পর্ব-২১
আমি কোনো চাকরিতে জয়েন করতে চাইলে আমার পার্টনার বরাবরই আপত্তি তুলেছে। শাহরিয়ার ভাই ‘মুক্তকণ্ঠে’ থাকাকালীন বহুবার আমায় বলেছেন—
পাপড়ি, একটা সিভি দিয়ে যাও।
কিন্তু দাম্পত্যকলহের আশঙ্কা করে আমি কোথাও কোনো সিভি জমা দেই নাই। শাহরিয়ার ভাই যখন ‘অন্যপ্রান্তর’ করলেন, তখনও তিনি আমায় বারংবার তাগিদ দিয়েছেন। বলেছেন—
পাপড়ি, তুমি জয়েন করো তো।
আমি মৌন থেকেছি। বুদ্ধিমান শাহরিয়ার ভাই যা বোঝার বুঝে নিয়েছেন। এক সময় হাসতে হাসতে বলেছেন—
থাক, তোমার চাকরি করতে হবে না, তুমি বাকরিই করো।
আমার পার্টনারের নাম ধরে বলেছেন—
আচ্ছা, আচ্ছা তুমি হাফিজের বাকরিই করো।
আপনার লেখা সম্পাদকেরা ফেলে দেয়। কেন আপনার জেদ নাই? জেদ করুন যে, আপনিও একদিন শত শত লেখা ফেলে দেবেন।
মুখে বলেছেন ঠিকই, কিন্তু আমার সাহিত্যানুরাগ বা কর্মস্পৃহা দেখে শাহরিয়ার ভাই উশখুশ করেছেন—আমি কেন পাসটাস দিয়ে খামাখাই এইভাবে ঘরে বসে বসে ঘাস কাটছি বা আমার কেন নিজস্ব কোনো আইডেনটিটি নাই? একদিন আর থাকতে না-পেরে শাহরিয়ার ভাই আমার পার্টনারকে বললেন—
হাফিজ, পাপড়ি একটা পত্রিকা করুক। ওকে একটা পত্রিকা করতে দাও। ও অত্যন্ত গোছানো মেয়ে, ও পারবে।
শুনে আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম। কিন্তু শাহরিয়ার ভাই লেগেই রইলেন এবং আমার পার্টনারকে খোঁচাতে লাগলেন। দেখা হলেই বলতে লাগলেন—
কী হাফিজ, পাপড়ির পত্রিকার খবর কী?
এদিকে আমিও লেগে রইলাম শাহরিয়ার ভাইয়ের পেছনে। সারাক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করতে লাগলাম—
শাহরিয়ার ভাই, আমার পত্রিকার একটা নাম দিন [আমি বরাবরই নামকরণে অপটু। নাম নিয়ে বিভ্রাট আমার কোনোদিনই ঘোচে নাই। ফলত নাম নিয়ে কোনো বড়াই আমি করতে পারি নাই, তা নিজের নাম বা আমার গ্রন্থাবলির নাম।
শাহরিয়ার ভাই দোনোমোনো করতে লাগলেন। কিছুতেই তাঁর মুখ থেকে আমি কোনো নাম বের করতে পারি না। আর আমিও এদিকে হাল ছেড়ে দেয়ার পাত্র নই। আমি প্রতিদিন সকাল-বিকাল ফোন করে শাহরিয়ার ভাইয়ের হাড় জ্বালাতে লাগলাম।
আমার অবিরাম জ্বালাতনে অস্থির হয়ে শাহরিয়ার ভাই একদিন বললেন—আচ্ছা, আচ্ছা, একঘণ্টা পরে ফোন করো। দিচ্ছি, তোমার পত্রিকার নাম কী হবে আমি বলে দিচ্ছি।
আমিও জোঁকের মতো লেগে রইলাম। ঠিক ঘণ্টাখানেক বাদে শাহরিয়ার ভাইকে পুনরায় ফোন করলাম। শাহরিয়ার ভাই হাসতে হাসতে বললেন—
আচ্ছা, যা যা, তোর পত্রিকার নাম রাখ ‘ধূলিচিত্র’।
আমি যুগপৎ বিস্মিত ও মুগ্ধ হয়ে ফের জানতে চাইলাম—
শাহরিয়ার ভাই, ধূলিচিত্র? এই নামে পত্রিকা করলে চলবে?
