পর্ব-৪৩
পর্ব-৪৪
বাংলা একাডেমি থেকে ইতঃপূর্বে দশক-ওয়ারি সংকলন প্রকাশিত হয়েছিল। সত্তর দশকের সংকলনটি সম্পাদনা করেছিলেন কথাসাহিত্যিক সুশান্ত মজুমদার। আশির দশকের সংকলনটি সম্পাদনা করেছিলেন কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহান।
আমিও বহুদিন ধরে নব্বই দশকের একটা সংকলন সম্পাদনা করব এমন চিন্তাভাবনা করছিলাম। [ব্যাস সম্পাদক রবিউল করিম নব্বই দশকের গল্প সম্পাদনা করার পর থেকেই আমার এই ইচ্ছা গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়। আমি এ নিয়ে প্রস্তুতিও শুরু করেছিলাম। এবং বাংলা একাডেমি থেকে তা প্রকাশ করা যায় কিনা এ-বিষয় নিয়েও ভাবছিলাম। মাঝখানে পারিবারিক বিস্তর ঝামেলা পোহানোর ফলে আমার সেই প্রস্তুতিতে খানিকটা ভাটা পড়ে যায়। কিন্তু সামান্য দাঁড়াতে পেরেই আমি ফের ছুটতে শুরু করি। ফের পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করি।
২০০৭ সালে বাংলা একাডেমির ডিজি হয়ে এলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ। আমি স্যারের সাথে একদিন দেখা করে আমার মনোবাঞ্ছার কথা জানালাম। স্যার বললেন—
অত্যন্ত ভালো সংবাদ। আমি তোমাকে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে দিচ্ছি। তুমি তোমার কাজ শুরু করো।
অত্যন্ত বিস্ময় নিয়ে দেখলাম, সম্পাদনায় আমার নামের নিচে ‘অরণ্য প্রভা’ নামটি বসানো রয়েছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ স্যারকে এই প্রপোজাল দেয়ার কয়েক মাস পূর্বে লেখক অরণ্য প্রভার সাথে আমার পরিচয় হয়। এটা অরণ্য প্রভার পেননেম, অরণ্যের আসল নাম আপলু। অনেকের কাছেই শুনেছিলাম, আপলু অত্যন্ত ভালো কম্পোজিটর। আপলুকে দিয়ে আমার কয়েকটা গল্প কম্পোজ করিয়ে নেবার পর, এ বিষয়ে আমিও নিশ্চিত হয়েছিলাম। আপলুকে আমি জানালাম যে, আমি একটা সম্পাদনার কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছি। এখন তুমি যদি আমার নির্বাচিত গল্পগুলি কম্পোজ করে দিতে, তাহলে উপকৃত হতাম। আপলুও আনন্দিত চিত্তে তা করে দিতে রাজি হলো। সে রাজি হলো ঠিকই, কিন্তু আমি পড়লাম মহা-মুসিবতে। কারণ আপলু মাঝেসাঝেই ‘নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে’ এর-ওর-তার [এখানে পড়তে হবে যারতার গল্প নিয়ে আমার বাসায় আসতে লাগল। সঙ্গে অনুরোধ, আমি যেন তাদের গল্প এই সংকলনভুক্ত করি। কিন্তু তার এনে দেয়া গল্পগুলি পড়ার পর আমি আপলুকে চরমভাবেই হতাশ করছিলাম। আপলু যেসব গল্প নিয়ে আসছিল, আমি সেসব গল্প আমার সংকলনভুক্ত করার উপযোগীই মনে করছিলাম না। আপলু মনে মনে ক্ষুণ্ন হলেও, মুখে তা প্রকাশ করছিল না। আপলু হয়তো এটাও বুঝে গিয়েছিল যে, আমি ওর গল্পও আমার এই সংকলনভুক্ত করব না।
