংস্কৃতি চর্চা করে চলেছি (যার অন্যতম উপাদান বিকৃত সেকুলারিজম, যা উপনিবেশিত হৃদয়ের উৎসার), গাণিতিকভাবে তা ক্যালকেশিয়ান ক্যালকুলাস, বলা যায়। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিশেবে নিজের ভাষাটিকে আমরা চাপা দিয়ে রেখেছি অপরের বলে, আঞ্চলিক বলে। নিদারুণ ট্র্যাজেডি হলো এই, শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে যারা সংস্কৃতের অপশাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করার কথা ভেবেছিলেন, তাদের তুলনামূলক শব্দতত্ত্ব খেয়াল করলে দেখা যায়, ভাটি-বাংলার বুলি কেতাবি ভাষার অনেক বেশি কাছের, কোলকাতার চেয়ে। ভাবতে অবাক লাগে এখনও আমাদের উপন্যাসে, নাটকে লেখা হয়, বলা হয়, ‘আসুন’, ‘বসুন’। কোলকাতা যাদের কল্বে (হৃদয়ে) বসে গেছে, তারা খামাখাই ডরাচ্ছেন। সংস্কৃতির স্বাভাবিক নিয়মে শাসকের ভাষা শাসিতের ভাষায় বিলীন হয় না। বরং শাসিতের ভাষাকেও শাসক আত্মসাৎ করে নেয়। ক্ষমতার অসাম্য বজায় রেখেই একটা ফিউশন এখানে ঘটবে। এবং সেটাই হবে বাংলাদেশের বাংলা, আমাদের ভাষা। একাডেমিক ভাষা-ঐতিহ্যের সঙ্গে আঞ্চলিকতার একটা মোকাবেলা হতেই হবে।
কোলকাতার বাংলাচর্চা এক ধরনের সাম্প্রদায়িকতায় পর্যবসিত হয়েছে অনেক আগেই। কেননা তাদের রয়েছে সাম্প্রদায়িকতার এক উজ্জ্বল ইতিহাস—বঙ্কিম থেকে শরৎচন্দ্র অবধি। বঙ্কিমে যতটা স্পষ্ট, শরৎ বা রবীন্দ্রনাথে ততটা নয়, ভাবুকতা ও রোমান্টিকতার ক্যামোফ্লেজ আছে তাতে। শরৎ তো সোজাসাপ্টাই বলেছেন, বাঙালি আর মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ফুটবল খেলা হইতেছে। যেন বাঙালি হবার শর্ত হিন্দু হওয়া, আর মুসলমান মানেই শেখের পোলা, আরবাগত। ‘বর্তমান হিন্দু-মুসলমান সমস্যা’ প্রবন্ধে তিনি অকপটেই বলেছেন :
হিন্দুস্থান হিন্দুর দেশ। সুতরাং এ দেশকে অধীনতার শৃঙ্খল হইতে মুক্ত করিবার দায়িত্ব একা হিন্দুরই। মুসলমান মুখ ফিরাইয়া আছে তুরস্ক ও আরবের দিকে,—এ দেশে চিত্ত তাহার নাই।...
