সেলিম মোরশেদ লেখেন আইডিয়া-নির্ভর গল্প। কিন্তু তাতে থাকে বাস্তবতার অনুপুঙ্খ বর্ণনা। মানে ডিটেইলিং। তার চিন্তা-প্রকল্পকে পরিপার্শ্বের নানা অনুষঙ্গের আলিঙ্গনে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে চান তিনি। চান আইডিয়াকে আড়াল করতে। মতাদর্শ-পরিচালিত যে নন, তা বোঝাবার একটা দায় আছে সম্ভবত। তার উপজীব্য, উপপাদ্য, উৎসাহ—এ সমস্ত কিছুই দানা বাধে প্রান্তিক মানুষ ও তাদের জীবনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু যে মাধ্যমে তা বিবৃত-বিধৃত, তা হলো ক্ষমতাকেন্দ্রের ভাষা। অনেকখানিই কেতাবি। লেখকের দৃষ্টিকোণ, তার প্রবণতা ক্লাসিসিস্ট বলে তাকে চিহ্নিত করতে পারে অনায়াসে। সেই সঙ্গে গল্পের চরিত্র থেকে লেখকচরিত্রের যে দূরত্ব, যে বিপ্রতীকতা—যা ভাষার মধ্যেই প্রকটিত—তাকে আড়ালও করতে পারে।
তৎসম শব্দবহুলতা, অ্যাকাডেমিক ডিসকার্সিভ ভঙ্গি সেলিমের গল্পকে করে তোলে একই সঙ্গে সংহত ও আড়ষ্ট।
তৎসম শব্দবহুলতা, অ্যাকাডেমিক ডিসকার্সিভ ভঙ্গি সেলিমের গল্পকে করে তোলে একই সঙ্গে সংহত ও আড়ষ্ট। এই আড়ষ্টতাও কিন্তু উপভোগ্য হয়ে ওঠে কখনোবা। যেমনটা আমরা দেখেছি কমলকুমার মজুমদারে। কিভাবে হয় সেটা? কী এর কারণ? আলগাভাবে বলতে গেলে, তার কারণ কবিত্ব। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, ধ্বনি ও চিত্রের সমাবেশ। সমাবেশও ঠিক নয়, বলা ভালো সমন্বয়। এবং সমন্বিত স্রোতপ্রবাহ। উদাহরণ দেয়া যাক অন্তর্জলী যাত্রা থেকে :
অনতিদূরে উদার বিশাল প্রবাহিণী গঙ্গা, তরল মাতৃমূর্ত্তি যথা, মধ্যে মধ্যে বায়ু অনর্গল উচ্ছ্বসিত হইয়া উঠে; এইস্থানে, বেলাতটে, বিবশকারী উদ্বিগ্নতা ক্ষুদ্র একটি জনমণ্ডলীকে আশ্রয় করিয়া আছে। কোথাও কারণের বিকার মাত্র নাই, প্রতিবিম্ব নাই, কোথাও স্বপ্ন পর্য্যন্ত নাই; এ কারণে যে, একটি মুহূর্ত্তের সকল কিছুকে বাস্তবকরত স্মরণীয় করিয়া একের যে নাম ভিন্ন ক্রমাগতই অপ্রাকৃতিক পার্থিব, তাহারই প্রাণবায়ু নিষ্ক্রান্ত হইবে এবং তাই মানুষমাত্রই নিশ্চল, ম্রিয়মাণ, বিমূঢ়। ইহাদের প্রত্যেকেরই মুখে মুখে নির্ব্বোধ গাম্ভীর্য আরূঢ় হইয়া রহিয়াছে মনে হয়, কখন তাহারা কপালে করাঘাত করিবার অমোঘ সুযোগ পাইবে তাহারই যেনবা কাল গণনা করিতেছে। কেননা চির অসূর্যম্পশ্যা জীবন এই প্রথম আলোকের শরণাপন্ন, কেননা শূন্যতা লবণাক্ত এবং মহাআকাশ অগ্নিময় হইবে।
এই ‘ধ্বনিচিত্রের সমন্বিত স্রোতপ্রবাহ’ ঠিক যেন স্ফূর্তি পায় না সেলিম মোরশেদের গদ্যে। নিরাবেগ, বড় সংরাগরিক্ত এ গদ্য—কখনোবা মনে হয়। অবশ্য এ অভাব তার স্বভাবও হতে পারে। ‘কান্নাঘর’ গল্প থেকে এক চিলতে নমুনা :
