পর্ব-২২
পর্ব-২৩
বিশ্বায়নের বিষক্রিয়া
আত্মার সাথে যার সম্পর্ক সে হয় আত্মীয়। লক্ষ-কোটি মাইল দূরের আকাশে মেঘের ডাক শুনে বিলের মাছ যেমন পাহাড় বেয়ে ছুটে তেমনি আত্মার ডাকে আত্মাও ছুটে আসে। নিচে, এক নাম্বার প্ল্যাটফর্মে সেই মেয়েটি দুইটা পুলিশকে কিসব বুঝাতে চাইছে। পুলিশ বুঝতে চাইছে না। তাদের এক কথা, আপনার সাথে পুরুষটুরুষ নাই। রাতে একা এই স্টেশনে থাকা আপনার জন্য নিরাপদ না।
মেয়েটারও এক কথা, এই রাতে আমি কোথায় যাব? এই শহরে আমার কে আছে? তাই আমি এই স্টেশনেই রাত কাটাব। আমার নিরাপত্তা দিবে স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
তর্কটা বেশ জমে উঠেছে। কনক একটু মুচকি হেসে মনে মনে স্মরণ করে, ‘ফাইন্নাল মারয়াতা খুলিকাত মিন জিলায়িন। অতএব নিশ্চয়ই নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে।’
শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত, সকল দুধের সর নিয়ে তবে না বাউল।
কনক অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে ভাবতেই থাকে। আদমকে খোদা নিজের হাতে বানালেন। আর হাওয়াকে বানালেন আদমের পাঁজরের বাঁকা হাড় থেকে। এখানে এই বাঁকা শব্দটা দিয়ে খোদা নারীর প্রতি কোন ইঙ্গিত করেছেন? অনেকক্ষণ... অনেকক্ষণ পর কনকের আবার মনে পড়ে, আদম সৃষ্টির কথা। সুরা আল বাকারার তিরিশ নং আয়াতে তিনি বলেছেন, [হে নবী, স্মরণ করো, যখন তোমার মালিক (তাঁর) ফেরেশতাদের বললেন, আমি পৃথিবীতে (আমার) খলিফা বানাতে চাই; তারা বলল, তুমি কি সেখানে এমন কাউকে (খলিফা) বানাতে চাও যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে, আমরাই তো তোমার প্রশংসায় তসবিহ পড়ছি এবং তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি; তিলি বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জানো না।
ফেরেশতাদের এই অজানা অংশটুকু এবং আদমের বিষয়ে আল্লাহর এই জানা অংশটুকুই কি মারফত নয়? তাই শরিয়তের চেয়ে মারফতের চৌহদ্দিটা বহু বহুগুণ বড়। শরিয়ত, মারফত, হকিকত, তরিকত, সকল দুধের সর নিয়ে তবে না বাউল। তাই বাউলরা মাঝে মাঝে বলে, ধ্যায়ানে দিদার, ধুন্দে ফকির। প্রাপ্তির আনন্দে কনকের চোখ দুইটা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
ওভারব্রিজে শুয়ে শুয়ে অনেক লোহালক্কড়ের ফাঁকফোক দিয়ে কনক অগনন দূরের নক্ষত্রপানে চেয়ে থাকে। তার চারপাশে মশার ভনভনানি, নিচে, সেই পুলিশ দুইটা আবার এসে মেয়েটাকে স্টেশন থেকে সরে যেতে বলছে। বলছে, তারা মেয়েটার নিরাপত্তার জন্য এখানে তো সারাক্ষণ বসে থাকতে পারবে না। তাদেরকে সারা তল্লাটটা টহল দিতে হয়। একটু চোখের আড়াল হলেই লম্পটরা এসে মেয়েটাকে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যাবে। স্টেশনের এই হাতেগোনা কয়জন সাধারণ মানুষের কেউ-ই তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসবে না। মেয়েটা সব শুনে একেবারে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। সে কি মুরগির বাচ্চা যে কাক-চিল-বাজে এসে ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে?
