পর্ব-২৩
পর্ব-২৪
বৃক্ষের সাথে শূন্যলতার যেমন সম্পর্ক হয়, আমি চিরটাকাল আমার আব্বার সাথে তেমন সম্পর্কে আষ্ঠেপৃষ্ঠে বাঁধা ছিলাম। তিনিই ছিলেন আমার অবলম্বন, আমার সমস্ত আনন্দ আর সুখের আধার। পিতা-পুত্রীর এই রিলেশনের পেছনে আব্বা নামক ওই বনস্পতির অবদানই ছিল অধিক। আর আমরা মাত্র দুই ভাইবোন হওয়াতে আব্বা আমাদের দুই জনকেই যেন চক্ষের পলকে হারাতেন। নিবিড়-ছায়াচ্ছন্ন সেই বনস্পতি একদিন শূন্যলতার সঙ্গে সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে তেপান্তরের মাঠের দিকে অলৌকিক কোনো ঘোড়ায় চড়ে চলে গেলেন! চলে গেলেন না নিরুদ্দিষ্ট হলেন কে জানে? তিনি তো গেলেন, এদিকে ধুলায় লুটিয়ে রইল তাঁর আদুরেলতার ছিন্নভিন্ন রক্তাক্ত-দেহ। একেবারে মৃতবৎ। শূন্যলতার দেহে প্রাণ আছে কী নাই তাও বোঝা মুশকিল! মানুষের মৃত্যু আদতে কী? এক অন্ধকার কারাগৃহ থেকে অবারিত খোলা প্রান্তরের দিকে ক্রমাগত ছুটে যাওয়া। যেখানে থই থই আলোর উদ্ভাস। সেই আলোর র্যাডিকেলসের সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়াকেই হয়তো বা জীবনাবসান বলে।
ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের জবাব আমি কোনোদিনই কাউকে দিই নি বা দিতে আগ্রহীও ছিলাম না।
সময়টা ২০০২ সাল। ১১ জুনের পর থেকে আমিও ডুবতে শুরু করেছি কোনো বিস্তীর্ণ-তোয়ানিধির মাঝ-দরিয়ায়। দিবা নাই, নিশি নাই—ঝপ করে পড়ছি গহিন-জলে, পড়ছি ঠিকই কিন্তু সাঁতার তো জানি না। এদিকে নাক-মুখ দিয়ে গলগল করে ঢুকে পড়ছে বিদঘুটে নোনাজল। শ্বাসপ্রশ্বাসে চাপ-চাপ-কষ্ট নিয়ে তলিয়ে যাচ্ছি সেই অকূল-দরিয়ায়। অথচ ধুকপুক করে একই রিদমে চলছে হৃৎপিণ্ড। সে এক জীবন্মৃত অবস্থা! কাউকে বলতে পারছি না, কিছুই বোঝাতে পারছি না কাউকে। অবশ্য কাকেই-বা বলব তখন? বাচ্চারাও তখন অনেক ছোট, ওরা ছাড়া আমার তো আপনার বলতে তেমন কেউ নাই। ছিলও না কোনোদিন কোথাও।
বাথরুমের শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খামখাই একটানা ভিজে চলেছি। চোখের অবিশ্রাম জলের সাথে ঝরনা-জলের ছুটে যাওয়া দেখতে পাচ্ছি নে। চোখ মুদে ঝুলে আছি যেন প্রচণ্ড বিষাদের কোনো লুকানো দড়িতে। তীব্র ঝড়বাদলের মাঝে যেভাবে কোনো গৃহহারা একাকী কাক পথের ইলেকট্রিক তারের দেহে ঝুলে ঝুলে বিমর্ষ-বেদনা পোহায়! ভিজে শরীরে তোয়ালে জড়িয়ে ঘরে এসেই ডুকরানো কান্নার শব্দ আড়াল করতে ফের ছুটছি বাথরুমে। ধামাধাম দরজা বন্ধ করেই খুলে দিচ্ছি জলের কল। নাগরিক-জলস্রোতের তলায় অন্তর্গত-জলপতনের হাহাকারকে ধামাচাপা দিতে চাইছি। সঙ্গিন এক সময়ের ঘোরগ্রস্ততায় আমি তখন সত্যি সত্যিই উন্মাদ হতে চলেছি।
আমার এইরকম কুয়াশাচ্ছন্ন-উন্মাদদশার মাঝে কিছুই কিন্তু থেমে থাকছিল না। সবই চলছিল পুরাতন নিয়মেই। নিয়ম করে সূর্যোদয় হচ্ছিল। অস্তও যাছিল চিরনিয়মে। ফলত ‘ধূলিচিত্রের’ ঠিকানায় তখনো আসছে প্রতিদিন এন্তার চিঠি। নানা রঙে, নানা আকৃতির খামে এসে জমা হচ্ছে কত অচেনা-চেনা মানুষের লুকানো-স্বপ্ন আর না-বলা কথার বুদ্বুদ! এত স্তূপ লেখাপত্রের উত্তর দেয়া কিছুতেই সম্ভবপর ছিল না আমার পক্ষে। আর ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের জবাব আমি কোনোদিনই কাউকে দিই নি বা দিতে আগ্রহীও ছিলাম না। খুব জরুরি না-হলে আমি কারো চিঠিরই প্রতিউত্তর দিতাম না। দিতাম না এটাও ঠিক নয়, দেয়ার সময় হতো না।
দুই হাজার সালের পরে এই দুই বছরে প্রকাশিত হয়েছে ‘ধূলিচিত্রের’ আরও তিন তিনটে সংখ্যা। দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে ফাল্গুন ১৪০৭, ফেব্রুয়ারি ২০০১-এ।
প্রথম সংখ্যাটির মতো এটিও বড় নান্দনিক হয়েছে। কী তা দেখার সৌকর্যে বা কী তার ভেতরের নির্বাচিত লেখাপত্রে! [বছর বিশেক বাদে আপনা বাদ্যি আপনা হাতে বাজিয়ে গেলাম! যেহেতু এই পোড়ার দেশের নার্সিসিস্টিক লোকজন নিজেকে ছাড়া অন্যদের ভালো কোনো কিছুই তেমন করে দেখতে পায় না! ওই পুরাতন জোকসটা মনে পড়ে যাচ্ছে—মা কইছে, আমি আর মা ভালো। আর মামু কইছে আমি আর মামু ভালো। আমি কই কি আমি, মা আর মামুই কেবল ভালো। অন্য কেউ-ই ভালোর ‘ভ’-এর ধারেকাছেও নাই!
‘ধূলিচিত্রে'র দ্বিতীয় সংখ্যাতেও সাহিত্যের প্রায় সব শাখা থেকেই আমি আমার সম্পাদিত লেখাপত্র প্রকাশ করেছিলাম।
উপন্যাস নিয়ে দারুণ এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন প্রাবন্ধিক স্বপন নাথ। শিরোনাম: ‘উপন্যাসের প্রসঙ্গ ও প্রত্যাশা’। গল্প নিয়ে লিখেছিল নব্বইয়ের সতীর্থ কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার। শিরোনাম: ‘বাংলা ভাষায় বাংলাদেশের গল্প’। কবিতা নিয়ে অত্যন্ত ঋদ্ধ এক প্রবন্ধ দিয়েছিল আরেক সতীর্থ কবি রহমান হেনরী। শিরোনাম: ‘শেকড়ের গান: কবিতা প্রসঙ্গে মুক্তকথা’। নব্বই দশকের শুরু বা মাঝামাঝি সময় থেকেই লেখকেরা, বিশেষ করে ওই দশকের তীক্ষ্নধার লেখনীর লেখকেরা একাডেমিক প্রবন্ধ-নিবন্ধের কাঠখোট্টা-চিরচেনা-ফর্মটি ভেঙে ‘মুক্তগদ্যের’ দিকে ধাবিত হচ্ছিলেন। অবশ্য আগাগোড়াই শাহরিয়ার ভাইয়ের গদ্যের ফর্মটিও ছিল অতি স্বাদু ও সুখপাঠ্য। কবি টোকন ঠাকুর ও কথাসাহিত্যিক মামুন হুসাইনের গদ্যের ঢঙটিও ছিল একেবারে তাদের নিজস্বতায় পরিপূর্ণ।
শাহরিয়ার ভাই আমাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ের মাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন।
‘ধূলিচিত্রের’ প্রতি সংখ্যাতেই আমি তিনটি করে গল্প প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রতিটা সংখ্যার প্রতিটা গল্পই ছিল অসাধারণ সব গল্প। [নবীন লিখিয়েরা, তোমরা যারা গল্পে কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছ, তারা লিটল ম্যাগ আর্কাইভ থেকে গল্পগুলো পড়ে দেখতে পারো। দ্বিতীয় সংখ্যাতে ছিল কথাসাহিত্যিক ইকবাল আজিজের ‘ভাতচোর’, কথাসাহিত্যিক মাসুদুল হকের ‘ঢুলকিপুরাণ’ এবং কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামালের ‘অপেক্ষা’।
জেরিন চৌধুরী সীমন দ্য বোভোয়ার থেকে অনুবাদ করেছিলেন ‘নারী ও সৃষ্টিশীলতা’ শিরোনামে।
কবি শামস আল মমীন করেছিলেন রীতা ডাভের কবিতার বঙ্গানুবাদ।
আর যাঁদের পদাবলিতে সমৃদ্ধ হয়েছিল ওই সংখ্যাটি তাঁরা হলেন—
আবু হাসান শাহরিয়ার, সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, হাদিউল ইসলাম, জাহেদ আহমদ, আকমল হোসেন নিপু, সুজন হাজারী, দীপংকর গৌতম, শেখ নুরুজ্জামান, দেবাশীষ তেওয়ারী, ফেরদৌস নাহার, শাহানা আকতার মহুয়া, অভিজিৎ দাস, যাকির সাইদ, মুজিব মেহদী, জুনান নাশিত, মিজান ফরিদ, অর্জুন মান্না, সুভিয়ান সজল, বদরে মুনীর।
এক বছরে ‘ধূলিচিত্রে’ সেইরকম দুইটা ঋদ্ধ-ইস্যু করার পরে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—এবার স্পেশাল কিছু একটা উপহার দেয়া যাক—মানে যে স্ট্রাকচারে আমি এই লিটলম্যাগ সম্পাদনা করছি, সেই স্ট্রাকচারের বাইরে এইবার অন্যকিছু করা যাক। এই ঐকান্তিক ইচ্ছেটা হয়েছিল ধূলিচিত্র বা ধূলিচিত্রের পাঠকদের কথা মাথায় রেখেই। ভাবা মাত্রই কাজে নেমে পড়তে হবে—এটাই ছিল তখন অব্দি আমার জীবনের চালিকা-শক্তি!