শাহরিয়ার ভাই আন্তরিক কণ্ঠে বললেন—
কী বলিস? কর না আগে। আর শোন ধূলি কিন্তু দীর্ঘ উ-কার দিয়ে লিখবি। অনেকেই কিন্তু ধূলি, ধুলা আর ধুলো বানান সঠিক জানে না। বানান ঠিকঠাক মতো জানে না অথচ একেকজন পণ্ডিত ভাব ধরে বসে থাকে।
আমি ফোন রেখে অবাক হয়ে ভাবতে লাগলাম, লোকটা কত নলিজিবল! নইলে আচানক এমন চমৎকার নাম তাঁর মাথায় আসার কথা নয়। পত্রিকার নাম এতটাই ক্ল্যাসিক মনে হতে লাগল আমার কাছে যে, এতটাই নান্দনিক যে, আমি আর নাম নিয়ে শাহরিয়ার ভাইয়ের কাছে কোনোরকম ওজরআপত্তি তুলতেই পারলাম না।
শুরু হয়ে গেল আমার ‘লিটল ম্যাগ’ সম্পাদনার কর্মযজ্ঞ। যথারীতি তৈলপাত্র তেলে পরিপূর্ণ করে নিয়ে আমি আমার পার্টনারকে অহর্নিশ ম্যাসাজ দিতে লাগলাম, [আমার যেকোনো কাজ করে দিতে বললেই তার গড়িমসি আর অবহেলা ছিল একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে আর বলতে লাগলাম—
ভাইরে একটা সেইরকম লোগো করে দাও আমার পত্রিকার, প্লিজ। দাও না, প্লিজ।
আমার পার্টনার আবার ক্রিয়েটিভ কাজে বেশ দক্ষ ছিল এবং মনোরম ক্যালিগ্রাফি করতে পারত। ফলত পার্টনারও লেগে গেল কাজে। এবং খুব খেটেখুটে ‘ধূলিচিত্রের’ দারুণ একটা লোগো এঁকেও দিল সে। [যে লোগোটা আমি বরাবরই ‘ধূলিচিত্রের’ নামলিপি হিসেবে ব্যবহার করেছি।
গিয়াসকে জানালাম যে, আমি একটা লিটল ম্যাগ সম্পাদনা করতে যাচ্ছি। গিয়াস স্বতঃফূর্তভাবে দৈনিক প্রথম আলোর ‘বন্ধুসভার’ পাতায় ‘ধূলিচিত্রের’ জন্য লেখা আহ্বান করে একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে দিল। তারপর থেকেই প্রতিদিন ডাকযোগে নানা রঙের এনভেলোপের ভেতর গড়ে প্রায় ৫০/৬০ টা করে লেখা আসতে লাগল।
আমার সহসা নাসির ভাইয়ের কথা মনে পড়ল [কবি ও সম্পাদক নাসির আহমেদ—নাসির ভাই আমাকে বলেছিলেন—
আপনার লেখা সম্পাদকেরা ফেলে দেয়। কেন আপনার জেদ নাই? জেদ করুন যে, আপনিও একদিন শত শত লেখা ফেলে দেবেন।
লেখা তো প্রচুর পেতে লাগলাম, কিন্তু সেসব একেবারেই মানসম্মত নয়। মানে আমি যেরকম লেখা খুঁজছি, সেরকম কোনো লেখা পাওয়া প্রায় সোনার পাথর বাটি হয়ে দাঁড়াল। আমি পড়ে গেলাম বিপদে, এইসব ছাইপাঁশ অখাদ্য লেখা দিয়ে কোনো পত্রিকা সম্পাদনা করা আমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
‘ধূলিচিত্র’ সম্পাদনার বিষয়ে শাহরিয়ার ভাই কিছুতেই নিজের কোনো মতামত আমার উপর চাপিয়ে দেন নাই, এমনকি শামীম রেজাও নন।
আর ‘বন্ধুসভায়’ যারা নিয়মিত লিখত তাদের মাঝ থেকে হাতেগোনা তিন কি চারজনের বাইরে কারো লেখাই আমার কাছে কোনোদিন তেমন মানসম্মত বা গ্রহণযোগ্য মনে হয় নাই। বেশির ভাগেরই ছিল এলেবেলে লেখা। কাঁচা আবেগের তরল বা ফানি সব লেখাপত্র। যেসব লেখা পড়ে সাময়িক চটুল মজা পাওয়া যেতে পারে, হয়তো ফান হিসেবে সেসব নেয়া যেতে পারে, কিন্তু উচ্চমানের সাহিত্য পত্রিকা করা সেসব লেখা দিয়ে কোনোভাবেই সম্ভবপর ছিল না। এখন আমি পড়ে গেলাম ফাটকা-চেঙ্গিতে—একটা ভালো মানের পত্রিকা করতে গেলে সেইরকম লেখাপত্র তো চাই, নাকি? কিন্তু উপায় কী? এত লেখা আমি কিভাবে সংগ্রহ করব বা কিভাবে পাব? আমি তো কিছুটা গৃহবন্দি জীবনযাপনেই অভ্যস্ত। কারণ আমার পার্টনার অত্যন্ত প্রোটেক্টিভ, সে আমাকে একা একা কোথায় যেতে দেয় না। আমিও দ্বন্দ্বের ভয়ে এই বন্দিজীবনেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি।
কিন্তু এসব সত্ত্বেও কোনো কোনো সময় ভাগ্য আপনাআপনিই প্রসন্ন হয়েছে। আমার এই দীর্ঘ জীবনের লেখালেখি ছাইপাঁশ যা কিছু বা ধূলিচিত্র সম্পাদনা বা অন্য যেকোনো সম্পাদনাই আমি করতে গিয়েছি, আমার পাশে এসে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে আমার সময়ের আমার সতীর্থ বন্ধুরাই। তাঁরাই আমাকে ভরসা দিয়েছে, সহযোগিতার হাত বড় আন্তরিকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। যাঁদের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, তাঁরা হলেন কবি শামীম রেজা, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার, কথাসাহিত্যিক আহমাদ মোস্তফা কামাল, কথাসাহিত্যিক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নী, কথাসাহিত্যিক প্রশান্ত মৃধা, কথাসাহিত্যিক সাদ কামালী, কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হক, কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপুসহ আরও অনেকেই।
কবি শামীম রেজা তখন দৈনিক আজকের কাগজে ‘সুবর্ণ রেখা’ নামে সাহিত্য সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত। শাহরিয়ার ভাই শামীমকে বলে দিলেন ‘ধূলিচিত্রের’ জন্য লেখা কালেক্ট করাতে সে যেন আমায় সহযোগিতা করে। আমি নিজেও শামীমকে বললাম। শাহরিয়ার ভাই নিজেও ‘ধূলিচিত্রের’ জন্য ভালো লেখা সংগ্রহ করার জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। এবং আমাকে পাঠালেন কবি শামসুর রাহমানের শ্যামলীস্থ বাসায়। আমি গিয়ে রাহমান ভাইয়ের কাছে কবিতা চাইলাম।
এদিকে শাহরিয়ার ভাই ‘ধূলিচিত্রের’ নামকরণের আকিকা করেই দূরে সরে গেলেন। জানতেও চাইলেন না আমি কী করছি বা না করছি? কবি শামীম রেজাও তাই, আমি শুধু ওকে বলতে লাগলাম, শামীম এই এই লেখা আমার চাই।
শামীম আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগল আমার মনপছন্দ লেখা সংগ্রহ করে দেয়ার জন্য। ইত্যবসরে শামীম রেজার কথা একটু বলে নেই, শামীম অত্যন্ত ভালো একজন কবি, গুণী সম্পাদক ও আন্তরিক মানুষ। ওর কাছেও আমার কৃতজ্ঞতার সীমা-পরিসীমা নাই। আজও কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা অনুষ্ঠানাদিতে আমাকে যে কালেভদ্রে দেখা যায়, তা শামীমের কল্যাণেই। কারণ ও আমাকে বড় মর্যাদা দিয়ে ও আন্তরিকভাবে ডাক দেয়। যদিও সেসব ডাক আসে নানান সমীকরণের হিসাবকিতাবের শেষে। কিন্তু তাও তো আসে, এবং এতে আমি আনন্দিতই। এত দীর্ঘদিনের চেনাজানা বা বোঝাপড়ার ব্যাপারটা সামান্য হলেও আছে বলেই আমি শামীমের কোনো কথা অগ্রাহ্য করতে পারি না।
আমি চাইলাম ‘ধূলিচিত্রে’ সাহিত্যের সব শাখা থেকেই কিছু না কিছু রাখতে। রাখতে চাইলাম কবিতা, গল্প, অনুবাদ, গল্প বিষয়ক গদ্য, কবিতা বিষয়ে গদ্য। কিন্তু এতকিছু নিয়ে মানসম্মত লেখা পাওয়া ভারি মুশকিল হয়ে দাঁড়াল ।
শিল্পী বিপুল শাহ তখন দৈনিক প্রথম আলোতে কর্মরত। গিয়াস আহমেদের সূত্র ধরে সেও ততদিনে আমাদের বন্ধু হয়ে উঠেছে। বিপুল শাহ ‘ধূলিচিত্রের’ সেইরকম মনোমুগ্ধকর এক প্রচ্ছদ করে দিল। কবি শামসুর রাহমানের কবিতা পেলাম। শাহরিয়ার ভাইয়ের কবিতা বিষয়ক মুক্তগদ্য। আমার সময়ের বন্ধুদের উষ্ণ আন্তরিকতায় পূর্ণ লেখাপত্র—আর কী চাই?
জীবন পাত্র একেবারে উচ্ছলিয়া উঠে মাধুরী দানে ভরিয়ে দিতে লাগল আমার চারপাশ।
সিদ্ধান্ত নিলাম এক বছরে দুইটা ইস্যু করব ‘ধূলিচিত্রের’। এবং মানসম্মত লেখা না পেলে একটা ইস্যু। প্রেসের যাবতীয় কাজ আমার পার্টনারকে দেখতে বললাম। কারণ বাচ্চারা তখন অত্যন্ত ছোট, তাদের ফেলে বাইরের কাজগুলো করতে আমি অনাগ্রহী। আর সম্পাদনার যত কিছু—সম্পাদকীয় লেখা থেকে শুরু করে, লেখা সিলেকশন ও এডিটিং সবই আমি একাই করব।
আগেই বলেছি ‘ধূলিচিত্র’ সম্পাদনার বিষয়ে শাহরিয়ার ভাই কিছুতেই নিজের কোনো মতামত আমার উপর চাপিয়ে দেন নাই, এমনকি শামীম রেজাও নন। শামীমকে আমি বরাবরই আমার বন্ধু [বয়সে বেশ কিছু ফারাক থাকা সত্ত্বেও ও আমার শুভাকাঙ্ক্ষী জ্ঞান করা এসেছি। একেবারে পরিবারের একজন হিসেবে মনে করেছি। কিন্তু শামীম সেটা হয়তো কখনোই মনে করে নাই। জগতে দেনাপাওনার হিসাব তো সকলেরই কম-বেশি থাকে। সেই হিসাব হয়তো শামীমও করে থাকবে, এটা তেমন দোষের নয় বলেই আমি মনে করি। এ জগতে একেবারে নিঃস্বার্থ পরোপকারী কেই-বা আছে?
এবং ‘ধূলিচিত্র’ প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হলো, শ্রাবণ, ১৪০৭ বঙ্গাব্দ। আগস্ট ২০০০
যাঁদের অতুলনীয় লেখনী ‘ধূলিচিত্রের’ প্রথম সংখ্যাটিকে ঋদ্ধ করেছিল, তাঁরা হলেন—
কমল মমিনের মুক্তগদ্য—বই নিয়েই গল্প।
পদাবলি বিভাগে যেসব কবিদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল—
শামসুর রাহমান, কবির হুমায়ুন, রহমান হেনরী, শামীম রেজা, সাখাওয়াত টিপু, আহমেদ স্বপন মাহমুদ, শাহ তোফায়েল, ওবায়েদ আকাশ, মাহবুব হাসানাত, মাসুম মোকাররম, পারিসা ইসলাম, খোকন মাহমুদ, পলাশ দত্ত, ফেরদৌস মাহমুদ, সুমন সুপান্থ।
‘ধূলিচিত্র’ নামক লিটলম্যাগ সম্পাদনা ছিল আমার জন্য গৌরবময় অধ্যায়।
কবিতা বিষয়ক—বিষয়: চাষার কলম ও চাষার লাঙল, এই শিরোনামে মুক্তগদ্য লিখেছিলেন কবি আবু হাসান শাহরিয়ার ভাই।
তিনজন অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল গল্পকারের গল্প ছিল—
আকমল হোসেন নিপু [যে কথাটি মা আর বলে না, জাকির তালুকদার [দিন যাপন কিংবা মৃত সুন্দরীর গল্প, সাদ কামালী [উন্নয়নের উপকথা।
ছিল হামীম কামরুল হকের গল্প নিয়ে মুক্তগদ্য—গল্প লেখার আগে বা পরে যে বিন্দু থেকে শুরু হতে পারে। রাসকিন বন্ডের অনুবাদ ‘বক্রাঘাত’ দিয়েছিলেন এনায়েত করিম।
আর ছিল আনিসুল হকের বড়সড় একটা প্রবন্ধ ‘উপন্যাস নিয়ে উপক্রমণিকা’।
বলাই বাহুল্য তা ছিল উপন্যাস নিয়েই মিটুনদার কথকতা। মিটুনদা তখন বড়ই আন্তরিক আর ভালো মানুষ ছিলেন। আমার সঙ্গে তখন তিনি ব্রাহ্মণ-নমঃশূদ্রের খেলাটা খেলতে শিখেন নাই। হয়তো-বা দুই দশক আগের আনিসুল হক কর্পোরেট বাণিজ্যের চোরাগুপ্তা পথগুলোতেও সেভাবে চলতে শিখেন নাই।
সাহিত্যের-পথে সদ্য-পথিক হয়ে আসা তরুণ-তুর্কিদের বলে যেতে চাই, ‘ধূলিচিত্রের’ সবকটি সংখ্যাই আজও আমায় ভাবাবেগে আপ্লুত করে। সঙ্গে একথাটাও জানাতে চাই, সাহিত্যের এই ধূসর ও বন্ধুর পথে ‘ধূলিচিত্র’ নামক লিটলম্যাগ সম্পাদনা ছিল আমার জন্য গৌরবময় অধ্যায়। একই সঙ্গে ভীষণ চ্যালেঞ্জিংও বটে!