অনেক কষ্টেমষ্টে এন্তার লেখকদের সাথে যোগাযোগ ক'রে, [এঁদের মাঝে দুই-একজন চরম ঘাড়ত্যাড়া লেখকও আছেন। তাঁদের লেখা তাঁদের বাড়ি গিয়ে আনতে হয়েছে। দুই-একজনের বাসায় আমি আপলুকে পাঠিয়েছিলাম। তাদের লেখাপত্র পড়ার পর গল্প নির্বাচন ক'রে, মোটামুটি শক্তপোক্ত একটা এডিটরিয়াল লিখে আপলুকে দিলাম কম্পোজ করে দেয়ার জন্য। কম্পোজ শেষ হলো। প্রুফ রিডিং কমপ্লিট হলে আপলুকে ফাইনাল প্রিন্ট দিতে বললাম।
আপলু যেদিন ফাইনাল প্রিন্ট এনে দিল, হার্ডকপির পাতা উলটেপালটে আমি হতবিহ্বল হয়ে পড়লাম। অত্যন্ত বিস্ময় নিয়ে দেখলাম, সম্পাদনায় আমার নামের নিচে ‘অরণ্য প্রভা’ নামটি বসানো রয়েছে। আপলুর এই কাজ আমার কাছে একেবারে ‘স্পর্ধার মতো’ মনে হলো।
সমস্ত লেখক সিলেকশন আমার, তাদের গল্পের যাবতীয় সিলেকশন আমার, সম্পাদকীয় লেখাও আমার, শুধুমাত্র কম্পোজ করে দেয়ার কারণে একজন কম্পোজিটর কী করে সম্পাদনায় নিজের নাম যুক্ত করে দিতে পারে, আমার তা কিছুতেই বোধগম্য হলো না।
আমি রাগে-অপমানে আপলুর সাথে আর কোনো কথাই বলতে পারলাম না। কম্পোজের তিন হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে [এর আগে আমি আপলুকে আরও কিছু টাকা দিয়েছিলাম অ্যাডভান্স হিসেবে চুপচাপ নিজের রুমে চলে এলাম।
ওইদিনের পর থেকে আমি আপলুর সাথে আর একটা কথাও বলি নাই। এমনকি তার কোনো ফোনকলও রিসিভ করি নাই।
উপসংকলন বিভাগের উপপরিচালক তখন হারুন অর রশীদ। আমি ম্যানুস্ক্রিপ্ট প্রস্তুত করে উনাকে জমা দিলাম।দিন যায়, মাস যায়, সব যায়—আমার সম্পাদনা-গ্রন্থ বিষয়ে কোনো আপডেট নাই। আমিও তীর্থের কাকের মতো হা করে বসে আছি তো আছিই। আমার সম্পাদনা-গ্রন্থটি কেউ আটকে রাখবে, এরকম চিন্তা আমার মাথাতেও আসে নাই। আমার সাথে কারো কোনোদিন শত্রুতা তৈরি হয় নাই—কিন্তু তারপরেও কেউ আমাকে বেশ খানিকটা নাকানিচুবানি খাওয়াবে, এমন ভেবে থাকলে আমার কীইবা করার আছে? অনেক পরে বুঝেছিলাম, নারীদের জন্য কোনো পথই আদতে মসৃণ নয়। বেশিরভাগ পুরুষই আশা করে, কোনো নারীর কাজ তার কব্জার মাঝে এলেই সেই নারী তাকে ’এক্সট্রা খাতির’ করবে। আমি জানি না নারীলেখকদের নিয়ে এমনতর ধারণা কী করে যে এই সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? কিন্তু আমি তো ওই ধাতেরই নই। আমার কাজ কেউ হাজার বছর ফেলে রাখলেও ‘এক্সট্রা খাতির’ দেখানো আমার পক্ষে সম্ভবপরই নয়। কারণ আমি যে কাজটিই করি না কেন, আমি ভালো করেই জানি—আমি কী করছি?