মুসলমানের সংখ্যা গণনা করিয়া চঞ্চল হইবারও আবশ্যকতা নাই। সংখ্যাটাই সংসারে পরম সত্য নয়। ইহার চেয়েও বড় সত্য রহিয়াছে যাহা এক দুই তিন করিয়া মাথা-গণনার হিসাবটাকে হিসাবের মধ্যে গণ্য করে না।
একই লেখায় অন্যত্র বলছেন : ‘বস্তুতঃ, মুসলমান যদি কখনও বলে—হিন্দুর সহিত মিলন করিতে চাই, সে যে ছলনা ছাড়া আর কি হইতে পারে, ভাবিয়া পাওয়া কঠিন। একদিন মুসলমান লুণ্ঠনের জন্যই ভারতে প্রবেশ করিয়াছিল, রাজ্য প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য আসে নাই। সেদিন কেবল লুঠ করিয়াই ক্ষান্ত হয় নাই, মন্দির ধ্বংস করিয়াছে, প্রতিমা চূর্ণ করিয়াছে, নারীর সতীত্ব হানি করিয়াছে, বস্তুতঃ অপরের ধর্ম ও মনুষ্যত্বের উপরে যতখানি আঘাত ও অপমান করা যায়, কোথাও কোন সঙ্কোচ মানে নাই। দেশের রাজা হইয়াও তাহারা এই জঘন্য প্রবৃত্তির হাত হইতে মুক্তিলাভ করিতে পারে নাই। ঔরঙ্গজেব প্রভৃতি নামজাদা সম্রাটের কথা ছাড়িয়া দিয়াও যে আকবর বাদশাহের উদার বলিয়া এত খ্যাতি ছিল, তিনিও কসুর করেন নাই। আজ মনে হয়, এ সংস্কার উহাদের মজ্জাগত হইয়া উঠিয়াছে।’
কোলকাতার একাডেমিশিয়ানদেরও অন্তর্গত ভাব, অনুভাব এমনই। তাদের গোমর ফাঁশ করার জন্য একটা মজার উদাহরণ দিচ্ছি। সংসদ্ বাঙ্গালা অভিধানে ‘খালা’ মানে ‘মেসো’ এবং এর স্ত্রী-লিঙ্গ ‘খালী’ মানে ‘মাসী’ বলা হয়েছে। অপর ধর্মের পারিবারিক সম্পর্কের ব্যাপারে কতটা উন্নাসিক থাকলে এমন মূর্খতা সম্ভব। বলা হয়েছে ‘মামদো ভূত’ মানে ‘মোহাম্মদীয় ভূত’—এটা কী জিনিশ, আমার অনুধাবনে আসে না। পক্ষান্তরে ‘অন্নপ্রাসন’ কী জিনিশ এটা ব্যাখ্যা করতে আমাদের কিন্তু ভুল হয় না। বাংলাদেশের ‘বাংলা একাডেমি’র অভিধানে অনেক আরবি ফারসি শব্দ আছে যার টিকিটিও নেই কোলকাতার অভিধানগুলিতে। বরং সংস্কৃত ভাষার ব্যুৎপন্নমতি ব্রাহ্মণ পণ্ডিতেরা কিছু কিছু আরবি-ফারসি উৎস থেকে উৎসারিত শব্দকেও চিহ্নিত করেছেন সংস্কৃতের অপভ্রংশ হিশেবে। এই আন্দাজের পেছনে অচেতন বেদমুখীনতা লুকিয়ে আছে বলে মনে হয়। এই হলো সেই বেদ যাতে এতদঞ্চলের ভাষাকে ‘পক্ষীভাষা’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ হেথাকার প্রাকৃতজনের ভাষা মনুষ্যমুখবাচ্য নহে।
আমাদের বাঙালি জাতীয়তাবাদ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বিষয়গুলোকে অ্যাড্রেস করতে অক্ষম। এর অসার আদর্শ ও আখলাক নিম্নরূপ:
১। সেকুলারিজম। এর প্রাণনাথ হলো ইসলাম-বিদ্বেষ, মানে মুসলমানি সংস্কৃতির বিরোধিতা। কারণ ৭১-এ ইসলামের ধুয়া ও ধ্বজা তুলেই নরহত্যা সংঘটিত হয়েছে। ফলে এর মর্মমূলে রয়ে গেছে প্যারানয়াক হিন্দু-মনস্তত্ত্ব। যার মূর্ত উদাহরণ কুলদা রায়। এরা বাংলা ভাষায় ইনশাল্লাহ শুনলে ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি তথা ত্রাহি ত্রাহি করে। এদের কাছে ফররুখ আহমদ অনাধুনিক। কিন্তু কমলকুমার মজুমদার সুপার আধুনিক, যার উপন্যাস শুরু হয় এই ভূমিকাবাক্য দিয়ে : জীবনের উদ্দেশ্য ঈশ্বরদর্শন। অথচ সোনালী কাবিন-এর কাবিন শব্দটাই নাকি গেঁয়ো, অশ্লীল (হুমায়ুন আজাদ)।
