প্রথম যৌবন নামক মৃগনাভির খুশবুতে এক সময় আমি তার জন্য মরতে রাজি ছিলাম। অথচ আগে আমি নই, সে-ই আমার প্রেমে ডুব দিয়েছিল। প্রথম দিকে তার বিষয়ে আমার কোনো আগ্রহ ছিল না। সবে স্কুল ছেড়ে কলেজে ভর্তি হয়েছি। দুনিয়ার সবকিছুর দিকেই আজব আর শিশুসুলভ একটা কৌতূহল সারাক্ষণ তাড়িয়ে মারে। যেদিকে তাকাই সুন্দর লাগে, আনন্দ আর আনন্দ রক্তে টগবগ করে ফুটতে থাকে। ঠিক এইরকম একটা অসাধারণ দিনে, কলেজে যাবার সময় একঝাঁক মেয়ের মাঝে রোজই আমি তাকে দেখতাম। তার লকলকে একহারা দেহটার অনেকখানিই সব মেয়ের মাথার উপর দিয়ে পষ্ট দেখা যেত : মোটা মোটা দুইটা বেণি সরু আর হালকা পিঠের উপর দুলিয়ে কথা বলতে বলতে হাঁটছে সে। আলতার হালকা পোজ দেওয়া সাদা সাদা হাতের চিকন কব্জির দিকে চোখ পড়লে মনে একটু মায়া লাগে। সেটা এক পলক মাত্র। মাঝে মাঝে চোখে চোখ পড়লে সঙ্গিনীদের নজর এড়িয়ে সে একটু করুণ করে হাসে। এক পলকে আমার চোখ-মুখ-কান গরম হয়ে ওঠে। কারণ তখনো আমি জানতাম না, এই হাসিটার অর্থ কী? জানতাম না, মানুষের একটা বয়সে এইভাবে খোদা তার সৃষ্টির মাঝে হঠাৎ একদিন আচমকা হেসে ওঠেন।
একদিন কড়া রোদের দুপুরে আমার এক বন্ধু শহরের অন্য প্রান্ত থেকে সাইকেল চালিয়ে আমার খোঁজে কলেজে আসে। আমি তখন ক্লাসে। সে দরজার এক কোনায় দাঁড়িয়ে আমাকে ইশারায় ডাকে। আমি স্যারের চোখে ধুলা দিয়ে, দোনামোনা ভাবে তার কাছে চলে এলে সে বলে, চল।
কোথায়?
স্টেশন রোড।
তার সারা শরীরের থরথর কম্পন হাতের চিকন কব্জি বেয়ে, ঈশ্বরের দয়ার মতন আমার রক্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
স্টেশন রোডে বন্ধুটির বাসা। তারা বাপ-বেটা দুজনে থাকে। বাপ রেলে কাজ করে। সে আক্তারোজ্জামন কলেজে পড়ে। তাই সারাদিন বাসাটা ফাঁকা পড়ে থাকে। ভাবলাম জরুরি কিছু। তাই তার সাইকেলের রডে উঠে বসি। সে প্যাডেল চালাতে চালাতে আমার কানে আগুন ঢালে, শেলি আছে না?
হ।
শেলির বান্ধবী তরে ভালোবাসে...।
আমি সাইকেলের ক্যারিয়ার থেকে তার কানের কাছে মুখ রেখে আত্মাকে ঢেলে দেই।
আমারে?
