পর্ব-৪৯
বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাস, আরও নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ঢাকাই সাহিত্যের রাজনীতি, সাহিত্যিকদের পারস্পরিক সম্পর্কের ইতিবৃত্ত বুঝতে হলে তার হদিস খুঁজতে হবে লেখকদের আত্মচরিতকথনে। এমনটাই আমরা মনে করি। সেকারণেই আমরা আর্জি জানিয়েছিলাম নব্বইয়ের দশকের গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক পাপড়ি রহমানের কাছে একটি ধারাবাহিক লেখার জন্য। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি আমাদের উপহার দিয়েছেন 'আমার একলা পথের সাথি' শিরোনামের একটি দীর্ঘ রচনা। মোট ৫০টি পর্বে বিভক্ত এ রচনা এক বছরব্যাপী নিরবচ্ছিন্নভাবে মুদ্রিত হয়েছে পরস্পরে। আজ তারই শেষ পর্ব। লেখকের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
- সম্পাদক
শেষ পর্ব
জীবনের এই বিশাল-জলনিধির জোয়ার-ভাটার স্রোতে নিরন্তর ভেসে যাওয়া। কখনও গুপ্তঘাতকের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছি, কখনোবা প্রকাশ্যেই কেউ ধারাল অস্ত্রের উপর্যুপরি আঘাতে আঘাতে আমায় ক্ষত-বিক্ষত করেছে! সেসব ক্ষত সারাতে না সারতেই হয়তো অযাচিত সাফল্য এসে অঞ্জলি পূর্ণ করে দিয়েছে! জীবন আদতে কী? জীবন আদতে ব্যালেন্স-বিমের মতো কোনো এক ভারসাম্যের খেলা। সামান্য অনাবধান হলেই ভারসাম্যে ভজঘট ঘটে যেতে পারে। টালমাটাল হয়ে যেতে পারে চলার-সরণি।
আমার আব্বার কাছ থেকে পাওয়া নানাবিধ আদর্শবাণী, ঝুড়ি ঝুড়ি নীতিবাক্যের ভিড়ে রবীন্দ্রনাথের একটা কথাকেই প্রণিধান করতে চেয়েছি—
‘যে পথ দিয়া চলিয়া যাব, সবারে যাব তুষি…!’
কিন্তু হায়! আমার এই অন্যের জন্য পাহাড়-সমান ভালোবাসা, অন্যকে তুষ্ট করার অভিপ্রায়—প্রায় সকলেই টেকেন ফর গ্রান্টেড হিসেবেই ধরে নিয়েছে। আমার উদারতাকে ভেবেছে দুর্বলতা। আমার মতো বোকা-বকাইয়ের কাছ থেকে কত সহজেই না স্বার্থ হাসিল করা যায়—ভেবে কুটিল-উল্লাসে তারা মেতে উঠেছে।
অজস্র গুপ্ত ও প্রকাশ্য শত্রুর ভিড়ে, গুপ্ত ও প্রকাশ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যাও তো নেহায়েত কম নয়।
আমি যেন সেইসব পতঙ্গদের একজন—আগুনের নিকটবর্তী হলে মরণ নিশ্চিত জেনেও যে কিনা ঝাঁপ দিয়ে পড়ে আগুনেই! অতঃপর জ্বলে-পুড়ে ছারখার হতে হতে মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করে!
কিছু দগ্ধ-ক্ষতের ইতিহাস বিধৃত হলো এক্ষণে। ওইসব চিরস্থায়ী ক্ষতচিহ্নের পাশাপাশি আনন্দের ভাঁড়ারও কিন্তু কম পূর্ণ নয়! আরও অযুত-নিযুত কথামালারা অব্যক্ত রয়ে গেল। কত শত ঘটন-অঘটন, কতই-না রহিত বেদনা! কত জয় আর পরাজয়! কত অপ্রাপ্তি কিংবা প্রাপ্তি! আচানক এক-ঝাঁপি সম্মানের পুষ্পিত হাসি!
বয়সের গাছপাথরে দ্রুত জমে যাচ্ছে কালচে-সবুজ-শ্যাওলা—নাকের পাতায় বসা অলীক মৌমাছিটা প্রায়ই ডানা ঝাপটে অবিশ্রাম বলে যায়—ক্ষণ কিন্তু আর বেশি বাকি নাই। বাকি নাই রে আর বেশি সময়!
যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে/ সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া/ যদিও সংগী নাহি অনন্ত অম্বরে,/ যদিও ক্লান্তি আসিছে অঙ্গে নামিয়া,/ মহা আশংকা জপিছে মৌন মন্তরে,/ দিক-দিগন্ত অবগুণ্ঠনে ঢাকা—/ তবু বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,/ এখনি, অন্ধ, বন্ধ করোনা পাখা।/ … ওরে আশা নাই, আশা শুধু মিছে ছলনা।/ ওরে ভাষা নাই, নাই বৃথা বসে ক্রন্দন,/ ওরে গৃহ নাই, নাই ফুলশেজরচনা।/ আছে শুধু পাখা, আছে মহানভ-অঙ্গন/ উষা-দিশা-হারা নিবিড়-তিমির-আঁকা—/ ওরে বিহঙ্গ, ওরে বিহঙ্গ মোর,/ এখনি, অন্ধ, বন্ধ কোরো না পাখা। [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কিন্তু এ বারণ শুনবে কে? মৃত্যুদূত তো বধির! প্রতারক-প্রেমিকের-বেশে মৃত্যুদূত হেসে হেসে আসে! অতঃপর আলগোছে নিয়ে যায় আকুলপরান! একজীবনের বড় সাধের পরানখানি!
কিছু স্মৃতির-নুড়ি জমা রাখা গেল এই পথ-ভ্রমণে। বাদবাকি অগণন নুড়ি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়ে গেল এই ধরার বুকে। যদি আয়ু পাই, সেসব হয়তো বলা যাবে অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে! ওহে বিহঙ্গ, সেই সুযোগটুকু আমায় দিও গো।
আমি যেন আবহমান থাকবো বসে/ ঠুকরে খাব সূর্যলতা গাছের শিকড়/ অন্ধকারের জল!/ আমি যেন অনাদিকাল থাকবো বসে/ বিশ্রুতিময় জীবনে কল্লোল/ আমি যেন আবহমান থাকবো বসে/ আবহমান আমিই কল্লোল/ সময় থেকে সভ্যতাকে রাখবো ঢেকে/ যুদ্ধ মড়ক নগ্ন ফলাফল। [আবুল হাসান
অজস্র গুপ্ত ও প্রকাশ্য শত্রুর ভিড়ে, গুপ্ত ও প্রকাশ্য স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীর সংখ্যাও তো নেহায়েত কম নয়। শত্রু হোক আর মিত্র হোক, তাদের সকলের কথাই যে আমি বলে যেতে চাই।
নতুন নতুন কাজের স্রোতে ডুবন্ত আমার সময় কোথায় পুরাতন বার্নিশের জৌলুশটুকু ঘষে বের করার? কিন্তু তবুও তো কিছু কিছু পুরাতন নতুন রূপে আবির্ভূত করতে হয়। কিছু কিছু মানুষ আছে যারা ধান্ধাবাজি, স্বার্থসিদ্ধির বাইরে খামাখাই অন্যের উপকারে ব্রতী হোন! ‘বুনন’ সম্পাদক ও কবি খালেদ উদ-দীন তেমনই এক স্বজন আমার। তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমে প্রকাশিত হয়েছে আমার নির্বাচিত গল্প। প্রকাশিত হয় মুক্তগদ্যের বই বনতরুদের বায়োগ্রাফার। আর নবীন ও উদ্যমী প্রকাশক রাজীব চৌধুরী প্রকাশের দায়িত্বটুকু বড় আন্তরিকতার সাথেই সম্পন্ন করেন। রাজীবও আমার আরেক স্বজন।
কত কথা রয়ে গেল বলিতে বাকি—বাংলা একাডেমির পত্রিকা ‘উত্তরাধিকাররের’ দপ্তর থেকে অফিসিয়াল একটা চিঠি পেয়ে নয়ন দুটিতে জল ভরে উঠেছিল একদা! চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন তৎকালীন নির্বাহী সম্পাদক ড. সরকার আমিন। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ‘উত্তরাধিকারের’ বিশেষ আয়োজনের একজন লেখক মনোনীত করেছিলেন উনি আমায়। কিন্তু অফিসিয়াল চিঠিটি যিনি আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, আমি দেখেছিলাম তাঁর বিবর্ণ হতে হতে ঘোর-ছাইবর্ণা-মুখ। তাহলে কি বন্ধুর হাতের উষ্ণ-আলিঙ্গনের মাঝেও লুকানো থাকে ধারাল খঞ্জর?