রাগে, দুঃখে, অপমানে তার সুন্দর মুখটায় নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। সে কে? তাকে কেন এমন চেনা চেনা লাগছে? ছিপছিপে লম্বা গড়নের অসম্ভব তেজি ও সুন্দরী এই মেয়েটিকে কনক কোথায় দেখেছে? কোথায়? ভেতরে ভেতরে কনকের খুব অস্বস্তি লাগছে। অস্থির! অস্থির! লাগছে। ওভারব্রিজের উপর থেকে কনক মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাকে অপলক চোখে দেখতে দেখতেই সে জুতা দুইটা পায়ে দেয়। ব্যাগটা কাঁধে লয়। তারপর ধীরে ধীরে ওভারব্রিজ থেকে চিন্তিত মনে নিচে নামতে থাকে। বাউলরা বলে, নারী হলো ফাতেমার জাত। খোদা নিজে নবীজির কন্যা ফাতেমাকে মা বলে ডেকেছেন। সেই যুক্তিতে দুনিয়ার সব নারী মা। তার মাঝেই স্রষ্টা-সৃষ্টি ও সাধনার বহু স্তর। অসংখ্য ঘাট। মুক্তির বাতুনি পথ। তাই বাউলকে নারীর সঙ্গ নিতে হয়। নারীকে বিয়ে করতে হয় সৃষ্টি রক্ষার দায়ে। জ্বলন্ত অঙ্গারের পাশে বসে তাকে একটু একটু করে সাধনার শক্তি দিয়ে দখলে নিতে হয় আত্মার জমিন। একটু একটু করে তপস্যার বলে জাগিয়ে তুলতে হয় পরমাত্মাকে। পরমাত্মাই পরমঈশ্বর। তাই জালালউদ্দীন বলেছেন :
‘বছরেতে ছত্রিশদিন এসে প্রভু খেলা করেন গহীন গাঙের পারে।’
এই ছত্রিশদিনের একদিন তার। পুরুষজনমের কামনা পূরণ করবে সে। যদি স্ত্রী গর্ভ ধারণ করে তবে এই শেষ। বাকি জীবনে সে আর এক ফোঁটা মণিও নষ্ট করবে না। যদি করে তবে সে খুনি। কারণ এই এক ফোঁটায় হাজার হাজার প্রাণ। যা মায়ের গর্ভ না পেয়ে মুহূর্তে প্রাণ হারাবে। সে হবে ঘাতক। এই খুনের দণ্ড তার দেহভাণ্ডকেই ভোগ করতে হবে। এবং এই দুনিয়াতেই। তাই বাউল আরকুম শাহ বলেছেন :
‘না হইল জানাজা গোসল, না হইল কাফন, যৌবন না হয় রে আপন।’
স্রষ্টার সৃষ্টিময় দুনিয়ায় ত্যাগের খেলা। মাটি ফসল দেয়, গাছ ফল দেয়, গাভি দুধ দেয়। আঠারো হাজার মাকলুকাতের মধ্যে মানুষ আশরাফুল। তাই খোদার খলিফার ত্যাগও হতে হবে সর্বশ্রেষ্ঠ। একজন সক্ষম পুরুষের কাছে যৌবনের সম্ভোগোরচে আর কী চরম পাওয়া থাকতে পারে? সেই পুরুষ যখন সরল প্রাণে, প্রবল বিশ্বাসে পাশে নারী নিয়ে শুয়ে থাকে। যখন সে মনে মনে ভাবে, তার মা-ও তো পাশের এই নারীর মতো ছিল। তখন কি আর মায়ের পাশে পুত্র ছাড়া সে অন্য কিছু হয়ে উঠতে পারে? তখনই সে সাধক হয়ে ওঠে। তখন তার পরমাত্মার সাথে পরমঈশ্বরের সংযোগ ঘটে যায়। আলাপ চলে পরমে পরমে।