২। কোলকাত্তাই মানভাষার শুদ্ধতা রক্ষার দৃপ্ত অঙ্গীকার। অর্থাৎ, আঞ্চলিক ভাষা-বিদ্বেষ। মুসলিম জনপদের ভাষা তাদের কাছে ইতরজনের ভাষা। এই ভাষা উচ্চারণে এদের অজু নষ্ট হয়। অথচ এরা ভুলে যায় তাদের গুরুঠাকুর কিন্তু বলেছিলেন, সত্যিকার বাংলা ব্যাকরণ রচিত হবে মৌখিক ভাষার ব্যাকরণ রচনার মাধ্যমে। এবং এই আহাম্মকদের এও মনে থাকে না যে, বৈষ্ণব পদাবলী থেকে মঙ্গলকাব্য সবই আঞ্চলিক (বলা ভালো মিশ্র) ভাষায় রচিত। নাসিক্য ‘ঞ’-এর প্রাদুর্ভাব চণ্ডীদাসের আঞ্চলিকতার বিশেষ চিহ্ন।
৩। ‘আবহমান বাঙালি চেতনা’ নিঃসন্দেহে একটি ফেক ধারণা। আবহমান বলে কিছু নাই। আর বাঙালি জাতিসত্তার উদ্ভব ও বিকাশ একরৈখিক কোনো ব্যাপার নয়। বাঙালিয়ানার সঙ্গে শাড়িব্লাউজ বা ধুতিপাঞ্জাবির সম্পর্ক এক অর্বাচীনতার নমুনামাত্র। ঠাকুরবাড়ি হতে উৎসারিত। এর সঙ্গে বাংলার লোকায়তিক ভাবচর্চার কোনো সম্পর্ক নাই। এটা একটা ফ্যাশন, মানে মুখোশ। অথচ ঠাকুর যতটা না ‘বাঙালি’ তার থেকে অনেক বেশি ‘ভারতীয়’। রবীন্দ্রনাথের দুপাতা প্রবন্ধ যাদের পড়া আছে তারা আমার কথায় নির্দ্বিধায় ইমান আনবেন। মজার ব্যাপার হলো, বাঙালির উপাস্য এই মহাপুরুষ কিন্তু সাত কোটি বাঙালিরে অমানুষ বলেছেন।
৪। বাঙালি যে অমানুষ তা তারা প্রমাণ করে অবাঙালিদের সঙ্গে আচরণে।
সবশেষে বলব, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এমনকি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের আচরণগত পার্থক্য যে নাই, তা বুঝতে পারা যায় আদিবাসীদের ব্যাপারে তার ভূমিকা বিশ্লেষণ করলেই। জাতীয়তাবাদের সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত না করে নিঃসংশয় ভাবাবেগ কী করে উথলায়, তার তল পাওয়া মুশকিল। মুশকিলটা কিন্তু নামকরণে নয়। নাম তো ক্ষমতাশীলের প্রত্নস্বাক্ষর (এক অর্থে ‘নামায়ন’ গুপ্ত ‘রামায়ণ’ই বটে)। বিএনপি ও জামাতপন্থি বুদ্ধিব্যাপারিদের বক্তব্য, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ কথাটার মধ্যেই অবাঙালিদের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে তাদের বলব, বাংলাদেশ নামের মধ্যেও তো হাজং, মুরং, চাকমাদের অস্বীকার করা আছে। এদেশের নাম তো হয় নি হাজংদেশ, চাকমাদেশ—চাকমা নামের মধ্যে কিন্তু একটা চেকনাই আছে। আমাদের বিবেচ্য হওয়া উচিত খাসলত। কেননা নাম পরিবর্তন ভড়ং মাত্র হতে পারে। সে হোক ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’ বা ‘কাঙালি জাতীয়তাবাদ’ অথবা হোক ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ কিংবা ‘জংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ রাষ্ট্র থেকে ধর্মের স্যাপারেশন চায়, খুব ভালো কথা। তা জাতীয়তাবোধের স্যাপারেশন মানবে কি? যে অর্থে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম একটি সাম্প্রদায়িক ধারণা, সেই অর্থে বাঙালি জাতীয়তাবাদও একটি সাম্প্রদায়িক চেতনা।