পর্ব-১৪
আলোর ফেরিওয়ালা
দালানে হেলান দিয়ে ব্যালকনিতে বসে বসে কনক স্টিক টানছিল। মরা নদীর বিশাল চরটায় হারিকেনের মিটমিটি আলো। তরমুজ পাহারাদারদের গলায় আজ আব্বাসউদ্দীনের ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই...।’ কনকের বুকটা খাঁখাঁ করে। ইচ্ছা হয় এক দৌড়ে গিয়ে ওদের সাথে সে-ও গলা মিলায়। কিন্তু তাহলে সবাই বলবে, লোকটার মাথায় ছিট আছে। তার কপালে জুটে যাবে হাস্যকর এক নাম। পথে-ঘাটে তাকে দেখলেই এলাকার মানুষ হাসাহাসি করবে। অতি ফুর্তিবাজরা বাজে আওয়াজ দিবে। এইসব আচরণকে গ্রামের মানুষ বলে খ্যাপামি। অর্থাৎ কারো কোনো দুর্বলতা বা চালচলনের অসামঞ্জস্য চোখে পড়লে সেটাকে গ্রামের ফাজিল মানুষেরা একটু বিকৃত করে নেবে। তারপর যখন সেই লোকটাকে গ্রামের পথেঘাটে দেখবে তখনই আওয়াজ দিবে। কনক যেহেতু গানের টানে ছুটে গিয়ে তরমুজ পাহাদারদের সাথে মিশামিশি শুরু করবে সে-জন্য তাকে দেখলেই হয়তো কেউ কেউ আওয়াজ দিতে পারে, আশেক ভাই। অবশ্য তার আগে কনকের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য একটু জোরে একটা গলাখাকারি দিবে। এই ক্ষেত্রে অনেকে কিছু বলে না শুধু একটু গলাখাকারিই যথেষ্ট। তাকে দেখলেই যখন-তখন, পথেঘাটে যখন শুধু গলাখাকারির আওয়াজ উঠবে তখন লোকটা একটু একটু করে বদলে যেতে থাকবে। প্রথম প্রথম সে রাগ করবে। এই রাগে রাগে দিন দিন তার রাগ বাড়তেই থাকবে। কিছুদিন পরেই লোকটা গলাখাকারি শুনতেই পাগলের মতো শুরু করবে গালাগালি। অনেকখানে এই নিয়ে খুনাখুনি পর্যন্ত হতে দেখেছে সে। এত সরল! এত আন্তরিক! মানুষের জন্য এত ভালোবাসা বুকে নিয়ে এইসবের বেলায় ওরা কি করে এতটা নিষ্ঠুর হয়?
দিনমজুর যে, সে-ও তার সন্তানকে আজ সরকারি প্রাইমারিতে পাঠাতে চায় না।
মনের কথা বলার, মনের স্বাধীন মতো চলার কোনো উপায় নাই। নষ্ট হওয়ার পথ চৌদিকে খোলা। তখন এই সমাজের কেউ তোমাকে বাঁধা দেবে না। কিন্তু তুমি যখন তোমার আত্মার ডাকে নিত্যদিনের ডাল-ভাতের জীবন থেকে বেরিয়ে ভালো কিছু করতে চাইবে, জীবনকে সত্যিকারের মানুষের জীবনের মতো যাপন করতে চাইবে? সম্ভব না। সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের, ভালো মানুষের খাতা থেকে তোমার নাম এই সমাজ কেটে দিবে।
পাকা তরমুজের সুবাস নিয়ে দক্ষিণের চর থেকে হলহল করে বাতাস আসছে। কনক দমে দমে বুক ভরে সেই বাতাস টানে। সারাদিনের পর এখন ফুর্তি ফুর্তি লাগছে। পৃথিবীর শতশত কোটি মানুষের একজন সে। সবাই জীবনকে যাপন করতে চায়। তাই কেউ কেউ লালন-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল কিংবা মাদার তেরেসা হয়। কেউ কেউ হয় হিটলার, আইয়ুব খান, বাংলা ভাই। এই মুহূর্তে পৃথিবীর পথে পথে কত মানুষকে গুলি করে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। নিক্ষেপ করা হচ্ছে অন্ধকার কারাগারে। ঠিক এই মুহূর্তে পৃথিবীর শতশত নারীকে করা হচ্ছে ধর্ষণ! তারাও জীবনকে যাপন করছে।
শেষ হয়ে আসা স্টিকটা ফেলে দিয়ে কনক উঠে পড়ে। কাল শুক্রবার। আজ রাতেই তাকে ‘আমার মনের কথা’য় লেখাটা পোস্ট করতে হবে। জানালার পর্দাটর্দা সরিয়ে, চরের দিকের দরজাটা খোলা রেখে কনক এসে চেয়ারে বসে। কেউ যদি লেখা না পাঠিয়ে থাকে তবে ছদ্মনামে এক টানে সে আজকের লেখাটা লিখে ফেলবে। কনকের মনটা আজ ভালো। তার হৃদয়ের পৃথিবীটা আজ অনেক বড় লাগছে।
‘অরে মানুষ..., অ মানুষ... তুমি আছ যতদিন, এই দুনিয়ার রঙের খেলা ততদিন অ মানুষ..., শুনরে মানুষ।’এই গানটা কে যেন গাইত? দক্ষিণ বঙ্গের চরে চরে কে যেন গাইত?
