মাফিয়াগুচ্ছ
অবহট্ঠ
❑
সময়টা খাপছাড়া, বড় অদ্ভুত
ভূতকেও তাই আজ ভয় পায় ভূত
বোবারাই কথা বলে, বধিরেরা শোনে
অন্ধ রাত্রিভর একা তারা গোনে
এ চোখে সরষে ফুল দেখার আশায়
আমি মরলাম এসে বাংলা ভাষায়
জানলাম শেষমেশ নারী-কাছে নারী
দুঃসহ এক বোঝা, কী ভীষণ ভারী
পুরুষে পুরুষ তবু হেসে গজরায়
মেঘ থেকে গুলি চলে ভাঙা বজরায়
কে কোথায় নেচে যায়, কে পালায় ছুটে
সব আলো পিষে গেল কালো গামবুটে
ঘোড়সওয়ার না থাক, আছে মৃদু হ্রেষা
দিগন্তে মাগরিব, সীমন্তে এশা
মাফিয়া
❑
মনমাঝি তোর বৈঠা ফেলে
কোথায় গেলে—
হতে এলে মাফিয়া?
কী হলো আজ, দিবারাত্র
জ্বলে গাত্র—
নারীমাত্র হাবিয়া।
হাবিয়াকে ভালোবেসে
গেলি ফেঁসে—
নিলি হেসে কারাগার!
রইল পড়ে সাধুসঙ্গ,
এখন অঙ্গ
দুস্তরঙ্গ পারাবার।
ডাক দেখি তোর সঙ্গীসাথি
জঙ্গিজাতি
বুকের ছাতি ফুলিয়ে—
আসুক তারা চ'ড়ে রকেট
বোমা-পকেট
গলায় লকেট ঝুলিয়ে।
বল না তাদের, লড়তে হবে
অসম্ভবে—
ঝাঁপ দে তবে লাফিয়া।
মনমাঝি তুই জনস্রোতে
নৌকাপথে
পারবি হতে মাফিয়া?
পৈশাচিক
❑
অপপ্রচারে ছড়াও আমারে
গুজবে ভরাও কান।
সত্য ঘটনা সকলি রটনা—
ষড়-যন্ত্রের টান।
ভ্রান্তিতে তাই শান্তি যে চাই
ক্লান্তির শেষে ঘুম।
স্বপ্নের ক্রাচে অন্ধও নাচে
সেও যাচে হ্যান্ডলুম।
বুনে বুনে তাঁত কেউ সারা রাত
পাড়া মাত করে গায়।
ডুকরে ডুকরে উঠে কি কুকুরে
মুগুরেই মরে যায়?
আমি রাষ্ট্রের যূপকাষ্ঠের
মাথায় তুলেছি খড়্গ।
তোমার গুমের আগেই ঘুমের
ভিতরে গড়েছি মর্গ।
ভূত হয়ে যাই, ভবিকে নাচাই,
নিজেকে বাঁচাই, সোনা—
মৃত্যুর আগে আত্মার ডাকে
করি প্রেত-উপাসনা।
বুদ্ধি-পাক্কা মেনেছে আজ্ঞা
দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে।
হেসে দিল ফিক, যে অটিস্টিক—
লজিস্টিক না পেয়ে।
যত তড়পায়, ডাকি তারে আয়,
হামাগুড়ি খায় চাঁদপানা—
জোছনার জল চোখে ছলছল
জিনেদেরও দল রাতকানা।
তারা যে মূর্খ, জ্ঞানের দুর্গ
ভেঙে বুজুর্গ হতে নারে।
গানে সুর দিতে মহা-ফূর্তিতে
ভাবমূর্তিতে লাথি মারে।
আমতা আমতা করেই নামতা
শিখুক ভূতের বাচ্চা।
এই পদগুলি পৈশাচী বুলি
দেবতার চেয়ে সাচ্চা।
জান ও জবান
❑
আমি তোদের প্রাণ বাঁচাব
জানটা কবজ ক'রে।
কণ্ঠে তোদের ছন্দ দেব
জবান-বন্ধ গোরে।
গোরের পাশে গাছ লাগাব
ফুটবে তাতে ফুল—
তুলবে ছবি, আসবে কবি
করবে হুলুস্থূল।
সাঁড়াশি প্রেম
❑
আইন দিয়ে বাইন মাছে
যাবে কি আর বশ করা!
বড়শি ফেলা, জালটা ঠেলা—
এখন সবই মশকরা।
ধাঁধার মতো লুকিয়ে আছে
কাদার মাঝে গিয়ে;
জাগিয়ে তাকে ভাগিয়ে আনো
কোঁচের খোঁচা দিয়ে।
জলের তলে সদলবলে
জঙ্গিদেরই আস্তানা।
শত্রু খোঁজা সহজ তবু
বন্ধু এত সস্তা না।
তাই তো আমি হাল ভেঙেছি
তাল কাটি নি একটুও;
ঢেউ-খেলা এ মন বলেছে
হাত বাড়িয়ে মেঘ ছুঁয়ো।
হ্যাকিং-জানা ট্র্যাকিং সেলে
চেকিং করি সর্বদা—
আরশি ভেঙে পড়শি পাব
কোথায় যাবে মোর খোদা!
সোহেল হাসান গালিব
জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮, টাঙ্গাইল। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর...
বিস্তারিত
জন্ম ১৫ নভেম্বর ১৯৭৮, টাঙ্গাইল। বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা।
প্রকাশিত বই :
কবিতা—
চৌষট্টি ডানার উড্ডয়ন [সমুত্থান, ২০০৭]
দ্বৈপায়ন বেদনার থেকে [শুদ্ধস্বর, ২০০৯]
রক্তমেমোরেন্ডাম [ভাষাচিত্র, ২০১১]
অনঙ্গ রূপের দেশে [আড়িয়াল, ২০১৪]
তিমিরে তারানা [অগ্রদূত, ২০১৭]
ফুঁ [বাতিঘর, ২০২০]
চৌষট্টি পাখুড়ি (আদর্শ, ২০২২)
দরজায় আইভিলতা [ঐতিহ্য, ২০২৩]
প্রেমের কবিতা [ক্রিয়েটিভ ঢাকা, ২০২৩]
পায়ে বিঁধেছে হসন্ত [বুনন, ২০২৫]
প্রবন্ধ—
বাদ-মাগরিব (ভাষা-রাজনীতির গোপন পাঠ) [অগ্রদূত, ২০১৮]
আমার খুতবাগুলি [উজান, ২০২৪]
সম্পাদিত গ্রন্থ—
শূন্যের কবিতা (প্রথম দশকের নির্বাচিত কবিতা) [বাঙলায়ন, ২০০৮]
কহনকথা (সেলিম আল দীনের নির্বাচিত সাক্ষাৎকার) [শুদ্ধস্বর, ২০০৮]
সম্পাদনা [সাহিত্যপত্রিকা] : ক্রান্তিক, বনপাংশুল।
ই-মেইল : galib.uttara@gmail.com
(স্বল্প)