কনক মাথা নুয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। পার্সেল অফিসের পাশে এক কৃষক তার দুঃখী এতিম এতিম চেহারার একটা ছন্নছাড়া পরিবার নিয়ে বসে বসে ঝিমাচ্ছে। পাশেই অনেকগুলো বস্তা ঢাঁই করা। তার আড়ালে বসে চারজন কুলি কুলি চেহারার পুরুষ তাস পেটাচ্ছে। বুকিং অফিসের সামনের বেঞ্চে বসে আছে সে। তার দুঃখী দুঃখী মুখটা রূপকথার রাজকন্যার মতো বিষাদে ঢাকা। ছোট্ট ব্যাগটা কোলে নিয়ে মরা চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। তার পাশে এক বৃদ্ধা। কনক ধীরে ধীরে তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়। এক ঝলক বাতাসে নাকে লাগে অচেনা ফুলের হালকা ঘ্রাণ। কনক বিমূহের মতো ভাবে, এ তার কৌমার্যের পবিত্র অহংকার।
পরমেশ্বরের রূপ অসীম বলে জগতের রূপও অফুরন্ত।
গভীর মগ্নতায় মাথা নুয়ে নুয়ে কনক প্লাটফর্মের দক্ষিণ দিকে হাঁটতে থাকে। এক খণ্ড বস্তুর ইতিহাস পৃথিবীর সমান। বস্তুকে ভাঙতে ভাঙতে পাওয়া গেল পরমাণু। বস্তুর সকল শক্তি এই পরমাণুর ইলেকট্রন, নিউট্রন, পজিট্রনে। কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস। নারীও কি জীবনের কেন্দ্র নয়?
দুই নাম্বার গেটের কাছে এসে কনক থমকে দাঁড়ায়। গেটের বাইরে লাফাঙ্গাদের আড্ডা মাতলামির চূড়ান্তে। একজন হাত নাচিয়ে নাচিয়ে জঘন্য ভাষায় খিস্তি পাড়ছে। তার দাঁড়াবার ভঙ্গী, জিহ্বার জড়তা, শরীরের টলায়মান ভাব দেখেই অনুমান করা যায় তাদের পরবর্তী উদ্দিষ্ট। কনক হাঁটতে থাকে। জীবনের যত রূপ আছে প্রায় সব তার দেখা। কিন্তু পরমেশ্বরের রূপ অসীম বলে জগতের রূপও অফুরন্ত। সেই রূপে কখনো উথলে উঠে বিষ কখনো মধু। সব তার পাত্রগুণ। ভাণ্ডগুণ। তাই দেখার কৌতূহল তাকে টেনে টেনে নিয়ে যায়।
সামনের দিকে স্টেশনের নির্জনতা আরো গভীর। তাই একা একা স্টেশনের আলো আর মানুষের কালোর মাঝ দিয়ে হাঁটতে তার ভালোই লাগছে। তিন নাম্বার গেটের কাছে এসে দেখে আরেক দঙ্গল মাতাল। ওরা লুচ্চার জাত। তাই তাদের বলন-চলনে কনকের গা ঘিনঘিন করে। সে আর দাঁড়ায় না। ধীরে, নত চোখে কনক আবার সেই বেঞ্চটার পাশ দিয়ে চলে যায়। এখন সে মাথা নুয়ে হতচ্ছাড়া বুড়ির পাশে বসে আছে। মনের বিষণ্নতা ছাপিয়ে সর্বাঙ্গে জড়িয়ে আছে তার হৃদয়ের, ব্যক্তিত্বের সৌরভ।
কনক একটু এগিয়ে গিয়ে টং দোকানের বেঞ্চে বসে পড়ে, একটা দুধ চা।