সংকলন বিভাগ আমার জমা দেয়া পাণ্ডুলিপি ধামাচাপা বললে ভুল হবে, যেন একেবারে মাটিচাপা দিয়েই রেখে দিলেন। আমি বুঝতে পারলাম উপপরিচালক হারুন অর রশীদ কিছুতেই চান না আমার সম্পাদনায় এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হোক।
২০০৭ থেকে ২০০৯—এই দুই বছরে সংকলনটির কোনো হিল্লেই হলো না। ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রইল কোন আঁধার-গহ্বরে কে জানে? ২০০৯ সালের মে মাসে শামসুজ্জামান খান ডিজি হয়ে এলে আমি যেন কিছুটা আশার আলো দেখতে পেলাম। বয়ন উপন্যাস পড়ার সুবাদে তিনি আমায় অত্যন্ত স্নেহ করেন। আমি একদিন জামান ভাইয়ের সাথে দেখা করে জানালাম যে, আমার একটা পাণ্ডুলিপি জমা দেয়া আছে সংকলন বিভাগে। ততদিনে তপন বাগচী নিয়োগ পেয়েছে বাংলা একাডেমিতে। জামান ভাই তপন বাগচীকে বললেন আমার পাণ্ডুলিপি কী অবস্থায় রয়েছে তা দেখার জন্য। ওই যে কথায় বলে না, যেই যায় লংকায়, সেই হয় রাবণ! যেই যায় বাংলা একাডেমিতে সেই যেন এক হাত দেখিয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করে। আমার পাণ্ডলিপি এতদিন বাদে পাঠানো হলো দুই জন রিভিউয়ারের কাছে। তাঁরা তাঁদের অভিমত জানালেন। এবং সামান্য কিছু সংশোধনের জন্য আমাকে চিঠি দেয়া হলো। আমিও যথারীতি সেসব সংশোধন করে দিলাম। তন্মধ্যে একটা ছিল, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে ওই সংকলন থেকে বাদ দেয়া। কিন্তু তপন বাগচী রিভিউয়ারদের ওইসব বিবেচনা আমলেই আনলেন না। তার যেন আরও অধিক কিছু চাই। সূর্যের চাইতে বালির উত্তাপ একটু বেশিই হয়—এই তরিকাতেই চলতে চান নানা গুণের আকর এই তপন বাগচী! [জিভ বের করে এক চোখ উইংক ইমো হবে এখানে এবং তপন বাগচীও উঠেপড়ে লাগলেন আমার সম্পাদনা-গ্রন্থটি আটকে দেয়ার জন্য। আটকে দেয়ার অভীপ্সায় তপন বাগচী প্রথম আপত্তি জানালেন আমার লেখা সম্পাদকীয় নিয়ে। আমি সামান্য থমকালাম। সম্পাদকীয়টি নিয়ে দুই জন রিভিউয়ার [পরে জেনেছিলাম এঁরা হচ্ছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ও ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ কোনো আপত্তি তোলেন নাই, তাহলে বালি তপন বাগচীর এত উত্তপ্ত হওয়ার অর্থ কী?
তপন বাগচী আমাকে এক হাত দেখানোর লক্ষ্যে আরও কিছু কূটবুদ্ধি চালল। সে আমাকে চিঠি দিল এই মর্মে, এই সংকলনের সমস্ত লেখকদের অথোরাইজেশন-লেটার জমা দিতে হবে। [আমি বুঝলাম, বাংলা একাডেমিতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত তপন বাগচী আরও বহু বদ-মতলব এঁটেছে। এইগুলি কিন্তু দুই রিভিউয়ার তাদের দেয়া অভিমতে যুক্ত করেন নাই। তপন বাগচীর উদ্দেশ্য ছিল, যদি পাঁচজন লেখকও তাদের লেখা দিতে অস্বীকৃতি জানান তাহলে এই সংকলনের বড়সড় ধস নামানো যাবে! কিন্তু কথায় বলে না, রাখে আল্লাহ মারে কে
কোনো গ্রন্থ থেকে রেফারেন্স হিসেবে কিছু সংযুক্ত করার পর, ঋণ স্বীকার সত্ত্বেও তা ‘চুরি’ হয় কিনা আমার জানা ছিল না। আমি বারংবার বলার পরও তপন বাগচী একই অভিযোগ উত্থাপন করতে লাগলেন। এক পর্যায়ে এটাও বললেন যে, এই গ্রন্থ প্রকাশিত হলে উনার চাকরি চলে যাবে! আমার এত শত্রু! তারা কবে, কই, কিভাবে গজাল এবং তা কিনা আমারই অগোচরে? আমার মাথায় এইবার সত্যি সত্যিই আসমান ভেঙে পড়ল!