হরিদাস। হ্যাঁ মনে পড়ছে। হারিদাস নামের সেই আধ পাগলা বুড়োটা। সে মনে করতে পারে না তার বাড়ি কই ছিল। তার স্বজনদের নাম কী। দুনিয়ার পথে পথে একলা একলা বেশ আমোদে ছিল। একটা রেস্টুরেন্টে সারাদিন বাসন ধোয়ার কাজ করত। রাত একটু গভীর হলে মাঝে মাঝে নির্জন চরের দিক থেকে ভেসে আসত তার গলা।
‘আমি মরলে জাগা নাই পলাইবার অ গো শুক্কুরির মা তুমি শুনছ নি, আমি মরলে জাগা নাই পলাইবার।’
কনক ল্যাপটপের সামনে থেকে উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি খায়। তারপর আবার ফিরে এসে একটু আগে আভা ছদ্মনামে নতুন যে লেখাটা পাঠিয়েছে সেটা পড়তে থাকে :
আমার মনের কথা মো. আওলাদ খান
আমি গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক। আমার মনের কথা বলার আগে আমি জীবনানন্দ দাশের একটি কবিতার কিছুটা পড়ে শুনাব তাতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে এই লেখাটির পটভূমি।
‘অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে—এ পৃথিবীতে আজ, যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দেখে তারা; যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই—প্রীতি নেই—করুণার আলোড়ন নেই পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া...’
একটি অবোধ শিশুর চোখে আলো ফোটানো ডিম থেকে পাখির ছানা ফোটানোরচে অনেক বেশি তপস্যার। ছোটবড় সকলেই জানে, লেখাপড়ার জন্য ছাত্রকে যতটা তপস্যা করতে হয় তারচে অনেক বেশি করতে হয় একজন শিক্ষকের। বেগম রোকেয়া, বিদ্যাসাগর এঁরা সবার আগে ছিলেন একজন মহাত্মন শিক্ষক। তারাই এই উপমহাদেশের মানুষের মনে শিক্ষাগুরুর দেবতুল্য চিত্রকল্পটি প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। সেই সাহস থেকে বলতে আমার ভালো লাগে, শিক্ষকতা কোনো পেশা নয়, মহান ব্রত। যে নিজেকে নিজে চিনে সে খোদাকে চিনে। সক্রেটিসও গ্রিসের বাজারে বাজারে চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলতেন, ন দাই সেলফ। নিজেকে চিন। তাই যার টাকার ক্ষুধা বেশি সে শিক্ষকতায় আসবে কেন? এই পৃথিবীতে টাকা কামানোর পথের কি শেষ আছে?
একেবারে দিনমজুর যে, সে-ও তার সন্তানকে আজ সরকারি প্রাইমারিতে পাঠাতে চায় না। একবার আমি এইরকম এক অভিভাবককে জিজ্ঞেস করেছিলাম কেন সে ছেলেকে সরকারি প্রাইমারিতে পড়াতে চায় না। সেই অশিক্ষিত দিনমজুরটি হেসে উঠে বলেছিল, কী যে বলেন স্যার! দেহুইনন্যা মাস্টননিরা খালি মোবাইল টিপে আর চুলের উকুন বাছে। পরের পুতেরে হ্যাগর পড়াইবার টাইম কই?