লোকটা ধোয়া চায়ের কাপ আবার গরম পানি দিয়ে ধোয়। এক চামচ চিনি ছাড়ে, আরেক চামচ কনডেন্স মিল্ক। তারপর লিকার ছেড়ে কাপে চামচের গোটা শুরু করতেই কনকের মনে পড়ে। সেই লম্বাটে মুখ, টানা টান চোখ। কপালের গোড়ায় ওটা কিসের দাগ? কনক চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে পায়চারি শুরু করে। ভেতরে অস্থিরতা। তুমি কি সে-ই নও? যে আমার ওয়েভ ম্যাগ ‘আমার মনের কথা’তে নিজের মনের কথা লিখে ছিলে! যাকে হাসপাতালে ফেলে আমি পালিয়ে এসেছিলাম! কনক সুড়ুত সুড়ুত করে চাটা দ্রুত শেষ করে। তারপর বিলটিল দিয়ে একটা সিগারেট ধরায়। তার নামটা মনে পড়ে, আভা! দুনিয়াদারির এই জাহান্নামে ইশরাত জাহান আভা মরার মতো শরীর ছেড়ে বসে আছে।
কনক সিগারেটে শেষ টান দিয়ে ছুড়ে ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে বেঞ্চটার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়, আপনি আভা ম্যাডাম না?
মুহূর্তে হাল ছেড়ে দেওয়া শরীরের ভঙ্গিটা বদলে যায়। বিষাদের আস্তর খসে পড়ে চোখেমুখে জ্বলে ওঠে আশা। সহস্র কথার তুমুল আবেগ। এবং এক পলকেই সব ঝেড়ে ফেলে চোখেমুখে ফিরে আসে নারীত্বের, ব্যক্তিত্বের সহজাত আভিজাত্য। সে ব্যাগটা বুকের কাছে চেপে ধরে বার বার মাথা ঝাঁকায়। এর-ই মাঝে মুখে ফিরে এসেছে হাসি, জি, জি, ভাইয়া, আমিই সে। যাকে হাসপাতালে একা ফেলে আপনি চোরের মতো পালিয়ে ছিলেন।
না পালালে আপনার কাছে ছ্যাঁচড়ার মতো লাগত।
আভা নীরবে হাসে। কনকের চোখ ছিল দক্ষিণের গেটের দিকে। সেই দিক থেকে লাফাঙ্গাদের গলা ভেসে আসছে। ওরা কি আসছে? কনক দক্ষিণের দিকে নজর রেখেই আভাকে বলে, চলেন তো। এখানে আর এক মুহূর্ত না।
কেন?
পুলিশ কী বলেছে মনে নাই? অই যে শুনুন কুকুরদের উল্লাস।
পলকে আভার চোখমুখ অন্ধকার হয়ে আসে। সেই বৃষ্টিঝরা রাতটার কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে মুখবাঁধা মায়ের গলার অস্ফুট আর্তনাদ। কষ্টের কাতরানি। ভয়ে শিউরে ওঠে আভা চির পরিচিতের মতো কনকের একটা হাত আঁকড়ে ধরে, চলুন। দ্রুত চলুন।
এখন বিশ্বায়নের যুগ। পৃথিবী হাতের তালুর মতো ছোট্ট একটি গ্রাম। গ্রামে ঝাড়-জঙ্গল, আগাছা, অন্ধকার, খাল-ডুবার পচা পানিতে প্রাণঘাতী ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া, ভূত-প্রেত, খুনি-তস্কর, লম্পট-লুচ্চা, পাগলা কুকুরের উৎপাত, আক্রমণ নিত্য সঙ্গী। পদে পদে এত ফাঁদ, এত বড়শির কল কোথায় পালাবে আভা? তবু একরকম ছুটতে ছুটতে দুই জন প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে গেটের দিকে চলে আসে। সাত-আটজনের দলটা হৈ-হল্লা করতে করতে এগিয়ে আসছে। তারা গেট পেরিয়ে আসতে আসতে শুনে একজন বুড়িকে ধমকাচ্ছে, এই বুড়ি তর লগেরটা কই?