হ।
আমার সারাটা শরীর শিরশির করে ভেঙে আসে। আমি মরার মতন ক্যারিয়ারে বসে বসে তার চোখ দুইটা মনে করতে গিয়ে অন্তর্যামীর চোখ আর তার চোখ এক করে ফেলি।
(শেলি আমার বন্ধুটির প্রেমিকা।) আমার বুকটা ধক করে ওঠে। ঝরনাধারার কলকল হাসির সাথে নাকে পরির-দেশের সুবাস পাই। তাই আমার পা কাঁপছিল। আমি দরদর করে ঘামছিলাম। দুরুদুরু বুকে চোরের মতো গিয়ে সামনের রুমের চেয়ারে বসি। পাশের রুমের দরজায় তিনটা কচি মুখ উজ্জ্বলতর হয়ে জ্বলতে থাকে। শুধু এদের মাঝে না, অনেকের মাঝেই সে সবচেয়ে লম্বা। তাই সবার মাথার উপরে তার মুখ! সেই মুখ আজ আর সাধারণ না। পর না। বাঁধ ভাঙা একটা আবেগ আমাকে বন্যার তোড়ে তার দিকে ঠেলছে। আমি অবুঝ, অন্ধের মতো উঠে সোজা সেই দরজাটার সামনে গিয়ে তার একটা হাত খপ করে ধরে ফেলি। সে প্রচণ্ড রকম কেঁপে ওঠে। কিন্তু বাধা দেয় না। আমি তার হাতে হালকা টান দিয়ে বলি, আসো আমরা কথা বলি।
সে পাশের দুজনকে গলে আমার কাছে চলে আসে। তার সারা শরীরের থরথর কম্পন হাতের চিকন কব্জি বেয়ে, ঈশ্বরের দয়ার মতন আমার রক্তে ছড়িয়ে পড়ছে।
আমরা দুইজন পাশাপাশি চেয়ারে বসি। তার বান্ধবীদের চোখের তীব্র নজর আমর পিঠটাকে ফালাফালা করে দিচ্ছিল। বাবরের দিল্লি জয়ের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দে আমার হৃৎপিণ্ড দুলছিল। আমি খরগোশ শাবকের চেয়ে বেশি ভয়-আমুদ-আহ্লাদে বাকহারা! তাই আমি কাঁপাকাঁপা হাতে তার একটা হাত ধরে নিশ্চুপ পাথর হয়ে তার পাশে বসে থাকি। তার ধমনি-শিরা আমার রক্তে রক্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে মানব জনমের অমৃত কথা। ফ্যানের বাতাসে মায়ের দুধের মতো আজানা একটা স্বাদে-গন্ধে নাক ডুবিয়ে আমি যেন ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙল বন্ধুর গলায়, কিরে..., তোরা বৈষ্ণব-বৈষ্ণবী নাকি, আলাপ করছ না ক্যা?
আমি তার গভীর কালো চোখে কাঁপতে থাকা সুখের দিকে তাকিয়ে কানে কানে বলি, আমিও ভালোবাসি।
সে আরেকবার কেঁপে ওঠে। তার ভেতরের কলরব, আত্মার তোলপাড় তার দিঘল-কালো চুলের পাশ থেকে উঠে এসে আমাকে যেন খোদার আরশে কুরসির পায়ার পাশে নতজানু করে দেয়।
এইসব অনেক বছর আগের কথা। আজ আমি একজনের স্বামী, একটি কন্যা সন্তানের জনক। প্রিয়তমা স্ত্রী এখনো আমাকে শিশুর মতো দুহাতে আগলে রাখতে চায়। তবু সংসারের ঘানি টানতে টানতে আমার ঘারে জোয়ালকান্দার ঘা। চারপাশে মাছির ভনভনানি, গতরের রগে রগে ক্লান্তি, অবসাদ, মৃত্যুভয়। তবু মাঝে মাঝে আমার সেই বন্ধুটি অতীতের কাঠি দিয়ে বুকে একটা খোঁচা মেরে পুরনো ঘা থেকে রক্ত ঝরায়। লোকটা তিরিশের আগেই ডায়াবেটিস বাধিয়ে বিয়ে না করে মনে মনে এখনো ফুরফুরা। তাই ফুরসত পেলেই মোবাইলে কল দিয়ে পুরনো পৃষ্ঠার ধুলা ঝারে।
তার দুইজন বান্ধবীর একজনের সাথে (রুবি) আমার বন্ধুটির এখনো যোগাযোগ আছে। আসাদ মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বন্ধুর মারফত তার সাথে আমারও মেলাদিন একটা পরোক্ষ খোঁজ-খবর ছিল। চার বছর আগে ব্যবসায়ী বন্ধুটি অকালে বিগত হলে খোদার রহমতের সুমিষ্ট ধারাটি আমার বরাত থেকে খারিজ হয়ে যায়। তারপর থেকেই বন্ধুটি রুবি-মারফত পাওয়া (আমার প্রথম প্রেমিকার) সংবাদ মাঝে মাঝে আমাকে মোবাইলে চালান করে। তার সংসারের সুখ-দুঃখের কথা, বেঁচেটেঁচে থাকার কথা। বন্ধুর বলে যাওয়া খবরের সাথে সাথে আমি এই গৃহিণী মেয়েটির মাঝে সেই ছিপছিপে স্বর্ণ লতাটির নাম-মুখ-চোখের মিল খুঁজি। বুকের ভেতর কেমন খাঁ খাঁ রব ওঠে। এই বয়েসেও এসে চোখের পাতা ভিজে উঠতে চায়! কারণ প্রথম প্রেম বলে জগতে একটা কথা চালু আছে।
তোমাদের তো এখনো ঠিক মতো গোঁফই ওঠে নি, প্রেম করবার এইরকম চমৎকার কৌশল কোত্থেকে আবিষ্কার করলে ছোট ভাই?
দাড়ি কাটবার সময় আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকিয়ে কত কত মানুষের মুখ দেখতে পাই! তবু মাঝে মাঝে সেই মেয়েটি দেব শিশুর মতো ধুলা-খেলার ছলে হাত নেড়ে আমার চোখের মণির ভেতর থেকে সবগুলো মুখ ঝেড়ে ফেলে দেয়। তখন আমি শুধু তাকে দেখতে পাই..., ক্লাস টেনের সেই তাকে।
তারপর থেকে মাঝে মাঝে আমরা চারজন ক্লাস পালিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনে গিয়ে, খাতা-কলম নিয়ে পাশাপাশি, ঘেঁষাঘেঁষি করে গাছের নামধাম, বৈশিষ্ট্য এইসব লিখতে চেষ্টা করতাম। চোখে-মুখে কী সিরিয়াস ভাব যেন আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র-ছাত্রী। তো একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়জন বড় ভাই আমরা দুই বন্ধুর হাতে দুই প্যাকেট বাদাম দিয়ে বলতে থাকেন, তোমাদের তো এখনো ঠিক মতো গোঁফই ওঠে নি, প্রেম করবার এইরকম চমৎকার কৌশল কোত্থেকে আবিষ্কার করলে ছোট ভাই?
গ্রহ-নক্ষত্র আর রাশিফল বিষয়ে কিরো অমনিবাস বইটা যাই বলুক, আমার তখন বৃহস্পতি তুঙ্গে! তাই একদিন সকালে কলেজে যাবার জন্য বেরুতে গিয়ে দেখি, মঙ্গলময়ী রেখা তার পাশে দুটি উপগ্রহ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে! ময়ূরকণ্ঠী রঙের টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়িতে তাকে পুতুল পুতুল লাগছে। ঢোলা ঢোলা লাল ব্লাউজটার দিকে চোখ পড়লে শুধু আমার না আপনার বুকটাও দয়ায়, করুণায় নরম হয়ে আসবে।
মেসের নড়বড়ে খাটের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নেপোলিয়ন ভাবতে ভালো লাগছিল। কিন্তু বন্ধুটি ক্ষমতাবান অধীশ্বরের মতো আমার দিকে চোখ টিপে, পাশের খালি রুমটায় তার সঙ্গিনীকে নিয়ে ঢুকে পড়ে। তাদের দরজার ছিটকিনির শব্দে আমার চেতন ফিরে। চেয়ে দেখি, রেখা আমার বিছানায় বসে গলায় বাঁক তুলে বনহংসীর মতো আমাকে ডাকছে! আমি কাঁপতে কাঁপতে তার পায়ের কাছে বসে পড়ি। সে আমার অবশ মাথাটা তার দুই ঊরুর মাঝে আলতু করে রেখে দেয়। আমি তার দিকে ঘাড় বাঁকা করে তাকিয়ে শিশুর মতো একটা সরল আবদার করি, একটা চুমু খাও...।
আমি গালটা তার ঠোঁটের দিকে তুলে রেখে, বারবার মিনতি করি, একটা চুমু খাও...।
সে অনড়, অটল ভঙ্গির গ্রিক দেবী ভেনাসের মতো অধন নয়নে আমাকে দেখছে। দেখতে দেখতে তার দুই চোখ পানিতে টলটল করে ওঠে। তবু আমি কাতরাচ্ছি, একটা চুমু খাও...।
অন্তত ঘণ্টাখানেক মিনতির পর রসে ভেজা দুইটা কমলার কোয়া আস্তে করে আমার গালে নেমে আসে। আমি আনন্দের সুখ-শিহরনে কাঁপতে কাঁপতে তার কোমর জড়িয়ে ধরি।
আপনি বলবেন, এইসব পুরনো হয়ে গেছে, রদ্দিমাল, ওসব ছাড়ুন। কিন্তু আমি পারছি না। হয়তো পারতাম। চেষ্টা করি নি। কারণ, এই জীবনে যতকিছু অর্থহীন, সংসারের রজন জোগায় না তার মাঝেই যেন বিধাতার বসত, তাতেই যেন আত্মার মুক্তি। তাই রেখা আমার আত্মার পরশ পাথর। তার স্মৃতি আমাকে মানবিক হতে বলে, মেয়েদেরকে মায়ের চোখে দেখতে সাহস ও যুক্তি জোগায়। তখন জীবনটাকে অনেক বড় লাগে।
বেপরোয়াভাবে ঘোরাঘুরি করতে গিয়ে আমরা একদিন রেখার বড় ভাইয়ের হাতে ধরা পড়লাম। বড় ভাই আমার গাল বরাবর থাপ্পড় কষাবার জন্য হাত উঠাতেই রেখা সেই হাতটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আটকে দেয়। তারপর থেকেই দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ। রোজ রোজ স্কুলের সামনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকি কিন্তু মনের ময়না নাই!