মাছের পচন ধরে মাথা থেকে আর দেশের পচন শুরু হয় শিক্ষক থেকে।
বলতে বলতে লোকটা হাসি হাসি মুখে বিড়িতে টান দেয়। এইসব কথা উঠলে তার মতো আরো অনেকেই উকুন বাছাবাছি নিয়ে হাসাহাসি করে। স্কুল কমিটি কিংবা এলাকার কেউ এই নিয়ে হাকডাক পাড়লে শিক্ষকরা পয়সা খরচ করে আরেক স্কুলে বদলি হয়ে যায়। স্কুলে শিক্ষক নামের যা ও দুই-একজন ল্যাংড়া-লোলা আছে বদলি হয়ে গেলে কারা এই শতশত শিশুদেরকে আগলে রাখবে?
এখন হাইস্কুল-কলেজে যারা পড়ায় এবং পড়ে তাদের মামলা মানুষের ডিএনএ’র মতো নানান সূক্ষ্ণ বিশ্লেষণের দাবি রাখে। তাই সেই দিকে গেলে একটা মহাভারত লিখতে হবে। তার বদলে আমরা শিক্ষাবিষয়ক আমাদের চারপাশের অভিজ্ঞতাগুলো একটু মনে করে নেই না কেন? তাহলে আমার কথার সাথে আপনারা হয় গলা মিলাবেন না হয় থামেন! থামেন! বলে আমার জবান বন্ধ করে দিবেন। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এ বছর কয়টা গোল করেছে তার খবর রাখি, আমাদের আশপাশের স্কুলগুলোতে কী হচ্ছে তার খবর রাখব না কেন? তাই আমরা সব দেখি, সব জানি, সব বুঝি কিন্তু কেউ কিচ্ছু বলি না। বলতে গেলে সাহস লাগে, ঝুঁকি নিতে হয়। একাত্তরেই আমাদের সব সাহস খরচ হয়ে গেছে।
আমাদের স্কুলে রফিকুল বারী নামে এক তুখোড় শিক্ষক ছিল। মানুষটা যেমন একরোখা তেমনি শিক্ষকতায় নিবেদিত। ক্লাসে দারুণ পড়াত। অধিকাংশ ছেলে-মেয়েরাই লেখাপড়ার তালে নাই। মাঝে মাঝে স্কুলে গেলে আর পরীক্ষার সময় বই নিয়ে একটু নড়াচড়া করলেই কমপক্ষে ‘এ’ পাওয়া যায়। তাই ক্লাসে যারা ভালো পড়ায় সেইসব শিক্ষকের ভক্তের সংখ্যা কম। কিন্তু যারা হাওয়ার তালে গা-ভাসায়, ক্লাসে হাসি-ঠাট্টার গপ্পো করে আর ঘণ্টা পড়লে বলে দেয়, এই তোমরা শুনছ... এই চ্যাপ্টার থেকে বিশটা নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন বানিয়ে তার উত্তরটা লিখে নিয়ে আসবে। হ্যাঁ, বুঝছ...। মূল বই পড়, মূল বই। সৃজনশীলে ভালো রিজাল্ট করতে হলে এরচে কার্যকর ওষুধ আর নাই।
ছেলেরা এইটাই চায়।
আমাদের রফিকুল সাহেব স্কুলে কিংবা স্কুলের বাইরেও চলনে-বলনে-ব্যক্তিত্বে শিক্ষকত্বটা বহাল রেখে চলতে চাইত। শিক্ষক হিসাবে কমিটি, এলাকাবাসী সবাই তাকে কিছুটা সমিহও করত। কিছু ছেলে আছে নিজে তো পড়বেই না ক্লাসে ভালো করে পড়াতেও দিবে না। একে খোঁচা মারবে তো আরেকজনকে নিয়ে হাসাহাসি করবে। তো সেইরকম এক বুনোর পিঠে একবার তিনি দুইটা বেত বসিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যস, ছেলেটা তার ক্লাসের আরো দুই-তিনজনকে নিয়ে সোজা ইউএনওর কাছে গিয়ে পিঠ দেখিয়ে বিচার প্রার্থী হয়। ইউএনও সাহেব সাথে সাথে ছেলেদেরকে নিয়ে গাড়ি হাঁকিয়ে স্কুলে চলে আসেন। অফিসে সকল শিক্ষকের সামনে তাকে খুব ধমকানো