বুড়ি আমতা আমতা করে, আমি কি কৈয়াম বাজান।
আরেক জন জড়ানো গলায় ধমকায়, বাজান লাগত না। ক, পক্ষী গ্যাছে কই?
এই কথায় উপস্থিত সবগুলো গলা শিয়ালের মতো এক সাথে হল্লা দিয়ে হাসে, কেউঁহা...কেউঁহা...।
সায়রে ঢেউ দেখে কূলে নাও ডুবিয়ে দেওয়ার মানুষ কনক না। তাই সে নির্বিকার, আসুক।
স্টেশনের খোলা চত্বরটা এক মতো দৌড়ে পেরিয়ে তারা একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে যায়। দক্ষিণ থেকে পুব হয়ে উত্তরের কোনা পর্যন্ত ধনুকের ছিলার আকারে সার বাঁধা রেস্টুরেন্টগুলো। কনকরা উত্তরের শেষে কোনায় রাস্তার পাশেরটায় ঢুকেছে। ঝুপথুপ, এলোমেলো, ছন্নছাড়া গোটা কয় মানুষ। ট্রেনের অভাবে আটকা পড়েছে। দেখলেই বোঝা যায় মানুষগুলো বিশ্বায়নের ছুবরা, উন্নয়নের পাগলা ঘোড়ার খুড়ের ধুলা, গণতন্ত্র নামক এলোপ্যাথিক ওষুধের কড়া ডোজের বিষক্রিয়া এখন ধুঁকছে।
হিংস্র, কুটিল গলায় গড় গড় করতে করতে ওরা গেট পেরিয়ে আসে। কনক এদিকেই তাকিয়ে ছিল। পাশে আভা। কবুতরের বাচ্চার মতো জড়োসজো। কম্পমান। সে কনকের কানের কাছে মুখ নিয়ে ভয়-তটস্থ গলায় ফিসফিস করে, আসছে!
সায়রে ঢেউ দেখে কূলে নাও ডুবিয়ে দেওয়ার মানুষ কনক না। তাই সে নির্বিকার, আসুক।
ওরা দক্ষিণের শেষ কোনা থেকে একটা একটা করে রেস্টুরেন্ট তল্লাশি করছে। দলের কেউ না কেউ একজন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। পুবের সারির সবচে বড় আর দামি রেস্টুরেন্টটাতে এক ঝাঁকে সবাই ঢুকে পড়তেই কনক উঠে দাঁড়ায়, আসুন।
কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে দুই জন টপ করে বেরিয়ে আসে।
শহরটা এখনো রিকশা, ইজিবাইক, মিশুকে, নর্দমার দুর্গন্ধে, মাতাল, লম্পট আর মশার ভনভনানিতে জেগে আছে। হয়তো জেগে থাকাই তার স্বভাব। নগরে, নরকে তফাত কি?
সামনে একটা খালি ইজিবাইক পাওয়া গেল। এক লাফে দুই জন উঠে পড়ে। কনক বলে, চল ভাই।
কোথায়?
আগে যাও।
কাচ আর রেক্সিনের আবরণের আধো অন্ধকারে শরীর ছেড়ে আভা হাঁফাতে থাকে। একটু বাতাস! এক ফোঁটা বাতাসের অভাবে সে দম আটকে মরে যাচ্ছে। চরম অসহায়ের মতো শেষ আকুলতায় সে কনকের একটা হাত শক্ত করে ধরে মরার মতো পড়ে থাকে। ভাগ্যের বাইক আলোকিত রাজপথের খানাখন্দ, উপচেপড়া ডাস্টবিনের ময়লা, দালান-কোঠার ফাঁকফোকে ঘাপটি মেরে থাকা জমাট অন্ধকার উজিয়ে, বড়ো অনিশ্চিত গতিতে চলতে থাকে।