বন্ধুর মুখে খবর পেলাম, মায়ের পাহারায় ছাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে সে স্কুলে আসে। আমারও পরীক্ষার ঘণ্টা বাজছে! সিকি ভাগ সিলেবাসও আয়ত্তে নাই? কয়েক দিন মন মরা হয়ে বিছানায় পড়ে থাকলাম। তারপর এক ভোরে হঠাৎ বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে বই খুলে টেবিলে বসি। পড়া আর পরীক্ষার ধকল থেকে উঠে দেখি চার মাস ধরে রেখার সাথে দেখা নাই!
পরের দিন থেকেই রেখার স্কুলের সামনে জোর ডিউটি লাগালাম। সারাক্ষণ বুকটা মোচড়ায়, খাঁ খাঁ করে। হায়! খোদার দুনিয়ায় এত আলো থাকতে, রবি থাকতে আমি আলোহারা! শেষমেষ রুবিকে ধরে দেখার একটা ব্যবস্থা হলো। স্থান, পণ্ডিতপাড়ার নির্জন রাস্তা। একদিকে মহিলা টিচারটেনিং কলেজের সাত ফুট উঁচু দেওয়াল, অন্য পাশে পণ্ডিতদের অর্থাৎ স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বসতি। তাই অধিকাংশই টিনশেড দালান। সামনের রাস্তাটা দুপুরের দিকে সারা বছরই মানুষের অভাবে খাঁ খাঁ করে।
জুলাইয়ের দুপুর। আকাশ ভরা মেঘ আর হু হু বাতাসে পানির গন্ধ। একটার পরেই একে-দুইয়ে মেয়েরা আসতে থাকে। বৃষ্টিও আসছে তেড়েফুড়ে। আমি বুকভরা আশা নিয়ে একটা ঘরের বারান্দায় গিয়ে উঠি। ঘরটার জানালা-দরজা বন্ধ। দুইটা মেয়ে পাশের ছোট্ট গলি দিয়ে ভেতরে যেতেই আর দুইজন বৃষ্টির মাঝে দৌড়ে এসে আমার বারান্দায় ওঠে। চেয়ে দেখি রেখা আর রুবি। রুবি আমার দিকে একটা পাতলা হাসি ছুড়ে দিয়ে অন্য দিকে সরে যায়। শো শো বাতাস আর ঝুমঝুম বৃষ্টির মাঝে আমরা দুইজন একদম মুখোমুখি। তার নিশ্বাসের গন্ধে আমার এতদিনের হুতাশন মুহূর্তে ঠান্ডা হয়ে আসে। বাতাসের হুড়াহুড়ি আর ভারী বৃষ্টিধারার মাঝে আমরা হাত জড়াজড়ি করে দাঁড়িয়ে আলাপ করতে শুরু করি। দুই কথা বলতে না বলতেই সে কাঁদতে শুরু করে। তার দেখাদেখি আমিও হাউমাউ কান্না ভরা গলায় চিৎকার করে কথা বলতে থাকি। শিশুর ধুলা খেলার কান্না দেখে বিধাতাও বুঝি প্রবল বৃষ্টিধারার মাঝে এক চোট কাঁদছেন।
ঢাকার বন্ধুর কাছ থেকে কাল যে খবর পেলাম তার ধকল সইবার মতো শক্তি আমার নাই।
তাকে না পেলে আমি মরে যাব এইরকম ভয় থেকে কাঁদছি না। তাকে দেখতে না পেলে যে আমার কষ্ট হয়, আজাব হয়, তারও নাকি গোর-আজাবের মতো কষ্ট হয়! এইসব আর কী।
পরেরদিনই মেসটেস ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে এলাম। সেই থেকে মনে মনে সে আমার আমি তার। তাই যত অসুবিধাই থাকুক মাসে অন্তত একবার আসাদ মার্কেটে গিয়ে বন্ধুর কাছ থেকে তার খবর নিয়ে আমার খবর দিয়ে আসতাম। সে বাপের বাসায় এলে আমার জন্যও ফেরত খবর রেখে যেত। তো ঢাকার বন্ধুর কাছ থেকে কাল যে খবর পেলাম তার ধকল সইবার মতো শক্তি আমার নাই। তিন মাস আগে তার স্বামী হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তিনটা সন্তান নিয়ে এই ভবতরীতে সে এখন একা! জোয়াল কাঁধে সারাদিন ছুটতে হয়। ঘারে জোয়ালকান্দার ঘা। চারপাশে মশা-মাছি, সাপ-বিচ্ছু। আমি একলা কত পারি? তাই ঘুরেফিরে মনে পড়ে মোস্তাক আহমাদ দীন’র একটা কবিতার দুইটা লাইন :
...ভাঙনের বাদ্যি এত বাজে ওগো বুকের ভিতরে
একা একা কত্ত তারে থামাবা মান্দাস...