নিত্যানন্দ কাঁদতে গিয়ে যা ভাবে—কান্না দূরের কথা হাস্যানন্দ আর কৌতুকে সে লজ্জিত এবং বিচলিত। ঈশ্বর কেমন—আনন্দ আর আনন্দ—মধুর থেকে মধুর। প্রভুর সাথে ভক্তের সম্পর্ক সেবক আর সেবার। ভক্তের প্রীতরস আস্বাদনেই স্রষ্টা আনন্দিত। প্রশ্ন কোথায়—তার প্রেমবশ্যতার অবকাশ? সে মাধুর্যের ঊর্মিলীলা কোথায়? অভিধেয়? অভীষ্টকে পাবার যে উপায় তাই তো অভিধেয়। অভীষ্টকে জানলে আর ভয় থাকে না। নিত্যানন্দ জানে, যোগমার্গে সকলের অধিকার নেই। মনকে যে একীভূত করতে পারে, বশীভূত করতে পারে সেই তো যোগ্য। এই জ্ঞান যা কেবল ভক্তিতে আসে। তবে উপাসনার প্রয়োজন? সংসার-জ্বালা আর রিপু-জ্বালা থেকে উদ্ধার পাওয়া। আত্মাকে রমণ করে যে আনন্দ সে আনন্দই আত্মাকে এনে দেয় আত্মোপলব্ধি।
উদ্ধৃতি থেকে পাঠক কিছুটা আঁচ করতে পারবেন হয়তো গল্পের ভাববস্তু সম্পর্কে। ভক্তি ও বাহুবলের শাশ্বত দ্বন্দ্বই গল্পের ভরকেন্দ্র। ভক্তি কী? এ ব্যাপারে কান্নাঘরের ব্যাখ্যায় আমরা যাব। কিন্তু তার আগে ঘুরে আসব বঙ্কিমের আনন্দমঠ থেকে। কেন আনন্দমঠ, সেটা আলোচনাক্রমে পরিস্ফুট হবে আশা করি।
কেহ কোনো শব্দ করিতেছে না।
বরং সে অন্ধকার অনুভব করা যায়—শব্দময়ী পৃথিবীর সে নিস্তব্ধভাব অনুভব করা যাইতে পারে না। সেই অন্তশূন্য অরণ্যমধ্যে, সেই সূচীভেদ্য অন্ধকারময় নিশীথে, সেই অননুভবনীয় নিস্তব্ধ মধ্যে শব্দ হইল, “আমার মনস্কাম কি সিদ্ধ হইবে না?”শব্দ হইয়া আবার সে অরণ্যানী নিস্তব্ধে ডুবিয়া গেল; তখন কে বলিবে যে, এ অরণ্যমধ্যে মনুষ্যশব্দ শুনা গিয়াছিল? কিছুকাল পরে আবার শব্দ হইল, আবার সেই নিস্তব্ধ মথিত করিয়া মনুষ্যকণ্ঠ ধ্বনিত হইল, “আমার মনস্কাম কি সিদ্ধ হইবে না?”
এইরূপ তিন বার সেই অন্ধকারসমুদ্র আলোড়িত হইল। তখন উত্তর হইল, “তোমার পণ কি?”
প্রত্যুত্তরে বলিল, “পণ আমার জীবনসর্ব্বস্ব।”
প্রতিশব্দ হইল, “জীবন তুচ্ছ; সকলেই ত্যাগ করিতে পারে।”
“আর কি আছে? আর কি দিব?”
তখন উত্তর হইল, “ভক্তি।”
এবারে ‘কান্নাঘর’ :
শরীরের সমস্ত বলটুকু মনের ওপর স্থাপন করে। নিত্যানন্দ এ-কী করছে? প্রগাঢ় প্রেমাবেশে যেন সন্তরণে নাচছে—টলে-টলে, ঢলে-ঢলে। এই তো ভক্তি—এই তো ধর্ম। অচেনা গন্তব্য আর একাকী ভ্রমণ! প্রকাশ নেই অথচ বিকাশ আছে। প্রলোভন নেই, প্রশস্তি আছে। ভ্রু-র বাঁকদুটো উঁচু। এর মাঝখানে জলছাপের মতো তিনটি রেখার জেগে ওঠা। দূর থেকে সমুদ্রের ফুলে ওঠা অজস্র ফেনাগুলো সূর্যালোকে শুভ্র থেকে গোলাপি হয়ে আসে তারপর যেন হাওয়া মিঠাইয়ের মতো ফাঁপাটুকু সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। নিত্যানন্দ দু’হাত দু’পা ছেড়ে নিজেকে আরও ছোটো করে ছেড়ে দেয়। পথই বলুক পথের ঠিকানা। যে পথিক তার নির্ধারণ ক্ষমতা কতটুকু? কাল্পনিক পরিণতিটুকু নিয়ে চলা। নিত্যানন্দ বলে, ‘আমি ক্ষুদ্র, এই প্রচণ্ড-গম্ভীর-গভীর দূর উথাল-পাথাল সমুদ্রে—যার গ্রীবা পাহাড়ের মতো উন্নত অথচ চলমান আর বড়ো বড়ো অজগরের মতো কুণ্ডলী পাকানো স্রোতের পাকের অবিরত গুমগুম গর্জনে আমি সন্ত্রস্ত।—তবু হে সমুদ্র আমার অভিলাষ—এই ভক্তের বাসনা পূর্ণ করো।’ পরিশ্রমের পর সে একটা কিনারা দেখে। বিস্তৃত বেলাভূমি—ধু-ধু বালি। একটি ডুমুরগাছ নিত্যানন্দ লক্ষ করে। এই বেলাভূমিতে? কাছে যেতেই গাছ বলে ওঠে, ‘জন্ম নিয়েছি তারাবৃক্ষ হয়ে।’