চিনি না কোনো পুরস্কারের পথঘাট, জানি না তদবিরের তরিকা।
চিঠিতে বলা হয়েছিল সরীসৃপ গল্পগ্রন্থটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে দেয়ার জন্য। এদিকে মানিকের উপন্যাস, শ্রেষ্ঠগল্প ছাড়া আমার কাছে আর কোনো বই নেই। [হাতে টাকাপয়সা থাকত না বলে প্রয়োজনীয় বইপত্র তেমন করে কিনতে পারতাম না। গেলাম সেলিনা আপার লাইব্রেরিতে, আপার লাইব্রেরিতেও নাই। আপা বললেন, কিনে নাও, পাপড়ি। টাকা আমি দেবো। জোর-ছুট লাগালাম। কিন্তু কোথাও নেই সরীসৃপ! ‘ঐতিহ্য প্রকাশনা’ থেকে বেরুনো মানিক সমগ্রটিও তখন আর বাজারে পাওয়া যায় না।
কিন্তু কাজটি আমাকে করতেই হবে যে! কারণ মানিক আমার অত্যন্ত প্রিয় লেখক! বাংলা একাডেমি লাইব্রেরির তদারককারী শফিক ভাইকে বললে তিনি ক্যাটালগ ঘাঁটতে শুরু করলেন। দিনতিনেক পরে এক হাড়-জিরজিরে সরীসৃপ আমার হাতে এল। আর আমি স্বস্তির শ্বাস ফেললাম।
বই হাতে এল ঠিকই—কিন্তু ওই মুহূর্তে আমি আমার কন্যাদ্বয়কে নিয়ে গভীর সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছি। আমাদের চারপাশে জল আর জল। স্থলের দেখা নাই। জলডুবন্ত আমি লেখার টেবিলে বসলেই চক্ষু আন্ধার হয়ে আসে। কূল নাই-কিনারা নাই—এরকম দুঃসময়ের মাঝে থেকেও আমি সরীসৃপ গল্পগ্রন্থের আলোচনাটি লিখে দিয়েদিলাম।
কবি সরকার আমিন, আপনি আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানবেন।
আরেকজন ছিলেন অনু হোসেন। আমাদের অনু ভাই। বড় মোলায়েম কণ্ঠে, বড়ই আন্তরিকভাবে লেখার আহ্বান জানাতেন। সে আহ্বান উপেক্ষা করার উপায়ই ছিল না আমার। তিনি যখন ‘দৈনিক ডেস্টিনিতে’ কাজ করতেন প্রতিটা ‘বিশেষ সংখ্যায়’ আমাকে দিয়ে লিখিয়ে নিতেন। নিতেনই। আমি বহু সম্পাদককে লেখা দিতে অপারগতা জানাই, কিন্তু অনু ভাইকে আমি কোনোদিন তা জানাতে পারি নি। এই ভালো মানুষটাকে নিয়ে কত স্মৃতিই না জমে আছে আমার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক তাশরিক-ই-হাবিব বহু শ্রমে আমার লোক-ঐতিহ্য নিয়ে লেখা গল্পগুলি জড়ো করে প্রকাশ করলেন গল্পগ্রন্থ ‘হলদে ফুলের বিকেল’। এই বইটির ক্ষেত্রেও আমি যথারীতি একদমই সময় দিতে পারি নাই। তাশরিকের মতো সাহিত্য-অন্তঃপ্রাণ, পরিশ্রমী লেখক ও সম্পাদকের কথাও বিস্তারিতভাবে বলে যেতে হবে বইকি!
স্বজন ও দুর্জনেরা তো আমার মুখোমুখিই বসে আছেন—কাকে ছেড়ে কার কথাই-বা বলি? কত অজস্র প্রিয়মুখ, কত সহস্র ব্যাদানমুখের প্রতিবিম্ব তো নিত্যই প্রতিফলিত হতে দেখি। তপ্ত-মরু-পথে হাঁটতে হাঁটতে শ্রান্তি আর ক্লান্তিতে মুখথুবড়ে পড়ে থাকা আমাকে সাহারা তো কম মানুষ দেন নি। ফের উঁচু খাদের কিনারা থেকে খামাখাই ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলেও দিয়েছেন বহু জনই!
সেসব গল্পও কোথাও না কোথাও গচ্ছিত রেখে যেতে হবে।
কলকাতার বুনিয়াদি প্রকাশনা সংস্থা ‘অভিযানের’ মারুফ হোসেন বড় যত্ন করে আমার পালাটিয়া উপন্যাসটির ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশ করেছেন। কবি ও সম্পাদক সেলিম মণ্ডল প্রকাশ করেছেন তাঁর ‘তবুও প্রয়াস’ প্রকাশনা থেকে বয়ন উপন্যাসটি। লিটলম্যাগ ‘ঐহিকের’ সম্পাদক তমাল রায় প্রকাশ করেছেন নির্বাচিত গল্প—পাশের দেশ থেকে এসব বই প্রকাশের ইতিহাসও তো কম দীর্ঘ নয়!
বিশেষ করে আমি সে-দিনটির কথা কিছুতেই বিস্মৃত হতে পারি না—
১৭ জানুয়ারি ২০২১-এ বয়ন উপন্যাসটি নিয়ে ‘তবুও প্রয়াসের’ লাইভ প্রোগ্রাম। এর মাত্র কিছুদিন আগেই আমি ফিরেছি হাসপাতাল থেকে। মহামারি কোভিড-১৯-এর ভয়াল থাবা আমাকে নিঃসাড় করে রেখে গেছে মাথার ভেতর চাপচাপ-অন্ধকার আর কুণ্ডলীপাকানো ধোঁয়া। আমার বোধবুদ্ধি সব যেন ভোঁতা হয়ে গেছে তখন।
গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে জেগে উঠলাম আবার/ তাকিয়ে দেখলাম পাণ্ডুর চাঁদ বৈতরণীর দিক থেকে তার অর্ধেক ছায়া গুটিয়ে নিয়েছে যেন/ কীর্তিনাশার দিকে।/ ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম—পউষের রাতে—/ কোনোদিন জাগবো না আমি—কোনোদিন জাগবো না আর—/ [জীবনানন্দ দাশ
কড়া-মেডিসিন আর কোভিড-১৯-এর ধোঁয়াশার মাঝেও অনুভব করেছিলাম আমাকে দেয়া অত্যন্ত সম্মানের সেই আয়োজনটি। ‘তবুও প্রয়াসের’ আয়োজক এবং সেই আয়োজনটির কথাও বলা বাকি রয়ে গেল!
এই যে আমি অসূর্যম্পশ্যা হয়ে থাকতে চাই। চিনি না কোনো পুরস্কারের পথঘাট, জানি না তদবিরের তরিকা—তা সত্ত্বেও কিছু কিছু পুরস্কার ভাগ্যে জুটে যায়! হোক না সেসব অতি ক্ষুদ্র বা অনামী। পুজোর ঘটে রাখা আমপাতার ওপর ছিটিয়ে দেয়া গঙ্গাজলের মতোই সেসব পবিত্র মনে হয় আমার কাছে। মর্যাদার আবার ছোটবড় কী? সেসব ইতিহাসও বিধৃত করতে চাই। গ্রাহ্যের ভিতর রাখতে চাই। কেনই-বা আমার মতো প্রান্তিক-লেখককে সম্মাননা জানায় লিটলম্যাগ ‘ঐহিকের‘ কর্ণধার তমাল রায়। কেনই-বা অতি যত্ন করে, শ্রদ্ধাভরে আমায় কলকাতায় নিয়া যায় কবি, সম্পাদক মেঘ অদিতি? আর পরম যত্নে আগলে রাখে আমাকে—যেন আমার কোনো অসুবিধা না-হয় কোথাও।
বিনিসুতার অশ্রুমালিকা গাঁথা আমার কোনোদিনই শেষ হবার নয়!
আমি কেনই বা কীভাবে পেয়ে যাই রাজশাহী থেকে সম্পাদক, অধ্যাপক শহীদ ইকবালের দেয়া ‘চিহ্ন সম্মাননা’!
এমন ক্রান্তিকালে, এই ভয়াবহ মহামারীতে আমার মাথার ওপরের বনস্পতির ঘন-ছায়ারা দ্রুত অপস্রিয়মাণ হতে থাকে। হতেই থাকে। আর আমি বিমূঢ়ের মতো তাকিয়ে তাকিয়ে নিজের মাথার ওপর প্রখর সূর্যের জ্বলে-ওঠা দেখি! আর দেখি নিজের ক্রমশ একলা হওয়া !
কত যে বিপদ আমার! কত যে লড়াই আর রক্তক্ষরণ! কত বেদনা-অভিমান! নিত্য ব্যবহার্য অলংকারের মতো গায়ে জড়িয়ে রাখা বহু যুগের প্রণয় দূরে চলে গেলে নিজের দিকে তাকিয়ে বিপন্ন বোধ করি! পড়ে থাকা দেহমনের ভগ্নাংশ দেখে নিজেই কেমন আঁতকে উঠি! অতঃপর হৃদয়-গহিনের অতল-ক্ষতকে ঢেকে রাখবার জন্য কতই না করি ছল! লোকচক্ষুর অন্তরালে ঘুটঘুটে-তারকিনীতে যত চোখের জল ঝরে পড়ে, সেসব কুড়িয়ে নিয়ে গেঁথে ফেলতে হয় মালিকা! আমি জানি, এই বিনিসুতার অশ্রুমালিকা গাঁথা আমার কোনোদিনই শেষ হবার নয়!
I too have known loneliness./ I too have known what is to feel/ misunderstood,/ reject, and suddenly./ not at all beautiful./ Oh, mother earth,/ your comfort is great. Your arms never withhold./ It has saved my life to know this,/ Your revers flowing, your roses opening the morning./ Oh. Motion of tenderness/ [Marry Oliver, loneliness
আহা! এ আয়ুর-অরণ্য ঘিরে রয়েছে কত শত স্মৃতির-জোনাকি—তারা জ্বলছে আর নিভছে। নিভছে আর জ্বলছে! জ্বলছে…
জোনাকির ওই ম্লান-আলোকচ্ছটা সঙ্গে করে আমায় আরও খানিকটা পথ চলবার সময়টুকু দিও, হে প্রভু!