কী করা যায় ভেবে ভেবে সারা হয়ে—শেষমেশ গল্প নিয়েই ওঠেপড়ে লাগলাম। একবছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ধূলিচিত্রের’ গল্প বিশেষ সংখ্যা করব এবং তা পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের ইনক্লুড করেই। বীরেন শাসমল, সুরঞ্জন প্রামাণিক, অসীম ত্রেবেদী, ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য প্রমুখের সঙ্গে ইতোমধ্যেই আমার পত্র-যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। ইন্দ্রনীলদাকে আমার ইচ্ছের কথা জানাতেই তিনি লেখকদের লম্বা লিস্টি আমায় পাঠিয়ে দিলেন নাম, ঠিকানা এমনকি আলাপনী নাম্বারসহ। আমি ‘ধূলিচিত্রের’ তৃতীয় সংখ্যাসহ তাদের প্রত্যেককেই গল্প লেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘ধূলিচিত্রের’ পক্ষ থেকে অফিসিয়াল চিঠি পাঠিয়ে দিলাম। মনে মনে সাব্যস্ত করলাম , অন্তত ৫০ জন গল্পকারের সেরা গল্পটি নিয়েই আমি এই সংখ্যাটি প্রকাশ করব।
পশ্চিবঙ্গের লেখকদের তো আমন্ত্রণ জানালাম, কিন্তু বিপাকে পড়লাম নিজের দেশ নিয়ে। তখনো তো বেশিরভাগ লেখককেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। যদিও যাঁরা ভালো লিখছেন তাঁদের সকলের লেখাই আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ে থাকি। তাঁদের লেখাপত্র আমি পড়ছি বলে তাঁরাও যে আমাকে চিনবেন এমন তো কোনো কথা নাই। যেহেতু তাঁরা আমাকে চেনেন না, সেহেতু আমি লেখা চাইলেই বা তাঁরা আমায় দেবে কেন? তখন শামীম রেজাও তরুণ সাহিত্যসম্পাদক। তাঁরও আজকের মতো এরকম চেনাজানার বিশাল পরিধি গড়ে ওঠে নাই। তবুও শামীম যথাসাধ্য সাহায্য করল মানসম্মত লেখা জোগাড় করে দিতে, যাতে আমি ‘গল্প বিশেষ সংখ্যাটি’ করতে পারি। আর শাহরিয়ার ভাই পূর্ববৎ সামনের সারির দর্শক হিসেবে বসে রইলেন—আমি কী করি বা না করি উনি সেসব দেখতে লাগলেন। কিন্তু আগ-বাড়িয়ে একটা উপদেশমূলক বাক্যও বললেন না। কোনো সাজেশন বা ডিসিশন দিলেন না। শাহরিয়ার ভাইয়ের বিষয়টা যেন অনেকটা এমন ছিল, এক আনাড়ি দৌড়বিদকে ট্র্যাকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে রহস্যময় দৃষ্টিতে তাঁর কাঁপা পদযুগলের তৈরি-হওয়া অবলোকন করা। আজ বুঝতে পারি, আমার সেই কাঁচাবয়সে তা কতটা দরকারি ছিল—শাহরিয়ার ভাই আমাকে ধাক্কা দিয়ে দৌড়ের মাঠে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে এত দীর্ঘ পথে আমি নিজের পায়ে ভর করেই দৌড়াতে শিখে গিয়েছিলাম। নইলে হয়তো সাহিত্যের এই ম্যারাথন রেসের প্রস্তুতি নিতে নিতেই আমার একজীবন নিঃশেষ হয়ে যেত।
পশ্চিমবঙ্গের যে ৫০ জনকে আমি ‘গল্প বিশেষ সংখ্যায়’ লিখবার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলাম তাঁদের মাঝ থেকে ৪৫ জনই রেস্পন্স করলেন। আমি এত বিস্মিত হয়েছিলাম যে, বলার নয়। তাদের আন্তরিকতা ও প্রফেশনালিজম আমাকে একই সঙ্গে মুগ্ধও করল বটে! এখন এত গল্প তো ছাপা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের গল্প তো আমাকে সেই অনুপাতে পেতে হবে। শুধু গল্প পেলেই তো হবে না, মানসম্মত গল্প পেতে হবে। পূর্বেই বলেছি এযাবৎকালে আমি যা কিছুই করেছি বা করতে চেয়েছি তা সম্পাদনা হোক বা গবেষণা—আমার সতীর্থ নব্বইয়ের তুখোড় লেখকেরাই সর্বাগ্রে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁদের প্রতি আমার অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা আজ জানিয়ে যেতে চাই।
আমি চাইছিলাম পশ্চিমবঙ্গের আর বাংলাদেশের গল্পের অনুপাত ১২:১৩ বা ১৩:১২ রাখতে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ওই ১২-১৩ জনের লেখা জোগাড় করতে প্রায় হিমশিম খেয়ে গেলাম। তখন তো এইরকম অন্তর্জালের সুবিধা ছিল না। সবকিছুই এমন হাতের নাগালের মাঝেও ছিল না। যোগাযোগ মাধ্যম বলতে ছিল ডাকবিভাগ আর টি অ্যান্ড টির টেলিফোন।
আমার যা কিছু অর্জন, যা কিছু কিঞ্চিৎ-অহংকারের, তন্মধ্যে ‘ধূলিচিত্র’ সম্পাদনা ছিল সবচাইতে ঋদ্ধ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার নাম।
বাংলাদেশের থেকে যাঁদের গল্প নির্বাচন করেছিলাম , তাঁরা হলেন—
আকমল হোসেন নিপু, আহমাদ মোস্তফা কামাল, কাজী মহম্মদ আশরাফ, চন্দন চৌধুরী, জাকির তালুকদার, টোকন ঠাকুর, তুহিন সমদ্দার, পাপড়ি রহমান [এই একবারই আমি আমার নিজের সম্পাদিত পত্রিকায় নিজের কোনো লেখা ছেপে ছিলাম। নিজের পত্রিকায় নিজের লেখাপত্র আর গুণকীর্তনে ভরিয়ে তোলা আমার কাছে স্বমেহনই মনে হয়েছে চিরকাল। ফলত আমি এসব কাজ থেকে দূরে থাকতেই চেয়েছি এবং ছিলামও, মাহমুদ শাওন, মুহম্মদ সিরাজ, রবিউল করিম, শামীম রেজা, শাহনাজ মুন্নী। এই ১৩ জনের মাঝে কবি ছিলেন ৩/৪ জন। এবং এই কবিরাও সকলেই দুর্দান্ত গল্প দিয়েছিলেন। অতি তরুণ দুইজন, কাজী মহম্মদ আশরাফ ও মাহমুদ শাওনের কাছ থেকে অতি উচ্চমানের গল্প পেয়ে ছিলাম।
পশ্চিমবঙ্গের গল্পকারদের মাঝ থেকে যাঁদের গল্প নির্বাচন করেছিলাম, তাঁরা হলেন—অমরেন্দ্র সান্যাল, অসীম ত্রেবেদী, ঋতুপর্ণ বিশ্বাস, চিত্ত ঘোষাল, জগন্নাথ প্রামাণিক, প্রদীপ দাশশর্মা, মধুময় পাল, মানব চক্রবর্তী, মেকাইল রহমান, শতুদ্র মজুমদার, সুকান্তি দত্ত ও সোমক দাস।
এই ২৫ জন গল্পকারদের গল্পের মাঝে কমসে কম ২০ জনের গল্পই ছিল ক্ল্যাসিক পর্যায়ের। আমার সময়ের আরেকজন মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখক ষড়ৈশ্বর্য মুহম্মদ দিয়েছিল গল্প বিষয়ক নিবন্ধ—
‘সেইসব রচনাদের পরিপ্রেক্ষিতে বেহিসেবি কিছু কথাবার্তার অমিতাচার’।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে সুদেষ্ণা চক্রবর্তীর প্রবন্ধ ‘বাংলা ছোটগল্পের ধারা: ঐতিহ্য ও রূপান্তর’ ছাপতে পেরেছিলাম কবি ও সম্পাদক শামীম রেজার কল্যাণে। শামীম এই লেখাটি আমায় জোগাড় করে দিয়েছিল।
আর ছিল গল্প নিয়ে এ. এস. বায়াটের অনুবাদ একদা সকল সময়’। অনুবাদ করেছিলেন আলম খোরশেদ ও নাহার মণিকা।
এ পর্যন্ত আমার যা কিছু অর্জন, যা কিছু কিঞ্চিৎ-অহংকারের, তন্মধ্যে ‘ধূলিচিত্র’ সম্পাদনা ছিল সবচাইতে ঋদ্ধ ও বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতার নাম।