গ্রামের বাইরে গিয়ে গোপনে হোটেলে উঠে সে কান্নার অনুশীলন করে সবার আড়ালে। তবু তার কান্না আসে না।
‘কান্নাঘর’ গল্পটি আবর্তিত হয়েছে ভগবেনে সম্প্রদায়ের এক ভক্তের কান্না পাওয়া না পাওয়ার দোলাচলে। শূন্য ভাবাবেশে অশ্রু-উদ্গত যে কান্নার ঢেউ ওঠে বিজয় ঠাকুরের চোখে, তাকে ঠিকঠাক মতো অনুসরণ করতে পারে কেবল সদানন্দ। প্রশ্নহীন, বিকারহীন এই কান্নার কোনো উৎস খুঁজে পায় না নিত্যানন্দ। এটা কি নিছকই প্রথা, অভ্যাস? সে ঠিক বুঝতে পারে না। কিন্তু চোখে অশ্রুর কণা জাগিয়ে তুলতে চেষ্টার কমতি নেই তার। গ্রামের বাইরে গিয়ে গোপনে হোটেলে উঠে সে কান্নার অনুশীলন করে সবার আড়ালে। তবু তার কান্না আসে না। কেবল নিয়মভঙ্গ হয়। কেননা হোটেলে থাকা, ডাক্তারের কাছে যাওয়া রীতিমতো অপরাধ বলে গণ্য তাদের সমাজে।
গল্পের শেষে আমরা দেখি, এই ডাক্তারের কাছে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ভগবেনেদের দুই ‘চ্যাংড়া গুন্ডা’ তাদের গুরু বিজয়মোহন ঠাকুরের ওপর চড়াও হয় তাকে ব্ল্যাকমেইল করার ধান্ধায়। তার মেয়ে আসমাকেও অপদস্থ করতে চায় তারা। বিশুদ্ধ ভক্তি দিয়ে তাদের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় সকলেই। তারা রক্তপাতে বিশ্বাস করে না, তাই সদানন্দ মার খেতে খেতে ভাবে : ‘না আমি আর পারলাম না; আমার আর কোনো অ্যাকশন নেই, আর কোনো শক্তি নেই প্রতিহত করার, হেরে গেছি আমি...।’ ঠিক সেই মুহূর্তে নিত্যানন্দ ভক্তি নয়, ‘বাহুবল’ নিয়ে আবির্ভূত হয়। গুন্ডা দুটিকে পরাস্ত করে এবং ঘটনাক্রমে তারা নিহত হয়।
স্বাভাবিকভাবেই পুলিশে খবর যায়। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই পরবর্তী গুরু নির্বাচনের কাজটা সেরে নিতে চান বিজয় ঠাকুর এবং তার স্ত্রী যশোদা। যথারীতি বিজয় সদানন্দকেই যোগ্য উত্তরসূরি বলে মনে করেন, কিন্তু বাদ সাধেন যশোদা। তার ইচ্ছায় নিত্যানন্দেরই অভিষেক ঘটে শেষ পর্যন্ত। এই প্রথম চোখে পানি আসে নিত্যানন্দের।
সহিংসতা ছাড়া টিকে থাকবার আর কোনো বিকল্প নেই বলেই সেই বাস্তবতার মুখোমুখি প্রত্যেকেই অসহায়।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এই চোখে পানি আসার ব্যাপারটা গল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য। কর্তাভজা সম্প্রদায়ের গুরুপদে অভিষেকে এ কেবল আনন্দাশ্রু নয়। দুজন মানুষকে হত্যা করেছে নিত্যানন্দ, রক্তপাত নিষিদ্ধ জেনেও। এটাই জীবনের কঠিন বাস্তবতা, যাকে এড়ানোর উপায় নেই। সহিংসতা ছাড়া টিকে থাকবার আর কোনো বিকল্প নেই বলেই সেই বাস্তবতার মুখোমুখি প্রত্যেকেই অসহায়। এই অসহায়ত্বই আদিগন্ত বেদনার উৎস।