একটা গ্রন্থ নিয়ে বহুদিন ধরেই বহু যন্ত্রণা আমায় দিয়ে আসছিল এই তপন বাগচী!
উপায়ান্তহীন হয়ে বন্ধুবর কথাসাহিত্যিক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে ফোন করে বিস্তারিত জানালাম। উনি বললেন—সম্পাদকীয়টি পাঠান, আমি পড়ে দেখছি। উনি মেইল পেয়ে ফিরতি মেইলে আমায় জানালেন যে, অত্যন্ত সমৃদ্ধ সম্পাদকীয় হয়েছে এটা। কিন্তু তপন বাগচী আপনাকে যখন বাগে পেয়েছে তখন কী আর করবেন? কিছুটা চেঞ্জ করে দিন। বলেই তিনি আরও কিছু বইপত্রের নাম লিখে পাঠালেন আমায়।
আমি সেইসব বইপত্র ঘেঁটেঘুঁটে রিরাইট করে ড. তপনকে পাঠালাম। কিন্তু তপন বাগচী এবার এতেও সন্তুষ্ট নন। ক্রমাগত বলতে লাগলেন আপনি তো সত্তর দশক, আশির দশক থেকে কিছুটা নিয়েছেন, এটা কিছুতেই ছাপা যাবে না! [দুই সূর্য রিভিউয়ারের চাইতে বালি তপন অধিক উত্তপ্তই রইলেন!
এইবার আমিও বেঁকে বসলাম। এই বাঁকা মানে ধনুকের চাইতেও বাঁকা! আমার এই বাঁকার সাথে যাদের পরিচয় আছে তারা জানে, এই বাঁকার আসল চেহারা! তপনকে জানালাম, এই বই নিয়ে আমার আর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নাই। ছাপলে ছাপুন, নইলে বন্ধ রাখুন। সম্পাদকীয়র আর একটা শব্দও আমি চেঞ্জ করে দেবো না।
[আহারে, সেই পেইন মনে করে আর কোনোদিন বাংলা একাডেমি থেকে কোনো বই প্রকাশ করতে যাই নি। বহু প্রপোজাল ছিল, তবুও যাই নি। আর এত সামান্য পারিশ্রমিক দেবে, আগে জানলে এই ভুতের বেগার কে খাটতে যায়? তওবা, তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ
তপন বাগচী ওখানেই থামলেন, তেমন নয়। তার হাতে রইল অথরাইজেশন-লেটার ও সমস্ত গল্পের মূল হার্ডকপি জমা দেয়ার নির্দেশ! এইবার আমি পড়লাম ফ্যাসাদে। প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জড়ো করা লেখাপত্রের হার্ডকপি আমি কই পাই? কিছু গল্প তো আমি পত্রিকা থেকে নিয়েছি। কিছু গল্প লিটলম্যাগ থেকে নিয়ে কম্পোজ করিয়েছি। কিছু কিছু লেখকের বই কিনে নিয়েছি। আপলুর কাছে সেসব দিয়েছি কম্পোজ করে দেয়ার জন্য। আপলুর কাছেই সেসব রয়ে গিয়েছে। আমি তো ঘুণাক্ষরেও ভাবি নি কোনোদিন যে, সেসবও জমা দিতে হবে?
সমস্যা তো আরও রয়েছে, আপলুর সীমাহীন-স্পর্ধার কারণে তার সাথে আমার আর কথা বলার রুচিও কোনোদিন হবে না, তাহলে এক্ষণে উপায় কী? আমি তো তার কাছে সেসব চাইতেও পারব না।
আমার মনে হলো, কোন কুক্ষণে এই সম্পাদনার ভূত আমার মাথায় চেপেছিল? আর তপন বাগচীর মতো এমন কূটচাল-জানা, আপাদমস্তক গিরিংগিবাজ লোকের পাল্লায় কেন আমাকে পড়তে হলো? আমার ভাগ্য কোনো কিছুতেই কেন প্রসন্ন নয়? এরকম নিচু মানসিকতাসম্পন্ন লোকের খপ্পরে আমায় কেন বারংবার পড়তে হয়?
আমি বহু কষ্টেসৃষ্টে সমস্ত গল্পের হার্ডকপি ফের জড়ো করলাম।
কিন্তু অথোরাইজেশন-লেটার এখন কিভাবে সংগ্রহ করব। এই চার-পাঁচ বছরে কত লেখকের ঠিকানা বদল হয়েছে, কতজন যে চলে গিয়েছেন দেশের বাইরে—নব্বই দশকের এই সংকলনের এখানেই এখন আমাকে ক্ষান্ত দিতে হবে।
বরাবর বলেছি, আমার সময়ের লেখকেরাই আমার সমস্ত শক্তির উৎস। তাঁরাই আমাকে ভরসা দিয়েছন। ভালোবাসা দিয়ে বহুবার বাঁচিয়েছেন। এবারও তাই হলো। সকলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিলেন। আমি ২৫ জনের সম্মতি পেলাম। শুধুমাত্র একজনকে আমি নিম্নোক্ত পত্র লেখার জবাবে তিনি আমাকে চপেটাঘাত করলেন !
জনাব অদিতি ফাল্গুনী
শুভেচ্ছা জানবেন।
আপনি হয়তো অবগত আছেন যে,আমি দীর্ঘদিন ধরে 'বাংলাদেশের ছোটগল্প: নব্বইয়ের দশক' নামে একটি সংকলন সম্পাদনার কাজ করে যাচ্ছি।
এবং তাতে আপনার একটি গল্প নির্বাচন করেছি।
আমরা এই নির্বাচিত গল্পটির জন্য আপনাকে সামান্য অনারিয়াম দিতে চাই। আপনার একটি সম্মতিপত্রও আমাদের প্রয়োজন।
ফলে আপনি আমাকে 'আক্কাস নিবাড়ন কন্যা মর্নিং ডিউ লিপজেল বাংলাদেশ' গল্পটির জন্য সম্মতিপত্রটি দ্রুত প্রদান করলে কৃতজ্ঞ হই।
সঙ্গে আপনার যোগাযোগের ঠিকানা দেবেন। আর গল্পটির একটি মূল কপি প্রয়োজন, মুদ্রণপ্রমাদ এড়ানোর জন্য। আপনার সাফল্য কামনা করি।
পাপড়ি রহমান সেকশন-২, ব্লক-ডি, রোড নং-১, বাড়ি-৩ (তিন তলা) মিরপুর, ঢাকা-১২১৬ ই-মেইল-papree.rahman@gmail.com ফোন ০১৭১৯৫৯৩৮৮০
* * * * * * * * *
Audity Falguni September 23 at 5:12pm
Sorry, I have no wish to continue any sort of relationship with you. I gave you this story at least two years earlier. Now I have not enough time to send you a consent letter. Also I don't need any remuneration for publishing of my story. I cannot also send you the copy. I don't also want my story to be printed in your book. And, please never contact with me. People should have some shame.
আমি তপন বাগচীকে এই লেটার ফরোয়ার্ড করে দিলাম। উত্তরে তপন জানালেন, আপনার সাথে পূর্ব শত্রুতা আছে হয়তো।শুনে আমি ফের হতবাক! অদিতি ফাল্গুনী গায়েনের সাথে আমার কিসের শত্রুতা? আমি তো কোনো শত্রুতার বিন্দুবিসর্গও জানি না!
তপন বাগচী এই চিঠি বেমালুম গায়েব করে দিয়ে অদিতি ফাল্গুনী গায়েনের গল্প অই সংকলনভুক্ত করলেন।
এতসব ঘটনার পর বাংলা একাডেমি থেকে আর কোনো বই প্রকাশের চিন্তা আমি দুঃস্বপ্নেও করতে পারি না।
এরপরও চলতে লাগল তপনের নানান ফিকির! একদিন কল করে বাংলা একাডেমিতে আমাকে নিয়ে গিয়ে তপন বাগচী একটা লম্বা লিস্টি হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি অবাক হয়ে দেখলাম, তাতে বহু অচেনা লেখকের নাম। আমি এইসব লেখকদের নাম কস্মিনকালেও শ্রুত হই নাই। তপনের দাবি—এদের গল্প নব্বইয়ের সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমি আর পারলাম না! আমার সমস্ত ধৈর্য নিমেষে ভেঙে খানখান হয়ে গেল। এই একটা গ্রন্থ নিয়ে বহুদিন ধরেই বহু যন্ত্রণা আমায় দিয়ে আসছিল এই তপন বাগচী! অযোগ্যের হাতে রাজদণ্ড পড়লে যা হয় আর কি!
আমি কালবিলম্ব না করে সরাসরি চলে গেলাম ডিজির চেম্বারে। গিয়ে জামান ভাইয়ের হাতে লিস্টটা তুলে দিয়ে বললাম, তপন বাগচী এদের গল্প অন্তর্ভুক্তি করার জন্য আমাকে এই লিস্টি দিল, জামান ভাই।
জামান ভাই গম্ভীর মুখে লিস্টিটায় চোখ বুলিয়ে তপনকে ডেকে পাঠালেন।
তপন এলে সকলের নাম কেটে দিয়ে একটি নাম রেখে বললেন, শুধু এর একটা গল্প তুমি নিতে পারো, পাপড়ি।
আমার আর কোনো আগ্রহই রইল না এই সম্পাদনা নিয়ে। শুধু তপন কেন, বাংলা একাডেমির সকলে মিলে এই বইয়ের এখন চৌদ্দটা বাজিয়ে দিক, আমার আর কিছুতেই কিছু যাবে আসবে না।
এর পরেও যে তপন ক্ষান্ত দিলেন বা ক্লান্ত হলেন, এমন নয়। আমি বহুবার বলা সত্ত্বেও সে ওই বইয়ের একটা প্রুফও আমায় দেখতে দিলেন না। আর কাউকে দিয়ে সে দেখিয়েছিল কিনা সেটাও আমি জানি না। তবে প্রকাশিত হয়েছিল অজস্র ভুলে-ভরা একটা বই। [বাংলা একাডেমির মামদো-ভূতের কারবারে প্রায় চার বছরের অধিককাল পরে প্রকাশিত হয়েছিল বইটি। কিন্তু প্রকাশের পর আমি কোনোদিন আর ওই বইটি খুলেও দেখি নি। আজও বইটা হাতে নিলেও অবিশ্রাম অশ্রুজলে আমি সব ঝাপসা দেখতে থাকি।
আমার সমস্ত লেখক-জীবনের কলঙ্ক হিসেবে এই বই রয়ে গেল! এতসব ঘটনার পর বাংলা একাডেমি থেকে আর কোনো বই প্রকাশের চিন্তা আমি দুঃস্বপ্নেও করতে পারি না। এত পরাধীনতা নিয়ে কোনো কাজও আমি আর করতে চাই না। এমনকি তা লক্ষ টাকার বিনিময়ে হলেও, নয়।