হয়, তার বিরুদ্ধে বিধিমতো ব্যবস্থা নিবেন বলে হুমকি দেওয়া হয়। মানুষটা নাকের শ্বাসও ফেলল না। পরেরদিন থেকে সেই ছেলেরা তার নাম দিল ‘বিলাই’। আমরা যারা পড়াই তারা জানি এখন স্কুলগুলোতে মেধাবীদের সংখ্যা কত কম! যার কলবে জ্ঞানের তৃষ্ণা নাই সে কেমন করে চিনবে কে শিক্ষক, কে পেশাজীবী? তাই গুটিকয় ছেলে-মেয়ে তাদের প্রিয় শিক্ষকের জন্য নীরবে চোখ মুছল। এক মাসের মধ্যে ওষুধ কোম্পানিতে যবেতবে একটা চাকরি নিয়ে রফিকুল স্যার পালিয়ে বাঁচলেন।
আমার স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের স্বাভব-চরিত্রের উপর ভিত্তি করে ছেলে-মেয়েরা বিশ্রীসব নাম দিয়েছে। তারা নিজেদের মাঝে কথা বলার সময় শিক্ষককে সেই নামে ডাকে, যেমন খেঁকশিয়াল, ডান্ডি, গরুচোর। একজন ম্যাডাম আছে। সে খুব সাজুগুজো করে, প্রতিদিন নানান রঙের হিজাব পরে স্কুলে আসে। ছেলেরা তাকে ‘ময়ূরী’ বলে ডাকে। এইসব কথা এলাকার সবাই জানে। বিকালে চায়ের দোকানে কথা উঠলে মুরব্বিরা এই নিয়ে হাসাহাসি করে খুব আমুদ পায়। কিন্তু কেউ তার সন্তানকে ধমক দিয়ে বলে না, স্যারেরে তরা এই তা কী কছ?
কারণ সে জানে যে শিক্ষকটিকে তার ছেলে গরুচোর ডাকছে সে সত্যি সত্যি গরুচোর না হলেও দায়িত্বচোর, ফাঁকিবাজ, ধূর্ত এবং কিছুটা নির্লজ্জও। স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ছাত্ররা পেছন থেকে জোরে জোরে কয়কেটা ডাক মারে, গরুচোর! গরুচোর! যার উদ্দেশ্যে আওয়াজটা দেওয়া হলো সে নির্বিকার। ছাতাটি দুলিয়ে দুলিয়ে পাশের জনের সাথে আলাপ করতে করতে স্কুলে দিকে চলছে।
এখনো চায়ের দোকানে কিংবা বাজারে রফিকুল সাহেবের কথা ওঠলে কেউ কেউ বলে, আহারে... মাস্টরটা বড়ো ভালা আছিন। অহনও স্যারের কতা মনে হইলে আমার ছেলেডা মন খারাপ কৈরা বৈয়া থাহে।
পাশের জন্য সুরুত করে চায়ে চুমুক দিয়ে বলে, দুনিয়াত ভালা মাইনষ্যের শত্রু বেশি।
মাছের পচন ধরে মাথা থেকে আর দেশের পচন শুরু হয় শিক্ষক থেকে। তাই আমি ঠিক করেছি একজন-দুইজন করে সারা উপজেলায় ছড়িয়ে থাকা নিবেদিত শিক্ষকদের নিয়ে একটা সংগঠন করব। আমার সংগঠনের নাম হবে ‘আলোর ফেরিওয়ালা।’ জাতির মেরুদণ্ড, দেশের বিবেক এইসব বিপন্ন প্রজাতির ভালো শিক্ষকরা কেউ বিপদে পড়লে আমরা সবাই তার পাশে এগিয়ে যাব। আমাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে অন্যরাও ঘুম থেকে জেগে ওঠে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এইভাবে এই সংগঠন একদিন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। শিক্ষক তো মোমবাতি তাই এক আলো থেকে একদিন এই দেশের আনাচে-কানাচে লক্ষ লক্ষ আলো জ্বলে উঠবে।