কিন্তু অসহায় কি কেবল নিত্যানন্দ? সভ্যতার আর্তনাদ কি লুকিয়ে নেই এখানে? পৃথিবীর ইতিহাস গণহত্যার ইতিহাস, একভাবে বিচার করলে। ভক্তি দিয়ে তাকে রুখে দেয়া যায় নি। ভারতীয় মুনি-ঋষি যখন শূন্যমার্গে ধ্যানমগ্ন, শক-হূনদল-পাঠান-মোগল-হার্মাদ-ইংরেজ তখন এই ভূখণ্ড, জনপদ লণ্ডভণ্ড করেছে, লুণ্ঠন করেছে। ফকির-সন্ন্যাসীরাও তাই নিষ্ক্রিয় বসে থাকতে পারে নি। তাদেরও বিদ্রোহ করতে হয়েছে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়েছে বারবার।
বঙ্কিম তার আনন্দমঠের স্তোত্রমন্ত্রে ভক্তির কথা বললেও মূলত তিনি আবাহন করেছেন বাহুবলের। কিন্তু সেই বাহুবল ভুলপথে পরিচালিত হলো। তারও ঐতিহাসিক কারণ আছে। রণজিৎ গুহ তার ‘দয়া (রামমোহন রায় ও আমাদের আধুনিকতা)’ বইতে লিখছেন : ‘রাজশক্তির প্রশ্রয়ে তার প্রসাদলুব্ধ দেশীয় উচ্চবর্গের উদ্যোগ ও স্বার্থ যতই পুষ্ট হতে থাকে ততই তাদের নেতৃত্বে সমসামাজিক স্বাদেশিকতার ওপরতলায় রাজনীতির আসর জমে ওঠে। যে-মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দেশীয় সাধারণ্যকে আধুনিকতার দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিল তার সূচনাপর্বেই, তাও পিছিয়ে পড়ে পলিটিক্সের দাপটে। শেষ পর্যন্ত, আধুনিকতার বয়ঃপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে স্বাদেশিকতা পরিণত হয় রাষ্ট্রক্ষমতার কাঙাল রাজনীতিতে এবং তারই যুগসম্মত রূপ জাতীয়তাবাদে। সেই রূপান্তরের লগ্নে দয়া ও সহানুভূতির আদর্শ ক্রমে ক্রমে অস্তে গেল। আর তার পরিবর্তে সাধারণ্যের ভাবাকাশে দেখা দিল নতুন আরেক আদর্শ—বঙ্কিমচন্দ্রের রচনায় যা কয়েক দশকের মধ্যেই বাহুবল নামে প্রসিদ্ধি অর্জন করবে।’
প্রতিটি হত্যাই এক অর্থে ভ্রাতৃহত্যা। এটা বুঝতে পেরেছিল নিত্যানন্দ। এবং যশোদাও।
ঠিক এই কারণে বাহুবলের কিছুটা নিন্দাই করলেন রবীন্দ্রনাথ, আনন্দমঠের কিছুকাল পরে লেখা বিসর্জন নাটকে। রঘুপতির কণ্ঠে উচ্চারিত হলো : ‘সে-কাল গিয়েছে,/ অস্ত্র চাই, অস্ত্র চাই—শুধু ভক্তি নয়।’ গোবিন্দমাণিক্য তার প্রত্যুত্তর করছেন : ‘অবশেষে সৈন্য দিয়ে ঘিরিতে হইল/ ধর্ম। লজ্জা হয় ডাকিতে সৈনিকদল।/ বাহুবল দুর্বলতা করায় স্মরণ।’ ভ্রাতৃহত্যা রোধ করতে গিয়ে এই বাহুবলের করুণ শিকার জয়সিংহ। বঙ্কিমের বাহুবলও ভ্রাতৃহত্যার বাহুবল। বিশ্বব্যাপী এই যে জঙ্গিবাদের উত্থান, সেও শক্তি ও ভক্তির কদর্য প্রকাশই বটে।
প্রতিটি হত্যাই এক অর্থে ভ্রাতৃহত্যা। এটা বুঝতে পেরেছিল নিত্যানন্দ। এবং যশোদাও। তাই যশোদা বরণ করে নিল সেই মানুষটিকে, ভক্তি ও বাহুবল যার মধ্যে বেদনায় অভিষিক্ত হয়েছে। এটাই হয়তো তাদের জন্য ‘ট্র্যাজিক সেন্স অব লাইফ’। ‘কান্নাঘর’ যেন সভ্যতার সেই বোধিচিত্ত, নিঃশব্দ আর্তনাদের এক গোপন কুঠরি।