লেখাটা শেষ। তবু কনক স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। এই সমাজ ও রাষ্ট্র আজ কোন দিকে যাচ্ছে? ভাবতে ভাবতে কনক ব্যালকনিতে এসে অনেকক্ষণ অন্ধকারের দিক তাকিয়ে থাকে। তার মনে শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে মো. আওলাদ খানের হয়ে আভার লেখাটা। মানুষটার প্রাণ শক্তি অনেক। তবে তার কিছু কিছু চিন্তাকে কনক বাড়াবাড়িই মনে করে। তাই কনক লেখাটার পাঠপ্রতিক্রিয়ায় মেসেঞ্জারে ঢুকে লিখতে থাকে, আমাদের বর্তমান প্রেক্ষিত বলে, সংগঠন মানে রাজনীতি, ক্ষমতাবানদের কাছ থেকে বাড়তি মনোযোগ আর সুবিধা আদায়ের প্লাটফর্ম। আমি বিশ্বাস করি আপনার চিন্তা মহৎ। আপনি আওলাদ খানের হয়ে আমাদের শিক্ষক ও বর্তমান শিক্ষা বিষয়ে যা লিখেছেন তাও শতভাব সত্য। কিন্তু আমাদের সময়ের গর্দভের শেষ গর্দভটিও আপনাকে স্বাগত জানাবে না। বরং এই নিয়ে ফেবুতে খুব বকাবকি করবে, হাসাহাসি করবে। আর আপনার শত্রুরা? যতই রাজনীতি নিরপেক্ষ আর মহৎ উদ্যোগী হোক সংগঠন চালাতে হলে আপনার আশপাশের কুতুবদেরকে কলকে দিতে হবে। তখন আর এটি ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ থাকবে না। আপনাকে মনে রাখতে হবে এখন রাজনীতি আমাদের প্রধান পেশা।
একটু পরেই আভার জবার এল, আমি রাজনীতি ঘৃণা করি।
যদি ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ নামের সংগঠন চালাতে চান তবে ঘৃণা শব্দটা ভুলে যেতে হবে।
কনক : বর্তমানে দেশের নব্বই শতাংশ মানুষও ঘৃণা করে। (শুধু যারা রাজনীতি করে ফায়দা লুটছে তারা বাদে সকলেই ঘৃণা করে।)
আভা : চরম সত্য কথা।
কনক : যদি ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ নামের সংগঠন চালাতে চান তবে ঘৃণা শব্দটা ভুলে যেতে হবে। তা না হলে দেখবেন তিনদিন পরেই আপনার সংগঠন মুখ থুবড়ে পড়বে।
আভা : কেন?
কনক : নিজের জীবনের হাজার হাজার কেন’র কোনো উত্তর আমি জানি না। তার মধ্যে আপনার কেন-টাও একটা।
আভা : তাহলে আপনার এই বাণীটা আসে কোথা থেকে?
কনক : সময় নামক বাস্তবতা থেকে।
আভা : প্রতিজ্ঞাবদ্ধ মানুষ চিরকাল সময়কে জয় করেছে।
কনক : খোঁজ নিয়ে দেখেন কোথাও না কোথাও খুঁটির জোর ছিল।
আভা : বিশ্বাস আমার খুঁটি, স্বপ্ন আমার শক্তি।
কনক : কথাটা শুনতে শ্লোগানের মতো লাগে তাই আমাকে বলতেই হয়, খোদা আপনার সহায় হউন।
গভীর রাত। আভা ঘুমে ঢুলঢুল। তাই ল্যাপটপের কিবোর্ডে সরু সরু হলুদ আঙুল দিয়ে রাগে খটখট করে সে লিখে, আলোর ফেরিওয়ালাদের বিশ্বাস ও ভালোবাসার স্পর্শে এই দেশের লাখ লাখ শিক্ষক একদিন সত্যিকারের শিক্ষাগুরু হয়ে উঠবে; বুকে এই স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাতে যাচ্ছি। শুভরাত্রি।
এপাশ থেকে কনক আবার লিখে, আপনাকেও শুভরাত্রি। আপনার আলোর ফেরিওয়ালা’র জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা।